×
সাতক্ষীরা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

কপোতাক্ষ নদ সাতক্ষীরার দর্শনীয় নলতা শরীফ ঐতিহাসিক গির্জা গুনাকরকাটি মাজার জোড়া শিবমন্দির তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ শ্যামসুন্দর মন্দির সোনাবাড়িয়া মঠ মন্দির লিমপিড বোটানিক্যার গার্ডেন রুপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র ঐতিহাসিক বনবিবি বটতলা দেবহাটা জমিদার বাড়ী টাকীর ঘাট (ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত চিহ্নিত ইছামতি নদীর তীরে) ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত চিহ্নিত ইছামতি নদী মোজাফফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্ট মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত সাত্তার মোড়লের স্বপ্নবাড়ি প্রবাজপুর মসজিদ সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের মেলা ঈশ্বরীপুর হাম্মাম খানা/ হাবসিখানা রায় বাহাদুর হরিচরণ চৌধুরীর জমিদার বাড়ি রেজওয়ান জমিদারের বাড়ি ও তেতুলিয়া শাহী মসজিদ বনবিবির বটগাছ আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার খান বাহাদুর কাজী সালামতুল্লা শাহী জামে মসজিদ সুকান্ত ঘোষ স্মরণে স্মৃতিসৌধ
☰ সাতক্ষীরা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের মেলা

পরিচিতি

গুড়পুকুরের মেলা বা গুড়পুকুর মেলা, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা, যার বয়স প্রায় ৩০০ বছর বলে অনুমিত হয়। সাধারণত এলাকার পলাশপোল স্কুলের মাঠ আর পলাশপোল গ্রামই হলো মেলার মূল কেন্দ্রস্থল। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ভাদ্র মাসের শেষে অনুষ্ঠিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মনসা পূজাকে কেন্দ্র করে এই মেলা একমাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।

এই পূজাকে কেন্দ্র করে ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিবছর সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই গুড়পুকুরের মেলা। তবে কে বা কারা মেলাটির গোড়াপত্তন করেছিলেন তার কোনো ঐতিহাসিক দলিল পাওয়া যায় না। তবে জনশ্রুতি রয়েছে শহরের পলাশপোলে একটি গোলাকৃতির পুকুরের পাড়ে বট গাছের নিচে একবার এক

ক্লান্ত পথিক বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। গাছের ফাঁক দিয়ে আসা রোদ পথিকের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিলো দেখে এসময় একটি বিষধর সাপ ফণা তুলে তাকে ছায়া দেয়। পথিক এই দৃশ্য দেখে [হিন্দু ধর্মমতানুসারে] মনসার উদ্দেশ্যে পূজা দেওয়া শুরু করেন অথবা এলাকার লোকজনকে মনসা পূজা করতে বলেন। এই পূজার মিষ্টি প্রসাদ পুকুরে ফেলে দেওয়ায় পুকুরের পানি মিষ্টি হয়ে যায়। এই বিশ্বাস থেকে গোলাকৃতি পুকুরের নাম হয়ে যায় গুড়পুকুর। সেই থেকে শুরু হয় গুড়পুকুরের মেলা। এলাকার প্রবীণেরা তাদের বাল্যকাল থেকেই এ মেলা দেখে আসছেন বলে জানা যায়।

সাতক্ষীরা পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসবকে কেন্দ্র করে এই মেলা অনুষ্ঠিত হলেও সাতক্ষীরা শহরবাসীর জন্য এই মেলা হয়ে উঠছে গরিব-ধনী,ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক মিলনমেলা।

তবে গুড়পুকুর নামকরণের অন্যান্য অভিমতও রয়েছে, যেমন: কারো মতে পুকুরে মনসা পূজার বাতাসা ফেলা হতো আর ঐ বাতাসার জন্য পুকুরের পানি মিষ্টি লাগতো বলেই এধরণের নামকরণ। কারো মতে, পুকুরটিতে পানি থাকতো না বেশিদিন; পরে স্বপ্নে দেখা গেলো পুকুরে ১০০ ভাড় গুড় ঢালতে হবে, আর সেমতে কাজ করার ফলেই পুকুরে পানি এলো, তাই এই নামকরণ। আবার শোনা যায়, পুকুরের তলদেশ থেকে একসময় মিষ্টি পানি উঠতো বলে এমন নামকরণ। কারো মতে পুকুরের পাড়ে একসময় প্রচুর খেজুর গাছ হতো। একবার সব গাছের রস সংগ্রহ করে তা দিয়ে গুড় তৈরি করে তার বিক্রীত মূল্যে খনন করা হয় এই পুকুর।

আর সেই থেকেই এই পুকুরের নাম গুড়পুকুর। তবে ঐতিহাসিক আবদুস সোবহান খান চৌধুরীর মতে, চৌধুরীপাড়ার রায় চৌধুরীরা গৌরবর্ণের ব্রাহ্মণ ছিলেন। তাই তাদের পুকুরকে বলা হতো গৌরদের পুকুর। সেই গৌরদের পুকুর-ই কথার বিবর্তনে হয়ে যায় গুড়পুকুর।

অবস্থান ও ও যাতায়াত

পলাশপোল স্কুলের মাঠ, সাতক্ষীরা পৌরসভা


Total Site Views: 845979 | Online: 6