×
কুমিল্লা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

বায়তুল আজগর জামে মসজিদ নূর মানিকচর জামে মসজিদ কবি তীর্থ দৌলতপুর গোমতী নদী ময়নামতি ওয়ার সেমেট্রি ধর্মসাগর দিঘি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বার্ড, কুমিল্লা রানী ময়নামতির প্রাসাদ বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড কুমিল্লার জাহাপুর জমিদার বাড়ি রাজেশপুর বন বিভাগের পিকনিক স্পট নবাব ফয়জুন্নেছার পৈতৃক বাড়ি বিজয়পুরের মৃৎশিল্প লালমাই পাহাড় মহাতীর্থ, চন্ডীমুড়া মন্দির শালবন বৌদ্ধ বিহার ময়নামতি জাদুঘর নব শালবন বিহার বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন রূপবান মুড়া ও বিহার ইটাখোলা মুড়া ৪০০ বছরের পুরোনো জগন্নাথ দেবের মন্দির
☰ কুমিল্লা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বার্ড, কুমিল্লা

পরিচিতি

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী কুমিল্লা বার্ড আপনাকে অন্যরকম স্বাদের একটা ভ্রমণ সুখ দেবে। কেননা এখানে রয়েছে গাছ-গাছালী শোভিত পাখির কুজন আর ছায়া সুনিবিড় নিরাপদ এক ভ্রমণকেন্দ্র। আপনাকে অবশ্যই অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। বার্ড এর একাডেমীক ভবন ও হোস্টল এর পেছনে রয়েছে বাগান। প্রায় সাড়ে তিনশ কর্মী নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান। পেছনে রয়েছে কর্মীদের আবাস্থল। গাছে গাছে ফল ফুল, খেলার মাঠ, বাগান, বাঁশঝাড় সবই দেয়াল ঘেরা একটা গ্রামের মতো একই সীমানার মধ্যেই। অনেকেই ময়নামতি শালবন বিহার বেড়াতে গেলে বার্ড এ যায়। অনেকে আবার মনে করে সরকারী অফিস ভেতরে গিয়ে কি লাভ? অনেকে আবার সামনে ঘুরে চলে আসেন। ফলে পেছনের সৌন্দর্যটা সবার অজানা থেকে যায়। এখানে বর্ষার আবাহনে সবুজে সবুজে ছেয়ে থাকে বার্ড এর প্রতিটি কোণ।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে পল্লী উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রায়োগিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত একটি স্বায়ত্তশাসিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান এটি। এখানে বেশীরভাগ লোকজন আসেন যারা বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নেন। আখতার হামিদ খান ১৯৫৯ সালে কুমিল্লা জেলার কোর্টবাড়িতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে বার্ড একটি পিকনিক স্পট ও বিনোদন কেন্দ্র। এখানে রয়েছে পিকনিক ও বিনোদনের সব ব্যবস্থা। আছে বিশ্রামের সু ব্যবস্থাও। এখানে রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি পাহাড় ও নানারকম গাছগাছালি। বাইরে থেকে বোঝাই যায়না ভেতরে একটি সুন্দর বোটানিক্যাল গার্ডেন আছে। রয়েছে কয়েকটি টিলা, একটি টিলার উপরে রয়েছে বিশাল বড় পানির ট্যাংক  যেখানে বাংলা ছবি দিপু নাম্বার-2 শুটিং হয়েছিল, দেখে আসতে পারেন সেই টিলা এবং পানির ট্যাঙ্ক দারুন লাগবে। এখানকার নীলাচল পাহাড় আপনাকে বার বার টানবে ওখানে যাওয়ার জন্য। আছে বনমালঞ্চ নামে একটি সুন্দর ভিআইপি পিকনিক স্পট ও কটেজ। ভেতরে সারাদিন ঘুরে বেড়ানো ও খেলাধুলার জন্য রয়েছে প্রচুর পরিমাণ জায়গা। মনে হবে এ একটা আনন্দরাজ্য। কর্পোরেট জগতের জন্য বার্ড হলো একটি সুন্দর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানে ২০০টি সিট রয়েছে। একসাথে অনুষ্ঠান চলতে পারে কয়েকটি হলরুমে। আছে ক্লাসরুম ও ট্রেনিং সেন্টারের সব ব্যবস্থা। এখানে ২টি ভালো মানের ক্যাফটেরিয়া রয়েছে। যেখানে সুলভ মূল্যে পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যায় সারাদিন। গ্রুপ ভ্রমণ বা ট্রেনিং এর জন্য অবশ্যই আগে থেকে যোগাযোগ করে বুকিং দিয়ে যাবেন। ৫/৭ জন হলে অর্ডার দেয়া ছাড়াই ক্যাফটেরিয়াতে খেতে পারবেন। এর বেশী হলে আগেই অর্ডার ও এডভান্স পেমেন্ট করতে হবে। মনে রাখবেন এখানে বুকিং দিতে হবে ৯টা থেকে ৫টার মধ্যে। অন্যসময়ে হলে কর্তাদের পাওয়া যাবেনা। এছাড়া রয়েছে ৪ টি কনফারেন্স কক্ষ, ১ টি গ্রন্থাগার ও ১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বার্ড এর আরেকটি আকর্ষণ হলো এর পারিপাশ্বিক পরিবেশ। উচু নিচু পাহাড়ের গা ঘেষে নানা গাছগাছালির মাঝে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘুরে দেখতে আসে। বার্ডের পাশেই রয়েছে কুমিল্লা ময়নামতি বৌদ্ধবিহার ও প্রাচীন প্রত্নতাত্তিক নির্দর্শন। যে কেউ বার্ডে গেলে এগুলো ভ্রমণ ও গবেষণা করতে পারেন। পার্শ্ববর্তী লতিকোট মুড়া, রুপবানমূড়া, শ্বেতমন্দির, আনন্দবিহার এগুলো বার্ড এর আশেপাশেই।

প্রতিবছর সারাদেশ থেকে লাখো লাখো শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানীর এজিএমসহ নানা প্রশিক্ষণে এখানে আসে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। প্রাকৃতিক রুপলাবণ্যভরা এই স্থানটি পুরো এলাকাসহ একবার ভ্রমণ  করে আসুন পরিবার পরিজনসহ। মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বার্ড যাত্রা শুরু করলেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ এবং তৃণমূল পর্যায়ের লোকদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বার্ড ২,২০,৪১৫ জনকে প্রশিক্ষণ দান করেছে। বর্তমানে গড়ে প্রতি বছর ১৫০-১৮০ টি প্রশিক্ষণ কোর্সে ৬,০০০ প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করে থাকে। বার্ডে প্রবেশের জন্য কোনো টিকেট নেই। তবে রাতে থাকার জন্য প্রতি রুমের ভাড়া ৫০০ টাকা। প্রতি রুমে ২টি করে বেড রয়েছে। আর হলরুমের ভাড়া ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত। এছাড়া ভিআইপি পিকনিক স্পট এর জন্য আলাদা ভাড়া দিতে হয়। মাঠে খেলাধুলা বা অন্য সবকিছু ঘুরে দেখার জন্য কোনো পয়সা দিতে হয়না।

অবস্থান ও যাতায়াত

কোটবাড়ি, কুমিল্লা।

ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বাসে এলে নামতে হবে কোটবাড়ী রাস্তার মাথা, সেখান থেকে অটোতে জনপ্রতি ২০ টাকায়  বার্ডের সামনে গিয়ে নামা যায়। ট্রেনে এলে কুমিল্লা নামতে হবে, সেখান থেকে অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস অথবা সিএনজি নিয়ে সরাসরি বার্ডে যাওয়া যায়। 


Total Site Views: 642007 | Online: 17