×
নারায়নগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

মেরি এন্ডারসন বাংলাদেশ লোক ও কারু শিল্প যাদুঘর, সোনারগাঁ গিয়াস উদ্দিন আযম শাহ্ এর মাজার সোনাকান্দা দূর্গ জিন্দা পার্ক মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ী বিশনন্দী ফেরিঘাট ও মেঘনা নদী কদম রসুল দরগাহ পানাম সিটি বাংলার তাজমহল শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম লাঙ্গলবন্দের পুণ্যস্নান মেলা সোনারগাঁওয়ে কারুশিল্প ও লোক মেলা
☰ নারায়নগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
মেরি এন্ডারসন

পরিচিতি

মেরি আন্ডারসন ভাসমান রেস্টুরেন্ট ও বার’ বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনকর্তৃক পরিচালিত একটি ভাসমান রেস্টুরেন্ট। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাএলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতেএকটি পুরানো ব্রিটিশ প্রমোদতরীতে এ রেস্টুরেন্টটি অবস্থিত। এ রেস্টুরেন্টের সাথে একটি বাররয়েছে। মাত্র তিন হাজার টাকায় রাত্রিযাপনের জন্য এখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের সুবিধা রয়েছে। এছাড়া প্রতি ঘন্টা আটশ টাকা হারে এসব কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইঞ্জিন চালিত নৌকায়মাঝ নদীতে বসে মেরি আন্ডারসনের মজাদার খাবার আস্বাদনের সুযোগ এ রেস্টুরেন্টটির অনন্য আকর্ষণ। ঢাকাশহরের কেন্দ্রস্থল হতে এ ব্যতিক্রমী রেস্টুরেন্টটি মাত্র বিশ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় এটি ইতোমধ্যে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জাতীয় আর্কাইভস সূত্র জানা যায়, ব্রিটিশ শাসন আমলে বিলাসবহুল প্রমোদতরী হিসেবে নির্মিত হয়েছিল মেরী এন্ডারসন। এটি ছিল বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালিত জাহাজ। শুরুতে এর নাম ছিল ‘স্টেট ইয়ট মেরী এন্ডারসন’। ১৯৩৩ সালে কলকাতা শিপইয়ার্ডে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ১৫০ ফুট দীর্ঘ এ জাহাজ নির্মাণে তখন ব্যয় হয়েছিল এক লাখ ২৪ হাজার ৭০২ টাকা। বাংলায় নিযুক্ত ব্রিটিশ গভর্নরের ব্যবহারের জন্য এটি নির্মিত হয়েছিল। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া থেকে জানা যায়, ১৯৩৩ সালে বাংলার গভর্নর ছিলেন স্যার জন এন্ডারসন। জন এন্ডারসনের মেয়ে মেরী এন্ডারসনের নামে এর নামকরণ করা হয় ‘স্টেট ইয়ট মেরী এন্ডারসন’। শুরুতে প্রমোদতরী হিসেবে ব্যবহূত হলেও প্রায় তিন যুগ ধরে এটি ভাসমান রেস্তোরাঁ ও বার হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছিল। এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। তবে পর্যটন করপোরেশনের একটি সূত্র জানায়, ইংল্যান্ডের রাণী এলিজাবেথ ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ শাসন আমলে নৌপথে বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে তত্কালীন সরকারকে জাহাজটি তার মা রাণী মেরীর নামে দান করেন। রাণীর মা মেরীর নামে জাহাজের নামকরণ করা হয়। বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর পাকিস্তান আমলেও তত্কালীন পূর্ব বাংলার গভর্নর মেরী এন্ডারসন ব্যবহার করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের ব্যবহারের জন্য এটি সংরক্ষিত ছিল। ঐতিহাসিক তরীটির যথার্থ ও সর্বাধিক ব্যবহারের লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান এটিকে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করেন। করপোরেশন তরীটিকে একটি ভাসমান রেস্তোরাঁয় রূপান্তরিত করে। ১৯৭৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এর উদ্বোধন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী পাগলায় মেরী এন্ডারসনকে নোঙ্গর করে রাখা হয়। মনোরম পরিবেশে ভাসমান রেস্তোরাঁ ও বার হিসেবে এটি ব্যবহূত হয়ে আসছিল। একটি দর্শনীয় স্থান ও চলচ্চিত্রের সুট্যিং স্পট হিসেবেও এটি পরিচিত।

অবস্থান ও যাতায়াত

ঢাকা - নারায়নগঞ্জ রোডে পাগলা বাস স্টেন্ড হতে একটু দক্ষিন-পশ্চিমে , বাস, টেক্সি, রিক্সা, কিংবা অটোতে করে খুব সহজেই যাওয়া যায়।উপজেলা সদর থেকে ৩ মাত্র কিলোমিটার দুরে কুতুবপুর পাগলা বুড়িগঙ্গা নদীর উপর অবস্থিত।


Total Site Views: 642020 | Online: 31