×
টাঙ্গাইল জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

আতিয়া মসজিদ উপেন্দ্র সরোবর এলেঙ্গা রিসোর্ট বঙ্গবন্ধু বহুমূখী সেতু ববনগ্রামের গনকবর ধলাপাড়া চৌধুরীবাড়ী ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মহেড়া জমিদার বাড়ী নাগরপুর চৌধুরী বাড়ী (জমিদার বাড়ি) কমপ্লেক্স পাকুটিয়া জমিদার বাড়ী কমপ্লেক্স ভারতেশ্বরী হোমস ধনবাড়ী জমিদারবাড়ি/ নবাব প্যালেস মধুপুর জাতীয় উদ্যান
☰ টাঙ্গাইল জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
মধুপুর জাতীয় উদ্যান

পরিচিতি:

হাজার বছরের প্রাচীন । বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন মধুপুর শালবন। এ বনকে দেশের মধ্যাঞ্চলীয় বনভূমি হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এ বনের বিস্তৃতি গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার অংশজুড়ে। একসময় রাজধানী ঢাকার কাঁটাবন পর্যন্ত এ বনের সীমানা থাকলেও আজ তা শুধুই অতীত, বইয়ের পাতায় লেখা ইতিহাস। টাঙ্গাইল ও মোমেনশাহী জেলার অংশটুকু মধুপুর গড় বা শালবন নামে পরিচিত। শালগাছের মোলা বা শিকড় থেকে গজানো চারায় গাছ হয় বলে স্থানীয়রা একে গজারি বনও বলে থাকে।

বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যে ভরপুর স্থানগুলোর মধ্যে মধুপুর গড় অন্যতম। এ বনের প্রধান আকর্ষণ গজারি গাছের সমারোহ, যে কারণে এটি শালবন নামে পরিচিত। এটি বন বিভাগের অধীনে আসে ১৯৬২ সালে। বনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য ১৯৭৪ সালের বন্য প্রাণী আইনের আওতায় মধুপুর বনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় ১৯৮২ সালে। এর আয়তন ৮৪৩৬৬ হেক্টর প্রায়। মধুপুর জাতীয় উদ্যানের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বংশী নদী। এ উদ্যানের ভেতরে ও আশপাশের প্রায় ১৮৭টি গ্রামে বসবাস করে গারো, কোচ, বামনসহ নানান আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের।

মধুপুর জাতীয় উদ্যানে আছে ১১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, সাত প্রজাতির সরীসৃপ, ৩৮ প্রজাতির পাখি ও কয়েক প্রজাতির উভচর প্রাণীর বসবাস। এ বনের বাসিন্দা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মুখপোড়া হনুমান, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, লালমুখ বানর, বন্য শূকর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্। বনে দেখতে পাওয়া পাখিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্ট্রুর্ক বিলড কিংফিশার বা মেঘ হু মাছরাঙ্গা, খয়রা গেছো পেঁচা, কাঠ ময়ূর, বন মোরগ, মুরগি। এ বনের মধ্যখানে লহরিয়া বন বিট কার্যালয়ের কাছে হরিণ প্রজনন কেন্দ্রে আছে বেশ কিছু হরিণ। পাশেই সুউচ্চ একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার আছে। এর চূড়ায় উঠলে বহুদূর পর্যন্ত বনের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এ জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি হনুমানের দেখা মেলে। নানা গাছপালায় সমৃদ্ধ জাতীয় এ উদ্যান। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শাল, বহেড়া, আমলকি, হলুদ, আমড়া, জিগা, ভাদি, অশ্বত্থ, বট, সর্পগন্ধা, শতমূলী, জায়না, বিধা, হারগোজা, বেহুলা ইত্যাদি। এ ছাড়া নানান প্রজাতির লতাগুল্ম আছে এ বনে।

অবস্থান ও যাতায়াত:

মহাখালী থেকে টাঙ্গাইল -মধুপুর গামী বাসে করে নামতে হবে মধুপুর (৩-৪ ঘণ্টা) । সেখান থেকে ময়মনসিংহগামী বাসে চরে রসুলপুর (১৫-২০ মিনিট) । মিনিট ২ পিছনে হাঁটলেই উদ্যানে ঢোকার পায়ে চলা পথ।

অন্য উপায়- ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ (৩- ৪ ঘণ্টা)। পুরান বাস স্ট্যান্ড থেকে টাঙ্গাইল গামী বাসে করে রসুলপুর (১-১.৫ ঘণ্টা)। খুব ভোরে রওনা হলে একদিনের ভিতর আরামেই ঘুরে আসা সম্ভব।

বি।দ্রঃ উদ্যানের ভেতর খাবার বাবস্থা নেই তাই বলে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র (প্লাস্টিকের মোড়ক, পানির বোতল) বা উচ্ছিষ্ট ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না দয়া করে।


Total Site Views: 846090 | Online: 8