×
মুন্সীগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

ইদ্রাকপুর কেল্লা পদ্মা রিসোর্ট মাওয়া রিসোর্ট হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মসজিদ বার আউলিয়ার মাজার অতীশ দীপঙ্করের পণ্ডিত ভিটা রাজা বল্লাল সেনের দিঘী বা রামপালের দিঘী বিক্রমপুর যাদুঘর ও নৌকা মিউজিয়াম শ্যামশিদ্ধির মঠ সোনারং জোড়া মঠ স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু জাদুঘর ইতিহাসের সাক্ষী নাটেশ্বরের দেউল ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ী
☰ মুন্সীগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মসজিদ

পরিচিতি

বাবা আদমের মসজিদ ও মাজার বিক্রমপুরের ইতিহাস প্রসিদ্ধ রামপাল গ্রামের নিকটস্থ কাজী কসবা গ্রামে সুলতানী আমলের একটি ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ আছে। এর গজ কয়েক পূর্বে আছে একটি মাজার। মাজারটি ২৫ (পঁচিশ) ফুট বাহুবিশিষ্ট বর্গাকার আয়তনের ইটের তৈরী মঞ্চের উপর একটি পাকা সমাধি বিশেষ। মসজিদটি আয়তাকার ভিত্তি ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত। উত্তর-দক্ষিণে এর আয়তন ৪৩ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৩৬ ফুট। চার কোণায় চারটি অষ্ট কোণাকৃতির বুরুজ বা মিনার। মিনার ছাদের কার্ণিশের উপর উঠেনি। মিনারের ধাপে ধাপে মনোরম বলয়াকারের স্ফীত রেখায় অলংকরণের কাজ আছে। পশ্চিম দেয়ালে তিনটি অর্ধবৃত্তাকার অবতল মেহরাব। কেন্দ্রী মেহরাবের পেছন দিকের দেয়াল বাইরের দিকে উদগত। সামনের দেয়ালের ধনুকাকৃতির খিলানবিশিষ্ট তিনটি প্রবেশপথে আয়তাকারে নির্মিত যে সব ফ্রেম আছে তার শীর্ষ দেশে অতি সুন্দর কারুকাজ আছে। প্রধান প্রবেশ পথের দুই পাশে গভীর সমতল কুলুঙ্গী। উপরিভাগ সুন্দরভাবে খাঁজকাটা। ঝুলন্ত শিকল ও ঘন্টার অলংকরণ রয়েছে। মসজিদে কোন বারান্দা নেই। অভ্যন্তর ভাগে আছে গ্রানাইট পাথরে নির্মিত দুইটি স্তম্ভ। অভ্যন্তর ভাগ এই দুইটি স্তম্ভের সাহায্যে পূর্ব পশ্চিমে দুই সারিতে এবং উত্তর-দক্ষিণে তিন সারিতে বিভক্ত। স্তম্ভ দুইটি মাঝ থেকে ৪ (চার) ফুট পর্যন্ত অষ্টকোণাকৃতির এবং এর পর ষোলকোণাকৃতির। এই দুইটি স্তম্ভ এবং চারপাশের দেয়ালের উপর মসজিদের অর্ধবৃত্তাকার ছোট ছোট গম্বুজ ছয়টি স্থাপিত। গম্বুজ ও মসজিদের অভ্যন্তর-ভাগের মতোই পূর্ব-পশ্চিমে দুই এবং উত্তর-দক্ষিণে তিন সারিতে বিভক্ত। দেয়াল অতিশয় পুরু।প্রধান মেহরাবটি এবং দুই পাশের দুই মেহরাব ও পাশের দেয়াল লতাপাতা, জ্যামিতিক নক্সা ও ও গোলাপফুল, ঝুলন্ত প্রদীপ ও শিকল প্রভৃতি অত্যন্ত সুন্দর পোড়ামাটির চিত্র ফলক দিয়ে অলংকৃত। মসজিদের বাইরের দিক বিশেষ করে সামনের দেয়াল অতি সুন্দর পোড়ামাটির চিত্রফলক দিয়ে অলংকৃত ছিল। কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের দুইপাশে কিছু কিছু চিত্রফলকের কাজ এখনও চোখে পড়ে। এক সময়ে মানত হাসিলের জন্য হিন্দু-মুসলিম উভয় সমপ্রদায়ের মহিলাদের দ্বারা এই মসজিদের স্তম্ভ দুইটি সিন্দুরানুলিপ্ত হয়ে রক্তবর্ণ ধারণ করেছিল। আমাদের আলোচ্য এই মসজিদটি দরগাবাড়ীর মসজিদ বা বাবা আদমের মসজিদ এবং মাজারটি বাবা আদমের দরগা নামে পরিচিত। বাবা আদম সম্পর্কে বিক্রমপুরে বহু জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। তবে জনশ্রুতিগুলোর সবাই বাবা আদম ও বল্লাল সেনের যুদ্ধ সম্পর্কীত।

অবস্থান ও যাতায়াত

ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা মুন্সীগঞ্জ। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপালে হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মাজার সংলঘ্ন মসজিদ অবস্থিত। সড়কপথে ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জের দূরুত্ব মাত্র ২৩ কিলোমিটার। তবে এই মাজারে আসার জন্য আরো ০৫ (প্রায়) কিলোমিটার ভিতরে আসতে হবে। ঢাকা হতে সকালে এসে মাজার জিয়ারত ও মসজিদ দর্শন করে বিকেলেই ঢাকায় ফিরে আসা যাবে। সড়কপথে যেতে কষ্ট হবে না। তবে নৌপথে গেলে সময়ও বাচঁবে এবং যানজট এড়িয়ে নদী পথের সৌন্দর্য অবগাহন করে স্বাচ্ছন্দের সাথে পৌছানো যাবে। সদর ঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জ গামী লঞ্চে ২ ঘন্টার মধ্যেই পৌছে যাওয়া যাবে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা হইতে রিক্সায় দরগাবাড়ি হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মাজার সংলঘ্ন মসজিদ এ যাওয়া যায়। ভাড়া ২৫-৩০ টাকা।


Total Site Views: 960255 | Online: 5