×
নোয়াখালী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

নিঝুম দ্বীপ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোঃ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট ও স্মৃতি জাদুঘর বজরা শাহী জামে মসজিদ বাবুপুর শ্রীপুর (টট্ররিয়া)গাজী বাড়ী মাজার শরিফ রায় চৌধুরী জমিদার বাড়ী মুসাপুর ক্লোজার সৈকত কোর্ট বিল্ডিং দীঘি ও পৌর পার্ক নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যান
☰ নোয়াখালী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট ও স্মৃতি জাদুঘর

পরিচিতি

গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর একটি দর্শনীয় ঐতিহাসিক নিদর্শন। নোয়াখালী জেলা সদর মাইজদী কোর্ট হতে প্রায় ২৫ কিমি উত্তরে সোনামুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজার সংলগ্ন সড়কের পাশে এর অবস্থান। ১৯৪৬ সালের অক্টোবর মাসের ১০ তারিখে নোয়াখালিতে যে ভয়াবহ জাতিগত সংঘাতের সূত্রপাত হয় সেই সংঘাত তথা দাঙ্গার খবর শুনে মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালী আসার সিদ্ধান্ত নেন এবং ৭ নভেম্বর, ১৯৪৬-এ তিনি নোয়াখালীর চৌমুহনী রেল স্টেশনে এসে পৌঁছান। এরপর দত্তপাড়া এলাকায় সভার মধ্য দিয়ে শুরু হয় গান্ধীর গ্রাম পরিক্রমা এবং এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি জয়াগ গ্রামে যান। আর ৩০ জানুয়ারি তিনি সেখানে উদ্ধোধন করেন একটি বুনিয়াদী বিদ্যালয় যা বর্তমানে ‘গান্ধী মেমোরিয়াল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ নামে পরিচিত। সে সময় নোয়াখালীর জমিদার ছিলেন ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষ। তিনি গান্ধীর জয়াগ আগমন এবং তার বাড়িতে গান্ধীজির অবস্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি মহাত্মা গান্ধীকে দান করেন এবং তার পিতামাতার নামানুসারে ‘অম্বিকা কালীগঙ্গা চেরিটেবল ট্রাস্ট’ নামের একটি ট্রাস্ট গঠন করেন। তবে ১৯৭৫ সালে এক সরকারি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘অম্বিকা কালীগঙ্গা চেরিটেবল ট্রাস্ট’ ভেঙে ‘গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট’ সৃষ্টি করা হয়। চারু চৌধুরী ছিলেন এই ট্রাস্টেমর প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি। ১৯৪৭ সালের ২ মার্চ আরেকটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার খবর পাওয়ায় গান্ধীজি বিহার ফিরে যাওয়ার আগে চারু চৌধুরীকে নোয়াখালীতে শান্তি মিশন ও ট্রাস্টের কাজ চালিয়ে যেতে বলেন এবং আবার নোয়াখালী আসার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে পরের বছরই তিনি মৃত্যুবরণ করায় তার আর নোয়াখালী বা জয়াগে আসার সুযোগ হয়নি। এদিকে গান্ধীজি না আসতে পারলেও চারু চৌধুরী গান্ধীজিকে দেওয়া কথা অনুযায়ী ট্রাস্ট আর শান্তি মিশনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যান। বর্তমানে গান্ধী আশ্রমে গান্ধীজির নামে একটি জাদুঘরও আছে যাতে গান্ধীজির তখনকার নোয়াখালী সফরের একশতাধিক ছবি ও ব্যবহূত জিনিসপত্র ও প্রকাশিতলেখা সংরক্ষিত আছে।


অবস্থান ও যাতায়াত

নোয়াখালী জেলা সদর মাইজদী হতে সোনাইমুড়ী গামী যেকোন লোকাল বাস সার্ভিস/ সিএনজি অটোরিক্সা যোগে সম্মুখে জয়াগ বাজার নেমে রিক্সা বা পায়ে হেঁটে আধা কিলোমিটার পুর্বে গেলে গান্ধী আশ্রমে পৌঁছা যাবে।


Total Site Views: 850768 | Online: 11