×
টাঙ্গাইল জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

আতিয়া মসজিদ উপেন্দ্র সরোবর এলেঙ্গা রিসোর্ট বঙ্গবন্ধু বহুমূখী সেতু ববনগ্রামের গনকবর ধলাপাড়া চৌধুরীবাড়ী ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মহেড়া জমিদার বাড়ী নাগরপুর চৌধুরী বাড়ী (জমিদার বাড়ি) কমপ্লেক্স পাকুটিয়া জমিদার বাড়ী কমপ্লেক্স ভারতেশ্বরী হোমস ধনবাড়ী জমিদারবাড়ি/ নবাব প্যালেস মধুপুর জাতীয় উদ্যান
☰ টাঙ্গাইল জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
পাকুটিয়া জমিদার বাড়ী কমপ্লেক্স

পরিচিতি

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুরে অবস্থিত কিন্তু মানিকগঞ্জ দিয়েই যাতায়াত সুবিধা। এই জমিদার বাড়ি কমপ্লেক্সে মোট তিনটি অট্টালিকা আছে। এই তিনটির মধ্যে একটি বেশ বড় আর বাকি দুটো অপেক্ষাকৃত ছোট। বৃহৎ ভবনটি বর্তমানে ডিগ্রী কলেজ হিসেবে ব্যাবহৃত হচ্ছে এবং বাকি দুটি ভবন ভাড়া দেয়া আছে।ছোট দুই ভবন সহ এই বৃহৎ অট্টালিকার মালিকানা বর্তমানে কলেজ কতৃপক্ষের হাতে ন্যাস্ত আছে। উনিশশত শতকের শুরুর দিকে রামকৃষ্ণ সাহা মন্ডলের হাতে এই জমিদারির পত্তন হয়। তার দুই সন্তান- রাঁধা গোবিন্দ এবং বৃন্দাবন চন্দ্র। রাঁধা গোবিন্দে ছিলেন নিঃসন্তান আর বৃন্দাবনের ছিল তিন সন্তান- ব্রজেন্দ্র মোহন, উপেন্দ্র মোহন এবং জোগেন্দ্র মোহন। সন্তানহীন রাঁধা গোবিন্দ ভ্রাতষ্পুত্র উপেন্দ্র মোহনকে দত্তক নেন এবং মৃত্যুকালে তার সমস্ত সম্পত্তি পালক পুত্রকে দান করেন। এই তিন ভাই আজ থেকে একশত বছর আগে ১৯১৫ সালে এই ভবন তিনটি নির্মান করেন। প্রত্যেকটি অট্টালিকা সুদৃশ্য কারুকার্য শোভিত। ভবনের স্তম্ভ, দরজা, জানালা, ছাদ, সবখানেই চমৎকার নকশার ছোঁয়া পাওয়া যায়। ভবনের সামনের উর্ধ্বাংশ সুন্দর নকশা ও মুর্তিখচিত। এছাড়া ভবনত্রয়ের পিছনদিকে কয়েকটি পুকুর রয়েছে। জমিদার রামকৃষ্ণ এবং তার বংশধরগন প্রজাদের প্রতি বেশ সদয় এবং বন্ধুবৎসল ছিলেন। তিন পুত্র এই অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারের জন্য ১৯১৬ সনে তাদের বাবা ও চাচার নামে নির্মান করেন বৃন্দাবন চন্দ্র রাঁধা গোবিন্দ স্কুল (সংক্ষেপে বিসিআরসি স্কুল)। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় তারা বাংলাদেশ ত্যাগ করেন এবং তৎকালীন সরকার এই ভবনসমুহের দায়িত্ব গ্রহন করে। পরবর্তীকালে ১৯৬৭ সালে সরকার তাদের স্মরনে উক্ত ভবনে বিসিআরসি ডিগ্রী কলেজ স্থাপন করে। এছাড়া বর্তমানে এই জমিদারবাড়ির চৌহদ্দিতে একটি মন্দির এবং একটি মুক্ত মঞ্চ রয়েছে যেখানে নিয়মিত যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হয়।

অবস্থান ও যাতায়াত

নাগরপুর, টাঙ্গাইল। ঢাকা থেকে গাবতলী হয়ে আরিচাগামী যেকোন বাসে উঠে পড়ুন। ধামরাইয়ের পর কালামপুর বাজারে নেমে যাবেন। রাস্তার ডান দিক দিয়ে যে আরেকটি রাস্তা চলে গেছে সেটিই ২৫ কিলোমিটার এঁকে বেঁকে বালিয়াটি জমিদারবাড়ি চলে গেছে। কালামপুর বাজার থেকে সিনজি পাবেন। বালিয়াটি পার হয়ে আরো প্রায় ১০ কিলোমিটার গেলে পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি বা বিসিআরসে ডিগ্রী কলেজ। ঢাকা থেকে দুরত্ব প্রায় ৫৫-৬০ কিলোমিটার।


Total Site Views: 848326 | Online: 11