×
মাদারীপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

আউলিয়াপুর নীলকুঠি পর্বতের বাগান শকুনীলেক আলগী কাজী বাড়ি মসজিদ রাজারাম মন্দির
☰ মাদারীপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
শকুনীলেক

পরিচিতি

মাদারীপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম শকুনীলেক। শহরের মাঝখানে বিশাল এলাকা জুড়ে লেকের অবস্থান কৃত্রিম এলেকটি যেকোনো দেশ বিদেশি পর্যটকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নবায়নের প্রয়োজনে এক সময় খনন করে এই লেক তৈরি করা হয়। বর্তমানে এর চারপাশের সৌন্দর্য দেখলে সবার মন কাড়ে। লেকের চারপাশে সারিসারি নারিকেল গাছ ও বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ রয়েছে। যা এর সৌন্দর্য পিপাসু অনেকই দূর-দূরান্ত থেকে এসে প্রতিদিন এইলেকের পাড়ে আড্ডা জমান। সকাল বেলার নির্মল হাওয়া আর বিকেলের হাজার মানুষের পদচারনায় লেকেরপাড় হয়ে ওঠে মোহনীয়। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ঢল নামে শকুনিলেকে। রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মূখর থাকে লেকের পাড়। ফলে একে ঘিরে এক শ্রেণির গরিব মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফেরিওয়ালা, চটপটিওয়ালা, ছোটদের খেলনা বিক্রেতা, বাদাম, চানাচুর বিক্রেতাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এই লেক। এটি দেখার জন্য জেলার বাইরে থেকেও লোকজন আসছে। কৃত্রিমভাবে এই লেক সৃষ্টি করা হলেও সময়ের ব্যবধানে নিজে নিজেই সেখানে ফুটে উঠছে প্রাকৃতিক চিত্র। মাদারীপুর শহরের মাঝামাঝি শকুনি নামক এলাকায় ২০ একর জমির ওপর চল্লিশ দশকের দিকে লেকটি খনন করা হয়। পদ্মা ও আড়িয়ালখাঁ নদীর ভাঙ্গা-গড়ার খেলায় যখন মাদারীপুর শহরের অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে তখনই ঐতিহাসিক এ শহরকে তৃতীয় বারের মতো রক্ষা করার লক্ষ্যে ১৯৪৩ সালে খনন করা হয় এই লেক। চল্লিশের দশকে এ অঞ্চলে মাটিকাটা শ্রমিকের অভাব থাকায় ২০ একর আয়তনের এই লেক খনন করার জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ প্রসাশন ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা অঞ্চল থেকে ২ হাজার শ্রমিক ভাড়া করে আনে। বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক একনাগারে কাজ করে প্রায় ৯ মাসে এর খনন কাজ সম্পূর্ণ করে। এখনো এটি এ অঞ্চলের দীর্ঘতম লেক হিসেবে পরিচিত। বহিরাগত যে কেউ মাদারীপুর শহরে প্রথম প্রবেশ করেই এই লেকের মনোরম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। প্রচণ্ড তাপদাহে দূর-দূরান্ত থেকে এসে অনেকেই গা জুড়িয়ে নেন লেকের স্বচ্ছ জলে। শীতের বিকেলেও দর্শনার্থীদের প্রচুর ভিড় জমে ওঠে।

অবস্থান ও যাতায়াত

মাদারীপুর শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত শকুনীলেক এ জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় জলাধার। বইপত্রে এই লেকটির নাম ‘শকুনি লেক’ হলেও স্থানীয়রা এটিকে ‘মাদারীপুর লেক’ হিসেবে চেনে। মাদারীপুর শহর থেকে রিকশা অথবা যেকোনো মোটরচালিত বাহনে করে আপনি এই লেকে পৌছাতে পারবেন।


Total Site Views: 1022230 | Online: 36