×
চট্রগ্রাম জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

ফয়েজ লেক জাতিতাত্ত্বিক যাদুঘর(চট্রগ্রাম) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি বাটালী হিল কোর্ট বিল্ডিং বায়েজিদ বোস্তামী ভাটিয়ারী হালদা নদী বাঁশখালী বেলগাও চা বাগান বাঁশখালী ইকোপার্ক পারকী সমুদ্র সৈকত ডিসি হিল মির্জারখীল দরবার শরীফ শাক্যমুনি বিহার ঐহিহ্যবাহী রাজ বাড়ী অপুর্ব স্থাপত্য নিদর্শন চট্টগ্রামের রেলওয়ে হাতির বাংলো মিরসরাই থেকে সীতাকুন্ডের সকল ঝর্ণা ঝিরি লালদিঘীর ময়দানে ঐতিহাসিক জব্বারের বলী খেলা হাজারিখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দুধ পুকুরিয়া ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারন্য গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত সীতাকুন্ড বোটানিকেল গার্ডেন ও ইকোপার্ক বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান
☰ চট্রগ্রাম জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
মিরসরাই থেকে সীতাকুন্ডের সকল ঝর্ণা ঝিরি

পরিচিতি

আমরা অনেকেই প্রতি বছর চট্রগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুন্ডের উপর দিয়ে বান্দরবান , কক্সবাজার , সেন্ট মার্টিন্স সহ অনেক জায়গায় ঘুরতে যাই। আর এই মিরসরাই ও সীতাকুন্ডের পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে অসংখ্য দৃষ্টি নন্দন ঝিরি , ছড়া ও ঝর্ণা যা আমাদের অনেকের কাছেই অজানা। বাংলাদেশের এই পর্যন্ত আবিষ্কৃত বহু ধাপ বিশিষ্ট খৈয়াছড়া ঝর্ণাটি এই এলাকাতেই অবস্থিত। যার মুল চারটি ধাপই স্বতন্ত্র সৌন্দর্যে অনন্য । যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধার কারনে বর্তমানে এই এলাকা ভ্রমন পিপাষু ভাই বোনদের খুব প্রিয় একটি স্থান। আমরা যেহেতু যে কোন প্ল্যান শুরু করতে ঢাকাকেই প্রাধান্য দেই তাই ট্রেইল বুঝার সুবিধার্থে ঐ এলাকার সবগুলো স্টপিজ এর নাম ঢাকার দিক থেকে ক্রমান্নয়ে দেয়া হল। উচ্চারনগত কারনে কিছু দর্শনীয় স্থানের নাম সম্পুর্ন সঠিক নাও হতে পারে।
মিরসরাই থেকে সীতাকুন্ডের দুরত্ব ১৮ কিঃমিঃ। বড় দারোগার হাটের উত্তর দিক থেকেই দুই থানার সীমানা বিভক্ত।

মস্তান নগর - ঠাকুর দিঘী – মিঠা ছড়া – ওয়ারলেস রোড / ষ্টেশন রোড - মিরসরাই- বাদামতলী- মিন্নার দোকান- বড়তাকিয়া - কলঘর – নয়দুয়ারী - ছড়ার কোল- হাদী ফকির হাট- নিজাম পুর- ছোট কমলদহ – বড় কমলদহ – বড় দারোগার হাট- বারৈয়ারঢালা- টেরিয়াল – ছোট দারোগারহাট- বটতলা- নুন ছড়া- পন্থিছিলা- শেখ পাড়া- সীতাকুন্ড – বারব কুন্ড। 
ওয়ারলেস রোড / ষ্টেশন রোডঃ
সেলামী মাজার ঝিরির ক্যাসকেডঃ মুল সড়ক থেকে প্রথমে রেল ষ্টেশনে যেতে হবে। এখান থেকে হেঁটে সেলামী মাজার যেতে হবে। সময় লাগবে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মত। এখান থেকে ১৫ মিনিটের মত গেলে ক্যাসকেডটি পাবেন। ক্যাসকেডটি নহাতে খুম এর চেয়ে একটু খাটো ও একটু চওড়া।

ঠাকুর দিঘীঃ
মহামায়া লেকঃ ঠাকুর দিঘী নেমে সি এন জি করে মহামায়া লেকে যেতে পারবেন। নৌকা রিজার্ব নিয়ে লেকে ঘুরতে পারবেন।

মিরসরাইঃ
বোয়ালীয়া ঝর্ণাঃ স্থানীয়রা অনেকে বোয়াইল্ল্যা বলে। এই ঝর্ণায় মিরসরাই মূল স্ট্যান্ড থেকে যেতে হবে। স্ট্যান্ড থেকে প্রথমে ব্র্যাক পোল্ট্রি অফিস এর সামনে যেতে হবে। দুরত্ব প্রায় ২.৫ কিঃমিঃ এর মত। সি এন জি বা রিকসায় যেতে পারবেন। সি এন জি ভাড়া জনপ্রতি ১৫ টাকা , রিজার্ব ৭৫ টাকা। কিন্তু ঢাকা থেকে রাতের বাসে গেলে সাধারনত খুব ভোরে নামিয়ে দেয় । তখন রিকসা বা সি এন জি পাওয়া যায় না। তাই সময় নষ্ট না করে পূর্ব দিকে রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করবেন। রাস্তা টিতে চাঁদপুর গোভনীয়া সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক দেয়া আছে। মিরসরাই ডিগ্রী কলেজের নির্দেশক বোর্ডও আছে। এই রাস্তাটি মিরসরাই – ফটিক ছড়ি রোড । যার দুরত্ব ১৪ কিঃমিঃ। ব্র্যাক পোল্ট্রি অফিসের সামনে থেকে হাতের বামে মাটির রাস্তা ধরে প্রায় ৩০ মিনিটের মত গেলে ঝর্ণায় পৌঁছে যাবেন।

বাইশ্যা ছড়াঃ মিরসরাই মূল স্ট্যান্ড থেকে ব্র্যাক পোল্ট্রি অফিস হয়ে বোয়ালীয়া ঝর্ণা হয়ে এখানে যেতে হবে। এটি ঠিক বোয়ালীয়া ঝর্ণার উপরে। ঝর্ণার বাম পাশ ধরে উপরে উঠে গেলে এটি পাবেন। বাইশ্যা ছড়া থেকে আপনি ঝিরি ও পাহাড়ি পথে উঠান যেতে পারবেন।

পালাকাটা খুমঃ বোয়ালীয়া ঝর্ণা থেকে ঝিরি ধরে উঠান এর দিকে যেতে হাতের ডানে একটি ঝিরি পরবে । ওই ঝিরি ধরে ১০ মিনিটের মত গেলে ঝিরি মুখে এটি দেখতে পাবেন। 
উঠানঃ মিরসরাই মূল স্ট্যান্ড থেকে ব্র্যাক পোল্ট্রি অফিস হয়ে এখানে যেতে হবে। বোয়ালীয়া ঝর্ণা ও বাইশ্যা ছড়া হয়ে ঝিরি ও পাহাড়ি পথে উঠান যেতে পারবেন। অথবা বোয়ালীয়া ঝর্না দেখে বামে ঝিরি ধরে উঠান যেতে পারবেন। ঝিরির মাঝে প্রায় সমতল জায়গায় অনেক গুলো বড় পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সমতলের কারনে উঠান বলে।

আন্দার মানিক ঝর্ণাঃ এই ঝর্ণার ঝিরিটি আন্ধারমানিক বাগান থেকে পড়ার কারনে এর নাম আন্ধারমানিক ঝর্ণা। এটি ঠিক উঠান পার হয়ে বাম পাশের ঝিরি ধরে ৫ মিনিটের মত গেলে ঝিরি মুখে দেখতে পাবেন। 

তিন নং ছড়াঃ এটি উঠান পার হয়ে মূল ঝিরি ধরে ১৫ মিনিটের মত সামনের দিকে গেলে হাতের বামে ছোট একটি ঝিরি পাবেন । এই ঝিরি ধরে ১০ মিনিটের মত গেলে ঝিরি মুখে পরবে। ঝিরি ধরে ৫ মিনিটের মত গেলে ডান দিকে একটি ঝিরি আছে ওই ঝিরিতে ঢুকবেন না। বাম দিক ধরে যাবেন। নহাতে খুমঃ মিরসরাই মূল স্ট্যান্ড থেকে ব্র্যাক পোল্ট্রি অফিস হয়ে এখানে যেতে হবে। এখান থেকে হেঁটে যেতে হবে উঠান। বোয়ালীয়া ঝর্ণার উপর দিক হয়ে বা সরাসরি ঝিরি হয়ে উঠান যেতে পারবেন। উঠান থেকে মূল ঝিরি ধরে গেলে ঝিরি মুখে পরবে নহাতে খুম। নহাতে খুমের ২/৩ মিনিট আগে হাতের বামে পরবে তিন নং ছড়ার ঝিরি। কলাতলী ঝর্ণাঃ নহাতে খুম পার হয়ে ঝিরি ধরে গিয়ে পাহাড়ে উঠে আবার ঝিরি তে নেমে গেলে ঝিরি মুখে পাবেন কলাতলী ঝর্ণা । অন্য পথে কলাতলী ঝর্ণায় যেতে পারবেন। ব্র্যাক পোল্ট্রি অফিসের সামনে থেকে বোয়ালীয়া ঝর্ণার ট্রেইলে ঢুকে হাতের ডান দিক দিয়ে এই ঝর্ণায় যেতে পারবেন।

লতকাও/ কেম্বাতলী ঝর্ণাঃ নহাতে খুম পার হয়ে ঝিরি ধরে গিয়ে পাহাড়ে উঠে আবার ঝিরিতে নেমে গেলে ঝিরি মুখে পাবেন কেম্বাতলী ঝর্ণা । অন্য পথে কেম্বাতলী ঝর্ণায় যেতে পারবেন। ব্র্যাক পোল্ট্রি অফিসের সামনে থেকে দোচাইল্ল্যা ঝিরি হয়ে এই ঝর্ণায় যেতে পারবেন। ব্র্যাক অফিসের সামনে থেকে এই ঝর্ণা দেখে আসতে ৪ ঘন্টার মত লাগবে।

লতা বায়ানীঃ এখানে গাছের লতা সিঁড়ির মত ঝুলে আছে যা বেয়ে আপনি অনেক উপরে উঠতে পারবেন। স্থানীয় লোকেরা এই লতা বেয়ে উপরে উঠে ঔষুধি গাছ সংগ্রহ করে। এখানে কলাতলী ঝর্ণার অল্প আগে হাতের বামের ছড়া ধরে যেতে পারবেন।

গৌয়াতলী ঝর্ণাঃ মিরসরাই মূল ষ্ট্যান্ড থেকে পূর্ব দিক ফটিকছড়ি রোড ধরে ব্রাক পোল্ট্রি অফিসের সামনে আসতে হবে। এখান থেকেই হাঁটা শুরু করতে হবে। বর্ষার সময় ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ে মালামাল আনা নেয়ার জন্য এই পথে গাড়ি চলাচল করে। ব্রাক পোল্ট্রি অফিসের সামনে থেকে প্রায় ৪০ মিনিটের মত হেঁটে গেলে হাতের ডানে একটি সরু রাস্তা পাবেন এই পথে খৈয়াছড়া ঝর্ণায় যেতে পারবেন। মূল রাস্তা ধরে আরো ৫ মিনিট গেলে হাতের ডান দিকে একটি গাড়ির রাস্তা গেছে এই পথে গেলে শিমুল তলী খুম হয়ে উপর থেকে খৈয়াছড়া ঝর্ণায় নামতে পারবেন। আরো ৫ মিনিট গেলে সুলতানার বাবার দোকান পাবেন। এর পর মোস্তফা ভাইয়ের দোকান। আরো ১৫ মিনিটের মত গেলে হাতের বামে একটি গাড়ির রাস্তা পাবেন। এটা কাব ( কাব অর্থ খাড়া , যা কলা তলীর ঝর্ণার উপর দিয়ে গেছে) এর উপরে গেছে । এখান দিয়ে আপনি বল ছড়া ঝর্ণায় যেতে পারবেন। মূল রাস্তা ধরে আরো ১০ মিনিটের মত গেলে হাতের বামে ঝরঝরি মাজার পাবেন। আরো ১৫ মিনিটের মত গেলে হাতের বামে একটি গাড়ির রাস্তা গেছে । এই রাস্তা ধরে যেতে হবে ঝর্ণার দিকে। ৫ মিনিটের মত গেলে হাতের বামে একটি ঝিরি পাবেন। এই ঝিরি ধরে ৪০ মিনিটের মত গেলে গৌয়াতলী ঝর্নায় পৌঁছে যাবেন। ঝিরি ট্রেইলটি খব সুন্দর । কয়েক জায়গায় বুক সমান পানি দিয়ে যেতে হবে।

বায়োটার খুন্দোঃ দুই পাহাড়ের মাঝের সরু ঝিরি পথ টিকেই খুন্দো হিসেবে বুঝানো হয়েছে। আর এই পথে যেতে স্থানীয়দের মতে অনেক কষ্টের কারনে বারটা বাজে তাই নাকি এর নাম বায়োটার খুন্দো। অনেকে আবার বারোটার খুন্দোও বলে। যে যাই বলুক এটায় ঢুকলে বারোটা বাজার উপক্রম হবেই। মিরসরাই মূল ষ্ট্যান্ড থেকে পূর্ব দিক ফটিকছড়ি রোড ধরে ব্রাক পোল্ট্রি অফিসের সামনে আসতে হবে। এখান থেকেই হাঁটা শুরু করতে হবে। বর্ষার সময় ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ে মালামাল আনা নেয়ার জন্য এই পথে গাড়ি চলাচল করে। ব্রাক পোল্ট্রি অফিসের সামনে থেকে প্রায় ৪০ মিনিটের মত হেঁটে গেলে হাতের ডানে একটি সরু রাস্তা পাবেন এই পথে খৈয়াছড়া ঝর্ণায় যেতে পারবেন। মূল রাস্তা ধরে আরো ৫ মিনিট গেলে হাতের ডান দিকে একটি গাড়ির রাস্তা গেছে এই পথে গেলে শিমুল তলী খুম হয়ে উপর থেকে খৈয়াছড়া ঝর্ণায় নামতে পাবেন। আরো ৫ মিনিট গেলে সুলতানার বাবার দোকান পাবেন। এর পর মোস্তফা ভাইয়ের দোকান। আরো ১৫ মিনিটের মত গেলে হাতের বামে একটি গাড়ির রাস্তা পাবেন। এটা কাব ( কাব অর্থ খাড়া) এর উপরে গেছে । এই রাস্তা ধরে কিছু দূর গিয়ে পাহাড়ি পথে নেমে বল ছড়া ঝর্ণায় যেতে পারবেন। মূল রাস্তা ধরে আরো ১০ মিনিটের মত গেলে হাতের বামে ঝরঝরি মাজার পাবেন। আরো ১৫ মিনিটের মত গেলে হাতের বামে গাড়ির রাস্তা গেছে । গাড়ির রাস্তায় না ঢুকে একটু সামনে ( মিরসরাই –ফটিকছড়ি রাস্তা ) এগোলে হাতের ডানে একটি রাস্তা নেমে গেছে। এই রাস্তা দিয়ে নেমে পাহাড় ,সমতল ও ঝিরি ধরে ৩০ মিনিটের মত গেলেই খুন্দোর মুখে পৌঁছে যাবেন। খুন্দোতে ঢুকে পড়ুন। বুঝে যাবেন সত্যিকারের ১২ টা কেমনে বাজে। দড়ি সাথে রাখবেন। উপরে একটি ঝর্ণা আছে।

বলছড়া ঝর্ণাঃ মিরসরাই মূল ষ্ট্যান্ড থেকে পূর্ব দিক ফটিকছড়ি রোড ধরে ব্রাক পোল্ট্রি অফিসের সামনে আসতে হবে। এখান থেকেই হাটা শুরু করতে হবে। বর্ষা কাল ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ে মালামাল আনা নেয়ার জন্য এই পথে গাড়ি চলাচল করে। ব্রাক পোল্ট্রি অফিসের সামনে থেকে প্রায় ৪০ মিনিটের মত হেঁটে গেলে হাতের ডানে একটি সরু রাস্তা পাবেন এই পথে খৈয়াছড়া ঝর্ণায় যেতে পারবেন। মূল রাস্তা ধরে আরো ৫ মিনিট গেলে হাতের ডান দিকে একটি গাড়ির রাস্তা গেছে এই পথে গেলে শিমুল তলী খুম হয়ে উপর থেকে খৈয়াছড়া ঝর্ণায় নামতে পাবেন। আরো ৫ মিনিট গেলে সুলতানার বাবার দোকান পাবেন। এরপর মোস্তফা ভাইয়ের দোকান। আরো ১৫ মিনিটের মত গেলে হাতের বামে একটি গাড়ির রাস্তা পাবেন। এটা কাব ( কাব অর্থ খাড়া , যা কলা তলীর ঝর্ণার উপর দিয়ে গেছে) এর উপরে গেছে । এই রাস্তা ধরে বল ছড়া ঝর্ণায় যেতে হবে। আরেকটি পথ আছে মূল রাস্তা ধরে আরো ১০ মিনিটের মত গেলে হাতের বামে ঝরঝরি মাজার পাবেন। আরো ১৫ মিনিটের মত গেলে হাতের বামে গাড়ির রাস্তা গেছে । এই রাস্তা ধরে ২৫ মিনিটের মতো গেলে বাম দিকে একটি ঝিরি বনের ভিতরে দিকে গেছে । ওই ঝিরিটিই বল ছড়া ঝর্ণা থেকে এসেছে। এই ঝিরি ধরে প্রায় ২০ মিনিট যাবার পর একটি খুম পরে । খুমের ওই পাশে ১৫ ফিটের মত খাড়া একটি সরু ক্যাসকেড পড়ে । খুমের কারনে এই ক্যাসকেড পার হওয়া সমস্যা। এ পথে যা যাওয়াই ভাল।

বড়তাকিয়াঃ
খৈইয়াছড়াঃ এই ঝর্ণাটি হলো এই এলাকার মূল আকর্ষন। এটি বহু ধাপ বিশিষ্ট ঝর্ণা। মিরসরাই মুল স্ট্যান্ড পার হয়ে বড় তাকিয়ার একটু আগে ডান নামতে হবে। রাস্তার উল্টো পাশে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুল আছে। এখান থেকে হাতের বামে গ্রামের দিকে একটি রাস্তা গেছে। এই রাস্তা ধরে গেলে রেল লাইন পরবে। রেল লাইন পার হয়ে আরো কিছু দূর গেলে একটি খাল/ ঝিরি পরবে। এখান থেকেই মূল ট্রেকিং শুরু করতে হবে।

নয়দুয়ারীঃ
নাপিত্তা ছড়া ট্রেইল (টিপরা খুম – কুপিকাটা খুম – বাঘ বিয়ানি ঝর্ণা – বান্দরখুম ঝর্না)ঃ মুলত ট্রেইলটির নাম নাপিত্তাছড়া। এক ট্রেইলেই এই সব গুলো পরবে। ঢাকা থেকে গেলে মিরসরাই মূল স্ট্যান্ড পার হয়ে নয়দুয়ারী বাজার নামতে হবে। আর চট্রগ্রাম থেকে গেলে সীতাকুন্ড পার হয়ে নয়দুয়ারী বাজার আসতে হবে। নয়দুয়ারী বাজার থেকে পূর্ব দিকের রাস্তা ধরে গেলে রেল লাইন পরবে। রেল লাইন পার হলে একটি গ্রাম পড়বে। এই গ্রামের নাম নাপিত্তা ছড়া পাড়া। হয়তো ট্রেইলের নাম অনুসারে গ্রামের নাম নাপিত্তাছড়া বা এর উল্টোটাও হতে পারে। এখান থেকে ঝিরি ও পাহাড়ি পথে ট্রেকিং করে যেতে হবে। প্রথমে পরবে টিপরা খুম । এটি একটি ক্যাসকেড। পাশেই পাহাড়ের উপরে উজালিয়া পাড়া। এটি একটি ত্রিপুরা পাড়া। যদি বৃষ্টি বেশী হয় বা পানির ঢল বেশী থাকে তাহলে ঝিরি ধরে টিপরা খুমে আসা কিছুটা ঝুঁকি পূর্ন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি বাম পাশে পাহাড়ের উপরের উজালিয়া পাড়া হয়ে টিপরা খুমে নামতে পারবেন। টিপরা খুম এর বাম পাশ দিয়ে উপরে উঠলেই কুপিকাটা খুম। কুপিকাটা খুমের ডান পাশ দিয়ে পাহাড়ে উঠে আবার ঝিরিতে নেমে ঝিরি ধরে এগুতে থাকলে হাতের বামে একটি ঝিরি পড়বে । এই ঝিরি ধরে ২০ মিনিটের মত গেলে ঝিরি মুখে বাঘ বিয়ানী ঝর্ণা দেখতে পাবেন। ঝর্ণা দেখে আবার মুল ঝিরিতে এসে ঝিরি ধরে সামনের দিকে গেলে পাবেন বান্দর খুম ঝর্ণা। এটিই এই ট্রেইলের মূল ঝর্ণা। এটিকে অনেকেই নাপিত্তা ছড়া ঝর্ণা বলে। নাপিত্তা ছড়া ঝর্ণা বলাটাই আমার মতে বেশী যুক্তিযুক্ত। আর স্থানীয়দের বিভিন্ন জন বিভিন্ন নাম বলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। প্রয়োজন মনে করলে নয়দুয়ারী বাজার থেকে লোকাল লোক/ গাইড নিয়ে যেতে পারবেন। বেশী বৃষ্টি থাকলে পুরো ট্রেইল শেষ করতে প্রায় ৬ ঘন্টার মত লাগবে। বৃষ্টি না থাকলে আপনি ইচ্ছে করলে একদিনে এই ট্রেইলের সাথে অন্য কোন একটি ট্রেইলও ঘুরে আসতে পারবেন।

হাদী ফকির হাটঃ
সোনাই ছড়া ট্রেইলঃ পূর্ব দিকের রাস্তা ধরে যেতে হবে । ট্রেইলে সোনাই ছড়া ঝর্ণা আছে। ঝর্ণার আগে একটি খুম পরবে।

ছোট কমলদহঃ
নীলাম্বর লেকঃ ছোট কমলদহ থেকে হাতের বাম দিকে যেতে হবে। রেল লাইনের আগে হাতের বাম পাশে ঈদ্গাহ পরবে। রেল লাইন পার হয়ে ক্ষেতের মাঝ এর রাস্তা ধরে গিয়ে বাম দিকে পাহাড়ি পথে একটু গেলে ওয়াটার ড্যাম পরবে। ড্যামের কারনে পানি জমে লেকের সৃস্টি হয়েছে। এটাই নীলাম্বর লেক। 

হাটু ভাঙ্গা ঝর্ণাঃ ছোট কমলদহ থেকে হাতের বাম দিকে যেতে হবে। রেল লাইনের আগে হাতের বাম পাশে ঈদ্গাহ পরবে। রেল লাইন পার হয়ে ধান ক্ষেতের মাঝ এর রাস্তা ধরে গিয়ে বাম দিকে পাহাড়ি পথে একটু গেলে ওয়াটার ড্যাম পরবে। ড্যামের কারনে পানি জমে লেকের সৃস্টি হয়েছে। এটাই নীলাম্বর লেক। লেক পার হয়ে কিছু দূর গেলে বামের ঝিরিতে হাটুভাঙ্গা ঝর্ণা দেখতে পাবেন।

হরিন মারাঃ ছোট কমলদহ থেকে হাতের বাম দিকে যেতে হবে। রেল লাইনের আগে হাতের বাম পাশে ঈদ্গাহ পরবে। রেল লাইন পার হয়ে ধান ক্ষেতের মাঝ এর রাস্তা ধরে গিয়ে বাম দিকে পাহাড়ি পথে একটু গেলে ওয়াটার ড্যাম পরবে। ড্যামের কারনে পানি জমে লেকের সৃষ্টি হয়েছে। এটাই নীলাম্বর লেক। লেক পার হয়ে কিছু দূর গেলে ডানের ঝিরিতে হরিণ মারা ঝর্ণা দেখতে পাবেন।

সর্প প্রপাতঃ ছোট কমলদহ থেকে হাতের বাম দিকে যেতে হবে। রেল লাইনের আগে হাতের বাম পাশে ঈদ্গাহ পরবে। রেল লাইন পার হয়ে ধান ক্ষেতের মাঝ এর রাস্তা ধরে গিয়ে বাম দিকে পাহাড়ি পথে একটু গেলে ওয়াটার ড্যাম পরবে। ড্যামের ভিতরে নীলাম্বর লেক। লেক পার হয়ে ঝিরি ধরে কিছু দূর গেলে সর্প প্রপাত দেখতে পাবেন।

বড় দারোগার হাটঃ
কমলদহ ঝর্নাঃ বড় দারোগার হাট থেকে মহা সড়ক ধরে উত্তর দিকে ( ঢাকার দিকে) আসলে প্রথমে একটি ইট খোলা পরবে । ইট খোলা পার হয়ে হাতের ডানের প্রথম মাটির রাস্তা ধরে যেতে হবে । রাস্তা ধরে কিছু দূর গিয়ে ঝিরিতে নেমে ঝিরি ধরে ২০ মিনিটের মত গেলে ঝিরি মুখে পড়বে কমলদহ ঝর্ণা। মূলত এটি একটি ক্যাসকেড । এই ক্যাসকেড এর উপর দিয়ে ঝিরি ধরে গেলে আরো অনেক দৃষ্টি নন্দন ক্যসকেড ও ঝর্ণা দেখতে পাবেন। সব দেখে একটু পাহাড়ি পথে উঠলেই পেয়ে যাবেন বারৈয়াঢালা – ফটিকছড়ি রোড। এই রোড ধরে হেঁটে বারৈয়াঢালা স্ট্যান্ডে আসতে পারবেন।

বারৈয়াঢালাঃ
বারৈয়াঢালা – ফটিক ছড়ি রোডঃ বারৈয়াঢালা থেকে ফটিক ছড়ি ১৬ কিঃ মিঃ । কিছু অংশ পিচ ঢালাই ও বেশীর ভাগই মাটির । 

নারায়ণ আশ্রমঃ বারৈয়াঢালা মুল স্ট্যান্ড থেকে হেঁটে বা সি এন জি তে করে যেতে পারবেন। রেল লাইনের আগে হাতের বামে পড়বে।

কমলদহ ঝর্না ও ক্যাসকেডঃ বারৈয়াঢালা ফটিক ছড়ি রোড ধরে নারায়ণ আশ্রম ,রেল লাইন ও ফরেস্ট অফিস পার হয়ে ৩০ মিনিটের মত গেলে রাস্তার ডান পাশে ঝরঝরি নামে একটি ঝর্ণা পড়বে। এই ঝর্ণা পার হয়ে আরো কিছুদুর গেলে হাতের বামে একটি পাহাড়ি রাস্তা নেমে গেছে। এই রাস্তা ধরে ১০ মিনিটের মত গেলে একটি ঝিরি পরবে। ঝিরি ধরে ডান দিকে গেলে কয়েকটি সুন্দর ক্যাসকেড পরবে। বড় ক্যাসকেড টির ডান পাশ দিয়ে উপরে উঠলে ঝিরি মুখে একটি ঝর্ণা পড়বে। আবার ঝিরি ধরে নিচের দিকে নামতে থাকলে কয়েকটি সুন্দর ক্যাসকেড ও ঝর্ণা দেখতে পাবেন। আরো নিচের দিকে গেলে বড়দারোগার হাট থেকে কমলদহ ঝর্ণা নামে উপরে উল্লেখ করা হয়েছে তা দেখে বড় দারোগার হাট যেতে পারবেন।

মধু খাইয়া ট্রেইলঃ বারৈয়াঢালা ফটিক ছড়ি রোড ধরে নারায়ণ আশ্রম ,রেল লাইন ও ফরেস্ট অফিস পার হলে দেখবেন পিচ ঢালাই রাস্তাটি প্রায় ৯০ ডিগ্রি এঙ্গেলে হাতের বামে চলে গেছে । বাম দিকে না গিয়ে সোজা নিচের মাটির রাস্তা ধরে বনের ভিতরে দিয়ে গিয়ে বড় ঝিরিতে নামবেন। ঝিরি ধরে কিছু দূর গেলে দেখবেন ঝিরিটি আরেকটি ঝিরির সাথে যুক্ত হয়েছে । যা ইংরেজি টি এর মত দেখা যাবে। ডানে বা বামের ঝিরিতে না গিয়ে ওই ঝিরি পার হয়ে পাহাড়ি পথে উপরে উঠবেন । এই স্থান টিকে উঠনির মুখ বলে। এই পাহাড়ি রাস্তা ধরে গিয়ে নামা দিয়ে মুল ফটিক ছড়ি রাস্তায় নামবেন। মুল রাস্তা ধরে না গিয়ে ঝিরি ও পাহাড় এর এই অংশ টিকেই মধু খাইয়া ট্রেইল বলে।

মইসা ছড়া –আমতলী ঝর্ণা-ছোলার কানাল ঝর্ণা-ছুড়ির ধারা ঝর্ণা- ইছা খুম্বা – চিপাঃ বারৈয়াঢালা ফটিক ছড়ি রোড ধরে নারায়ণ আশ্রম ,রেল লাইন ও ফরেস্ট অফিস পার হলে দেখবেন পিচ ঢালাই রাস্তাটি প্রায় ৯০ ডিগ্রি এঙ্গেলে হাতের বামে চলে গেছে । বাম দিকে না গিয়ে সোজা নিচের মাটির রাস্তা ধরে বনের ভিতরে দিয়ে গিয়ে বড় ঝিরিতে নামবেন। ঝিড়ি ধরে কিছু দূর গেলে দেখবেন ঝিরিটি আরেকটি ঝিরির সাথে যুক্ত হয়েছে । যা ইংরেজি টি এর মত দেখা যাবে। এই ঝর্ণা গুলো টি এর পর থেকে শুরু করতে হবে তাই সব গুলোর বুঝার জন্য টি পর্যন্ত যোগ করে পড়বেন।

মইসা ছড়াঃ টি এর বাম দিকের ঝিরিটিই মইশা ছড়া । এটি ধরে কিছু দূর গেলে আবার দুই টি ঝিরি পরবে বামেরটি বাম মইসা ছড়া ঝিরি ডানের টি ডান মইসা ছাড়া ঝিরি। বামের টি ধরে কিছু দূর গেলে একটি সুন্দর ক্যাসকেড পাবেন। এই ক্যাসকেড টির উপর দিয়ে ঝিরি ধরে গেলে হাতে ডানে দুইটি ঝর্ণা আবার মূল ঝিরি ধরে গেলে আরো দুইটি ঝর্ণা পাবেন। বৃস্টি না হলে পানি খুবই কম থাকে । ফিরে এসে ডানের ঝিরি ধরে কিছু দূর গেলে ২ টি ঝর্ণা পাবেন। বৃস্টি না হলে এই দুইটতেও পানি খুব ই কম থাকে।

আমতলী ঝর্ণাঃ টি এর ডান দিকের ঝিরি ধরে গেলে হাতের বামে একটি ছড়া পরবে । এটি আমতলি ছড়া। এই ছড়া ধরে গেলে ছড়া মুখে আমতলী ঝর্ণা পরবে।

ছোলার কানাল ঝর্ণাঃ টি এর ডান দিকের ঝিরি ধরে গেলে বামের আমতলী ঝিড়ি পার হয়ে কিছু দূর সামনে আসলে ডান দিকে একটি ঝিরি পরবে । এই ঝিরি ধরে কিচু দূর গেলে ঝিরি মুখে ঝর্ণা পরবে।

ছুড়ির ধারা ঝর্ণাঃ টি এর ডান দিকের ঝিরি ধরে গেলে আমতলী ছড়া , ছোলার কানাল ঝিরি পার হলে হাতের ডানে একটি ঝিরি পরবে এই ঝিরিতে ১০ মিনিটের মত গেলে ঝিরি মুখে এই ঝর্ণা পরবে।

ইছা খুম্বাঃ টি এর ডান দিকের ঝিরি ধরে আমতলি , সোলার কানাল , ছুড়ির ধারা পার হয়ে ঝিরি ধরে গেলে হাটু ভাংগা নামে একটি খুম পরবে এই খুম পার হয়ে গেলে ইছা খুম্বার দুইটি ধাপ পরবে । 

চিপাঃ ইছা খুম্বার প্রথম ধাপ পার হয়ে দ্বিতীয় ধাপের আগে হাতের ডান দিক দিয়ে গেলে পরবে চিপা। এটি মুলত একটি ক্যাসকেড । চিপা পার হলে আরো দুইটি সুন্দর ক্যাসকেড পরবে । এই গুলো দেখে আপনি ঝিরি ধরে উপরের দিকে গিয়ে পাহাড়ি পথে উঠলে বারৈয়াঢালা – ফটিকছড়ি রাস্তায় ঊঠতে পাবেন। এখান থেকে ইচ্ছে করলে এই রাস্তা ধরে বারৈয়াঢালা আসতে পারবেন। অথবা মধু খাইয়া ট্রেইল ধরে আপনি উঠনির মুখ দিয়ে বড় ঝিরির টি এর কাছে নামতে পারবেন। আগের পথ অনুসরন করে বারৈয়াঢালা ফিরতে পারবেন।

ছোট দারোগারহাটঃ
সহস্র ধারা ২ ঝর্ণাঃ ছোট দারোগারহাট থেকে হাতের বাম দিক ধরে ২৫ মিনিটের মত গেলে একটি ওয়াটার ড্যাম দেখতে পাবেন।। ড্যামের আগে বাম পাশে মন্দির দেখতে পাবেন। ড্যাম পার হয়ে ১৫ মিনিটের মত গেলে সহস্র ধারা ২ ঝর্ণা দেখতে পাবেন।

ফায়ার মাউন্টেইনঃ পাহাড়ের উপরে কিছু অংশে ঢিল ছুড়লে আগুন ধরে উঠে । তাই এটিকে ফায়ার মাউন্টেইন বলে। ছোট দারোগারহাট থেকে হাতের বাম দিক ধরে ১৫ মিনিটের মত গেলে হাতের বামে একটি ঝিরি পরবে। এই ঝিরি ধরে আরো ১৫ মিনিটের মত গেলে হাতের ডানে পাহাড়ের উপরে এটি দেখতে পাবেন। 

পন্থিছিলাঃ
ঝরঝরি(ক্যাসকেড)ঃ পন্থিছিলা নেমে পূর্ব দিক যেতে হবে। প্রথমে রেল লাইন পরবে। রেল লাইন ধরে ২ মিনিটের মত বাম দিকে গেলে হাতের ডানের প্রথম মাটির রাস্তা ধরে গেলে কানী ছড়া পরবে। এখান থেকে ঝিরি ও একটি পাহাড় পার হলে ঝরঝরি ঝিরিতে নামবেন। ঝিরি ধরে ২০ মিনিটের মত গেলেই ঝিরি মুখে পাবেন ঝরঝরি প্রপাত। পন্থিছিলা থেকে ঝরঝরি পর্যন্ত হেটে আসতে ১ ঘন্টা ১০ মিনিটের মত লাগবে। বাম দিক দিয়ে উপরে উঠে ঝিরি ধরে যেতে থাকলে অনেক সুন্দর সুন্দর ক্যাসকেড ও খুম পাবেন। ঝিরিতেই মানুষের মুখের আকৃতির একটি পাথর দেখতে পাবেন। স্থানীয় অনেকে এটাকে মুর্তি ঝর্ণা বলে। এর উপরে একসাথে একটি খুম ও সুন্দর ক্যাসকেড আছে। এর উপরে আরেকটি খুম আছে। পন্থিছিলা থেকে সব গুলো দেখে আসতে ৫ ঘণ্টার মত লাগবে।

সীতাকুন্ডঃ 
চন্দ্রনাথ মন্দিরঃ হিন্দু ধর্মালম্বীদের তীর্থ স্থান। এটি চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত। এর ভিতরে একটি শিব লিঙ্গ আছে। সীতাকুন্ড কলেজ রোড দিয়ে গেলে এই মন্দিরের মূল গেট পরবে। এখানে অনেক গুলো সিড়ি বেয়ে উঠতে হবে। উঠার পথে আরো অনেক মন্দির পরবে। ইকো পার্কের ভিতর দিয়ে এই মন্দিরে যেতে পারবেন।

ইকো পার্কঃ পার্কের ভিতরে সুপ্ত ধারা ও সহস্র ধারা ঝর্না আছে। একটি ওয়াচ টাওয়ার আছে। এই পার্কের ভিতর দিয়ে চন্দ্রনাথ মন্দিরে যাওয়া যায়। ইকো পার্কের ভিতরে নির্দিষ্ট এন্ট্রি ফি দিয়ে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পারবেন। সীতাকুন্ড মুল স্ট্যান্ড থেকে একটু দক্ষিনে (চট্রগ্রামের দিকে) গেলে হাতের বামে ইকো পার্কের গেট দেখতে পাবেন। এটি ধরে কিছু দূর গেলে পার্কে প্রবেশের মূল গেট পাবেন।

সুপ্ত ধারা ঝর্ণাঃ এটি ইকো পার্কের ভিতরে অবস্থিত। ইকো পার্কের মূল গেট থেকে ইট সলিং ধরে ৩ কি. মি. এর মত গেলে হাতের ডানে সুপ্তধারা ঝর্ণার নির্দেশক বোর্ড পাওয়া যাবে। এখান থেকে ডান দিক দিয়ে নেমে গেল সুপ্ত ধারা ঝর্ণা দেখতে পারবেন। ঝর্ণার উপরের ঝিরিটি অসম্ভব সুন্দর।

সহস্র ধারা ঝর্ণাঃ এটি ইকো পার্কের ভিতরে অবস্থিত। ইকো পার্কের মূল গেট থেকে ইট সলিং ধরে ৫ কি. মি. এর মত গেলে হাতের ডানে সহস্র ধারা ঝর্ণার নির্দেশক বোর্ড পাওয়া যাবে। এখান থেকে ডান দিকের সিঁড়ি ধরে নেমে গেলে সহস্র ধারা ঝর্ণা দেখতে পাবেন।

বারব কুন্ডঃ 
কাল ভৈরব মন্দিরঃ সীতাকুণ্ড মূল ষ্ট্যান্ড এর পর বারব কুন্ড নেমে হেঁটে এই মন্দিরে যেতে পারবেন।

কিভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম গামী যে কোন বাসে উঠে মিরসরাই বা সীতাকুন্ডের যে কোন স্থানে নামতে পারবেন। ভাড়া ৪৮০ টাকা নন এসি। এছাড়া ট্রেনে ফেনী বা চট্রগ্রাম নেমে আসতে পারবেন। চট্রগ্রামের শুভপুর বা অলংকার থেকে বাসে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেনঃ মিরসরাইতে থাকার জন্য আবাসিক হোটেল নাই তাই আপনাকে সীতাকুন্ডে থাকতে হবে। সীতাকুন্ডে তেমন ভাল মানের আবাসিক হোটেল নাই । বাজারের ভিতরে কয়েকটি আবাসিক হোটেল আছে। হোটেল সাইমুন, ভাড়া ৩০০-৫০০ টাকা। যোগাযোগঃ ০১৮২৭৩৩৪০৮২, ০১৮২৫১২৮৭৬৭। সরকারী প্রতিষ্ঠানের ডাকবাংলো আছে। এছাড়া বারৈয়ারহাট থাকতে পারবেন । গোল্ডেন নামে একটি আবাসিক হোটেল ও জাহেদ নামে একটি বোর্ডিং আবাসিক আছে। একটু ভাল মানে থাকতে চাইলে ভাটিয়ারী থাকতে পারবেন। এখানে দুইটি আবাসিক হোটেল আছে। সিঙ্গেল রুম নন এসি ৬০০ টাকা। দুই বিছানার এসি রুম ১২০০ টাকা।

কোথায় খাবেনঃ সীতাকুন্ডে কয়েকটি খাবার হোটেল আছে। আল আমীন হোটেলটির খাবারের মান ও পরিবেশ চমৎকার । দামও নাগালের মধ্যে ।

কি দিয়ে ঘুরবেনঃ এই এলাকার সব গুলো ট্রেইলই ঢাকা চট্রগ্রাম মহা সড়কের পাশে । তাই আপনাকে একটি শেষ করে আবার মূল রাস্তায় এসে পরবর্তী ট্রেইলের যেতে হবে। মহা সড়কে সি এন জি চালাচল নিষিদ্ধ হবার কারনে নিজস্ব গাড়ী না থাকলে বাসই ভরসা। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেই লোকাল বাস পাবেন । এছাড়া চট্রগ্রাম – নোয়াখালী/ ফেনী / কুমিল্লার বাসে করেও নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে পারবেন। চয়েস নামে একটি বাস আছে উঠলেই ৮০ টাকা ভাড়া । চট্রগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত যেখানেই নামেন।

যা করনীয়ঃ ৫-৬ জনের গ্রুপ হয়ে গেলে ভাল। বর্ষার সময় যাবেন তাহলে ঝর্ণার পূর্ণ সৌন্দর্‍য দেখতে পাবেন। প্রায় ট্রেইল শেষ করতে দিনের অর্ধেক সময়ই যথেষ্ট । তাই যত ৮তারাতারি সম্ভব শুরু করবেন। তাহলে এক দিনে দুইটি শেষ করতে পারবেন। প্রায় সব গুলোই ঝিরি ট্রেইল তাই পানির গতির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। দেখে সাবধানে পা ফেলতে হবে। অহেতুক তারাতারি করবেন না।

নিরাপত্তা জনিত বিষয়ঃ এক সময় এই এলাকার পর্যটন চন্দ্রনাথ মন্দির এবং সীতাকুন্ড ইকো পার্ক ও এর ভিতরের সুপ্ত ধারা ও সহস্র ধারা ঝর্ণার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন ছুটির দিনে পুরো এলাকা পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে। আগে ইকো পার্কের ভিতরে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটলেও এখন তার সম্ভাবনা কম। তারপরও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর বিশ্লেষন করে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখবেন। বড় গ্রুপ হয়ে যাবেন। প্রয়োজনে স্থানীয় লোক সাথে নিতে পারেন।
গাইডঃ গাইড করা মূলত এই এলাকায় পেশা হিসেবে গড়ে উঠে নাই। সময় পেলে কাজের ফাঁকে বাড়তি আয়ের জন্য অনেকে এই কাজটি করে। তাই তাদের সম্ভোধনের বিষয়টি মাথায় রাখবেন। এই এলাকায় আমার পরিচিত কিছু লোক আছে। প্রয়োজনে গাইড হিসেবে তাদের সহযোগীতা নিতে পারবেন। নিজাম ভাই (পুরো এলাকা) আমার মূল গাইড উনি । আমার নামেই নাম। উনাকে নিয়ে একবার ঝর্ণা খুঁজতে যাই। তখন থেকেই উনার গাইড জীবন শুরু হয়। যোগাযোগঃ ০১৮৩৯৪৬৫৬২৭। সালাম ভাই (খৈইয়াছড়া) ০১৯৬৩৩৯১২৬০। মুসা (নাপিত্তাছড়া , নয়দুয়ারী) ০১৮২২৯৩৫৩৭৩। সুজন ভাই (ঝরঝরি ,পন্থিছিলা ) ০১৮১২৮৪৭৫৭৮। হাসান ভাই (ঝরঝরি ,পন্থিছিলা) ০১৮৬৪৮১১৬৯১। রিপন (বারৈয়াঢালা) ০১৮২৯৫০৭৫৭৭। হারুন (বারৈয়াঢালা)।
সবার সুন্দর, নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধব ভ্রমনেই খুঁজে পাবো আমার লেখার স্বার্থকতা। আপনার বা আপনার ভ্রমন সঙ্গীর দ্বারা যাতে পরিবেশের কোন ক্ষতি না হয় সে দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। আসুন আমরা সাঁজাই আমাদের পৃথিবী সবুজের সমারহে, রেখে যাই সবুজ ,সুন্দর ও দূষন মুক্ত পৃথিবী পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।[আল ওয়াসিক বিল্লাহ এর সহায়তায়]

অবস্থান ও যাতায়াত

চট্টগ্রামের সিআরবি রেলওয়ে পুলিশ সুপারের বাংলোর পাশে হাতি বাংলোটির অবস্থান


Total Site Views: 642038 | Online: 6