×
মাগুরা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

ভাতের ভিটা হজরত মোকাররম আলী শাহ (র:) এর দরগাহ ইছাখাদা নীলকুঠি সিদ্ধেশ্বরী মঠ শত্রুজিৎপুর মদনমোহন মন্দির নেংটা বাবার আশ্রম ও মন্দির রাজা সীতারাম রায়ের রাজপ্রাসাদ দ্বারিয়াপুর পীরের মাজার কাজী কাদের নেওয়াজ-এর বাসভবন শ্রীপুর জমিদার বাড়ী বিরাট রাজার রাজধানীী তালখড়ি জমিদার বাড়ি ও লোকনাথ আশ্রম
☰ মাগুরা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
রাজা সীতারাম রায়ের রাজপ্রাসাদ

পরিচিতি

বাংলার যে সমস্ত খ্যাতনামা জমিদার দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তৎমধ্যে মহম্মদপুরের রাজা সীতারাম রায় ছিলেন অন্যতম। রাজা সীতারাম ১৬৯৭-৯৮ খ্রীস্টাব্দে মহম্মদপুরে রাজধানী স্থাপন করেন। তার জমিদারী পাবনা জেলার দক্ষিণভাগ থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত এবং নদীয়া জেলার পূর্বপ্রান্ত থেকে বরিশাল জেলার মধ্যভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বাৎসরিক রাজস্ব আয় ছিল ৭৮লক্ষ টাকা। বিস্তৃীর্ণ এলাকার জমিদার রাজা সীতারাম স্বল্প কালের মধ্যে প্রবল প্রতাপশালী হয়ে উঠেন এবং বাংলার শাসকদের স্বাধীনতা প্রিয়তার বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে জাগ্রত হয়ে উঠে। মহম্মপুরের গৌরব রাজা সীতারাম রায় আজ আর নেই, কিন্তু তাঁর অসংখ্যা কীর্তিকালের করাল গ্রাসকে উপেক্ষা করে তার কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। তার কীর্তিগুলির মধ্যে রয়েছে মুহম্মদপুর দূর্গ, একাধিক প্রাসাদ, অসংখ্যা মন্দির ও দীঘি। সীতারাম রায়-এর অন্যতম কীর্তি দশভুজার মন্দির (প্রত্নতাত্ত্বিক): সীতারাম রায়ের সর্বশ্রেষ্ঠ কারুকর্যখচিত মন্দির দশভুজার মন্দির ১৬৯৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়। কৃষ্ণসাগর: (১০০০*৩৫০) বর্গফুট আয়তনের কৃষ্ণসাগর দীঘিটি রাজা সীতারাম রায় মুহাম্মদপুরের অদূরেই খনন করেন। এই দীঘির পানি ঈষৎ কৃষ্ণাভ ও খুবই পরিষ্কার। রামসাগর: এক ১৬০০ হাত দীর্ঘ এবং ৬১২ হাত প্রস্থ রামসাগর দীঘিটির আয়তন হচ্ছে ২০০ বিঘা। লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির: রাজা সীতারামের পিতা ঘোড়ায় চড়ে যাবার পথে ঘোড়ার পা লক্ষ্মীনারায়ণ শিলাখন্ডে বেঁধে যায়। রাজা সীতারাম রায় ১৭০৪ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির নির্মাণ করেন। পঞ্চরত্ন কৃষ্ণজী মন্দির (প্রত্নতাত্ত্বিক): রাজা সীতারাম রায়ের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দিত ও উঁচুমন্দির। ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত মন্দিরটির ধ্বংসাবশেষ আজও আছে। দোলমঞ্চ, রামচন্দ্র মন্দির ও বিগ্রহ(প্রত্নতাত্ত্বিক): দুধসাগরের পশ্চিমে একটি দ্বিতল ভবনে সীতারাম রায় নামে এক রাজা বাস করতেন। দুধ সাগরের পূর্বে খোলা প্রান্তরে সীতারাম রায়ের ত্রি-স্তর বিশিষ্ট দোলমঞ্চ আছে। এটি ৩০ কে ৩৫ ফুট উঁচু। তার পার্শ্বে রামচন্দ্র বিগ্রহ বাটি অবস্থিত। মুহাম্মদপুরের সবচেয়ে বড় প্রাচীন স্থাপত্য সীতারামের মৃত্যুর পর এটি কাচারী বাড়ি ছিল। দুধসাগর, পদ্মপুকুর ও চুনাপুকুর: সীতারাম রাজার খননকৃত জলাশয়ের মধ্যে দুধসাগর অন্যতম। এটি ধনাগার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এর তলদেশ পর্যন্ত এখনো পাকা আছে। দুর্গ এলাকায় প্রবেশের একটু আগে ২টি পুকুর দেখা যায়। উত্তরটি চুনাপুকুর ও দক্ষিণে পদ্মপুকুর। ধুলজোড়া দেবালয়: ধুলজোড়া দেবালয় ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়। রাজা সীতারাম রায়ের শাসনামলে রাজা সীতারামের উকিল মুনিরা রায় এখানে একটি দেবালয় প্রতিষ্ঠা করেন।


অবস্থান ও যাতায়াত

মাগুরা সদর হতে ২৮ কি.মি. দূরে মহম্মদপুর উপজেলায় রাজাবাড়ী নামক স্থানে রাজা সীতারাম রায়ের বাড়িটি অবস্থিত। মহম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড হতে আধা কিলোমিটার উত্তরে পাকা রাস্তার পার্শ্বে রাজবাড়ির অবস্থান। রিক্সা, ভ্যান অথবা পায়ে হেটে যাতায়াত করা যায়। [তথ্য: Triple zero one- 0001 ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহিত, প্রয়োজনে ফোন করুন- আবু বাসার আখন্দ- ০১৭১৬২৩২৯৬২ (সাংবাদিক)] ।


Total Site Views: 842086 | Online: 6