×
নোয়াখালী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

নিঝুম দ্বীপ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোঃ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট ও স্মৃতি জাদুঘর বজরা শাহী জামে মসজিদ বাবুপুর শ্রীপুর (টট্ররিয়া)গাজী বাড়ী মাজার শরিফ রায় চৌধুরী জমিদার বাড়ী মুসাপুর ক্লোজার সৈকত কোর্ট বিল্ডিং দীঘি ও পৌর পার্ক নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যান
☰ নোয়াখালী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যান

পরিচিতি:

১৯৪০ এর দশকে এই দ্বীপটি বঙ্গোপসাগর হতে জেগে উঠা শুরু করে। চর গঠনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ৪০ এর দশকের শেষদিকে নিঝুমদ্বীপ তৃণচর বা গোচারণের উপযুক্ত হয়ে উঠে। মাছ ধরতে গিয়ে হাতিয়ার জেলেরা নিঝুমদ্বীপ আবিস্কার করে। নিঝুমদ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর ইছা মাছ (চিংড়ি মাছ) ধরা পড়তো বিধায় জেলেরা এই দ্বীপের নাম দেয় ইছামতির দ্বীপ। কথিত আছে সর্দার ওসমান নামের এক সাহসী বাথানিয়া ১০০ মহিষ নিয়ে প্রমত্তা মেঘনা পাড়ি দিয়ে প্রথম এই দ্বীপে অসে এবং দিয়ারা জরিপ কর্মচারীদেরকে জরিপ কাজে প্রভূত সহায়তা করে বিধায় তার নামে অনুসারে নিঝুম দ্বীপে মৌজার সরকারি নাম হয় ‘চর ওসমান´ বল্লার চর, কামলার চর, চর ওসমান ও চর মুরি এই চারটি প্রধান দ্বীপ ও বেশ কয়েকটি ছোট চরের সমন্বয়ে দ্বীপাঞ্চলটি জেগে ওঠে। প্রায় ১৪,০৫০ একরের দ্বীপটি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে জেগে ওঠে। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের আগ পর্যন্ত কোনো লোকবসতি ছিলো না, তাই দ্বীপটি নিঝুমই ছিলো। নিঝুম দ্বীপ এখন হরিণের অভয়ারণ্য। নিঝুম দ্বীপে হরিণ এবং মহিষ ছাড়া অন্য কোনো হিংস্র প্রাণী নেই। নিঝুম দ্বীপে রয়েছে প্রায় ৩৫ প্রজাতির পাখি। বর্ষা মৌসুমে ইলিশের জন্য নিঝুম দ্বীপ বিখ্যাত। এছাড়াও রয়েছে প্রায় ৪৩ প্রজাতির লতাগুল্ম এবং ২১ প্রজাতির অন্যান্য গাছ। নিঝুম দ্বীপে বিশাল এলাকা পলিমাটির চর। দ্বীপের আশপাশের জঙ্গলেই আছে হরিণ, শেয়াল, বন্য শূকর, নানা রকম সাপ ও বানর। সুন্দরবনের মতো বন হলেও কোন হিংস্র প্রাণী না থাকায় বনে খুব কাছ থেকেই সহজে চিত্রা হরিণ দেখা যায়। এছাড়াও শীতের মৌসুমে অজস্র প্রজাতির অতিথির পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয় নিঝুম দ্বীপ। আপনি ইচ্ছা করলে বছরের যে কোনদিন হাতে সময় নিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালী জেলার অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান নিঝুম দ্বীপ ঘুরে আসতে পারেন। এই ঐশ্বর্যমন্ডিত স্থানে যাওয়ার কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। তবে পিকনিক সিজনে গেলে আপনি অনেক মজা পাবেন।এখানে পিকনিক সিজনে নৈসর্গিক আনন্দ লাভের আশায় অনেক লোকের সমাগম হয়ে থাকে। অক্টোবর থেকে এপ্রিল ১৫ তারিখ এখনকার আবহাওয়া অনুযায়ী নিঝুম দ্বীপ ভ্রমনের জন্য বেস্ট। অন্য সময় বর্ষা থাকে ও ঝড়ের কারনে মেঘনা নদী ও সাগর উত্তাল থাকে।

 

অবস্থান ও যাতায়াত:

নোয়াখালী জেলার দক্ষিণে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত হাতিয়া উপজেলার সর্বদক্ষিণে নিঝুমদ্বীপের অবস্থান। দেশের যেকোন স্থান হতে আপনি ঘুরে আসতে পারেন ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালী জেলার অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান নিঝুম দ্বীপ। এজন্য আপনাকে নোয়াখালী জেলা সদর মাইজদী হতে প্রথমে সোনাপুর গিয়ে পৌঁছাতে হবে।সেখান থেকে চেয়ারম্যান ঘাট গামী যেকোন লোকাল বাস সার্ভিস/ সিএনজি অটোরিক্সা যোগে চেয়ারম্যান ঘাটে নামতে হবে।  অতঃপর সীট্রাক/লঞ্চ সার্ভিসে নলচিরা ঘাটে নেমে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে জাহাজমারা ঘাটে গিয়ে নৌকাযোগে জাহাজমারা চ্যানেল পার হয়ে নিঝুম দ্বীপ পৌঁছানো যাবে।ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন পানামা ও টিপু-৫ নামের লঞ্চ হাতিয়ার উদ্দেশে ছাড়ে সন্ধ্যা ৬টায়। মনে রাখবেন এই লঞ্চ দিনে মাত্র একবার ছাড়ে। এছাড়া বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকেও সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রাম থেকে একটি জাহাজ হাতিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

পানামা লঞ্চের যোগাযোগ-০১৭৪০৯৫১৭২০, এম ভি টিপু ৫- ০১৭১১৩৪৮৮১৩, এমভি ফারহান- ০১৭৮৫৬৩০৩৬৬, ফারহান ৪- ০১৭৮৫৬৩০৩৬৯।


Total Site Views: 845989 | Online: 8