×
ফেনী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

চৌধুরী বাড়ি মসজিদ শমসের গাজী দিঘী বিলোনিয়া স্থল বন্দর সোনাগাজী মুহুরী সেচ প্রকল্প পাগলা মিঞাঁর মাজার শিলুয়ার শীল পাথর রাজাঝীর দীঘি বিজয় সিংহ দীঘি ভাষা শহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা ও রিসোর্ট মুবারক শাহ মসজিদ বাঁশপাড়া জমিদার বাড়ি সেনেরখিল জমিদার বাড়ি প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি কালিদহ বরদা বাবু জমিদার বাড়ী শর্শদি মাদ্রাসা মসজিদ (মোহম্মদ আলী মসজিদ) অচিন গাছ ফেনী জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ফেনী সরকারি কলেজ শর্শদি দীঘি দেওয়ানগঞ্জ সড়ক,ফেনী সদর বেড়াবাড়ীয়া রাবার ড্যাম এম আর রাবার বাগান বিলোনিয়া মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ এককুইল্লা দীঘি/কুয়া এবং 'সুড়ঙ্গ' সাত মঠ / সাত মন্দির
☰ ফেনী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
অচিন গাছ

পরিচিতি

এটি প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো গাছ। তবে এটি কী গাছ কেউ বলতে পারে না। তাই এর নাম হয়েছে অচিন গাছ।  বিরাট এলাকাজুড়ে এর শেকড় ডালপালা বিস্তৃত। গাছের নিচে স্থাপিত মাদ্রাসার নাম হয়েছে অচিন গাছতলা মাদ্রাসা। এলাকার নাম হয়েছে অচিন গাছতলা।

কালের সাক্ষী ফেনী শহরের এতিহ্যবাহী অচিন গাছ বাংলাদেশে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বিরল প্রজাতির গাছটি সম্পর্কে ইতোপূর্বে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে খবর বিজ্ঞানীদেরও আকৃষ্ট করে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানী . মোঃ আবুল হাসান . মোঃ জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী গাছটি থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে নিয়ে বিশদভাবে গবেষণা করেন। গবেষণাপত্রটি দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁরা গাছটিকে Ficus Caulocarpa Miq হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন। এর পরিবার হচ্ছে Maraceale

গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীদ্বয় লেখেন ডেবিড প্রেইন (১৯০৩) তাঁর Bengal Plants নামক গ্রন্থে Ficus-এর ৩৯টি প্রজাতি এবং ৭টি ভ্যারাইটির বর্ণনা দিয়েছেন। কিন্তু প্রজাতির কথা উল্লেখ করেননি। হুকার (১৯৮৮) তার Flora of British India নামক গ্রন্থে ১১২টি Ficus প্রজাতির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রজাতিকে ডেকান পেনিনসুলা এবং শ্রীলঙ্কা থেকে বর্ণনা করেছেন Ficus Tjakela, Ficus Caulocorpa নামের সমনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ছাড়া বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত কোনো Flora তে গাছের কোনো বর্ণনা পাওয়া যায়নি। তাই ধরে নেয়া যায় এটি বাংলাদেশে একমাত্র গাছ। এক অনন্য সাক্ষী।

অনুসন্ধান করে গাছটির উৎপত্তি সম্পর্কে নিছক কল্পকাহিনী ছাডা আর কিছুই জানা যায়নি। বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)-এর সময়ে হযরত সেহাব উদ্দিন খোন্দকার বাগদাদী (রহঃ) নামে এক বুজুর্গ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসে ফেনীতে আস্তানা গড়েছিলেন। তার মৃত্যু হলে তাকে ফেনী শহরের বারাহিপুরে সমাধিস্থ করা হয়। তার কবরে একটি খেজুর গাছ ওঠে। ওই খেজুর গাছকে পেঁছিয়ে বড় হতে থাকে একটি লতানো গাছ। কালের বিবর্তনে এই লতানো গাছটি মোটা হতে থাকলে খেজুর গাছটি মারা যায়। এই লতানো গাছটি হলো কিংবদন্তির সাক্ষী আজকের অচিন গাছ। অচিন গাছ মূলত গাছটির প্রকৃত নাম নয়। মানুষের কাছে অপরিচিত বলেই এর নাম হয়েছে অচিন গাছ।

এটি পত্র ঝরা ছড়ানো, বৃহৎ আকৃতির বৃক্ষ। এর শাখা-প্রশাখা কিছুটা বাদামি বর্ণের। পাতা ঈষৎ লম্বা বোঁটাযুক্ত, মৃসণ। দেখতে অনেকটা আয়তকার বা উপবৃত্তকার পত্রশীর্ষ চোখা। এর ফুলগুলো গোলাকার সামান্য হলুদাভ সাদা, তবে শীর্ষে কয়েকটা লাল রঙের ছিটা রয়েছে। ফলগুলো জোড়ায় জোড়ায় পত্রকক্ষ থেকে বের হয়। মানুষের কাছে গাছটি পবিত্র গাছ হিসেবে খ্যাত। তাই অনেকে এর পাতা ফল রোগবালাই মুক্ত হওয়ার আশায় আল্লাহ্' নাম নিয়ে খায়।

গাছটি দেশের জন্য অমূল্য সম্পদ তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ধর্ম, ইতিহাস, লোকজ সংস্কৃতি এবং সাহিত্যেও গাছটি আপন মহিমায় স্থান করে নিয়েছে।

গাছটিকে ঘিরে অনেক

Total Site Views: 842229 | Online: 7