×
খাগড়াছড়ি জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র আলুটিলার ঝর্ণা বা রিছাং ঝর্ণা আলুটিলার সুড়ঙ্গ বা রহস্যময় সুড়ঙ্গ দেবতার পুকুর (দেবতার লেক) শান্তিপুর অরণ্য কুটির বনভান্তের প্রথম সাধনা স্থলে দীঘিনালা বনবিহার বিজিবি জন্মস্থানের স্মৃতিসৌধ মাটিরাঙার উপজেলার শতবর্ষী বটগাছ মাটিরাঙ্গায় বিনোদন পার্ক “জল পাহাড়” মানিকছড়িতে মং সার্কেলের রাজবাড়ি রামগড়ে শহীদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের বীর উত্তম এর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ও কবর রামগড়-সাব্রুম স্থলবন্দর (নির্মাণাধীন) বিজিবি জন্ম স্থান, চা বাগান, ঝুলন্ত ব্রি্‌জ, লেক ও ভারত সীমান্তে রামগড় একদিনে ভ্রমন
☰ খাগড়াছড়ি জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
মাটিরাঙ্গায় বিনোদন পার্ক “জল পাহাড়”

পরিচিতি

২০১৫ সালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের পরামশ ও সহযোগিতায় খাগড়াছড়ির তৎকালীন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান বকাউল উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সবুজ পাহাড়ের কোল গেষে দুটি লেকের মাঝে অবস্থিত একটি নেটা পাহাড়কে বিন্দোন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখে। যার নাম দেওয়া হয় জল পাহাড়া। স্বল্প পরিসরে শুরু হয়ে স্বপ্ন বুননের কাজ. এর কিছু দিন যেতে না যেতে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ পাড়ী দেন উপজেলা নিবাহী অফিসার মনিরুজ্জামান বকাউল। তবে তিনি যে বীজ রোপন করে গিয়েছেন তার হাল ধরে পাহাড়ের লালমাটির গন্ধে মাতোহারা এক প্রকৃতিক প্রেমিক বি. এম. মশিউর রহমান। ২০০৫ সালে কৃষি মার্ষ্টাস শেষ করে কিছু দিন একটি বে-সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করে ২০০৮ সালে প্রথম শ্রেনী সরকারি কমকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন তিনি। শুরুতেই সুনামগঞ্জে সিলেট ডিসি অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে মৌলভীবাজার বড় লেখা ও হবিগেঞ্জে বানিয়াচং এলাকার দায়িত্ব ছিলেন। বানিয়াচং থাকতে অজন করেন সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ক্যাটাগরীতে আইসিটি এওয়াড। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন প্রথম যোগদান করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। কৃষি বিভাগের ছাত্রটির বৃক্ষ প্রেম নবরূপে স্বপ্ন দেখেন জলপাহাড় নিয়ে। তাই মনিরুজ্জামান বকাউল যে বীজ বোপন করেছেন বতমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার তা নিয়ে গেছেন উচ্চতার শীর্ষে। শুরুতে ন্যাডা পাহাড়কে পরিণত করেন সবুজ পাহাড়ে, এক এক করে তিলত্তমা দিয়ে প্রতিটি পরতে পরতে বিভিন্ন সাজে সাজানো হয়েছে জল পাহাড়কে। যা বতমানে কপোত কপোতিদের নতুন ঠিকানা। সম্প্রতি লেকের মধ্যে খানে ছোট দ্বিপটিতে সংযুক্ত করা হয় জল নীড়। প্রিয় জনকে সাথে নিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে বসে রয়েছে আহারের সুযোগ। যেখানে বসে মনের হরসে ভোজন করে পযটকেরা। শুধু জলনীড়ই নয়, একে একে সংযোজন করা হয় গ্রাম্য ঐতিহ্যবাহীঃ চরকা, ইলেকিন্টিক ট্রেন, ঘোড়ার রাইড। পাশাপাশি দর্শানাথীদের বিশ্রামের জন্য স্থাপন করা হয়েছে চনের তৈরী বেশ কিছু কোটেজ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাচাং ঘর, নানা ফুলের বাগান, চালু করা হয়েছে একটি দৃষ্টি নন্দন ফোয়ারা। যা ভ্রমণ পিপাসুদের আগ্রহে যুক্ত করেছে আরেকটি ফালক। এছাড়া অতি সম্প্রতি প্রবেশ পথ থেকে রাস্তা ঠালাই করে বর্ষা মৌসুমেও চলাচল উপযোগী করে তোলা হয়। রাস্তার দুই পাশে লাগানো হয় বিভিন্ন প্রজাতির পাতা বাহার ঝাউ, দেবদারু গাছ। প্রতিদিন শত দশনার্থীর ভিড়। কেউ এসেছে প্রিয় জনকে সাথে নিয়ে, কেউ বা এসেছে বাচ্ছাদের নিয়ে। যে যার মত করে আনন্দ করছে। মাটিরাঙ্গা্ উপজেলা সদরে বিনোদনের তেমন কোন জায়গা ছিল না। বতমানে উপজেলা সংলগ্ন এ বিনোদন কেন্দ্রটি তরুনদের জন্য একটি নতুন ঠিকানা। জল পাহাড়ের সৌন্দয অবলোকনে প্রায় প্রতিদিনি দুর দুরান্ত থেকে ছুটি আসছে দশানার্থীরা। ইতোমধ্যেই কৃত্রিম হরিন, বাঘ, ভাল্লুকসহ পযটকদের জন্য নানা আকশন স্থাপন করা হয়েছে। পযটকদের বাড়তি আনন্দের জন্য অতি শীঘ্রই একটি স্প্রিড বোঢ সংযুক্ত করা হবে। সম্প্রতি জল পাহাড়রকে লীজ দিয়ে রক্ষানাবেক্ষনের দায়িত্ব দেয়া হয় স্থানীয় একটি কোম্পানিকে। স্বল্প মুল্যের টিকিটের মাধ্যমে সকলের জন্য এটিকে উন্মুক্ত বিচরনের ব্যবস্থা করা হয়। অনাগত দিনে আরও কিছু জলঘর ও একটি ঝুলন্ত ব্রীজ নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে । পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার আলুটিলা পর্যটন, রিচাং ঝর্ণা, জেলা পরিষদ ঝুলন্ত ব্রীজ এর চেয়ে বিভিন্ন ইভেন্ট ও আয়োজন বেশী থাকায় মাটিরাঙ্গা জল পাহাড় ভ্রমন পিপাসু মানুষের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এ সময় তারা জল পাহাড় নির্মাণের উদ্দোক্তা ও মাটিরাঙ্গার সাবেক ইউএনও মনিরুজ্জামান বকাউলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে,জল পাহাড়ের নিরাপত্তার প্রতি সন্তোষ্টি প্রকাশ করেন। তারা আরও বলেন, খাগড়াছড়িতে আসা পর্যটকরা অন্তত একবার মাটিরাঙ্গা জলপাহাড় এসে নয়নাভিরাম এই সৌন্দর্য্য উপভোগ করবে।


অবস্থান ও যাতায়াত

মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের পশ্চিম পাশ্বে শিল্পকলা একাডেমির নিকটবর্তী স্থানে।


Total Site Views: 949594 | Online: 5