×
খাগড়াছড়ি জেলার ভ্রমন পরিকল্পনা সমূহ

প্লান-১ সীমিত আকারে ২ দিনের সাজেক ও খাগড়াছড়ি জেলা ভ্রমণ পরিকল্পনা প্লান-২ বৃহৎ আকারে ৪ দিনের সাজেক ও খাগড়াছড়ি জেলা ভ্রমণ পরিকল্পনা প্লান-৩ সংযুক্ত আকারে তিন পার্বত্য জেলায় ভ্রমণ
☰ খাগড়াছড়ি জেলার ভ্রমন পরিকল্পনা সমূহ
প্লান-২ বৃহৎ আকারে ৪ দিনের সাজেক ও খাগড়াছড়ি জেলা ভ্রমণ পরিকল্পনা

সাজেক সহ খাগড়াছড়ির ও বিভিন্ন উপজেলার সেরা দর্শনীয় স্থান গুলি নিয়ে ৪ দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা। প্লানঃ রাতের বাসে ঢাকা– খাগড়াছড়ি। 


১ম দিনঃ নাস্তা সেরে –দীঘিনালা- সাজেক-হোটেল/দুপুরের খাবার-বিকেলে সাজেকে ঘুরাঘুরি-রাতের খাবার/ বারবিকিউ-হোটেলে রাত্রি যাপন।


২য় দিনঃ সাজেকে সূর্যোদয়-সকালের নাস্তা– হাজাছড়া ঝর্ণা অথবা তৈদুছড়া ১ও২ ঝর্ণা – ঝুলন্ত ব্রীজ – দীঘিনালা বন বিহার -রাতে দিঘিনালা গেস্ট হাউজ/ শাহজাহান হোটেলে রাত্রি যাপন।


৩য় দিনঃ পানছড়ি শান্তিপুর অরন্য কুটির ও রাবার ড্যাম- দেবতা পুকুর- দুপুরেরে খাবার- বিকেলে আলুটিলা গুহা– রিসাং ঝর্ণা- অপু ঝর্না- অপরাজিতা মন্দির- কৃষি গবেষণা পার্ক- নিউজিল্যান্ড পাড়া- জেলা পরিষদ পার্ক -হালকা শপিং- পরবর্তী রাতের বাসের টিকিট সংগ্রহ উঠবেন রামগড় থেকে) রাতের খাবার- খাগড়াছড়ি হোটেলে রাত্রি যাপন।


৪র্থ দিনঃ দিনঃ মাটিরাঙ্গায় শতায়ু বটগাছ- মানিকছড়ি মং রাজার বাড়ি, মুহামুনি বৌদ্ধ বিহার/ বিশ্ব শান্তি স্মৃতিদাম ভাবনা কেন্দ্র, কর্ণেল বাগান- রামগড় চা বাগান/ প্রাকৃতিক লেক/ চা ফ্যাক্টরি- ভারত সীমান্ত এলাকা/ বর্ডার হাট- কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (সহেল বাগান)- বিজিবি এর জন্মস্থান, ১৯২০ সালের মহকুমার SDOর বাংলো- পর্যটন লেক ও ঝুলন্ত সেতু- রাতের খাবার- রাতের বাসে রামগড় থেকে ঢাকা।


বিস্তারিতঃ ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি রুটে সৌদিয়া, ইকোনো, হানিফ, এস আলম, শ্যামলী, ঈগল ও শান্তি পরিবহনের বাস চলাচল করে দিনে ও রাতে। গাবতলী, শ্যামলী, কলাবাগান, উত্তরা, ফকিরাপুল, আরামবাগ ও সায়েদাবাদে রয়েছে পরিবহণগুলোর কাউন্টার। এসব কাউন্টার অথবা অনলাইনে টিকেট সংগ্রহ করুন আপনার প্লান অনুযায়ী। ঢাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫/২০ টি পরিবহন এর এসি/নন এসি বাস সরাসরি খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা যায়। খাগড়াছড়ি ভাড়া নন এসি ৫২০ টাকা, এসি ৯০০ টাকা জনপ্রতি। হানিফ এর থ্রি সিটার এসি বাসের ভাড়া ১১০০ টাকা। প্রতি রাতে একটি বাস চলে। 


হানিফ এর মূল কাউন্টারের ঠিকানা. ১৬৭/২২, ইনার সার্কুলার রোড, আরামবাগ, ঢাকা। ফোন: ০১৭১৩-৪০২৬৭১, ০১৭১৩-৪০২৬৩১। ফেসবুক ফ্যান পেজ. ঢাকা বুকিং অফিস. কাউন্টার. ফোন/মোবাইল. কল্যানপুর. ০১৭১৩-৪০২৬৬১. পান্থপথ. ০১৭১৩-৪০২৬৪১. কলাবাগান. ০১৭১৩-৪০২৬৭০. আরামবাগ. ০১৭১৩-৪০২৬৭১. ০১৭১৩-৪০২৬৩১. মানিকনগর. ০১৭১৩-৪০২৬৭২. ০২-৭৫৪৪৬০১. সায়েদাবাদ. ০১৭১৩-৪০২৬৭৩. ০১৭১৩-৪০২৬৮৪. সেন্টমার্টিন্স পরিবহন(এসি)- আরামবাগঃ ০১৭৬২৬৯১৩৪১, ০১৭৬২৬৯১৩৪০। খাগড়াছড়িঃ ০১৭৬২৬৯১৩৫৮।


শ্যামলীর রংপুর থেকে সরাসরি বাস রয়েছে খাগড়াছড়িতে। শ্যামলী পরিবহন- আরামবাগঃ ০২-৭১৯৪২৯১। কল্যাণপুরঃ ৯০০৩৩৩১, ৮০৩৪২৭৫ । আসাদগেটঃ ৮১২৪৮৮১, ৯১২৪৫৪। দামপাড়া (চট্টগ্রাম)০১৭১১৩৭১৪০৫, ০১৭১১৩৭৭২৪৯। এস আলম সার্ভিস ০২-৮৩১৫০৮৭ ফকিরাপুল ঢাকা। সৌদিয়া ০১৯১৯-৬৫৪৮৬১ কলাবাগান ইকোনো সার্ভিস কাউন্টারের ঠিকানা ও যোগাযোগ ৩৩ সায়েদাবাদ, জনপথের মোড় ০১৭২১৯৪২৪৭৪ ০১৭১৫৩০০১৬৫, কচুক্ষেত ০১৭১৫৪৯১২১৭, মিরপুর-১০ ০১৭১১৬৭১৯৪১, মিরপুর-১ ০১৯১১৪৭০৭০৩, শ্যামলী ০১৭২০০৯৫৯৬৯, ঝিগাতলা ০১৭১১০৬২৩৯৯, ফকিরাপুল ০২-৭১০২৩০৬, সায়েদাবাদ ০১ ০১৭২১৯৪২৪৭৪, সায়েদাবাদ ০২ ০১৭১৫৩০০১৬৫, সায়েদাবাদ ০৫ ০১৯৩৭৮৫৮৭৩৭, সায়েদাবাদ ০৬ ০১৭১৭৪২০২৫৬ শান্তিপরিবহন- ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির ভাড়া ৫২০ টাকা, দিঘিনালা ৫৮০ টাকা, পানছড়ি ৫৮০ টাকা, মেরুন ৬০০ টাকা, মাইনী ও মারিস্যা ৬৫০ টাকা। রাত ১০ টার গাড়ি পানছড়ি যায়। রাত ১০.৪৫ এর গাড়ি মাইনী। রাত ১১.১৫ গাড়ি মারিস্যা যায়। সব গুলো গাড়িই সায়দাবাদের সময়ের ১ ঘন্টা আগে গাবতলী থেকে ছেড়ে আসে। সায়দাবাদ (ঢাকা)- ০১১৯১২১৩৪৩৮। আরামবাগ( ঢাকা ) –০১১৯০৯৯৪০০৭ । অক্সিজেন(চট্টগ্রাম) ০১৮১৭৭১৫৫৫২ । এছাড়াও ঢাকা থেকে চট্রগ্রামের বাসে অথবা ট্রেনে চট্রগ্রাম গিয়েও খাগড়াছড়ি যাওয়া যায় বাসে। চট্রগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ির বাস ভাড়া ২০০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে আসতে হলে অক্সিজেন অথবা কদমতলী বিআরটিসি বাস টার্মিনাল যেতে হবে। অক্সিজেন থেকে রয়েছে শান্তি পরিবহন ও লোকাল বাস এবং কদমতলী থেকে বিআরটিসি। চট্টগ্রাম থেকে আসতে ১৮০২২০ -টাকা বাস ভাড়া। চট্টগ্রামের ফিরতি গাড়ী আছে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। BRTC এসি বাস কদমতলী(চট্টগ্রাম): ০১৬৮২৩৮৫১২৫। খাগড়াছড়িঃ ০১৫৫৭৪০২৫০৭।


যারা নিজেদের গাড়ি নিয়ে যাবেন মাথায় রাখবেন, ফেনী'র পরে বারইয়ার হাট এর আগে মুহুরিগঞ্জ বাজারে শেষ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং দিঘীনালার পরে আর পেট্রল বা অকটেন পাম্প নেই। ঢাকা থেকে বাস ছেড়ে চট্রগ্রাম রোড হয়ে কুমিল্লা, ফেনী পার হয়ে চট্রগ্রামের মিরেসরাই এর আগে বারইয়ার হাট থেকে রামগড় হয়ে খাগড়াছড়ি শহরে পৌছায়। এতে সময় লাগে ৮ ঘণ্টার মত। ভোরেই পৌছে যাবেন খাগড়াছড়ি। দিন-১: ভোরে খাগড়াছড়ি পৌছে, বাসস্ট্যান্ড থেকে ৫ মিনিট সামনে হেটে অথবা একটা সি,এন,জি নিয়ে চলে আসুন শাপলা চত্বর মোর। এখানে একটা রেস্টুরেন্টে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা সেরেই সাজেকে যাওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে খোলা জীপ যা চান্দের গাড়ি নামে পরিচিত। 


সাজেক যাওয়া রাত থাকবেন পরদিন গাড়ী আবার আপনাকে নিয়ে আসবে ভাড়া নিবে পুরাতন চান্দের গাড়ী ৫-৬ হাজার টাকা আর নতুন মাহিন্দ্রাগুলো ৭-৮ হাজার টাকা। এক গাড়িতে সাইজ অনুযায়ী ১০-১৫ জন বসা যায়। যদি খাগড়াছড়ি এসে আলুটিলা গুহা, রিসাং ঝর্না, ঝুলন্ত ব্রিজ সহ ঘুরতে চান তাহলে সেক্ষেত্রে চান্দের গাড়ী ১০০০-১২০০ টাকা ভাড়া বাড়বে। লোক কম হলে খাগড়াছড়ি শহর থেকে সিএনজি নিয়েও যেতে পারবেন, যদিও এ রাস্তায় এটি খুব নিরাপদ নয়; ভাড়া ৩০০০ টাকার মতো নিবে।


মোটরসাইকেলে করেও সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন, এক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা যেতে হবে তারপর সেখান থেকে মটরসাইকেলে সাজেক। মটরসাইকেলে চালক সহ তিনজন বসতে পারবেন ভাড়া আসা যাওয়া রিজার্ভ ১০০০-১২০০ টাকা (কম বেশি থাকতে পারে, দাম করে নিবেন)। বাসে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা ৪৫ টাকা ভাড়া লাগবে। সি এন জি নিয়েও যেতে পারেন। দীঘিনালা থেকে ১০০০-১২০০ টাকায় মোটর সাইকেল রিজার্ভ নিয়ে সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন।


খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার দূরত্ব ২৩ কিলোমিটার, কিন্তু সেনাবাহিনীর এসকোর্ট ছাড়া সাজেক যাওয়া যায় না। দীঘিনালার বাঘাইছড়ি থেকে সেনাবাহিনীর এসকোর্ট শুরু হয় সকাল ১০ টা থেকে ১১টার মধ্যে। দিঘীনালা থেকে ৮কি.মি. দূরে দিঘীনালা-সাজেক রোডের পাশেই মূল সড়ক থেকে ১০-১৫ মিনিট হাটলেই রয়েছে হাজাছড়া ঝর্ণা। দেখে আসুন, গোসলও করে নিতে পারেন, অবশ্যই সেনাবাহিনীর এসকর্ট শুরু হবার আগেই গাড়িতে চড়ুন। দিঘীনালা-সাজেক রোডে নিরাপত্তা বাহিনীর চারটি ক্যাম্প পড়বে প্রতিটিতেই টীমের একজন সদস্য নেমে টীম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে প্রায় আড়াই ঘন্টার আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা ধরে সাজেকের এই যাত্রা, এই ছোট যাত্রাটুকু সাজেক ট্যুরের অন্যতম আকর্ষণ। পাহাড়ী রাস্তায় ঝাঁক বেধে অনেক গাড়ি ও মোটরসাইকেল এর একসাথে পথ চলার দৃশ্য আপনাকে ক্লান্তিহীন করবে মুহূর্তেই, দুচোখ যেন প্রথমবার খুজে পাবে সবুজ পাহাড়ি প্রকৃতিতে এক ভিন্ন চেহারা, মনে হবে আপনার আগমনকে অবিস্মরণীয় করতেই সাজেকের এই আঁকাবাঁকা মোটর শোভাযাত্রা। দীঘিনালা থেকে মাচালং হাট হয়ে পৌছবেন সাজেকে।


সাজেকে পৌছাতে পৌছাতে দুপুর একটার মত বেজে যায় তাই পৌঁছানোর সাথে সাথে আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে রাতে থাকার কটেজ। বিভিন্ন দামের ও মানের কটেজের অভাব নেই সাজেকে। জনপ্রতি ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়ায় থাকতে পারবেন এক রাত। টেলিফোনে অথবা অনলাইনে আগেই হোটেল বুকিং করে রাখতে পারেন। এই আপসে জেলার হোটেল ট্যাবে বিস্তারিত দেখুন। সাজেক রিসোর্ট: এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত রিসোর্ট। যা সাজেকে অবস্থিত। যার দ্বিতীয় তলায় চারটি কক্ষ আছে। ভি আই পি কক্ষ ১৫,০০০ টাকা। অন্যটি ১২,০০০ টাকা। অপর দুইটি ১০,০০০ টাকা করে প্রতিটি। খাবারের ব্যবস্থা আছে। যোগাযোগ : খাগড়াছড়ি সেনানিবাসের গিরি থেবার মাধ্যমে বুকিং দিতে হবে। যার নম্বর : ০১৮৫৯০২৫৬৯৪। আরেকটি নম্বর : ০১৮৪৭০৭০৩৯৫। রুন্ময় রিসোর্ট: এটি রুইলুই পাড়ার শেষ প্রান্তে অবস্থিত বাংলাদেশ আর্মি পরিচালিত একটি রিসোর্ট। এর নীচ তলায় তিনটি কক্ষ আছে। প্রতিটির ভাড়া ৪৪৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে ২ জন থাকতে পারবেন। ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন। উপরের তলায় দুইটি কক্ষ আছে ভাড়া ৪৯৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে দুই জন থাকতে পারবেন। এটাতেও ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন। চারটি তাবু আছে প্রতি তাবুতে ২৮৫০ টাকা দিয়ে চার জন থাকতে পারবেন। যোগাযোগ : ০১৮৬২০১১৮৫২।


রিসোর্ট রুনময়, সাজেক রিসোর্ট এবং টেন্ট বুকিং-এর সব তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে rock-sajekএ পাবেন। আলো রিসোর্ট : এটি সাজেকের একটু আগে রুইলুই পাড়াতে অবস্থিত। এটিতে মোট ৬ টি রুম আছে। ডাবল রুম ৪ টি ( ২টি খাট করে) । যার প্রতিটির ভাড়া ১০০০ টাকা। সিংগেল রুম ২ টি । প্রতিটির ভাড়া ৭০০ টাকা । যোগাযোগ : পলাশ চাকমা - ০১৮৬৩৬০৬৯০৬।


রুইলুই পাড়া ক্লাব হাউজ: এটি সাজেকের একটু আগে রুইলুই পাড়াতে অবস্থিত। সেমি পাকা ঘরটি মূলত ওখানকার মানুষদের জন্য ক্লাব হিসেবে করে দিয়েছিলো আর্মি, তবে পর্যটক বেশি হলে অথবা এমনিতেই কেউ থাকতে চাইলে এখানে থাকা যায়। এখানে ১৫ জনের মত থাকতে পারবেন।বিছানাপত্র কেয়ারটেকারই দিবে, ভাড়া ১৫০-২০০-টাকা। খাবারের ব্যাবস্থা বললে কেয়ারটেকার করে দিবে,খরচ হবে প্রতিবেলা ১৫০-টাকা।২০০ থেকে নিজেরাও রান্না করে খেতে পারবেন। এর কেয়ার টেকার মইয়া লুসাই দাদা সব ব্যবস্থা করে দিবে। লক্ষন নামেও একজন আছে, প্রয়োজনে আপনাদের সহযোগীতা করবে। যোগাযোগ: মইয়া লুসাই - ০১৮৩৮৪৯৭৬১২। লক্ষন - ০১৮৬০১০৩৪০২। স্টুডেন্ট/ ক্লাব হাউজে থাকতে পারেন যাদের থাকবার জন্য মোটামুটি একটা ব্যাবস্থা হলেই হয় তারা রুইলুই-। এর সামনে ফাকা কিছু জায়গা আছে। রাতে বারবি কিউ/গানবাজনা করে মজা করার জন্য উপযুক্ত। এছাড়া যদি নিজেরা ক্যাম্পিং করতে চান করতে পারবেন।ক্যাম্পিং করার জন্য রুইলুই পাড়ায় অনেক গুলো সুন্দর স্পট রয়েছে।তবে ক্যাম্পিং করার আগে নিরাপত্তা বাহিনীকে বলে নেবেন। মেঘ মাচাং : সাজেকের সেরা রিসোর্টের স্বীকৃতি প্রাপ্ত, দারুন ভিউ পাবেন এখানে রুম প্রতি ২৫০০ টাকা ভাড়া । এক রুমে চারজন থাকতে পারবেন । মোঃ ০১৮২২ ১৬৮৮৭৭ মেঘ পুন্জি : সাজেকের আরও একটি বেস্ট রিসোর্ট। মোঃ০১৮১৫৭৬১০৬৫, (সাজেক), ০১৯১১৭২২০০৭(Dhaka) হোটেল মৈত্রী: masudparvez501@gmail.com, https://www.facebook.com/TourplannersLtd, Call 01681-637836 জুমঘর: আরও একটি ভালো রিসোর্ট। বুকিং: 01884208060


রক প্যারাডাইস: সাজেকের কংলাক পাড়াতে অবস্হিত এ কটেজটি আপনাকে বেস্ট ভিউ দিবে বুকিং ০১৮৪২৩৮০২৩৪। এছাড়াও আছে নিরিবিলি কটেজ, লুসাই কটেজ, নিসর্গ কটেজ জল রিসোর্ট সহ ছোট খাট আরও অনেক কটেজ ওখানে রয়েছে। যা থেকে মেঘ এর ভিউ ভালো পাওয়া যায়। রয়েছে উপজাতিদের ঘর বাড়ী যেখানে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্হা রয়েছে।


সাজেকে আদিবাসী ও বাঙ্গালি দুই রকমের হোটেলে খাবার ব্যবস্থা আছে। ইচ্ছা করলে আদিবাসী হোটেলগুলো থেকে ব্যাম্বু চিকেনের স্বাদ নিয়ে আসতে পারেন। তবে যারা হালাল জবাই খাবার খুজছেন তাদের বাঙালি হোটেলে খাওয়াটাই নিরাপদ। তবে মুরগি ছাড়া ডিম, ডাল, ভর্তা সহ অন্যান্য ননভেজ খাবারও পাওয়া যায় সাজেকে। তবে যেখানেই খান না কেন আপনাকে আগে থেকে অবশ্যই অর্ডার করে রাখতে হবে খাবারের কথা। বিশেষ করে সাজকে পৌঁছানোর দিন দুপুরের খাবারাটা খাগড়াছড়ি থেকেই অর্ডার করে গেলে সুবিধে হয়। আপনার জীপ চালকেরই মাধ্যমেই তার পরিচিত কোন দোকানে খাবারের অর্ডার করিয়ে নিতে পারেন। সাজেকে কোন বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সবকিছু চলে সোলারে পাওয়ারে। তাই আগে থেকেই মোবাইল ফুলচার্জ দিয়ে নিয়ে যাওয়া ভাল। সাথে পাওয়ার ব্যাঙ্ক থাকলে বেশি বেশি ছবি তুলতে পারবেন। সাজেকে শুধুমাত্র রবি ও টেলিটক এর নেটওয়ার্ক আছে।


সাজেক পৌঁছে খাওয়া দাওয়া করার পর দীর্ঘ যাত্রার শেষে আপনাকে একটু বিশ্রাম নিতেই হবে। বিকেলে জীপে করে আপনি ঘুরে আসতে পারেন সাজেক ভ্যালির আরও ভেতরে। সেখানে একটু উঁচু টিলায় উঠলেই উপভোগ করতে পারবেন সূর্যাস্ত। সাজেকের সন্ধ্যা নামে অপরূপ এক সৌন্দর্য নিয়ে। দেখবেন মেঘমুক্ত নীলাকাশ একটু একটু করে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে আর মিটিমিটি করে জ্বলে উঠছে একটি দুটি করে তারা। দেখবেন অল্পকিছুক্ষণের মধ্যে একটি দুটি থেকে সহস্র তারা আপনার চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে উঠবে। হয়ত আপনি এরকম তারা ভরা আকাশ জীবনে কখনও দেখেন নি। সন্ধ্যার তারাভরা আকাশ দেখতে দেখতে মৃদুমন্দ হাওয়ায় চায়ের কাপে চুমুক দিলে আপনার হৃদয়ে যে অনুভূতি আসবে সেটাই হতে পারে আপনার সাজেক ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আনন্দ। যারা তারা দেখতে ভালবাসেন তাদের জন্য সাজেক খুবই আদর্শ একটি জায়গা। এমনকি যারা এখনও মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ দেখেননি তারাও সাজেক ভ্যালিতে এসে জীবনে প্রথমবারের মত দেখা পেতে পারেন মহাবিশ্বে আমাদের আশ্রয়স্থল আকাশগঙ্গার। রাতে চাইলে বারবিকিউ পার্টি করতে পারেন। সাথে চলবে জমপেশ আড্ডা। তবে এত আনন্দের মাঝে মশার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে ভুলবেন না। পার্বত্য এলাকায় মশা একটি বড় সমস্যা। একটু অসতর্ক হলে আক্রান্ত হতে পারেন পার্বত্য ম্যালেরিয়ায়। 


দিন-২: ভোরে সূর্যোদয় দেখতে হ্যালিপ্যাডে চলে যাবেন অবশ্যই। সেজন্য উঠতে হবে খুব ভোরে আর চলে যেতে হবে এক বা দুই নম্বর হ্যালিপ্যাডে। সাজেকে সূর্যোদয়ের সময় সোনালি আভা সাদা মেঘের উপর যখন ঠিকরে পড়ে তখন আসাধারণ এক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সূর্যোদয়ের পর নাস্তা সেরে রেডি হয়ে যান খাগড়াছড়ির যাবার জন্য। এবারও আপনাকে এসকোর্ট ধরতে হবে।সাজেকে থেকে এগারটার দিকে শুরু হয় এসকোর্ট। দীঘিনালা ফিরতে ফিরতে দুপুর ১২টা হয়ে যাবে। 


এবার হোটেল ঠিক করা, আগে যোগাযোগ করা না থাকলে সময় নষ্ট হবে, ঠিক করে রওয়ানা হন হাজাছড়া ঝর্ণা। ঘুরে এসে চলে যান ঝুলন্ত ব্রীজ– দীঘিনালা বন বিহার অথবা তৈদুছড়া ১ ও ২ ঝর্ণা গেলে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। দীঘিনালার থেকে জামতলী পোমাংপাড়া হয়ে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার দূরত্বে তৈদু। দীঘিনালা সড়কের ৯ মাইল হয়ে সীমানাপাড়ার মধ্য দিয়েও যাওয়া যায়। দীঘিনালার পোমাংপাড়া পর্যন্ত গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়। এরপর বেশ অনেকটা পথ হাটতে হবে।পরিবারের যাদের অনেক হাঁটতে সমস্যা তাদের নিবেন না। রাতে খেয়ে দীঘিনালায় রাত্রি যাপন। দিঘিনালা গেস্ট হাউজঃ ০১৮২৭৪৬৮৩৭৭ এর মান একটু ভাল না হলে থক্তে পারেন শাহজাহান হোটেল ০১৮২৫৯৮০৮৬৭ রাত্রি যাপন।


৩য় দিনঃ নাস্তা করে গাড়ী নিয়ে চলে যান পাণছড়ি শান্তিপুর অরন্য কুটির মন্দির। খাগড়াছড়ি শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দুরত্ব। পানছড়ি শান্তিপুর অরন্য কুটির যেতে একটি ব্যারেজ/ রাবার ড্যামও দেখতে পারবেন। অরন্য কুটির এর ভিতরে ঢুকলে পাবেন সুন্দর সাজানো গুছানো এক পথ যা সোজা এক টিলার উপড় উঠে গেছে। আর সেখানে রয়েছে প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট গৌতম বুদ্ধের মুর্তি। এছাড়াও পাবেন বেশ কিছু মুর্তি গৌতম বুদ্ধের সহচারিদের। যেতে পথে রাস্তার পাশের চেঙ্গি নদীর পাড়ে সমতল রাস্তা আপনার নজর কাটবে। পানছড়ি থেকে দ্রুত চলে আসুন খাগড়াছড়ি রওয়ানা দিন দেবতার পুকুর। এটি জেলা সদর থেকে মাত্র ০৫ কি:মি: দক্ষিণে খাগড়াছড়ি- মহালছড়ি সড়কের কোল ঘেষে অবস্থিত মাইসছড়ি এলাকার নুনছড়ি মৌজার আলুটিলা পর্বত শ্রেণী হতে সৃষ্ট ছোট্ট নদী নুনছড়ি। মূল রাস্তায় থেকে কিলো দুয়েক পায়ে হাঁটা পথ। ভাড়া বা নিজস্ব গাড়ি নিয়ে আপনি সোজা চলে যেতে পারেন একেবারে পাদদেশে নদীর কাছে।এখান থেকে সোজা বুকিং করা হোটেলে চলে যান অথবা হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেতে পারেন সিস্টেম রেস্তোরায়-বিকেলে আলুটিলা গুহা– রিসাং ঝর্ণা-অপু ঝর্না- অপরাজিতা মন্দির- নিউজিল্যান্ড পাড়া- জেলা পরিষদ পার্ক -হালকা শপিং- (পরবর্তী রাতের বাসের টিকিট সংগ্রহ করুন, জানিয়ে রাখুন উঠবেন রামগড় থেকে) রাতের খাবার- খাগড়াছড়ি হোটেলে রাত্রি যাপন।


৪র্থ দিনঃ হোটেল ছেড়ে, নাস্তা করে গাড়ী নিয়ে রওয়ানা হন মাটিরাঙ্গার খেদাছড়ায় শতায়ু বটগাছ দেখতে। মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। খাগড়াছড়ি শহর থেকে বাসে চড়ে প্রায় বিশ মিনিটের পথ। নামতে হয় মাটিরাঙ্গা ১০ নম্বর রিজিয়নে। সেখান থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার হাঁটার রাস্তা। অথবা নিজের গাড়িতে খেদাছড়ায়। সেখান থেকে মানিকছড়ি মং রাজার বাড়ি, মুহামুনি বৌদ্ধ বিহার/ বিশ্ব শান্তি স্মৃতিদাম ভাবনা কেন্দ্র, কর্ণেল বাগান। দুপুরে মানিকছড়ি খেয়ে রওয়ানা হন রামগড় চা বাগান/ প্রাকৃতিক লেক/ চা ফ্যাক্টরি। দেখে চলে আসুন রামগড়, যাওয়ার আসার সময় দেখবেন রাস্তার পাশে ফেনী নদী ও ভারত সীমান্ত এলাকা/বর্ডার হাট (যদি হাটের দিন থাকে)। এবার চলে যান কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (সহেল বাগান), এস পি এর বাংলোর পাশ দিয়ে যেতে হবে। সেখান থেকে রামগড় পর্যটন লেক এবং উপজেলা পরিষদের পাশে বিজিবি এর জন্মস্থান এর ভাস্কর্য ভিতরে একটু হেটে চলে যান, ১৯২০ সালের মহকুমার SDOর বাংলো ঘুরে গার্ল স্কুলের পাশ দিয়ে পর্যটন লেক ও ঝুলন্ত সেতু দেখে লেক ক্যাফে তে নাস্তা ও রাতের খাবার খেয়ে বাস কাউন্টারে রাতের বাসের অপেক্ষা করুন। 


রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যে খাগড়াছড়ি থেকে ছেড়ে আসা সব গাড়ি রামগড় হয়ে ঢাকা যাবে। রামগড়-বারৈয়ারহাট-ফেনী হয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর কুমিল্লার কোন এক জায়গায় খাবার বিরতি দিয়ে ভোরে ৫ টার দিকে ঢাকায় পৌঁছে যাবেন। 


বর্তমানে প্যাকেজ ট্যুরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্যাকেজ মূল্য পরিশোধ করে নিশ্চিন্তে ভ্রমণ ও আনন্দ করতে পারেন। তারাই টিকিট, হোটেল, গাড়ি সব ঠিক করে দিবে। এ ক্ষেত্রে তাদের আগের ট্যুরের সবকিছু জেনে বুকিং করতে হবে। 


বিভিন্ন ট্যুর ব্লগ অনুসরণে, নিজের অভিজ্ঞতায়, ট্যুর প্ল্যানটি সাজিয়েছেন সত্যজিৎ বড়ুয়া রুবেল।


Total Site Views: 774221 | Online: 13