×
খাগড়াছড়ি জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র আলুটিলার ঝর্ণা বা রিছাং ঝর্ণা আলুটিলার সুড়ঙ্গ বা রহস্যময় সুড়ঙ্গ দেবতার পুকুর (দেবতার লেক) শান্তিপুর অরণ্য কুটির বনভান্তের প্রথম সাধনা স্থলে দীঘিনালা বনবিহার বিজিবি জন্মস্থানের স্মৃতিসৌধ মাটিরাঙার উপজেলার শতবর্ষী বটগাছ মাটিরাঙ্গায় বিনোদন পার্ক “জল পাহাড়” মানিকছড়িতে মং সার্কেলের রাজবাড়ি রামগড়ে শহীদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের বীর উত্তম এর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ও কবর রামগড়-সাব্রুম স্থলবন্দর (নির্মাণাধীন) বিজিবি জন্ম স্থান, চা বাগান, ঝুলন্ত ব্রি্‌জ, লেক ও ভারত সীমান্তে রামগড় একদিনে ভ্রমন
☰ খাগড়াছড়ি জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
বিজিবি জন্ম স্থান, চা বাগান, ঝুলন্ত ব্রি্‌জ, লেক ও ভারত সীমান্তে রামগড় একদিনে ভ্রমন

পরিচিতি

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপরূপ লীলাভূমি পার্বত্য উপজেলা রামগড়। বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলো এমনিতেই প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যের আধার। তবে পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ে সেই সৌন্দর্য্য যেন পূর্ণ মাত্রায় বিকশিত হয়েছে। পাহাড়, অরণ্য, ঝর্ণা, চা বাগান-সব মিলেমিশে সৃষ্টি করেছে এক অনির্বচনীয় সৌন্দর্য্য। বিভিন্ন ঋতুতে সেই সৌন্দর্য্য বিভিন্ন মাত্রা পায়। শীত ঋতুতে রামগড়ের শ্যামল সৌন্দর্য্য মোহিত করবে যে কাউকে। পাহাড়ি সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি পাহাড়ি মানুষদের বৈচিত্র্যময় জীবন, তাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি নাগরিক মানুষকে নিয়ে যাবে ভিন্ন এক জগতে, বেঁচে থাকার আনন্দকে করবে পরিপূর্ণ। সীমান্ত শহর রামগড়ে প্রবেশদ্বারেই রয়েছে সুবিশাল চা বাগান, প্রাকৃতিক লেক/ চা ফ্যাক্টরি। ফেনী খাগড়াছড়ি সড়কটি এ চা বাগানের বুক চিরে চলে গেছে রামগড়ে। প্রতিদিনই এ সড়কে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী মনভরে উপভোগ করেন চা বাগানের শান্ত সবুজাভ সৌন্দর্য্য। চা বাগানের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে এক বিশাল প্রাকৃতিক লেক। এই শীতে এখানে এলে হাজার হাজার অতিথি পাখীর সুমধুর কলতান মুগ্ধ করবে আপনাকে। বাগান দেখে চলে আসুন রামগড়, আসার সময় দেখবেন রাস্তার পাশে ফেনী নদী ও ভারত সীমান্ত এলাকা/ বর্ডার হাট (যদি হাটের দিন থাকে, চালু হয়া সাপেক্ষে)। পথেই পাবেন সীমান্তবর্তী মহামুনি এলাকায় রামগড়-সাব্রুম স্থলবন্দর(প্রস্তাবিত) চালুর লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী মহামুনি এবং ভারতের আনন্দপাড়া এলাকায় ফেনী নদীর ওপর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণ স্থান। চট্টগ্রামের নাজিরহাট হতে রামগড় স্থলবন্দর পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও রয়েছে পরবর্তীতে। রামগড় শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত লেক পার্কটি এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ। এখানে রয়েছে একটি চমত্কার ঝুলন্ত ব্রিজ। আর আছে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিভাস্কর্য 'বিজয়'। এ লেক পার্কের কাছেই ভারত সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির জন্ম স্মৃতিসৌধ। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে দৃষ্টিনন্দন এ স্মৃতিসৌধে লেখা রয়েছে ১৭৯৫ সালে রামগড়ে এ সীমান্তরক্ষীবাহিনীর গোড়াপত্তনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। রয়েছে পোড়ামাটির টেরাকোটায় এ বাহিনীর বিভিন্ন বিবর্তনের অবয়ব। এর একটু দূরেই সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর কিনারায় অবস্থিত প্রাচীন এসডিও বাংলো। পৌর শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছে কলসীমুখ নামে আরও একটি দর্শনীয় স্থান। কলসীর আকৃতিতে একেঁবেঁকে যাওয়া সীমান্তবর্তী ফেনী নদী, এর মাঝে দ্বীপভূমি সদৃশ একটি পাহাড়ি গ্রাম, যার তিন দিক জুড়েই ভারত- এমন চমত্কার রূপ দেখা যায় নদী থেকে হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত বিজিবি ক্যাম্প থেকে। উপজেলা সদরের অদূরেই স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আফতাব কাদের বীর উত্তম এর কবর। এর পর কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এবং এর একটু দূরে অবস্থিত হর্টিকালচার সেন্টারের (স্থানীয়ভাবে সয়েল বাগান বা পাইলট বাগান নামে পরিচিত) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে। সারাদিন বেড়ানো শেষে বিকালেই রওয়ানা দিতে পারেন খাগড়াছড়ি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম।[সংবাদপত্র থেকে সংগৃহীত, নিজাম উদ্দিন লাভলুর লেখায়, কিছুটা সংযুক্তিতে টুটুল]


অবস্থান ও যাতায়াত

ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা ফেনী থেকে সহজেই যাত্রীবাহী কোচ বা বাসযোগে যাওয়া যায় রামগড় ও খাগড়াছড়িতে। ঢাকার কমলাপুর, ফকিরাপুল,সায়েদাবাদ প্রভৃতি স্থানে রয়েছে খাগড়াছড়ির বাস কাউন্টার। এসব স্থান থেকে সৌদিয়া, শ্যামলী, এস আলম, শান্তি পরিবহন প্রভৃতি চেয়ারকোচের নৈশ ও দিবা সার্ভিস রয়েছে। রাত ১১টা হতে ১২টা এবং সকাল ৭টা হতে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে এসব কোচ যাত্রা করে। ভাড়া জনপ্রতি ৫২০ টাকা। খাগড়াছড়ি থেকেও এসব কোচের দিবা ও নৈশ সার্ভিস রয়েছে। এসব কোচে রামগড় আসা যায়। রামগড় ভ্রমণ শেষে এখান থেকে ঢাকার বাস ধরতে পারেন, বাস ছাড়াও সিএনজি চালিত অটোরিক্সা কিংবা চাঁদেরগাড়ি রিজার্ভ করে খাগড়াছড়ি ও আলুটিলায় যাওয়া যায়। ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের অক্সিজেন বাস টার্মিনাল থেকে রামগড় ও খাগড়াছড়ির বাস ছেড়ে আসে। থাকার ব্যবস্থা: রামগড়ে একটি সরকারি রেস্ট হাউস রয়েছে। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি নিয়ে এখানে থাকা যায়। অনুমতি নিয়ে রামগড় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের রেস্ট হাউসেও থাকা যায়। এছাড়া মোটামুটি মানের কয়েকটি হোটেল রয়েছে রামগড় বাজারে। চাইলে রাতে খাগড়াছড়ি গিয়েও থাকতে পারেন। আলুটিলার পাদদেশে চেঙ্গী নদীরকূলে রয়েছে পর্যটন কর্পোরেশনের অত্যাধুনিক মোটেল। এখানে এসি, নন এসি রুম আছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলা সদরে রয়েছে হোটেল জিরান, লবিয়ত, শৈল সুবর্ণা, ফোর স্টার প্রভৃতি হোটেল।


Total Site Views: 949704 | Online: 5