পেজ ভিজিট: ২৬,৫১,৯৩৪ | অনলাইন: ২
English
বিভাগ অনুসারে দেখুন

লক্ষ্মীপুর জেলায় এক দিনের ট্যুর প্ল্যান


জেলার ভিডিও দেখুন
Card image cap

দালাল বাজার জমীদার বাড়ী, লক্মীপুর

Card image cap

কামানখোলা জমিদার বাড়ী

Card image cap

লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাট, লক্ষ্মীপুর

Card image cap

লক্ষ্মীপুর জেলায় এক দিনের ট্যুর প্ল্যান

Card image cap

খোয়া সাগর দিঘী, দালাল বাজার, লক্ষ্মীপুর

Card image cap

জ্বীনের মসজিদ, লক্ষীপুর

Card image cap

তিতা খাঁ জামে মসজিদ

Card image cap

মেঘনা নদীর তীর


লক্ষ্মীপুর জেলায় এক দিনের ট্যুর প্ল্যান

আমাদের আজকের গন্তব্য লক্ষ্মীপুর জেলা। রাজধানী ঢাকা থেকে ১৪৫ কিলোমিটার দূরত্বে, চট্টগ্রাম বিভাগ এর অধীন লক্ষ্মীপুর জেলা একসময় লবন চাষের জন্য বিখ্যাত ছিল। রহমতখালি নদীর তীরে অবস্থিত লক্ষ্মীপুর জেলার রয়েছে বিভিন্ন সময় জেগে উঠা চর এলাকা, ইলিশ, নারিকেল ও সুপারি বাগান এর খ্যাতি। একদিনের ভ্রমণে আজ আমরা দেখে নেবো লক্ষ্মীপুর এর ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

ট্যুর প্ল্যান: দালাল বাজার জমীদার বাড়ী, নারিকেল ও সুপারির বাগান - কামানখোলা জমিদার বাড়ী- জ্বীনের মসজিদ - রায়পুর বড় মসজিদ - দালাল বাজার খোয়া সাগর দিঘী - মজুচৌধুরীর হাট - সাইফিয়া দরবার শরীফ - তিতা খাঁ জামে মসজিদ - ভাষা সৈনিক কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহার স্মৃতিসৌধ - মেঘনা নদীর তীর চর ফলকন - শ্রী শ্রী বুড়া কর্তার সমাধি আশ্রম - মেঘনা বেড়িবাঁধ চর আলেকজান্ডার (চর আব্দুল্লাহ, টুনারচর, তেলিয়ার চর ও চর গজারিয়া)


দালাল বাজার জমীদার বাড়ী, লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মী নারায়ন বৈষ্ণব প্রায় ৪ শত বছর পূর্বে কলকাতা থেকে কাপড়ের ব্যবসা করতে দালাল বাজার আসেন ও এ বাড়ি নির্মাণ করেন। ১৯৪৬ এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জমিদারগণ বাংলাদেশ ছেড়ে ভারত চলে গেলে তাদের জমিদার বাড়ীটি পরিত্যাক্ত হয়ে রয়ে যায়। প্রায় ৫ একরের এ জমিদার বাড়ীর সম্মুখের রাজগেট, রাজ প্রাসাদ, জমিদার প্রাসাদ, অন্দর মহল, বাড়ীর প্রাচীর, শান বাঁধানো ঘাট, নাট মন্দির, পুজা মন্ডপ, বিরাটাকার লোহার সিন্দুক, কয়েক টন ওজনের অনেকগুলো লোহার বীম এখনো দৃশ্যমান, যা দেখতে দূর-দুরান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ছুটে আসেন। প্রশাসনিক উদ্যোগে এখন পরিত্যক্ত এ বাড়ির সস্কার কাজ চলছে। লক্ষ্মীপুর সদর থেকে বাস বা সি এন জি নিয়ে দালাল বাজার এলেই এই রাজবাড়ী। অনেকে মনে করেন এ জমিদার লক্ষ্মী নারায়ন এর নাম থেকেই লক্ষ্মীপুর জেলার নামকরণ।


কামানখোলা জমিদার বাড়ী

 দালাল বাজারের কাছেই নারিকেল ও সুপারি বাগান ঘেরা এই কামান খোলা জমিদার বাড়ী। এটি নির্মাণ করেন জমিদার রাজেন্দ্র নাথ দাস। জমিদারের পুত্র ক্ষেত্রনাথ দাস ও পৌত্র যদুনাথ দাস, এবং যদুনাথ দাসের পৌষ্যপুত্র হরেন্দ্র নারায়ন দাস চৌধুরী পর্যায়ক্রমে এই জমিদারী লাভ করেন। স্ত্রুমুক্ত রাখতে জমিদার বাড়িটির তিনদিকে ছিল প্রায় ১০০ ফুট চওড়া খাল এবং সামনের দিকে স্থলপথের সংযোগ। বাড়ীর সদর দরজার খালের পাড়েই  জল টংগী, লাঠিয়াল ও রক্ষী বাহিনীর আবাস ছিল সে সময়। বাড়ির সামনে দ্বিতল লম্বা বিরাটাকারের পুজা মন্ডপ। সুরক্ষিত প্রবেশদ্বার পেরিয়ে ভেতর বাড়ীতে অপূর্ব সৌন্দর্যের এই রাজ প্রাসাদ। লক্ষ্মীপুর বাস ষ্ট্যান্ড ও রায়পুর বাস ষ্ট্যান্ড থেকে সি এন জি বা অটো রিক্সা করে যাওয়া যায় এ জমিদার বাড়ি।

জ্বীনের মসজিদ: 

সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন রায়পুর পৌর শহর থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার পূর্বে পীর ফয়েজ উল্যা সড়কের দক্ষিণ দিকে মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা জ্বীনের মসজিদ যা পুরোনো স্থাপত্যের আরেক নিদর্শন। সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন রায়পুর পৌর শহর থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার পূর্বে পীর ফয়েজ উল্যা সড়কের দক্ষিণ দিকে মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা জ্বীনের মসজিদ যা পুরোনো স্থাপত্যের আরেক নিদর্শন। এক রাতে জিনরা এ মসজিদ তৈরী করেন, এমন অনেক রূপ কথা জড়িয়ে আছে এ মসজিদকে ঘিরে; যদিও স্থানীয়রা মানতে নারাজ এসব কথা। মসজিদের বর্তমান ইমাম সাহেবের পূর্ব পুরুষরাই এটি নির্মাণ করেন।


রায়পুর বড় মসজিদ

২০০ বছরেরও অধিক পুরনো ২৩ গম্বুজ বিশিষ্ট অপূর্ব এই মসজিদটি আধুনিক ও মোঘল মিশ্র স্থাপত্যশৈলীর এক অপূর্ব নিদর্শন। মরহুম পীরে কামেল শাহ ফজলুল্লাহ ওরফে বুড়া হযরত (রঃ) বাংলা ১২১৭ সনে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। টানা ১০ বছর মসজিদটির নির্মাণ কাজ চলেছিল বলে লোকমুখে শুনা যায়। সময় করে দেখে নিতে পারেন লক্ষিপুরের রায়পুরের  এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি।


দালাল বাজার খোয়া সাগর দিঘী

প্রায় ২৫ একর এলাকা জুড়ে দালাল বাজার সংলগ্ন এই দীঘির নাম খোয়া সাগর। লক্ষিপুর অঞ্চলে কুয়াশাকে স্থানীয় ভাষায় খোয়া বলা হয়। দিঘীর বিরাট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের ফলে এক প্রান্ত দাঁড়িয়ে অন্য প্রান্তে কুয়াশাময় ও সাগরের মতো দেখাতো বলে এ দিঘীর নাম খোয়া সাগর। আনুমানিক ১৭৫৫ সালে জমিদার ব্রজ বল্লভ রায় মানুষের পানীয় জল সংরক্ষণে এ দিঘীটি খনন করেন। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর তেহমুনী থেকে যে কোন গাড়ি, সিএনজি ইত্যাদি দিয়ে দালাল বাজার যাওয়ার পথেই খোয়া সাগর দিঘীতে যাওয়া যায়।


সাইফিয়া দরবার শরীফ

 মজুচৌধুরীর হাট যাওয়া বা আসার সময় রাস্তার পাশেই দেখা যায় দৃষ্টি নন্দন এই সাইফিয়া দরবার শরীফ। এখানে রয়েছে ছাত্র ও ছাত্রীদের মাদ্রাসা, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান করে থাকে এই দরবার শরীফ। পুরো এলাকা জুড়ে রয়েছে তাদের অনেক ভক্ত।


লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাট 

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরত্বে চর রমনী মোহন ইউনিয়ন এ রয়েছে ঐতিহাসিক মজুচৌধুরীর হাট। এখানে পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তৈরী একটি স্লুইসগেট রয়েছে,  যার গোড়াতেই পত্তন লক্ষ্মীপুর-ভোলা ফেরী ঘাট। খুব সহজে এখান থেকে ভোলা যাওয়া যায়। এই ঘাটে দিনে কয়েকবার নদীর মাছ আসে ও বেপারিরা কিনে নিয়ে যায়।


তিতা খাঁ জামে মসজিদ

প্রায় ৩ শত বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত লক্ষ্মীপুর শহরের উপর তিতা খাঁ মসজিদটি শৈল্পিক কারুকার্য এবং দৃষ্টি নন্দনতার জন্য সকল সময়ে খ্যাতি লাভ করেছে। ঐ সময় হযরত আজিম শাহ (রঃ) বাগানের মধ্যে সজিদটি আবিষ্কার করেন। বর্তমানে সরকার সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ায় মসজিদটি সংরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।


ভাষা সৈনিক কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহার স্মৃতিসৌধ: 

 হাজির হাট বাজারের উত্তর পাশে তোয়াহা সাহেবের নামে একটি স্কুল আছে যার নাম তোয়াহা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। তার গেইট দিয়ে ঢুকলে হাতের ডান পাশে এটি অবস্থিত। সদর উপজেলা থেকে মিনি বাস / সিএনজি নিয়ে  হাজির হাট বাজারে অবস্থিত তোয়াহা স্মৃতি সৌধে যাওয়া যায়। কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহা একজন ভাষা সৈনিক ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তিনি রামগতি ও কমলনগরের নির্বাচিত সংসদ সদস্যও ছিলেন। 


শ্রী শ্রী বুড়া কর্তার সমাধি আশ্রম: 

 শ্রী শ্রী বুড়া কর্তার আসল নাম ওঁ রাধাকান্ত সোহং স্বামীজি। তার জন্ম বাং ১১৮৫ সালে। তিনি ছিলেন সম্ভ্রান্ত ব্রাম্মণ পরিবারের সন্তান। তার মৃত্যু আনুমানিক বাং ১২৯৫।  রামগতি পৌ্র এলাকার চর ডাক্তারে  তার সমাধি আশ্রম অবস্থিত। প্রতি বছর ফ্রেবুয়ারী মাসে শুল্ক পক্ষের মাঘী সপ্তমী তিথিতে শ্রী শ্রী বুড়া কর্তার তিরোধান উৎসব পালিত হয়। এ উপলক্ষে ১৫ দিন ব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়।


মেঘনা বেড়িবাঁধ, চর আলেকজান্ডার, রামগতি, লক্ষ্মীপুর।

 প্রমত্তা মেঘনার ঢেউ, বিকেলের সুমিষ্ট বাতাস আর রক্তিম সূর্যাস্ত সব মিলিয়ে অসম্ভব সুন্দর এক পরিবেশ দেখতে যেতে হবে আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে বিকেল হলেই পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসেন অনেকেই। বেড়িবাঁধ থেকে স্পীডবোটে করে ঘুরে আসতে পারেন নদীর বুকে জেগে উঠা কয়েকটা চর থেকে। 

টুনারচর, তেলিয়ার চর ও চর গজারিয়া একটু দূরেই, প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে।     তবে চর আব্দুল্লাহ কাছে বলে অনেকেই সেখানে ঘুরতে ও পিকনিক করতে যান। কয়েকজন মিলে ঘুরে আসতে পারেন। স্পীডবোটে আসা যাওয়ার খরচ জনপ্রতি ১০০ টাকা, রিজার্ভ নিলে ১৫০০ টাকার মতো লাগে। লক্ষ্মীপুর সদর থেকে সরাসরি বাস অথবা CNG চালিত অটোরিকশা করে ৫০-৬০ টাকায় যেতে পারেন আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ।


লক্ষ্মীপুর জেলায় এক দিনের ট্যুর ভিডিও


বিজ্ঞাপন - অনলি টুটুল

Like My Facebook

সর্বশেষ

মিরিঞ্জা ভ্যালি

বান্দরবান ,চট্রগ্রাম

21 Nov 2024

সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা

সিলেট ,সিলেট

11 Jan 2024

চেয়ারম্যান ঘাট

নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম

10 Jan 2024

নলচিড়া ঘাট, হাতিয়া

নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম

09 Jan 2024

ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক

নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম

07 Jan 2024

যোগীর ভবন

বগুড়া ,রাজশাহী

06 Jan 2024 | ভিডিও দেখুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী ,রাজশাহী

05 Dec 2023

মা ভবানী মন্দির

বগুড়া ,রাজশাহী

04 Dec 2023 | ভিডিও দেখুন

ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক

বগুড়া ,রাজশাহী

22 Aug 2023 | ভিডিও দেখুন

বাঘা মসজিদ

রাজশাহী ,রাজশাহী

03 Jul 2023

Creating Document, Do not close this window...