ঢাকা থেকে মাত্র ৯০ কিমি দুরত্বে অবস্থিত এই জেলায় সরাসরি বাস সার্ভিস নেই। দুই থেকে আড়াই ঘন্টায় কয়েক ধাপে পৌছানো যায় জেলা শহরে।
সূর্যোদয়ের পরপরই যাত্রা শুরু করতে হবে। শরীয়তপুর জেলা শহরের কোর্ট বিল্ডিং এর সামনে বাস থেকে নেমে সিএনজি রিজার্ভ করে আমরা প্রথমেই চলে যাই জেলার সদর উপজেলার ধানুকা গ্রামে অবস্থিত ধানুকা মনসা বাড়ি (ময়ূর ভট্টের বাড়ি)।প্রায় ৬০০ বছরের প্রাচীন এই বাড়িতে রয়েছে দুর্গা মন্দির, মনসা মন্দির ও কালি মন্দির।
প্রাচীন এই স্থাপত্যশৈলী দেখা শেষ করে পাঁচ মিনিটে পৌঁছে গেলাম সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীর বাড়িতে। অসাধারণ কারুকার্য বিশিষ্ট এই বাড়ির সম্মুখভাগে রয়েছে একটি বড় পুকুর।রথীন্দ্র ঘটক চৌধুরীর বাবা জমিদার সূর্যকান্ত ঘটক চৌধুরী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করেছেন। এই অঞ্চলে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় রথীন্দ্র ঘটকের সভাপতিত্বে।
চমৎকার এই বাড়িটি থেকে বিদায় নিয়ে আমরা গেলাম জেলার সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক রুদ্রকর মঠে যা আদতে একটি মন্দির। পৌছাতে সময় লাগলো প্রায় পনেরো মিনিট। তৎকালীন জমিদার বাবু গুরুচরণ চক্রবর্তী তাঁর মা রাশমণি দেবীর সমাধিকে অমর করে রাখার জন্য এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন।১৮৯৮ সালে মঠটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। মূল মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ২০ মিটার এবং অন্য চারটি ছোট মন্দির উচ্চতা ১.৯৫ মিটার। মঠের দেয়ালে গায়ে ৪টি দেবী মূর্তির অলঙ্করণ রয়েছে। পুকুরের পাড় দিয়ে একটু হেটে ভিতরে গেলে আরো কিছু প্রাচীন জরাজীর্ণ স্থাপনা দেখতে পাবেন।
এবারের গন্তব্য জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক বুড়িরহাট জামে মসজিদ। রুদ্রকর মঠ থেকে ভেদরগঞ্জ-শরীয়তপুর সড়ক ধরে এখানে আসতে সময় লাগে মাত্র ১০ মিনিট। কারুকার্য খচিত চমৎকার এই মসজিদটি ১৯০৭ সালে নির্মাণ করা হয়। কলকাতা থেকে আনা বিভিন্ন পাথরের তৈরি নানা কারুকার্য খচিত রয়েছে মসজিদের দেয়ালে। ৮০’র দশকে নির্মাণ করা হয় মসজিদের বিশাল উঁচু মিনার। এ মিনারটি তৈরি করতে বিরতিহীনভাবে ১০ জন মিস্ত্রির সময় লাগে দেড় বছর।
এখান থেকে ৩ কিমি দুরত্বে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের ছয়গাঁও বাংলা বাজার গ্রামে অবস্থিত ছয়গাঁও জমিদার বাড়ি/শিকদার বাড়ি। ভেদরগঞ্জ-শরীয়তপুর সড়ক ধরে দশ মিনিটে পৌছে গেলাম এই জমিদার বাড়িতে। বাড়িটি ১৯৩৪ সালে নির্মাণ করা হয়। ইট,সুরকি ও রড দিয়ে নির্মিত বাড়িটির অসাধারণ নির্মাণশৈলী আপনাকে মুগ্ধ করবে।
এটি দেখার পর প্রায় ৪০ মিনিট ভেদরগঞ্জ সড়ক ধরে জার্নি করে পৌঁছে যাবেন জেলার নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের করণ হোগলা গ্রামে অবস্থিত করণ হোগলা চার আনী মসজিদে। স্থানীয় জমিদার মুন্সী মনিরুদ্দিন চৌধুরী এটি নির্মাণ করেন। সমতল ভূমি থেকে তিন ফুট উঁচু তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ৩৩ ফুট ও প্রস্থ ১৫ ফুট। সামনের অংশে রয়েছে ৩টি দরজা এবং উত্তর-দক্ষিণে দুইটি দরজা আছে। প্রত্যেকটি গম্বুজের মধ্যবর্তী স্থানে একটি করে মোট ৩টি মেহরাব। মসজিদটির সামনের অংশে একটি পুকুর রয়েছে। এই মসজিদের পাশে অনেক পুরাতন এক গম্ভুজ বিশিষ্ট একটি পরিতাক্ত মসজিদ দেখতে পাবেন। ধারনা করা হই এটি মোগল আমলের মসজিদ।
এখান থেকে মাত্র ৩৫০ মিটার দুরত্বে মূল সড়কের পাশেই রয়েছে বড় বাড়ি মসজিদ। এই মসজিদটিও নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের করণ হোগলা গ্রামে অবস্থিত। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ও প্রস্থ ১১ ফুট। সামনের অংশে ৪ফুট উচ্চতার দুটি দরজা রয়েছে। মসজিদের দেয়াল ২০ ইঞ্চি পুুরু। মসজিদটির পাশে ৬ ফুট উচ্চতার একটি হুজরাখানা রয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৮ ফুট ও প্রস্থ ৬ ফুট।হুজরাখানাটিও মসজিদের অনুরূপ এবং মসজিদের ইট দ্বারা গাঁথুনীযুক্ত।
এবার আমরা যাবো আমাদের আজকের শেষ গন্তব্য শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নে অবস্থিত রামসাধুর আশ্রমে। হিন্দু সাধক রামঠাকুর পরিচিত ছিলেন শ্রী কৈবলযোনাথ নামে। ১৮৬০ সালে বর্তমান শরীয়তপুর জেলায় ব্রাহ্মন বিদ্যালঙ্কার পরিবারে জন্মগ্রহন করেন রামঠাকুর। প্রতিবছর এখানে তিনদিন ব্যাপী মেলা বসে এখানে। এই আশ্রমটি শরীয়তপুর জেলার সর্বাধিক জনপ্রিয় হিন্দু স্থাপনা।
জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জনাব জয়নুল হক সিকদার তাঁর নিজ জেলা শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানাধীন মধুপুর গ্রামে ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। কিছু সময়ের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ঘুরে দেখতে পারেন।
কার্তিকপুর জমিদার বাড়ি, এই জমিদার বাড়িটি অনেক সুন্দর কারুকার্য খচিত নকশা দারা নির্মাণ করা হয়েছে জা এখনো বিদ্যমান। কারতিকপুর জমিদার বাড়ি নিয়ে অনেক বড় ইতিহাস আছে, আমাদের মাই টুর বিডি ওয়েবসাইটে ভিসিট করে জেনে নিতে পারেন। জমিদার বাড়িটি ভিডিও করার সময় অনেকে বাধার সম্মক্ষিন হতে হয়। আমাদেরকে তারা ঠিক কি কারনে বাধা দেয় তাঁর উত্তর তারা দিতে পারেনি। কিছুক্ষন চেষ্টার পর আমরা এই সুন্দর জমিদার বাড়িটি কেমেরায় ধারন করতে পারি।
মহিষারের দিগম্বরী দীঘি, ছয়শ’ বছরের পুরনো শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষারের দিগম্বরীর সন্যাসীবাড়ি ও দিগম্বরী দীঘিটি(Mahisarer Digambari Dighi) বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান ও বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত। মোগল আমলের স্বাধীন ১২ ভূঁইয়ার একজন বিক্রমপুর পরগনার জমিদার রাজা চাঁদ রায় দিগম্বরীর সন্যাসীর অনুরোধে ১০ একর জমির ওপর এই দীঘি খনন করেন। ২৩ একর ৮৫ শতাংশ জমির ওপর রয়েছে দিগম্বরীর পৈতৃক বাড়িসহ মেলা চত্বর, জোড়াপুকুর, মনসা মন্দির, কালী মন্দির চত্বর ও লক্ষ্মীন্দরের ঘরসহ অসংখ্য স্থাপনা। তাই ইতিহাসের অমর সাক্ষী দিগম্বরীর দীঘি ও এর আশপাশের এলাকাকে ঘিরে শরীয়তপুরের মহিষার হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ পূজা ও মেলা হয়। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী এ মেলায় সমবেত হয়ে থাকে। প্রতি বছর শীতের সময় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি দেখা মেলে হাজার হাজার অতিথি পাখির। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা বিভিন্ন মানত নিয়ে এখানে আসেন। তাদের বিশ্বাস, দীঘির জলে স্নান করলে সব পাপ ও রোগমুক্তি ঘটে।
মর্ডান ফেন্টাসি কিংডম,
২০১১ সালে মডার্ন হারবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ডাক্তার আলমগীর মতি প্রায় ৫০ একর জমি নিয়ে মর্ডান হইয়াছে কিংডম পার্ক প্রতিষ্ঠা করেন। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার কলুকাঠি গ্রামের মনোরম পরিবেশে অবস্থিত মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডমে রয়েছে বিনোদনের সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। এখানে আছে বিভিন্ন ধরনের রাইট মিনি চিড়িয়াখানা স্পিডবোট শিশুরাই সুপার চেয়ার ট্রেন ওয়াটার ওয়াটার ক্যাবলকার মেরি গ্রাউন্ড ইত্যাদি । এছাড়া মর্ডান ফ্যান্টাসি কিংডমের বাড়াতে আছে বিভিন্ন প্রজাতির ফলোজ ও ঔষধি গাছের সমাহার দুইটি খেলার মাঠ এবং বিশাল আয়তনের পুকুর।
মর্ডান ফ্যান্টাসি কিংডমের মিনি চিড়িয়াখানায় রয়েছে হরিণ, চিতা বাঘ , কুমির, অজগর সাপ , বানর , ময়ূর, সজারু, ভাল্লুক , উটপাখি ইমু পাখি, কালিম পাখি, খরগোশ , গিনিপিগ , বক্সার ডগ এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ । বিভিন্ন বিনোদন আয়োজন ছাড়াও মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডমে যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বনভোজন আয়োজন এর সকল সুব্যবস্থা রয়েছে । আগত অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্কের সর্বত্র রয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা এবং প্রশিক্ষিত বাহিনী। প্রতিদিন সকাল 9 টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এই পার্কটি খোলা থাকে। জনপ্রতি ৫০ টাকার টিকিট কেটে এখানে ঢুকতে পারেন।
নড়িয়া বিহারী লাল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাস্তার পাশেই এই বিদ্যালয়টি অবস্থিত। মন চাইলে ঘুরে দেখতে পারেন এই বিদ্যালয়টি।
এর মধ্য দিয়েই শেষ হলো আমাদের শরীয়তপুর জেলা ভ্রমন। এখান থেকে এবার চলে যাবেন মাদারীপুর শহরে ।
মাদারীপুর সদর বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশা নিয়ে পাঁচ মিনিটে চলে যেতে পারবেন মাদারীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মানবসৃষ্ট একটি দীঘি যার নাম 'শকুনি দীঘি'। তটভূমিসহ এই দীঘির আয়তন ১,০১,১৭২ বর্গমিটার।দীঘিটির দৈর্ঘ্য ৪৮৬ মিটার ও প্রস্থ ১৯৮ মিটার। ১৯৪৩ সালে মাদারীপুর শহরকে প্রমত্তা আড়িয়াল খাঁ নদের পাড় থেকে নতুন করে স্থাপনের জন্য দক্ষিণে সরিয়ে আনার লক্ষ্যে এ দীঘিটি খনন করা হয়। কাগজপত্রে এর নাম ‘শকুনি দীঘি’ হলেও স্থানীয়দের কাছে এটি ‘মাদারীপুর লেক’ হিসেবে সুপরিচিত। সকালের মিষ্টি হাওয়ায় কিছু সময় এখানে কাটিয়ে একটা ইজিবাইক রিজার্ভ নিয়ে নিতে হবে। এই ইজিবাইকে চড়ে প্রথমেই চলে যাবেন শকুনি দীঘি থেকে মাত্র ২ কিমি দুরত্বে অবস্থিত কুলপদ্দি জমিদার বাড়িতে।স্থানীয়ভাবে ‘সাহা বাড়ি’ নামে পরিচিত এই বাড়িটি মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নে অবস্থিত।এই জমিদার বাড়িটির নির্মাতা ও নির্মাণ সাল সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায় নি। বাড়িটির মালিক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাড়িটি বিক্রি করে চলে যান। চমৎকার স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই বাড়িটির পাশেই অবস্থিত স্থাপত্যকলার আরেক দুর্দান্ত নিদর্শন 'শশী রায়ের বাড়ি'। ঝাউদি ইউনিয়নে অবস্থিত এ বাড়িটিতে বর্তমানে ইউনিয়ন ভূমি জরিপের কাজে নিয়োজিত কয়েকজন সরকারি কর্মচারী সপরিবারে বসবাস করছেন। বাড়িটি ঘুরে দেখা শেষে এবারের গন্তব্য ঝাউদি গিরি। ইজিবাইকে চড়ে মাদারীপুর শহরে চলে আসুন। শহর থেকে এবার চলে আসুন মস্তাফপুরে অবস্থিত পর্বতের বাগানে।রাসবিহারী পর্বত ১৯৩০ সালে দেশ-বিদেশি প্রায় ৫০০ জাতের ফল ও ফুলের চারা সংগ্রহ করে প্রায় ২০ একর জমির ওপর গড়ে তোলেন একটি বাগান । সেই থেকে তার নামানুসারে এ বাগানটি পর্বত বাগান নামে পরিচিতি পায়। বাগানের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খরস্রোত কুমারনদ বাগানের আকর্ষনীয় অনুষঙ্গ হিসেবে বাড়তি সৌন্দর্য এনে দেয়। নানা আকৃতির সুন্দর শৈল্পিক পথ বাগান প্রতিষ্ঠালগ্নে হাজার হাজার নারিকেল ও সুপারি গাছ বাগানটি ঘিরে রেখেছে । ছিল আম, জাম, কাঁঠাল, কামরাংগা, আমড়া,কুল,সফেদা, জলপাই,আমলকী, কমলা, জামরুল, তেজপাতা, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ সহ দেশ বিদেমি বিভিন্ন ফল ও ভেষজ গাছ। বাগানটি নয়নাবিরাম করার জন্য গোলাপ, গন্ধরাজ, টগর, কামিনী, হাসনাহেনা বকুল, জুই বেলি ,জবা সহ দেশ বিদেশী সংখ্য ফুলের গাছ। প্রায় ১২ রকমের গোলাপ গাছ ছিল পবর্ত বাগানে।
বাগানের মধ্যে ৬টি শান বাধানো পুকুরও রাজবিহারি পবর্তের বাসভবনটি সবচেয়ে আকর্ষনিয়। আগের মতো বাগানটির শোভা না থাকালেও কাছাকাছি থাকা জমিদার সুরেশ চন্দ্র পোদ্দারের বাড়ি মিলিয়ে এলাকাটি আর্কষনীয় । এ বাগানে অনেক দুর্লভ প্রজাতির গাছ আছে। এখান থেকে মস্তাফপুর বাসস্ট্যান্ড ফিরে এসে বাসযোগে ৩০ মিনিটে চলে আসুন টেকেরহাট বাসস্ট্যান্ড।বাসস্ট্যান্ড থেকে ভ্যানযোগে ১০ মিনিটে চলে যেতে পারবেন মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার খালিয়া গ্রামে অবস্থিত রাজারাম মন্দিরে । জানা যায়, তৎকালীন হিন্দু জমিদার কালীসাধক রাজারাম রায় চৌধুরী ১৮২৫ সালে মন্দিরটি নির্মাণ করেন। নির্মাতা রাজারাম চৌধুরী নিজেই এখানে পূজা করতেন বলে জানা যায়।
২৩ শতাংশ জমির উপর নির্মিত চৌচালা ঘর আকৃতির এই দ্বিতল এই মন্দিরটির দৈর্ঘ্য ২০ ফুট, প্রস্থ ১৬ ফুট এবং উচ্চতা ৪৭ ফুট। মন্দিরের দেয়ালে চমৎলার টেরাকোটার কাজ দেখা যায়। মন্দিরটিতে রান্নাঘর সহ মোট মোট ১০ টি ঘর রয়েছে।বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন রয়েছে এই মন্দির। চমৎকার টেরাকোটার নকশা অঙ্কিত এই মন্দির দেখে চলে যাবেন শেষ লোকেশনে। আমাদের আজকের ট্যুরের শেষ লোকেশন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী দিঘীরপাড়ে অবস্থিত গণেশ পাগল সেবাশ্রম।
কোটালী পাড়া উপজেলার পোলসাইর গ্রামে ১২৫৫ বঙ্গাব্দে এই গ্রামে জন্মগ্রহন করেন গণেশ পাগল। গনেশ পাগলের অনুসারীদের জন্য ১৩১২ বঙ্গাব্দে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী দিঘীরপাড় এলাকায় প্রায় ৩৬৫ বিঘা জমিতে গনেশ পাগল সেবাশ্রম গড়ে তোলা হয়। ১৩৭ বছর আগে ১৩ জন সাধু মিলিত হয়ে ১৩ কেজি চাল ও ১৩ টাকা নিয়ে ১৩ ই জ্যৈষ্ঠ ভারতের কুম্ভমেলার আদলে সেবাশ্রমে কুম্ভমেলার আয়োজন করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের ১৩ তারিখ মেলার সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হচ্ছে। শ্রী শ্রী গনেশ পাগল সেবাশ্রম সংঘের এই মেলা উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ কুম্ভমেলা হিসাবে স্বীকৃত। প্রায় ১৬৭ একর জমি অর্থাৎ ৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত থাকে মেলার আয়তন। অতীতে মাত্র একদিনের জন্য মেলা অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এই মেলার চলে তিন দিন ব্যাপী।
প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই কুম্ভমেলার আয়োজনে দেশ-বিদেশের প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। এখানেই শেষ হলো আমাদের মাদারীপুর ভ্রমন। ইচ্ছা করলে এখান থেকে গোপালগঞ্জ সদরে গিয়ে সেখান থেকে বাসে ঢাকা ফিরতে পারেন।
Like My Facebook
মিরিঞ্জা ভ্যালি
বান্দরবান ,চট্রগ্রাম
21 Nov 2024
সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা
সিলেট ,সিলেট
11 Jan 2024
চেয়ারম্যান ঘাট
নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম
10 Jan 2024
নলচিড়া ঘাট, হাতিয়া
নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম
09 Jan 2024
ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক
নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম
07 Jan 2024
যোগীর ভবন
বগুড়া ,রাজশাহী
06 Jan 2024 | ভিডিও দেখুন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী ,রাজশাহী
05 Dec 2023
মা ভবানী মন্দির
বগুড়া ,রাজশাহী
04 Dec 2023 | ভিডিও দেখুন
ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক
বগুড়া ,রাজশাহী
22 Aug 2023 | ভিডিও দেখুন
বাঘা মসজিদ
রাজশাহী ,রাজশাহী
03 Jul 2023
Creating Document, Do not close this window...