×
কুষ্টিয়া জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

কুঠিবাড়ী বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজার টেগোর এন্ড কোম্পানী (টেগর লজ) পরিমল থিয়েটার গোপীনাথ জিউর মন্দির মীর মশাররফ হোসেনের বাসত্মভিটা ঝাউদিয়ার শাহী মসজিদ স্বসিত্মপুর শাহী মসজিদ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ বাংলাদেশের সর্বপ্রথম রেলওয়ে স্টেশন “জগতি স্টেশন” কুষ্টিয়ার লালন মেলা
☰ কুষ্টিয়া জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সর্বপ্রথম রেলওয়ে স্টেশন “জগতি স্টেশন”

পরিচিতি

শিয়ালদহ থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত দেশে প্রথম রেল লাইন চালু হয় ১৮৬২ সালে। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতি রেলওয়ে স্টেশন। পুরাতন স্টেশন হিসাবে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি এ স্টেশনের। সংস্কার না থাকায় এ স্টেশনের পুরাতন বিল্ডিং গুলো ধ্বসে ধ্বসে পড়েছে। সরকারি জায়গা গুলোও বেহাত হয়ে গেছে। সূত্রমতে, জগতি রেল স্টেশনটি ১৮৬২ সালে স্থাপিত হয়। ওই সময় প্রথম স্টেশন হওয়ার জন্য এখানেই সকল লোকজনের উঠা নামার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত ছিল। লোক সমাগমের কারণেই জগতি বাণিজ্যিকভাবে আমদানি-রফতানির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। স্টেশনটি ইঞ্জিলের জ্বালানির উপর নির্ভরশীল ছিল। স্টেশনের দুইপাশে দুটি বড় ইন্দারা আজও আছে। লোকজনের ভিড় সামাল দিতে এক সময়ে এখানে ২৬জন রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ ছিল। এখন সেখানে মাত্র ৩জন রয়েছে। লোকবলের অভাবে এখন স্টেশনের কার্যক্রমও ভেঙে পড়েছে। যাত্রীরা বিভিন্নভাবে হয়রানী শিকার হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় স্টেশনের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। ট্রেনের যাত্রীরা সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় এ ষ্টেশনে আর কেউ যায়না বললেই চলে। স্টেশনটির সংস্কার জরুরি। যাতায়াতের জন্য রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া-ভেড়ামারা রায়টা ঘাট রেল লাইন। সংস্কারের অভাবে স্টেশনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। অপরদিকে পুরাতন লাইন রায়টা। ব্রিটিশ শাসনামলে এ লাইন নির্মিত হয়। ১৯১৬ সালে এ লাইন স্থাপন করা হয়। রায়টা-দামুকদিয়া থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন রায়টা ট্রেন নামেই নামকরণও হয়। তিন দশক আগেও এ লাইনটি বেশ জম-জমাট ছিল। কিন্তু লোকসান দেখিয়ে ওই রেল লাইনটি বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ লাইন বন্ধ হওয়ায় এলাকার জনসাধারণের জীব-যাত্রার মান অনেকটাই থমকে গেছে। ঊনবিংশ শতাব্দিতে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন রেল কোম্পানি ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে ছোট ছোট রেলপথ সেকশন চালু করতে থাকে। প্রথমদিকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কাজের জন্য রেলপথ চালু করা হয়। ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে নামক কোম্পানি প্রথম বাংলাদেশে রেলপথ স্থাপন করে। ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি কোলকাতা থেকে রানাঘাট পর্যন্ত ব্রডগেজ (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি) রেলপথ সেকশনটিকে ১৮৬২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এবং রানাঘাট থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রেলপথ সেকশনটিকে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর চালু করে। গোয়ালন্দ পর্যন্ত সেকশনটি চালু হয় ১৮৭১ সালের ১ জানুয়ারি। ১৮৭৪ থেকে ১৮৭৯ সালে দুর্ভিক্ষ মোকাবিলার জন্য সাড়া থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত সেকশনটি নর্দান বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে মিটারগেজে (৩ ফুট ৩.৩৮ ইঞ্চি) চালু করে। পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর এবং পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত মিটারগেজ সেকশনটিও এই কোম্পানি চালু করে। ১৮৮৪ সালের ১ জুলাই ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলে আসে এবং ১ এপ্রিল ১৮৮৭ সালে তা নর্দান বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ের সাথে একীভূত হয়। ১৯১৫ সালের ১ জানুয়ারি, হার্ডিঞ্জ ব্রিজসহ ভেড়ামারা শাকোলে সেকশন চালু হয়। ১৯১৪ সালে শাকোলে থেকে সান্তাহার পর্যন্ত মিটারগেজ সেকশনটিকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করা হয় এবং ১৯২৪ সালে সান্তাহার থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত প্রায় ৯৬ কিলোমিটার সেকশনটিকে মিটরগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করা হয়। ১৯২৬ সালে পার্বতীপুর থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৩৭ কিলোমিটার মিটারগেজ সেকশনটিকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করা হয়। ১৯১৬ সালে ভেড়ামারা রায়টা ব্রডগেজ সেকশনটি চালু করা হয়। ১৯২৮–২৯ সালে তিস্তা হতে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত ন্যারোগেজ সেকশনটিকে মিটারগেজে রূপান্তর করা হয়। ১৯৩০ সালে আব্দুলপুর–আমনুরা ব্রডগেজ সেকশনটি চালু করা হয়। বাহাদুরাবাদ-জামালপুর টাউন মিটারগেজ সেকশনটি চালু হয় ১৯৪১ সালে। ১৮৯৭ সালে দর্শনা পোড়াদহ সেকশনটি সিঙ্গেল লাইন থেকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা হয়। পর্যায়ক্রমে ১৯০৯ সালে পোড়াদহ ভেড়ামারা, ১৯১৫ সালে ভেড়ামারা ঈশ্বরদী এবং ১৯৩২ সালে ঈশ্বরদী আব্দুলপুর সেকশনগুলোকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা হয়। সংস্কারের অভাবে এসব লাইনের বেহাল দশা। [সালেকউদ্দিন শেখ সুমন]


Total Site Views: 786304 | Online: 8