×
গাজীপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

ভাওয়াল (রাজপ্রাসাদ) রাজবাড়ী ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান নন্দন পার্ক কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক বড়ইবাড়ি প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট নাগরী টেলেন্টিনুর সাধু নিকোলাসের গীর্জা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক সুলতানপুর দরগাপাড়া শাহী মসজিদ বেলাই বিল বলধার জমিদার বাড়ী, বাড়ীয়া কাশিমপুর জমিদার বাড়ী গাজীপুর সদর শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ী সাটুরিয়া মখশবিল, কালিয়াকৈর জেলার দর্শনীয় রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট
☰ গাজীপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
ভাওয়াল (রাজপ্রাসাদ) রাজবাড়ী

পরিচিতি

রাজবাড়ী বলতে আমরা যা বুঝি এটি কিন্তু তা নয় । আসলে বিশাল এক রাজপ্রাসাদ এটি। আয়তন এবং কক্ষের হিসাবে এত বড় বিশাল রাজপ্রাসাদ বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। দ্বিতল এ রাজপ্রাসাদটিতে সর্বমোট কক্ষ রয়েছে ৩৬৫টি। প্রায় ৫ একর জায়গার উপর রাজপ্রাসাদটি নির্মিত হয়েছে। এটির আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে এর পশ্চিম পার্শ্বেই রয়েছে বিশাল একটি দীঘি এবং সামনে রয়েছে বিশাল সমতল একটি মাঠ। এতবড় মাঠও সমগ্র বাংলাদেশে আর নেই। রাজবাড়িটির পুরো এলাকাই সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এর মূল প্রবেশ দ্বার দিয়ে ঢুকে একেবারে পিছনে যেতে হলে হাঁটতে হবে অনেকটা পথ, পেরুতে হবে অনেক অলিন্দ আর বারান্দা। বিশাল এ রাজপ্রাসাদটির বিশালত্ব দেখে যে কেউ অভিভূত হবেন এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। অনেকেই রাজবাড়ীতে ঢুকে গোলক ধাঁধায় হারিয়ে যাবেন - এর অলিন্দ গলি উপগলি দিয়ে একবার হেঁটে গিয়ে পুনরায় সেগুলো খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়বে। রাজবাড়ীর প্রতিটি স্থানে প্রতিটি কক্ষে যেতে হলে দীর্ঘ সময় নিয়ে ঢুকতে হবে এতে। অবিভক্ত ভারতবর্ষের বাংলা প্রদেশের ভাওয়াল এস্টেটে, বর্তমানে বাংলাদেশের গাজীপুর জেলায় অবস্থিত একটি রাজবাড়ী। বিংশ শতকের প্রথম দিকে একটি বিখ্যাত মামলা হয়েছিল যা ভাওয়ালের জমিদার বংশের রাজকুমার রমেন্দ্রনারায়ণ রায়কে ঘিরে ও ভাওয়ালের সন্ন্যাসী মামলা নামে খ্যাত। এছাড়া বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমার অভিনীত সন্ন্যাসী রাজা নামের বাংলা ছবিটি খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল যার ঘটনা এই রাজবাড়িকেই ঘিরে। এই রাজবাড়ীর আওতায় ভাওয়াল এস্টেট প্রায় ৫৭৯ বর্গমাইল (১,৫০০ কিমি) এলাকা জুড়ে ছিল যেখানে প্রায় ৫ লাখ প্রজা বাস করতো। ভাওয়ালের জমিদার বংশের রাজকুমার রমেন্দ্রনারায়ণ রায় ও আরো দুই ভাই মিলে এই জমিদারীর দেখাশোনা করতেন। প্রায় দেড়শ বছরের প্রাচীন এ রাজপ্রাসাদটি কালের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বা একেবারে ভগ্নপ্রায় এটা বলা ঠিক হবে না। এটি বর্তমানে ব্যবহূত হচ্ছে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হিসেবে সেই ১৯৮৪ সাল থেকে। পাশাপাশি এতে আছে আরো অনেক সরকারী অফিস, আদালত এবং ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। চাকরির সুবাদে এবং বিভিন্ন কার্য উপলক্ষে এ রাজবাড়ীতে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের আগমন ঘটে থাকে। পাশাপাশি আসেন অনেক দর্শনার্থী। অথচ এত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক একটি রাজপ্রাসাদ সরকারি অফিস হিসেবে ব্যবহূত হওয়াটা কতটুকু সমীচীন সে প্রশ্ন আজ বড় হয়ে দেখা দিয়েছে । এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরকারি নিয়ম রয়েছে যে কোন একটি ঐতিহাসিক ভবন বা নিদর্শন যদি একশ বছরের বেশি প্রাচীন হয়ে থাকে তবে সেটিকে পুরাতত্ত্ব নিদর্শন হিসেবে ঘোষণা করে তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করে দর্শনীয় স্থান হিসেবে সেটি গড়ে তুলতে হবে। অথচ ভাওয়াল রাজবাড়ীর ক্ষেত্রে এ বিধিটি সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। রাজবংশের লোকজন রাজবাড়ী পরিত্যাগ করে চলে যাবার পরও এটির প্রায় প্রতিটি কক্ষে মূল্যবান আসবাবপত্র ছিল। ছিল আরো অনেক মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী। অনুসন্ধান করে এসব প্রাচীন নিদর্শনসমূহ উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা দরকার।[সৌজন্যে মুজিবুর রহমান গাজীপুর ইত্তেফাক প্রতিনিধি]

অবস্থান ও যাতায়াত

সদর উপজেলাধীন জয়দেবপুর মৌজায় অবস্থি। জিরো পয়েন্ট হতে গাজীপুর গামী বাসে শিববাড়ীতে নেমে রিক্সাযোগে রাজবাড়ী আসা যায়।


Total Site Views: 774143 | Online: 12