×
চাঁদপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

মোলহেড : ত্রিনদীর সঙ্গমস্থল চাঁদপুর শহরের রক্তধারা ইলিশ চত্বর অঙ্গীকার শপথ চত্বর চাঁদপুর স্টেডিয়াম নুনিয়া দত্তের বাড়ি পূজা মন্দির অরুণ নন্দী সুইমিংপুল চৌধুরী বাড়ি হযরত রাস্তি শাহ (রঃ)-এর মাজার ও দিঘি লোহাগড়ের মঠ ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র সাহেবগঞ্জ নীল কুটি পর্তুগীজ দুর্গ হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ শহীদ স্মৃতি সমাধিস্থল নাসিরকোট রূপসা জমিদার বাড়ি শোল্লা জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি) কড়ৈতলী জমিদার বাড়ি বড়কুল জমিদার বাড়ি (ভাগ্যিতা বাড়ি) বলাখাল জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি) দুর্লভ নাগলিঙ্গম গাছ বাদশা আলমগীরি মসজিদ শহীদ রাজু ভাস্কর্য
☰ চাঁদপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
সাহেবগঞ্জ নীল কুটি পর্তুগীজ দুর্গ

পরিচিতি

পর্তুগীজ সেনাপতি এন্টেনিও ডি সিলভা মেনজিস ১৫৪০-৪৬-এর মধ্যে এ দুর্গটি নির্মাণ করেন। পর্তুগীজরা এ অঞ্চলে জলদস্যুতা করতো। শের শাহের আমলে পাঠান সেনাপতি খিজির খানের সাথে এখানে পর্তুগীজদের যুদ্ধ হয়েছিলো। খিজির খান জলদস্যুদের বিতাড়িত করেছিলেন। তাদেরই (পর্তুগীজ) বংশধরদের বংশধর এখনও এখানে বসবাস করছে। চাঁদপুর জেলা সদর থেকে ডাকাতিয়া নদী পার হয়ে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে ষোল কি. মি. দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গেলেই ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর। উপজেলার সর্ব দক্ষিণের ইউনিয়ন ১৬ নং রূপসা। এই রূপসা ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদের নাম সাহেবগঞ্জ। অন্যসব গ্রামের চেয়ে এই গ্রামের স্বকীয়তার পেছনে লুকিয়ে আছে এক ঐতিহাসিক বিশিষ্টতা। এখানে রয়েছে ধ্বংসপ্রাপ্ত এক পর্তুগীজ দুর্গ। এই দুর্গটি পাঁচ শতাধিক বছর পূর্বে স্থাপন করেছিলেন পর্তুগীজ এক দুর্ধর্ষ সেনানায়ক এন্টেনিও ডি সিলভা (মেনজিস)। ১৫৪০ থেকে ১৫৪৬ সালের মধ্যে সিলভা এটি নির্মাণ করেন। তখন সুবে বাংলা পাঠান সম্রাট শের শাহের শাসনাধীনে ছিলো। জনশ্রুতি আছে, পর্তুগীজদের দমনকালে শের শাহের সেনাপতি খিজির সম্রাটের আসল নাম অর্থাৎ ফরিদ এই নামানুসারেই এক নয়াবসতি স্থাপন করেন। এর নাম ফরিদগঞ্জ। তখন ফরিদগঞ্জের অবস্থান ছিলো সমুদ্র তীরবর্তী। পর্তুগীজ সেনা তথা লুটেরাদের তাড়া করতে করতে নৌ-বহর নিয়ে খিজির খান এখানে আসেন। খিজির খান চলে যাওয়ার পর বাংলার অপর পাঠান শাসক, মাহমুদ শাহের সেনাপতি হামজা খানের সহায়তায় পর্তুগীজরা সমুদ্রোপকূলীয় এলাকায় বাণিজ্য কুঠির আড়ালে কিছু সংখ্যক দুর্গ স্থাপন করে। সাহেবগঞ্জ তেমনি একটি দুর্গ। এই দুর্গটি স্থাপনের প্রায় তিনশ’ বছর পরে কিছুদিন নীলকুঠি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই স্থানীয় জনগণ এটিকে সাহেবগঞ্জ নীলকুঠি হিসেবেই জানে। ইতিহাসের একটি অধ্যায় ঢাকা পড়ে যায় নীলকুঠির আবরণে। ঢাকা পড়ে যায় পর্তুগীজদের নির্মম অত্যাচার আর অসহায় বঙ্গবাসীর অনেক করুণ ইতিহাস। পরবর্তী সময়ে কোনো পর্যটক বা ইতিহাসবিদ ভেবে দেখলেন না, নীলকুঠি এতো বৃহৎ আকারের হয় না। নীল কুঠিতে হাতীশালা থাকে না, থাকে না সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ মিনার অথবা সৈনিকদের জন্যে গার্ড শেড বা সেনাচৌকি, থাকে না কোনো সুড়ঙ্গ পথ। সাহেবগঞ্জ দুর্গটি বিস্তৃত প্রায় দু’শ’ একর। এখানে আজ অবধি বিদ্যমান ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ পথ, একটি পঁয়তাল্লিশ ফুট উঁচু পর্যবেক্ষণ মিনার, পাহারাদারদের ব্যবহৃত চৌকি, বিভিন্ন পর্যায়ের সৈনিকদের আবাসের ভগ্নাংশ। ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ দুর্গ এলাকার ভেতরে অনেক বাড়িঘর উঠেছে। স্থানীয় জনসাধারণ এবং প্রত্নসম্পদ লুণ্ঠনকারী তস্কররা ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে এই প্রত্নসম্পদের বিভিন্ন স্থাপনার ইট। দুর্গে রয়েছে একটি পর্যবেক্ষণ মিনার বা টাওয়ার। এই মিনারটি দুর্গের একমাত্র অক্ষত স্থাপনা। এটির অবস্থান দুর্গের দক্ষিণে এবং দুর্গের বর্ধিত অংশে একটি অনুচ্চ মাটির ঢিবির ওপর। এর বর্তমান উচ্চতা ১৫.৬০ মি. এবং পাদদেশের পরিধি ১০.০৩ মি.। চারটি ধাপে ঊর্ধ্বগামী এ মিনারের প্রতিটি অংশেই এর পরিধি হ্রাস পেয়েছে। এর ছাদ একটি গম্বুজ দিয়ে ঢাকা। প্রতিটি ধাপের পশ্চিম ও পূর্বদিকে খিলান দরজা রয়েছে। মিনারের ভেতরের অংশে চুনা-সুড়কির প্রলেপ রয়েছে। মিনারটির ভেতর অংশে এক সময় একটি শিলালিপি ছিলো। এখন এর অস্তিত্ব না থাকলেও নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া শিলালিপিটির অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব। মিনারটি সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তিনটি বক্তব্য প্রচলিত আছে, প্রথমত, এটি একটি চেরাগদানী>বাতিঘর ছিলো, দ্বিতীয়ত, পর্তুগীজ সেনারা দূরবর্তী জলসীমার স্বপক্ষীয় নৌ-যান অথবা শত্রু নৌ-যান দূরবীনের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করতো, তৃতীয় মত, এটি দুর্গের স্বাভাবিক স্থাপনার একটি অংশ, শত্রুসেনার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করাই এর উদ্দেশ্য ছিলো। এটি সুড়ঙ্গ পথে দুর্গের অন্য অংশের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো।


অবস্থান ও যাতায়াত

ফরিদগঞ্জ উপজেলায়। সড়ক পথে ফরিদ্গঞ্জ থেকে ৭ কি,মি।


Total Site Views: 848271 | Online: 6