×
পটুয়াখালী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

কুয়াকাটা কুয়াকাটা ও সংলগ্ন স্থান সমুহ আঃ রাজ্জাক বিশ্বাসের সাপের খামার লাউকাঠী ওয়াপদা কলনী দিঘি মির্জাগঞ্জের মাজার ১নং চাকামইয়া ইউনিয়ন ও কলাপাড়া সংযোগ ব্রীজ। শ্রীরামপুর প্রাচীন জমিদার বাড়ি শ্রীরামপুর প্রাচীন আমরের মসজিদ এশিয়ার প্রথম ‘পানি জাদুঘর’ কুয়াকাটা ইকোপার্ক পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দশমিনা বীজ বর্ধন খামার পায়রা বন্দর বাউফলে বলাই-কানাই দিঘী সোনারচর বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান
☰ পটুয়াখালী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
দশমিনা বীজ বর্ধন খামার

পরিচিতি

দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ দশমিনা বীজ বর্ধন খামার লবণসহিষ্ণু ফসল উৎপাদনে কৃষকের আস্থা অর্জন করেছে। পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার চরবাঁশবাড়িয়া, চরবোথাম ও চরহায়দারে এ খামার অবস্থিত। খামারে ১০৪৪ দশমিক ৪৬ একর জমি ব্যবহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) উন্নত জাতের বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে পটুয়াখালীর চরবাঁশবাড়িয়া, চরবোথাম ও চরহায়দারে বীজ বর্ধন খামারটি প্রতিষ্ঠা করে। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খামারটি উদ্বোধন করেন। এ খামার ২৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়। এ খামারে শুরু হয় বীজ উৎপাদন কার্যক্রম। খামারটিতে আর্থিক সহায়তা করে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। ২০১৪ সালে খামারে ১৫টি জাতের ধান আবাদ করে প্রায় ৩০০ মেট্রিক ব্রি-৫২ আমন, ব্রি-২৮, ২৪০ মেট্রিক টন ধানের বীজ উৎপাদন করা হয়। চলতি বছর ৪২০ একর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। বাঁশবাড়িয়ার বালুচরের খামারের জমিতে ধান, গম, পাট, আলু, কালিজিরা, তিল, ফেলন, খেসারি, মুসুরি, মুগ ডাল, ভুট্টা, চীনা কাউন, সূর্যমুখী ও সরিষা চাষ করে এলাকার শত শত নারী-পুরুষ অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানে স্থানীয় আবহাওয়ায় সহনশীল আফ্রিকান নেরিকা ১, নেরিকা ১০ ও নিউট্যান্ট প্রজাতির ধান বীজের আবাদ করা হয়। খামারে উৎপাদিত বীজ দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলার কৃষকের হাতে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের বিখ্যাত সুগন্ধি কালিজিরা ও বাঁশফুল বালাম বীজ দেয়ারও সুযোগ রয়েছে। খামারের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীসহ ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা বাড়ছে। তাই এখানে ব্রি ৪৭, ব্রি ৫২, বিআর-১০, বিনা-৭ ও ব্রি ৫১ ধান আবাদ করা হচ্ছে। এসব জাত থেকে বিপুল পরিমাণ লবণসহিষ্ণু ধানবীজ উৎপাদিত হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়ায় যেসব ফসল কৃষকের জন্য লাভজনক হবে গবেষণার মাধ্যমে সেসব বীজও উৎপাদন করা হবে। এদিকে নদীভাঙনে খামারের উত্তর এবং পাশ্চিমাংশ এরই মধ্যে তেঁতুলিয়া নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি ঢুকে আবাদ করা রবিশস্যসহ অনেক ফসল বিনষ্ট করে দিচ্ছে। শিগগিরই খামার রক্ষায় বেড়িবাঁধ এবং ভাঙনরোধে পাইলিং দরকার বলে জানায় খামার কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এখানে দেশের বৃহত্তম বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। চায়না প্রযুক্তিতে বোসিমা কোম্পানির কারিগরি সহযোগিতায় বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির তত্ত্বাবধানে বায়োগ্যাস প্লান্টটি স্থাপন করা হয়। এতে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা। পরিবেশের ক্ষতি না করে খামারের বিভিন্ন ফসলের বর্জ্য ও আবর্জনা এ প্লান্টে ব্যবহার করা হবে। প্লান্ট থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও উন্নতমানের জৈব সার উৎপাদন করা হবে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ ঘনমিটার বায়োগ্যাস উৎপাদন হবে বলে জানায় চায়না বোসিমা কোম্পানি কর্র্তৃপক্ষ। খুব শিগগিরই এ প্লান্ট উৎপাদনে যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। খামারের উপসহকারী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ সিকদার জানান, ২০১৪ সালে ডিসেম্বর মাসে এখানে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সাধারণত বায়োগ্যাস প্লান্ট বিষ্ঠা দিয়ে গ্যাস উৎপাদন করে। কিন্তু দশমিনা বীজ বর্ধন খামারের বায়োগ্যাস প্লান্ট খড়কুঠা এবং ঘাস-লতা-পাতা ব্যবহার করে গ্যাস উৎপাদন করবে। এতে গোটা খামারের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো যাবে। গ্যাস উৎপাদনের পর উদ্বৃত্ত পদার্থ দিয়ে উন্নতমানের জৈব সার উৎপন্ন করে খামারের কৃষি কাজে ব্যবহার করা হবে। ফলে এ খামারে বিষমুক্ত কৃষিপণ্য উৎপাদন হবে। খামারের প্রকল্প পরিচালক মোঃ আলমগীর মিয়া বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ উপকূলে লবণসহিষ্ণু ধানসহ অন্য ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে দশমিনায় এ বীজ বর্ধন খামার স্থাপন করা হয়েছে।


অবস্থান ও যাতায়াত

পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার চরবাঁশবাড়িয়া, চরবোথাম ও চরহায়দারে এ খামার অবস্থিত।


Total Site Views: 949648 | Online: 11