×
কুমিল্লা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

বায়তুল আজগর জামে মসজিদ নূর মানিকচর জামে মসজিদ কবি তীর্থ দৌলতপুর গোমতী নদী ময়নামতি ওয়ার সেমেট্রি ধর্মসাগর দিঘি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বার্ড, কুমিল্লা রানী ময়নামতির প্রাসাদ বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড কুমিল্লার জাহাপুর জমিদার বাড়ি রাজেশপুর বন বিভাগের পিকনিক স্পট নবাব ফয়জুন্নেছার পৈতৃক বাড়ি বিজয়পুরের মৃৎশিল্প লালমাই পাহাড় মহাতীর্থ, চন্ডীমুড়া মন্দির শালবন বৌদ্ধ বিহার ময়নামতি জাদুঘর নব শালবন বিহার বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন রূপবান মুড়া ও বিহার ইটাখোলা মুড়া ৪০০ বছরের পুরোনো জগন্নাথ দেবের মন্দির
☰ কুমিল্লা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
শালবন বৌদ্ধ বিহার

পরিচিতি: 

কুমিল্লার ময়নামতিতে খননকৃত সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার অন্যতম প্রধান। বিহারটির আশপাশে এক সময় শাল-গজারির ঘন বন ছিল বলে এ বিহারটির নামকরণ হয়েছিল শালবন বিহার। এর সন্নিহিত গ্রামটির নাম শালমানপুর। এখনো ছোট একটি বন আছে সেখানে। এ বিহারটি পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মতো হলেও আকারে ছোট।

ধারণা করা হয় যে খৃস্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন। শালবন বিহারের ছয়টি নির্মাণ ও পুনঃর্নির্মাণ পর্বের কথা জানা যায়। খৃস্টীয় অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্দিরটি নির্মাণ করা হয় ও বিহারটির সার্বিক সংস্কার হয় বলে অনুমান করা হয়। চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের নির্মাণকাজ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয় নবম-দশম শতাব্দীতে।

আকারে এটি চৌকো। শালবন বিহারের প্রতিটি বাহু ১৬৭.৭ মিটার দীর্ঘ। বিহারের চার দিকের দেয়াল পাঁচ মিটার পুরু। কক্ষগুলো বিহারের চার দিকের বেষ্টনী দেয়াল পিঠ করে নির্মিত। বিহারে ঢোকা বা বের হওয়ার মাত্র একটাই পথ ছিল। এ পথ বা দরজাটি উত্তর ব্লকের ঠিক মাঝামাঝি স্থানে রয়েছে। প্রতিটি কক্ষের মাঝে ১.৫ মিটার চওড়া দেয়াল রয়েছে। বিহার অঙ্গনের ঠিক মাঝে ছিল কেন্দ্রীয় মন্দির।

বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে। কক্ষের সামনে ৮.৫ ফুট চওড়া টানা বারান্দা ও তার শেষ প্রান্তে অনুচ্চ দেয়াল। প্রতিটি কক্ষের দেয়ালে তিনটি করে কুলুঙ্গি রয়েছে। কুলুঙ্গিতে দেবদেবীর মূর্তি, তেলের প্রদীপ ইত্যাদি রাখা হতো। এই কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন। সেখানে বিদ্যাশিক্ষা ও ধর্মচর্চা করতেন

বিহারের বাইরে প্রবেশদ্বারের পাশে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি হলঘর রয়েছে। চার দিকের দেয়াল ও সামনে চারটি বিশাল গোলাকার স্তম্ভের ওপর নির্মিত সে হলঘরটি ভিক্ষুদের খাবার ঘর ছিল বলে ধারণা করা হয়। হলঘরের মাপ ১০ মিটার গুণন ২০ মিটার। হলঘরের চার দিকে ইটের চওড়া রাস্তা রয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রোঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে। এগুলো বাংলাদেশের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে।

যাতায়াত ও অবস্থান: 

ঢাকা চিটাগাং হাইওয়েতে  বিশ্বরোড থেকে সিএনজি, অটো-রিকশা করে  কোটবাড়ি যেতে পারেন। কুমিল্লা শহরের টমছম ব্রিজ থেকেও  সিএনজিতে করে সরাসরি যেতে পারেন

শালবন বিহারের ভিডিও লিংক: https://bit.ly/KumillaSalbonBihar


Total Site Views: 1284388 | Online: 3