×
মুন্সীগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

ইদ্রাকপুর কেল্লা পদ্মা রিসোর্ট মাওয়া রিসোর্ট হযরত বাবা আদম শহীদ (র.) এর মসজিদ বার আউলিয়ার মাজার অতীশ দীপঙ্করের পণ্ডিত ভিটা রাজা বল্লাল সেনের দিঘী বা রামপালের দিঘী বিক্রমপুর যাদুঘর ও নৌকা মিউজিয়াম শ্যামশিদ্ধির মঠ সোনারং জোড়া মঠ স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু জাদুঘর ইতিহাসের সাক্ষী নাটেশ্বরের দেউল ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ী
☰ মুন্সীগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু জাদুঘর

পরিচিতি

বেশ কয়েক দিন ধরেই বন্ধুরা মিলে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম। পরীক্ষা শেষে ছুটিটাকে যদি ঘরে বসেই কাটিয়ে দেই, পরে তো আফসোসই হবে। কিন্তু কোথায় ঘুরতে যাব, এটা নিয়ে বন্ধুদের মাঝে বেশ মতবিরোধ তৈরি হলো। একটু রাগারাগিও হলো। কেননা সিফাত, জিম, মাহাদি ঢাকার বাইরে কয়েক দিনের জন্য ঘুরতে যেতে চায়, কিন্তু অরিন, সুস্মিতা, ইমরানসহ আমরা বাকিরা ঢাকার বাইরে যেতে নারাজ। আবার ঢাকার ভেতরে নিরিবিলি, কোলাহলমুক্ত জায়গা ঠিক যেমনটা আমরা চাই, এমনটা খুঁজে পাওয়া একটু কঠিন। আর খুঁজে পেলেও পয়সাকড়ির কথাও তো মাথায় রাখতে হবে। যখন স্থান নির্বাচন নিয়ে ঝগড়া তুঙ্গে, ঠিক তখনই হূদির কথায় একটু মনোযোগ ফিরে এল। কেননা হূদি পাঁচ-ছয় মাস আগে ওর গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে এমন এক জায়গার কথা বলেছিল, যেটা তখন আমাদের খুব মনে ধরেছিল। তখনই ঠিক হয়েছিল আমরা মুন্সীগঞ্জে ঘুরতে যাব। সেখানে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর বাসভূমিটি নাকি খুব নিরিবিলি জমিদার বাড়ির মতো। সঙ্গে রয়েছে জগদীশ চন্দ্র বসুর গবেষণাপত্র, ছবি, চিঠি ও নানা দুর্লভ জিনিসে ভর্তি জাদুঘর। যদিও হূদির মুখে শুনেছি ওই জাদুঘরের অবস্থা খুব একটা ভালো না। সবটাই সংরক্ষণ আর সহায়তার অভাবে। তাতে কী ঘুরে দেখে আসতে তো দোষ নেই। স্থান নির্বাচন হওয়ায় সবাই যেন একটু স্বস্তি ফিরে পেল। সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার। জানুয়ারির ৩ তারিখ, শীতের সকাল। পরিকল্পনামাফিক সবাই সকাল ৭টায় শাহবাগ এসে পৌঁছলাম। যদিও লেট লতিফখ্যাত আমি আর মাহাদির পৌঁছাতে খানিকটা দেরি করে ফেলেছিলাম। আমরা মোট ১০ জন যাচ্ছি ঘুরতে। নাফি ওর ভাঙাচোরা নোয়াহ গাড়িটি নিয়ে হাজির। এই গাড়িতেই সবাই ঠাসাঠাসি করে চলে যাব এটাই আমাদের পরিকল্পনায় ছিল। কারো মাথায়ই ছিল না আমাদের মাঝে যে আমাদের মোটা বন্ধু তন্ময় ছিল। একটু কষ্টই হবে যেতে এটা বলে বলে বারবার মজা করছিলাম তন্ময়ের সঙ্গে। আর ও অভ্যস্তের মতোই আমাদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছে। সবাই একত্র হওয়ার পর টুকটাক স্ন্যাক্স, চায়ের ফ্ল্যাক্স হূদির বস্তাস্বরূপ ব্যাগসহ সবার ব্যাগপ্যাক নিয়ে আমরা গাড়িতে উঠে বসলাম। আমাদের সঙ্গে ছিল ড্রাইভার মামুন ভাই। খুব মজার মানুষ, সঙ্গে গাড়িও চালান ভালো। গাড়িচালক মামুন ভাইকে নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু। সত্যিকার অর্থে আমি জানালার পাশের জায়গাটি ছাড়া বসি না, আর জাকিয়ার রয়েছে মোশন সিকনেস, তাই ও জানালার পাশেই বসে। আমরা দুজন দুটো জানালার পাশের সিট দখল করে বেশ আরামেই যাচ্ছি। কিন্তু জানালার পাশের সিট নিয়ে মুখ ভার করে আছে সুস্মিতা। যদিও জানা কথা, বেশিক্ষণ ও এভাবে থাকতে পারবে না। একটু পরেই হয়তো তন্ময়কে দেখিয়ে হেসে বলবে দেখ মোটাটা কী করে। পুরো গাড়িতে হইহুল্লোড় আর গান তো আছেই। সঙ্গে মামুন ভাইয়ের বগুড়ার ভাষায় মজার কথা। আর এভাবে চিপস, কোক, চকলেটসহ হাবিজাবি খেতে খেতে আড্ডা, গান আর হঠাত্ হঠাত্ জিমের আকস্মিক চিত্কার-চেঁচামেচি— সব মিলিয়ে বেশ উপভোগ করছিলাম। কেউ খেয়ালও করিনি কখন যে বেশ খানিকটা পথ অতিক্রম করে ফেলেছি। যখন কেরানীগঞ্জ একটা ব্রিজের ওপর গাড়ি এসে পড়ল, তখন আমরা তো বেশ অবাকই হয়েছিলাম। এত তাড়াতাড়ি এতটা পথ আসতে পারব ভাবতেও পারিনি। ব্রিজ পার হওয়ার পর থেকেই বারবার সিফাত তোড়জোড় করছিল গাড়ি থামিয়ে একটু নামার জন্য। কিন্তু যেতে দেরি হয়ে যাবে আর ওদিকে হূদির দাদু বাড়ি থেকে আমাদের রান্না করে খাবার পাঠাবে, তাই খাবার পৌঁছানোর আগেই যেতে হবে। তাই সিফাতের অনুরোধ আর কার্যকর হয়নি। যদিও মামুন ভাই বলছে আমাদের পৌঁছাতে নাকি আর খুব বেশি হলে দেড় ঘণ্টা লাগবে। যা-ই হোক তখন মোটামুটি সাড়ে ১১টা বেজে গিয়েছিল, তাই আর থামার কথা কেউ ভাবেনি। ঘড়ির কাঁটা যখন ১টা ছুঁইছুঁই, তখন আমাদের গাড়ি ধুলো ওঠা মাটির রাস্তা দিয়ে খুব পুরনো ভাঙাচোরা একটি বাড়ির ভেতরে এসে ঢুকল। সিফাত আর তন্ময়ের হতাশ চেহারায় তা খুব ভালোভাবেই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। আমরা কেউই তাতে খুব একটা পাত্তা দিলাম না। যে যার যার মতো হুড়োহুড়ি করে গাড়ি থেকে নামলাম। ইমরান ওর প্রিয় ক্যামেরা নিয়ে ছবি তোলার নেশায় একটু আলাদাই হয়ে গেল। একসময়ের জমিদার বাড়িস্বরূপ বাড়িটিতে এখন আর আগের জৌলুস নেই। বাড়ির পাশেই বাঁধানো পুকুর ঘাট। বেশ বড় পরিসরের বাঁধানো পুকুর। ঘাটের বাঁধানো অংশের বেশ কিছুটা ভেঙে গেছে, অযত্ন আর অবহেলা বেশ সুস্পষ্ট। তবে যা-ই হোক না কেন পুরো বাড়িতে কী যেন এক মায়া লেগে আছে। গেট দিয়ে ঢুকতেই প্রথমেই রয়েছে থাকার বাড়িটির ধ্বংসাবশেষ। যা এখন স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর সব কিছু নিয়ে তৈরি জাদুঘর হিসেবে আছে। এর পাশেই পুকুর। পুকুরের চারপাশে হাঁটার মতো জায়গা রাখা হয়েছে। বাড়ির পেছনের দিকে পার্কের মতো করা। ওখানে দোলনাসহ বসার ব্যবস্থা আছে। পুকুর ঘাটের ঠিক বিপরীত দিকে কাঠের ছোট একটা সেতু। পুরো বাড়িটি গাছগাছালিতে ভরা। পুকুর, ভাঙা বাড়ি, মাটির সংস্পর্শ, পাখি-প্রজাপতির ওড়াউড়ি আর সামনের বিশাল ধানক্ষেত— সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল শিকড়ের খুব কাছে যেন চলে এসেছি। দোলনায় দোল খেতে খেতে আমি যেন হারিয়েই গিয়েছিলাম। তন্ময়ের ডাকে ফিরে এসেছি বাস্তবে। খেতে যেতে হবে এই খবরটাই দিতে এসেছে ও। আমি আর তন্ময় গিয়ে দেখি সবাই মোটামুটি প্রস্তুত হয়ে বসে আছে। বড় একটি গাছের নিচে বড় চাদর বিছিয়ে মামুন ভাই আর হূদিদের বাড়ির একটা ছেলে সোহেলসহ আমরা ১০ জন বসে পড়েছি। খাবার মেনু— খিচুড়ি, গরুর মাংস, ডিমের কোরমা, ঝাল মুরগি, সালাদ আর আচার। এত সব লোভনীয় খাবার সামনে নিয়ে যেন আর তর সইছে না। গাছের নিচে প্রকৃতির এত কাছে কাড়াকাড়ি করে খাবার খাওয়ার আনন্দ বলে বোঝানোর মতো নয়। তখন সত্যি সত্যিই চড়ুইভাতির আনন্দ পাচ্ছিলাম। খাওয়া শেষে সবাই মিলে ঘোরাঘুরি করলাম। সঙ্গে ক্যামেরার ক্লিক তো আছেই। এর পর সবাই মিলে ঢুকলাম জাদুঘরের ভেতর। ঢুকে অবাক যতটুকু না হলাম, তার চেয়েও বেশি কষ্ট পেলাম। কতগুলো পাণ্ডুলিপি চোখে পড়ল, কাচের ভেতর দিয়ে দেখলাম। খুব কম আলো থাকায় ভালোভাবে কিছু দেখাও যাচ্ছিল না। পাশেই একটা খাট দেখতে পেলাম। তবে সব কিছুই ধুলোর আস্তরে ঢাকা। জাদুঘর থেকে বের হয়ে মূল সড়কের কাছের এক দোকান থেকে গরুর খাঁটি দুধের চা আর গরম শিঙ্গাড়া খেলাম। যেহেতু শীতের বিকাল, তাই হঠাত্ করেই যেন আলো মিলিয়ে যেতে থাকল। তাই আর দেরি না করে সবাই গাড়িতে চড়ে বসলাম ঢাকায় ফেরার উদ্দেশে। [সংগ্রহ; ফাহমিদা তাপসি]

অবস্থান ও যাতায়াত

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এটি প্রখ্যাত বাঙালি উদ্ভিদবিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর পৈতৃক বাড়ি। এটি শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল গ্রামে অবস্থিত। ঢাকা থেকে এর দুরুত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার।


Total Site Views: 850743 | Online: 5