×
ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

আরিফাইল মসজিদ হাতিরপুল ১ হাতিরপুল ২ কেল্লা শহীদ মাজার গঙ্গাসাগর দিঘী ফারুকী পার্কের স্মৃতিস্থম্ভ কোল্লাপাথর শহীদ সমাধিস্থল কালভৈরব আশুগঞ্জ মেঘনা নদীর পার মেঘনা কণ্যা তিতাস নদীতে নৌকা-বাইচ প্রতিযোগিতা মহর্ষি মনমোহন দত্তের সমাধিস্থল
☰ ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
মহর্ষি মনমোহন দত্তের সমাধিস্থল

পরিচিতি

বেদ বিধির পর শাস্ত্র কানা আর এক কানা মন আমার, এ সব দেখি কানার হাঁটবাজার. এই গান শুনে নাই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই লালনগীতি হিসেবে বিভিন্ন শিল্পীরা এই গান গেয়ে থাকেন। কিন্তু, আদতে এটা লালনের কোনো গান নয়! এই 'মলয়া' গান মূলত ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া নামক এক প্রত্যন্ত গ্রামের মরমি সাধক, গীতিকবি মহর্ষি মনমোহন দত্ত কর্তৃক রচিত। এবং তাতে সুর দিয়েছেন প্রখ্যাত সুরকার ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের বড় ভাই ফকির আফতাবউদ্দীন খাঁ। সংগীত মহলে প্রচলিত আছে মনমোহনের-ম, উনার প্রিয়শিষ্য শ্রী লবচন্দ্র পালের-ল, সুরকার আফতাবউদ্দীনের-আ এই তিন মিলেই সৃষ্ট বাংলা গানের এক অনন্য শাখা 'মলয়া'; যদিও এই ব্যাপারে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন মনমোহন দত্তের উত্তরসূরীরা। তাদের ভাষ্যমতে, মলয়া (মলয় পর্বত হতে আগত বায়ু) নামকরণ হয়েছে রূপকঅর্থে এই গানগুলোকে 'শান্তির হাওয়া' হিসেবে বুঝাতে।। প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ডে প্রকাশিত 'মলয়া' বইয়ে মনমোহন দত্ত কর্তৃক রচিত গানগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়াও উনি অসংখ্য সর্বধর্ম সঙ্গীত, শ্যামাসঙ্গীত, দেহতত্ত্ব, বাউল, লোকসঙ্গীত রচনা করেছেন।

আজ থেকে এক শতাব্দী আগে একজন মানুষ একই সঙ্গে কোরান-বাইবেল-বেদ পড়ছেন, বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচার করছেন সর্বধর্মসমন্বয়ের বানী 'গুরু সত্য'; 'জয় দয়াময়', নিজের মৃত্যুর পর মৃতদেহ সৎকার না করে কবর দিতে নির্দেশ দিচ্ছেন- ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার এই সময়ে মনমোহন দত্তের মতো মানবতাবাদী খুব বেশি প্রাসঙ্গিক। শৈশব-কৈশোর-যৌবনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের ব্যর্থতা এবং পরবর্তীতে সরাইল নিবাসী আচার্য শ্রী আনন্দ স্বামী ও চট্টগ্রামস্থ মাইজভান্ডার দরবারের বড় মৌলানা ছৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর সান্নিধ্যই মূলত তাকে আধ্যাত্বিক জীবনে নিজেকে সমর্পন করতে উৎসাহিত করেছে। গুরুভক্তির নিদর্শনস্বরূপ তিনি বাড়ির আঙ্গিনায় প্রতিষ্ঠা করেন 'আনন্দ আশ্রম'। আঠারো বছর বয়সে বাড়ির উঠানের বেলতলায় যে সাধুজীবনের শুরু হয়েছিলো তা শেষ হয়েছিলো মাত্র বত্রিশ বছর বয়সে দেহত্যাগের মাধ্যমে। জনশ্রুতি আছে, যে শিষ্যদের সাথে উনি জীবদ্দশায় দেখা করতে পারেন নাই মৃত্যুর পর উনি তাদের স্বপ্নে দেখা দিতেন! সব ধর্মের মানুষের কাছে তুমুল জনপ্রিয় এই সাধকের জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহীরা 'লীলারহস্য' নামক আত্মজীবনীমূলক বইখানা পড়তে পারেন। প্রতিবছরের মাঘ মাসের দশ তারিখে (তেইশ জানুয়ারি) মহর্ষি মনমোহন দত্তের জন্মোৎসব পালিত হবে সাতমোড়া গ্রামে। রাতভর মলয়া সংগীত, গ্রামীন মেলা সবকিছু মিলিয়ে চমৎকার এক আয়োজন। আশ্রমের চারিপাশের পরিবেশ অনেক নিঃশব্দ-শান্ত এবং পরিষ্কার। অহেতুক চিৎকার-চেচামেচি কিংবা যত্রতত্র ময়লা ফেলার মত গর্হিত কাজ করা থেকে বিরত থেকে মহর্ষি মনমোহন দত্তের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবেন সবাই- এটাই কাম্য। (তথ্য: রাফকাত তানিল)

অবস্থান ও যাতায়াত

সাতমোড়া, নবীনগর উপজেলা, ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া৷ ঢাকা থেকে যারা আসতে চান তারা সায়দাবাদ থেকে ঢাকা-কোম্পানিগঞ্জ সরাসরি বাসে (তিশাঃ ভাড়া জনপ্রতি -১৮০টাকা), কোম্পানিগঞ্জ থেকে শ্রীকাইল সিএনজিতে (ভাড়া জনপ্রতি-৬০ টাকা), শ্রীকাইল থেকে মনমোহন সাধুর আশ্রম অটোরিক্সা/সিএনজি (ভাড়া জনপ্রতি ২৫/৩০টাকা)৷


Total Site Views: 848355 | Online: 9