×
চাঁদপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

মোলহেড : ত্রিনদীর সঙ্গমস্থল চাঁদপুর শহরের রক্তধারা ইলিশ চত্বর অঙ্গীকার শপথ চত্বর চাঁদপুর স্টেডিয়াম নুনিয়া দত্তের বাড়ি পূজা মন্দির অরুণ নন্দী সুইমিংপুল চৌধুরী বাড়ি হযরত রাস্তি শাহ (রঃ)-এর মাজার ও দিঘি লোহাগড়ের মঠ ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র সাহেবগঞ্জ নীল কুটি পর্তুগীজ দুর্গ হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ শহীদ স্মৃতি সমাধিস্থল নাসিরকোট রূপসা জমিদার বাড়ি শোল্লা জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি) কড়ৈতলী জমিদার বাড়ি বড়কুল জমিদার বাড়ি (ভাগ্যিতা বাড়ি) বলাখাল জমিদার বাড়ি (চৌধুরী বাড়ি) দুর্লভ নাগলিঙ্গম গাছ বাদশা আলমগীরি মসজিদ শহীদ রাজু ভাস্কর্য
☰ চাঁদপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
লোহাগড়ের মঠ

পরিচিতি

ফরিদগঞ্জ উপজেলার চান্দ্রা বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ‘‘লোহাগড়’’ গ্রামের মঠটি কিংবদন্তীর সাক্ষী হিসেবে এখনও দন্ডায়মান। পরম প্রতাপশালী জমিদার পরিবারের দুই ভাই ‘‘লোহ’’ ও ‘‘গহড়’’ এতই প্রভাবশালী ছিল যে, এরা যখন যা ইচ্ছা তাই করতেন এবং তা প্রতিফলিত করে আনন্দ অনুভব করত। এই দুই ভাইয়ের নামানুসাওে গ্রামের নাম ‘‘লোহা গড়’’ রাখা হয়। জনৈক বৃটিশ পরিব্রাজক লোহাগড় প্রাম পরিদর্শনে গেলে তাদেও ঐতিহ্য দেখিয়া বিমুগ্ধ হন। কথিত আছে, ঐ পরিব্রাজকের জন্য নদীর কুল হতে তাহাদের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা যার প্রস্ত ২ হাত ও উচ্চতা ১ হাত দৈর্ঘ্য ২০০ কিলোমিটার রাস্তা সিকি ও আধুলী মুদ্রা দিয়ে নির্মাণ করেন। সাধারণ মানুষ এদের বাড়ীর সামনে দিয়ে ভয়ে চলাফেরা পর্যন্ত করত না। বাড়ীর সামনে দিয়ে ডাকাতিয়া নদীতে নৌকাগুলো নি:শব্দে যাতায়াত করতে হত।ডাকাতিয়া নদীর কুলে তাদের বাড়ীর অবস্থানের নির্দেশিকা স্বরূপ সুচ্চ মঠটি নির্মাণ করেন। তাদের আর্থিক প্রতিপত্তির নিদর্শন স্বরূপ মঠের শিখওে একটি স্বর্ণদন্ড স্থাপন করেন। এই স্বর্ণদন্ডের লোভে মঠের শিখরে উঠার প্রচেষ্টায় কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন বলেও শুনা যায়। এই বৃহৎ স্বর্ণ দন্ডটি পরবর্তীকালে ঝড়-তুফানে মঠ শিখর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নদীতে পড়ে এবং নদীতটের জমিতে চাষ করার সময় একজন কৃষক এই স্বর্ণদন্ডটি পেয়েছিলেন বলে জানা যায়। লোকমুখে শুনা যায় এই স্বর্ণদন্ডটি প্রায় আড়াইমণ ওজন ছিল। লোহাগড়ে এই দুই ভাইয়ের প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ এখনও বিদ্যমান। এখানে মাটির নীচে গহবর এখনও বিদ্যমান এবং মঠটি এখনও দাড়িয়ে আছে দু-ভাইয়ের দোর্দন্ত প্রতাপের নীরব সাক্ষী হয়ে। কথিত আছে, নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজত্বকালে, ১৭৫৭ সালের কিছুকাল আগে নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলার সভাসদ রাজ বল্লভের ছেলে কৃষ্ণ বল্লভ নবাব রাজত্বের আদায়কৃত খাজনার বিপুল অর্থসহ পালিয়ে ফরিদগঞ্জ এলাকার এক অত্যাচারী জমিদারের আশ্রয় নিয়েছিলেন। ওই জমিদার পরিবারের বসবাস ছিলো বর্তমান লোহাগড় গ্রামে। প্রায় ২০০ বছরের পুরানো লোহাগড়ের মঠটি অত্যাচারী জমিদারদের অত্যাচারের নীরব সাক্ষী হিসেবে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আর সরকারিভাবে কোনো পরিচর্যা না থাকায় পুরানো স্মৃতি বিজড়িত প্রাচীন নিদর্শনটি সবার স্মৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। ফরিদগঞ্জ উপজেলার সদর থেকে এর দূরত্ব ৫ কিলোমিটার।


অবস্থান ও যাতায়াত

ডাকাতিয়া নদীর কুলে লোহাগড়া গ্রামে এই মঠটির ধ্বংসাবশেষ এখনও বিদ্যমান। ফরিদগঞ্জ উপজেলার চান্দ্রা বাজার থেকে সড়ক পথে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ‘‘লোহাগড়’’ গ্রাম। জেলা সদর থেকে বাস/ সিএনজি/ মোটর সাইকেল যোগে লোহাগড় যাওয়া যায়।


Total Site Views: 1279708 | Online: 8