×
নরসিংদী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

উয়ারী-বটেশ্বর গিরিশ চন্দ্র সেন এর বাড়ি শহীদ আসাদের সমাধিস্থল বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর ড্রিম হলিডে পার্ক আরশীনগর মিনি চিড়িয়াখানা বালাপুর জমিদার বাড়ি, মাধবদী, নরসিংদী জমিদার মোহনী মোহন সাহার বাড়ী ডাংগা জমিদার বাড়ি পারুলিয়া শাহী মসজিদ বেলাব বাজার কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ পান্থশালা সোনাইমুড়ি পাহাড় আশ্রাফপুর গায়েভী জামে মসজিদ কুমরাদী শাহ মনসুরের মসজিদ ও দরগাহ টুঙ্গিরটেক প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন ধুপিরটেক বৌদ্ধ পদ্ম মন্দির নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ঘোড়াশাল জমিদার বাড়ি/ মনুমিয়ার বাড়ি আমিরগঞ্জ জমিদার বাড়ী/মুন্সী সায়েবুল্লাহ ভূইয়া জমিদার বাড়ী বালাপুর নবীন চন্দ্র সাহা জমিদার বাড়ি বটেশ্বর প্রত্নসংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার আটকান্দি নীলকুঠি মসজিদ বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ
☰ নরসিংদী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
ড্রিম হলিডে পার্ক

পরিচিতি

নরসিংদীর একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র ড্রিম হলিডে পার্কে এখন উপচেপড়া ভিড়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে চৈতাব এলাকায় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠেছে এ পার্কটি। মনোরম পরিবেশে নির্মিত এই বিনোদন কেন্দ্রটি কয়েক বছর ধরে বিনোদন পিপাসুদের নজর কেড়েছে। নরসিংদীর ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন বেলাবতে উয়ারী-বটেশ্বরসহ বাংলায় প্রথম পবিত্র কোরআন শরিফ অনুবাদকারী ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়িটিও পাঁচদোনায় অবস্থিত। ঈদের ছুটিতে আপনিও যেতে পারেন চমৎকার এই বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। ঈদকে ঘিরে বিনোদনপ্রেমী পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে ড্রিম হলিডে পার্কটিকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। এবারের ঈদে নতুন সংযোজন করা হয়েছে জায়ান্ট হোল (চরকগাছ), মিনি সমুদ্র। আরো রয়েছে ক্যাবল কার, রোলার কোস্টার, ডেমু ট্রেন। সঙ্গে রয়েছে সমুদ্রের ঢেউ ও ভূতের রাজ্য স্পট। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা ড্রিম হলিডে পার্কে পাওয়া যাবে হিমালয় পাহাড়ের সাদৃশ্য। নানা রাইডের পাশাপাশি ভূতের বাড়িসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ২০টি জ্যান্ত ভূত! এগুলো কখনো ভয়, কখনো আনন্দে মাতিয়ে রাখে শিশু-কিশোরদের। রয়েছে ওয়েবপুল। যেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কান পাতলেই শোনা যাবে সমুদ্রের গর্জন। প্রকৃতির এক অপরূপ ছোঁয়ায় মনমাতানো পাহাড়ি ঝর্ণায় আপনি হারিয়ে যেতে পারেন। নতুন এই সংযোজন পার্কের এ বছরের ঈদ বিনোদনকে আরো বাড়িয়ে তুলবে। প্রায় ২০০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিনোদন পার্কে ছোটদের জন্য রয়েছে আর্কষণীয় রাইড। এ ছাড়া রয়েছে অত্যাধুনিক সুইমিংপুল, এয়ার বাইসাইকেল, বাম্পারকার, সোয়ান বোট, ওয়াটার বোট, অত্যাধুনিক রোলার কোস্টার, ডেমু ট্রেন, সুইং চেয়ার, স্পিডবোট, বাচ্চাদের অতিপ্রিয় নটিক্যাসেল ও জাম্পিং হর্স। বসানো হয়েছে লাফার কিংসহ বিভিন্ন রাইড। পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে আইসপাহাড়। আনন্দ উপভোগ করতে পার্কটিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন আঙ্গিকে প্রস্তুত করা হয়েছে। পার্কের ভেতরে অত্যাধুনিক মোজাইক পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে হাঁটার অত্যাধুনিক রাস্তা। ঈদকে ঘিরে পার্কে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, বাংলা খাবারসহ চটপটি ফুচকা ও আইসক্রিম পার্লার। পাশাপাশি রয়েছে বিখ্যাত জামদানি হাউস। পাবেন মেয়েদের থ্রি-পিস, বেড শিট ও অন্যান্য জিনিসপত্র। দর্শনার্থীদের বসার জন্য জায়গায় জায়গায় আধুনিকভাবে তৈরি করা হয়েছে পর্যাপ্ত খুপড়ি ঘর। বিনোদনের জন্য রয়েছে সংগীতের নানা ধরনের উপকরণ। যে কেউ পুরো পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে সময় কাটাতে পারেন এখানে। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রতিদিন খোলা থাকে এটি। পার্কে প্রবেশ করতে গুণতে হবে জনপ্রতি ২০০ টাকা। এরপর কোনো রাইডে চড়তে চাইলে খরচ করতে হবে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। চারজনের জন্য ফ্যামিলি ও দুজনের জন্য কাপল প্যাকেজও রয়েছে। ড্রিম হলিডে পার্কে পিকনিক আয়োজন করতে চাইলে রয়েছে মধুরিমা ও মায়াবীসহ প্রায় ১০টি পিকনিক স্পট। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দুই রুমের একটি বাংলোর ব্যবস্থা থাকছে পিকনিকের জন্য। এর পাশাপাশি রয়েছে দোতলা বাংলোর ব্যবস্থাও। পরিবার নিয়ে থাকার জন্য পার্কের নিজস্ব চারটি কটেজ রয়েছে। মূল্য পরিশোধ করে বিলাসবহুল কটেজে রাত্রিযাপন করা যায়।

অবস্থান ও যাতায়াত

রাজধানীর কমলাপুর, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান থেকে বাসে করে যাওয়া যায়। আন্তনগর এগারসিন্দুর ও মহানগর গোধূলী ট্রেনে করেও নরসিংদীর এ পার্কটিতে যেতে পারেন। আন্তনগর ট্রেনে গেলে নরসিংদী রেলস্টেশনে নেমে সেখান থেকে বাস অথবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যেতে হবে। আর লোকাল ট্রেনে গেলে নরসিংদী স্টেশন ছাড়া ঘোড়াশাল স্টেশনেও নামতে পারেন। সেখান থেকে অটো বা বাসে চড়ে যেতে হবে। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলাচলকারী কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেটের যেকোনো বাসে উঠলেই সরাসরি এ পার্কে পৌঁছানো যাবে। কিংবা কাঁচপুর অথবা টঙ্গী থেকে কালীগঞ্জ, ঘোড়াশাল হয়ে যাওয়া যাবে অনায়াসে। এক থেকে সর্বোচ্চ দেড় ঘণ্টার যাত্রাপথ।


Total Site Views: 996262 | Online: 3