×
নারায়নগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

মেরি এন্ডারসন বাংলাদেশ লোক ও কারু শিল্প যাদুঘর, সোনারগাঁ গিয়াস উদ্দিন আযম শাহ্ এর মাজার সোনাকান্দা দূর্গ জিন্দা পার্ক মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ী বিশনন্দী ফেরিঘাট ও মেঘনা নদী কদম রসুল দরগাহ পানাম সিটি বাংলার তাজমহল শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম লাঙ্গলবন্দের পুণ্যস্নান মেলা সোনারগাঁওয়ে কারুশিল্প ও লোক মেলা
☰ নারায়নগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
গিয়াস উদ্দিন আযম শাহ্ এর মাজার

পরিচিতি

গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (শাসনকাল ১৩৮৯-১৪১০) ছিলেন প্রথম ইলিয়াস শাহি রাজবংশের তৃতীয় সুলতান। তিনি তৎকালীন বাংলার সুপরিচিত সুলতানদের অন্যতম ছিলেন। তার প্রকৃত নাম আজম শাহ। সিংহাসন আরোহনের পর তিনি গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ নাম ধারণ করেন। তিনি যুদ্ধর চেয়ে মিত্রতা ও কূটনীতির মাধ্যমে রাজ্যকে সমৃদ্ধ করতে বেশী আগ্রহী ছিলেন। শাসনের প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি কামরূপের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। তবে অঞ্চল জয়ের চেয়ে শাসন সুসংহত করার প্রতি তার মনোনিবেশ বেশি ছিল। জৌনপুরের খাজা জাহানের নিকট তিনি দূত ও উপহার প্রেরণ করেন। সমকালীন চৈনিক সম্রাট ইয়ং লির সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। ১৪০৫, ১৪০৮ ও ১৪০৯ সালে তিনি চীনে দূত প্রেরণ করেন। ইয়ং লিও তার কাছে দূত ও উপহার পাঠান। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ মক্কা ও মদিনায়ও দূত প্রেরণ করেন। এই দুই স্থানে গিয়াসিয়া মাদ্রাসা নামক দুটি মাদ্রাসা নির্মাণে তিনি আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন। তার শাসনামলে জমিদার রাজা গণেশ নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ পন্ডিত ও কবিদের সমাদর করতেন। পারস্যের কবি হাফিজের সাথে তার পত্রবিনিময় হত। বাঙালি মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর তার বিখ্যাত রচনা ইউসুফ জুলেখা এ সময়ে সম্পন্ন করেন। এসময় কৃত্তিবাসেররামায়ণবাংলায় অনুবাদ করা হয়। মাজারটি পাঁচপীর দরগার শতফুট পূর্বে এবং পুরনো শহর দক্ষিন উপকন্ঠে স্থানীয়ভাবে মাঘ দীঘি নামে পরিচিত একটি শুস্ক পুকুরের এক প্রান্তে অবস্থিত। মনোরস কষ্টি পাথরে ভাস্কর্য শিল্প অলংকৃত শিলালিপি সম্বলিত একটি টেবিলের উপর স্থাপন করা যা একটি কোরামের শীর্ষ কালো কাসল্টের একটি একক ব্লক নিয়ে গঠিত। জেমস ওয়াইজ এর মতে,মাজারটির উপরের অংশ পাথর স্তম্ভ বিশিষ্ট একটি ঘের দ্বারা বিষ্টিত। পাথরের উপরের বাটালি দ্বারা কাটা কাজের সঙ্গে প্রসাধিত ছিল। আজ কেবলমাত্র মাজারটির পূর্ব দিকে প্রসাধন দেখা যায়।মাজারের ভাস্কর্য অনেকটা আদিনা মসজিদের ভাস্কর্যের অনুরূপ। মাজারটি আনুমানিক ১৪১০ খ্রিস্টাব্দে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজমশাহ কবরের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।

অবস্থান ও যাতায়াত

মাজারটি বাংলাদেশের সুলতানি আমলের নিকটতম বিদ্যমান কাঠামো যা নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় শাহচিলাপুরে অবস্থিত। ঢাকা থেকে ঢাকা-চট্রগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক পথে বাসে করে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা অতপর সি.এন.জি/রিক্সা দিয়ে প্রায় ২৮ কি.মি. যাতায়াত ভাড়া মাত্র ৬৫/- টাকা।


Total Site Views: 774132 | Online: 13