×
ঢাকা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

লালবাগ কেল্লা আহসান মঞ্জিল বাহাদুর শাহ পার্ক রোজ গার্ডেন তারা মসজিদ হোসেনী দালান ঢাকেশ্বরী মন্দির আর্মেনীয় গির্জা বলধা গার্ডেন ওসমানি উদ্যান ও বিবি মরিয়ম কামান রমনা পার্ক শিশুপার্ক তিন নেতার মাজার কার্জন হল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঢাকা চিড়িয়াখানা বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ ফ্যান্টাসী কিংডম জাতীয় স্মৃতিসৌধ নভোথিয়েটার ধামরাইয়ের রথের মেলা সাকরাইন, পুরান ঢাকার পৌষসংক্রান্তি ও ঘুড়ি উৎসব মাওলা বক্স মেমরিয়াল ট্রাস্ট
☰ ঢাকা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
ওসমানি উদ্যান ও বিবি মরিয়ম কামান

পরিচিতি

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উদ্যানগুলোর একটি ওসমানী উদ্যান।এটি প্রায় ২৩.৩৭ একর জুড়ে বিস্তৃত। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার লেঃ জেঃ এম এ জি ওসমানির নামকরনে ওসমানি উদ্যান নামকরন করা হয় এবং তারই স্মরনে উদ্যানটির পাশে ওসমানি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হয়। ওসমানী উদ্যানের মূল ফটক পেরিয়ে চোখে পড়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত স্বাধীনতা স্মৃতি স্তম্ভ।মোট ৫.৩৪ একর জুড়ে বিস্তৃত লেকদুটি উদ্যানটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। লেকটিতে পর্যাপ্ত পরিমান পানি প্রবাহমান থাকায় এতে ছোট বড় প্রচুর পরিমানে মাছ পাওয়া যায়। এখানে সাধারনত নানা জাতের এবং দূর্লভ প্রজাতির বৃক্ষ চোখে পড়ে। তন্মধ্যে কড়ই, আমলকি, তেতুল, বট, অর্জুন, মেহগনি অন্যতম। এছাড়াও রয়েছে বড়ই গাছ, আম গাছ, কাঁঠাল গাছ, কলা গাছ এবং নিম গাছ। রয়েছে বিভিন্ন ধরণের ফুলের গাছ, পাতা বাহারি গাছ এবং লতা গুল্ম।ওসমানী উদ্যানের লেকের পাশেই রয়েছে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা ২টি বালু দ্বীপ।ওসমানী উদ্যানের পাশ ঘেষে রয়েছে হাফেজী হুজুর মসজিদ এবং গোলাপ শাহ মসজিদ।সান্ধ্যকালীন ভ্রমণকারীদের জন্য রয়েছে উদ্যানের বিভিন্ন প্রাঙ্গনে ফ্লাড লাইট ব্যবস্থা।ওসমানী উদ্যানে প্রাত:ভ্রমনকারী এবং দর্শণার্থিদের সুবিধার্থে রয়েছে পাবলিক টয়লেট। ১৭ শতকে সম্রাট জাহাঙ্গীর ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করলে রাজধানী ঢাকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে বেশ কিছু কামান তৈরি করা হয়। এসব কামানের মধ্যে “কালে খাঁ জমজম” ও “বিবি মরিয়ম” বিশালত্বে, নির্মাণ শৈলীতে ও সৌন্দর্যে ভারতখ্যাত হয়ে ওঠে।“কালে খাঁ” বুড়িগঙ্গা নদীতে তলিয়ে গেলে বিবি মরিয়ম হয়ে ওঠে দর্শনীয় বস্তু। বিবি মরিয়মের দৈর্ঘ্য ১১ ফুট। মুখের ব্যাস ৬ ইঞ্চি। ঢাকার কামান তৈরীর কারিগর জনার্ধন কর্মকার অত্যন্ত শক্ত পেটানো লোহা দিয়ে কামানটি তৈরী করেন।সুবাদার মীর জুমলা ১৬৬১ সালে আসাম অভিযানের সময় ৬৭৫ টি কামান ব্যবহার করেন তার মধ্যে বিবি মরিয়ম ছিল সর্ববৃহৎ। যুদ্ধ বিজয়ের স্মারক হিসেবে তিনি বিবি মরিয়মকে বড় কাটরার দক্ষিণে সোয়ারীঘাটে স্থাপন করেন। তখন কামানটি মীর জুমলার কামান নামে পরিচিতি লাভ করে।১৮৪০ সালে তৎকালীন ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট ওয়ালটারস ঢাকার চকবাজারে এটিকে স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৯২৫ সালে বিবি মরিয়মকে সদরঘাটে স্থাপন করা হয়। গত শতকের মাঝামাঝি সময়ে বিবি মরিয়মকে সদরঘাট থেকে এনে শহরের শোভাবর্ধনের জন্য ঢাকার কেন্দ্র স্থল গুলিস্থানে স্থাপন করা হয়।১৯৮৩ সালে বিবি মরিয়ম কে গুলিস্থানের মোড় থেকে উঠিয়ে এনে ওসমানী উদ্যানের প্রধান ফটকের পেছনে স্থাপন করা হয়।

অবস্থান ও যাতায়াত

ঢাকার গুলিস্তানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (নগর ভবন) বিপরীত পাশে এবং সচিবালয়ের পিছনে এটি অবস্থিত। উদ্যানটির সাথেই রয়েছে গোলাপ শাহ মসজিদ, এর পাশেই রয়েছে গোলাপ শাহ এর মাজার, রমনা ভবন, জিপিও, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর প্রধান অফিস এবং ঢাকা ষ্টেডিয়াম।


Total Site Views: 642058 | Online: 9