×
চট্রগ্রাম জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

ফয়েজ লেক জাতিতাত্ত্বিক যাদুঘর(চট্রগ্রাম) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি বাটালী হিল কোর্ট বিল্ডিং বায়েজিদ বোস্তামী ভাটিয়ারী হালদা নদী বাঁশখালী বেলগাও চা বাগান বাঁশখালী ইকোপার্ক পারকী সমুদ্র সৈকত ডিসি হিল মির্জারখীল দরবার শরীফ শাক্যমুনি বিহার ঐহিহ্যবাহী রাজ বাড়ী অপুর্ব স্থাপত্য নিদর্শন চট্টগ্রামের রেলওয়ে হাতির বাংলো মিরসরাই থেকে সীতাকুন্ডের সকল ঝর্ণা ঝিরি লালদিঘীর ময়দানে ঐতিহাসিক জব্বারের বলী খেলা হাজারিখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দুধ পুকুরিয়া ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারন্য গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত সীতাকুন্ড বোটানিকেল গার্ডেন ও ইকোপার্ক বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান
☰ চট্রগ্রাম জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত

পরিচিতি

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় এক পর্যটন স্থান সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালি সী বিচ। স্থানটি চট্টগ্রাম জেলা সদর এবং ফেনী জেলার সদর এর প্রায় মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থিত বলে প্রতিদিনই চট্টগ্রাম এবং ফেনীর দিক থেকে অনেক পর্যটক বেড়াতে আসেন। সীতাকুন্ড বাজার থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে এই সৈকত অবস্থিত। এই সৈকতের নানা প্রাকৃতিক বিষয় এ সৈকতকে অন্যান্য সব সৈকত থেকে আলাদা করেছে। বালুকাময় সৈকত, সবুজ ঘাসের কার্পেটে মোড়ানো প্রান্তর, কেওড়া বন, কেওড়া বনের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া আঁকাবাঁকা খাল, খালের দুই ধারে দেখা যায় শ্বাসমূল। ছোট খাল এঁকেবেঁকে চলে গেছে সমুদ্রের কিছুটা গভীরের দিকে। এখানকার পরিবেশটা অনেকটা সোয়াম ফরেস্ট ও ম্যানগ্রোভ বনের একটা মিশ্র বনের  মত এখানকার নালাগুলো জোয়ারের সময় পানিতে ভরে উঠে।

পায়ে হাঁটা প্রান্তর, ছোট খাল, কাঠের ছোট্ট পুল পেরিয়ে যখন আপনি পৌছবেন গুলিয়াখালি মূল বিচে, এক অন্যরকম আনন্দ অনুভূতি দোলা দেবে আপনার মনে। পানির ঢেউ এর শব্দ, ঝিরিঝিরি বাতাস, শিল্পীর রঙের তুলিতে আকার মতন করে থাকা আকাশ, পাখির কিচিরমিচির শব্দ, সবুজ ঘাসের বিছানা নিমিষেই আপনার সকল ক্লান্তি দূর করে পুলকিত করবে আপনার দেহ মন কে, একেবারে ভুলেই যাবেন যান্ত্রিক জীবনের কথা।

ভাটার সময় সবুজের কারুকাজ করা ছোপ ছোপ ঘাসের অংশ দেখলেও জোয়ারের সময় ছোট ছোট নালা ধরে পানি এসে ডুবে যাবে সেই ছোট্ট সবুজ অংশগুলো। দুটো ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখা যায় জোয়ার এবং ভাটার সময় জোয়ারের পানিতে সবগুলো ডুবে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ঘাসে বসে সাগরের পানিতে পা দুলিয়ে বসে থাকতে পারেন। এখানে বোট আছে, সাগরের কিছু দূর পর্যন্ত ঘুরে আসতে পারেন এগুলো ভাড়া করে। নৌকাগুলো সাগরের দিকে কিছুদূর পর্যন্ত আপনাকে ঘুরিয়ে আনবে, ভাড়া লাগবে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, দামদর করে নিতে হবে। অথবা জোয়ার আসা পর্যন্ত খেলাধুলা করে সময় কাটাতে পারেন সবুজ ঘাসের বুকে এই জন্য অবশ্য খেলার সরঞ্জাম আপনাকে নিয়ে যেতে হবে। ফুটবল খেলার  বিশাল জায়গা রয়েছে এখানে, সঙ্গে ফুটবল নিয়ে এলে, ফুটবল খেলে  অনেকটা সময়  কাটাতে পারবেন এখানে।

এখানে বেড়ানোর উপযুক্ত সময় দুপুরের পর থেকে। দারুন একটা বিকাল কাটাতে পারেন আপনি এই বিচে। সূর্যাস্ত দেখার মত আরেকটি বিষয়। সারা বছরই বেড়ানোর মতো এই সৈকত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত এর সময়ে তিন রকম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যায়, বর্ষায় কিছুটা বেশি ভালো লেগে থাকতে পারে।

তবে হাটার রাস্তায় কাদায় মাখা মাখি হয়ে যেতে হয়, চলার পথে রয়েছে শ্বাসমূল, কিছুটা ধারালো বটে সাবধানতা অবলম্বন না করলে হোঁচট খেয়ে আহত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। এই বিচে বেড়ানোর তেমন কোনো বিপদের সম্ভাবনা নেই। এখানকার এলাকার মানুষদের সাথে কখনো কোন পর্যটক এর বড় ধরনের কোনো ঝামেলা হয়নি। সাথে নারী ও শিশু থাকলে অবশ্যই কোলাহল যুক্ত সময় থাকার চেষ্টা করবেন অর্থাৎ দুপুর থেকে বিকেলটা।

 

আবার ফেরার বেলায়ও একটু জলদি করতে হবে, কারণ ফেরার সময় অটো, সিএনজি খুব বেশি থাকে না, রিসার্ভ করা থাকলে সেগুলো থাকবে।অনেকে বিচে যাওয়া এবং আসার জন্য নৌকা ভাড়া করে থাকেন যে নৌকা সাগরের কিছুটা জায়গা আপনাকে ঘুরিয়ে আনতে পারে তবে একদম সাঁতার না জানা লোকদের এই চেষ্টা না করাই ভালো, অর্থাৎ সাগরের দিকে যাওয়া। অনেকে ধুলোবালি এবং কাদা থেকে পরিচ্ছন্ন থাকতে গোসল করে থাকেন, অনেকে মজা করার জন্য গোসল করে থাকেন, তবে সেখানকার পানি কিছুটা কাদাযুক্তই থাকে। বেশি সময় সৈকতে অবস্থান করলে হালকা নাস্তা ছোট বিস্কুটের প্যাকেট এবং অল্প পানি রাখতে পারেন, তবে খালি বোতল এবং বিস্কিটের প্যাকেট সাথেই নিয়ে আসতে হবে যদি  সৈকতটাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে চান। এই বিচে শুধুমাত্র একটি ছোট্ট দোকান আছে যেখানে খাবার পানি এবং হালকা নাস্তা পাওয়া যায়, দুপুরের খাবার অবশ্যই সীতাকুন্ড থেকেই খেয়ে যেতে হবে।

 

গুরুত্বপূর্ণ

>সিএনজিতে অবশ্যই দামাদামি করে উঠবেন।

>খাবার সময় দাম জেনে এরপর অর্ডার করবেন।

>সীতাকুন্ড বাজারে ভোজ রেস্টুরেন্ট এর মানটা ভালো।

>গুলিয়াখালী বিচে যাওয়ার সময় জোয়ার-ভাটার খোঁজ নিয়ে যাবেন। দুপুর ১-২টার দিকে জোয়ার থাকে।

>গুলিয়াখালীতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত থেকে আসবেন সম্ভব হলে। সেইক্ষেত্রে যেই সিএনজিতে যাবেন তার ফোন নাম্বার রেখে দিবেন।

>নিরাপদ ভ্রমণে ট্যুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার- 01769-690731, ইন্সপেক্টর-01769-690745.

অবস্থান ও যাতায়াত

গুলিয়াখালি সী বিচ চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায়। সীতাকুন্ড বাজার থেকে সাগরের দিকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে এই সৈকত এর অবস্থান।

ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে প্রথমে সীতাকুন্ড আসতে হবে, তারপর বাস থেকে যেখানে নামবেন, ঢাকামুখী রাস্তার উপর থেকে নিচের দিকে নামতে হবে, সেখানে ব্রিজের নিচে সিএনজি স্টেশন রয়েছে, সেখান থেকেই গুলিয়াখালি যাতায়াত করে। এ সিএনজি গুলো একজন 20 টাকা করে নিয়ে থাকে,  5 জন যেতে পারেন একটি সিএনজিতে, আসার সময় লাগবে 30 টাকা করে, তবে ৩০০ বা ৪০০ টাকায় রিজার্ভ নিতে পারেন এমনিতেই আসার সময় সিএনজি পাওয়া যায় না। সিএনজি ড্রাইভার এর নাম্বার সংগ্রহে রাখবেন অথবা রিজার্ভ নিয়ে যাবেন।  রিজার্ভ না নিলে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় 5 জন হতে।

আপনাকে নিয়ে সীতাকুণ্ড থেকে সী বিচ এর একটু আগে বেড়িবাঁধে নামিয়ে দেবে, সেখান থেকে ১০ মিনিটের মতো হাঁটা পথ। একটা ব্রিজ পার হতে হয়। ব্রিজে ১০ টাকা করে নিয়ে থাকে, চাইলে একটু ঘুরে হেঁটেই যাওয়া যায়।


Total Site Views: 774246 | Online: 13