×
কক্সবাজার জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

মাহাসিংদোগ্রী বৌদ্ধ মন্দিরের ঐতিহাসিক পটভূমি পাতাবাড়ী বৌদ্ধ বিহার বড়ঘোপ সমূদ্র সৈকত চৌফলদন্ডী-খুরুশকুল সংযোগ সেতু কাকারা শাহওমর মাজার মনোমুগ্ধকর গোলাপ বাগান চিংড়ি রপ্তানি জোন বার্মিজ মার্কেট মাতামুহুরী নদী মগনামা ঘাট ইনানী সি বীচ কানা রাজার সুড়ঙ্গ আদিনাথ মন্দির বরইতলী মৎস্য খামার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত রাডার স্টেশন হিমছড়ি রামকোট বৌদ্ধ বিহার লামারপাড়া বৌদ্ধবিহার রাবার বাগান ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক মথিনের কূপ সেন্টমাটিন প্রবালদ্বীপ ছেঁড়াদ্বীপ, সেন্টমার্টিন, টেকনাফ মহেশখালী জেটি সোনাদিয়া দ্বীপ, মহেশখালী কুতুবদিয়া বাতিঘর বড় রাখাইন পাড়া বৌদ্ধ মন্দির লিডারশীপ ইউনিভার্সিটি কলেজ ট্রি এডভেঞ্চার -মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান। হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান
☰ কক্সবাজার জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
মথিনের কূপ

পরিচিতি

শত বছর আগের কথা। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে দেশের সর্ব দক্ষিন অবস্থিত সীমান্ত এলাকা টেকনাফ থানায় বদলী হয়ে আসে ধীরাজ ভট্টাচার্য নামের এক সুদর্শন পুলিশ অফিসার। তৎকালিন সময়ে অনেকটা দুর্গম ও ভয়ংকর জায়গা ছিল টেকনাফ। আর পুলিশের দারোগা ধীরাজ চাকরী করতে আসে সু-দুর কলকাতা থেকে। তাই আত্মীয় স্বজনহীন খুবই একাকী সময় কাটাতেন তিনি। ধীরাজ বাবু তার কর্মের ফাঁকে প্রায় সময় থানার বারান্দায় আনমনা হয়ে চেয়ার নিয়ে বসে থাকতেন। জানা গেছে, পুরো টেকনাফ জুড়ে এটিই ছিল একমাত্র পাতকুয়া। টেকনাফ থানা কম্পাউন্ডে ছিল বিশাল এই পানির কূপ। যেখানে প্রতিদিন পানি নিতে আসতো আশপাশের রাখাইন যুবতীরা। রং বেরংয়ের পোষাক পড়ে পাতকুয়া থেকে কলসী হাতে পানি নিতে আসা এসব সুন্দরী রাখাইন যুবতীর মৃদু কন্ঠে ভেসে আসা সুরলা মধুর গান শুনে মুগ্ধ হন দারোগা ধীরাজ। শুধু তাই নয় সেখানে ১৪/১৫ বছর বয়সী সুন্দরী রাখাইন কন্যারা বেশ ভালই আড্ডা জমাতো। ফাইল ছবি একদিন স্থানীয় জমিদার ওয়াং থিনের একমাত্র রূপবতী কন্যা নাম তার মাথিন। মাথিনকে দেখে মনে মনে ভালবেসে ফেলে পুলিশ অফিসার ধীরাজ। এরপর থেকে প্রতিদিন ভোর সকালে থানার বারান্দায় বসে মাথিনের আসা-যাওয়া দেখতো এবং হ্নদয় দেয়া নেয়ার এক পর্যায়ে তাদের দু’জনের মধ্যে গড়ে উঠে ভালবাসার সম্পর্ক। সম্ভব অসম্ভব নানা জল্পনা কল্পনার স্বপ্ন জালে আবদ্ধ হয় ধীরাজ ও মাথিন। কিন্তু মন দেয়া নেয়ার কিছুদিন যেতে না যেতেই কলকাতা থেকে হঠাৎ একদিন দারোগা ধীরাজের কাছে ব্রাহ্মন পিতার জরুরী টেলিবার্তা আসে। যেখানে তার বাবা লিখেছেন খুব জরুরীভাবে তাকে কলকাতা যেতে হবে। বাবার টেলিগ্রাম পেয়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন পুলিশ অফিসার ধীরাজ। তবে যাওয়ার আগে দ্রুত ফিরে এসে মাথিনকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যাওয়ার পর ধীরাজ আর ফিরে আসেনি। এ দিকে, ভালবাসার মানুষ ফিরে আসার অধির অপোয় অনাহার ও অনিদ্রায় দিন গুনতে শুরু করে জমিদার কন্যা মাথিন। ভালবাসার প্রিয় মানুষটার জন্য দীর্ঘ সময় অপোর প্রহর গুনতে গুনতে অনিদ্রা আর অনাহারে নিজের সুন্দর জীবনকে চিরতরে বিসর্জন দিয়ে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়েন ওই রাখাইন জমিদার কন্যা মাথিন। বিষাদের কষ্ট এবং বেদনা-বিধুর প্রেমের বহুল আলোচিত সেই ঘটনার কালজয়ী আজকের ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ। যা এখনো আকর্ষনীয় হয়ে আছে সীমান্ত উপজেলার টেকনাফ থানা কম্পাউন্ডে। সেই থেকে পাতকুয়াটির নাম করন হয় ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ। ছবি: টেকনাফের মাথিনের কূপ। ভালোবাসা দিবসে, ভালোবাসার অন্যতম নিদর্শন এই মাথিনের কূপ দেখতে কক্সবাজারের টেকনাফ থানায় ভিড় জমান অসংখ্য দর্শনার্থীরা। কূপের সামনে দেয়ালে লেখা, তাদের প্রেমের গল্প পড়ে মুগ্ধ হন তারা। আবার অনেকেই বিয়োগান্তক এ ভালোবাসার গল্প পড়ে আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন। এ প্রেমগাঁথা নিয়ে ১৯৩৫ সালে লাহোরের ইউনিক পাবলিকেশন্স থেকে ‘যখন পুলিশ ছিলাম’ নামে ধীরাজ চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী মূলক একটি গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়।"


অবস্থান ও যাতায়াত

টেকনাফ | সড়ক পথে


Total Site Views: 774239 | Online: 14