×
পটুয়াখালী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

কুয়াকাটা কুয়াকাটা ও সংলগ্ন স্থান সমুহ আঃ রাজ্জাক বিশ্বাসের সাপের খামার লাউকাঠী ওয়াপদা কলনী দিঘি মির্জাগঞ্জের মাজার ১নং চাকামইয়া ইউনিয়ন ও কলাপাড়া সংযোগ ব্রীজ। শ্রীরামপুর প্রাচীন জমিদার বাড়ি শ্রীরামপুর প্রাচীন আমরের মসজিদ এশিয়ার প্রথম ‘পানি জাদুঘর’ কুয়াকাটা ইকোপার্ক পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দশমিনা বীজ বর্ধন খামার পায়রা বন্দর বাউফলে বলাই-কানাই দিঘী সোনারচর বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান
☰ পটুয়াখালী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
পায়রা বন্দর

পরিচিতি

দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর হিসেবে পায়রার যাত্রা শুরু হলো। এর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলও অপার সম্ভাবনার দিকে যাত্রা শুরু করল। গত ১৪ আগস্ট সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দরের পর এটা বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর। এই বন্দরকে ঘিরে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য তথা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নতুন চাঞ্চল্য দেখা দেবে- এটাই প্রত্যাশা। জানা গেছে, পায়রা বন্দরে গভীর সমুদ্রে বিচরণক্ষম ৮-১০ ড্রাফটের জাহাজ ধারণের পরিকল্পনা থাকছে, যে সুযোগ চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে নেই। স্বল্প পরিসরে কাজ করার জন্য পায়রা বন্দর বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বন্দর এলাকায়, বসানো হয়েছে সমুদ্র ও নদীপথে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বয়া ও বাতি। বন্দরে ভিএইএফ রেডিও কন্ট্রোল স্থাপন, ১ হাজার কেভিএ বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, পানি শোধনাগার, সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে আলোকিত করা, নিরাপত্তা ও কাস্টমস ভবনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আগামী দশ বছরের মধ্যে পায়রা সমুদ্র বন্দরের পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হবে। বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির ৯৫ শতাংশ সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। তার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবদানই ৯২ ভাগ। জাতীয় প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, দেশের সমুদ্র বন্দর কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নির্মিত হয়েছে পায়রা সমুদ্র বন্দর। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নে রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরে এটি অবস্থিত। সমুদ্র বন্দরটি নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। প্রায় ৬ হাজার একর জায়গা ঘিরে পরিকল্পনা করা হচ্ছে পায়রা বন্দর নির্মাণের। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কয়লা আনা-নেয়ার জন্য টার্মিনাল নির্মাণ, ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ করা, নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, স্কুল, ব্যাংক, বিনোদন এলাকা, বাণিজ্যকেন্দ্র, আইটি সেন্টার, হাসপাতাল ইত্যাদি নির্মাণ। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে গড়ে উঠবে ইপিজেড, এসইজেড, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত শিল্পসহ অনেক প্রতিষ্ঠান। এতে বিশেষ করে বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা এলাকার বাসিন্দাদের ঢাকার বদলে ওই এলাকায় চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রাথমিক অবস্থায়ই মনে হচ্ছে এ বন্দর ঘিরে ক্ষীণ উপক‚লের সাগরপারের জনপদের অর্থনৈতিক জীবন যেন পাল্টে গেছে। বন্দরটির কল্যাণে অচিরেই দেশের দক্ষিণ মধ্যবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এ সম্ভাবনা বাস্তব। পরিকল্পনা অনুযায়ী পায়রা বন্দরের সঙ্গে ঢাকা ও অন্যান্য জেলার মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। রাজধানী ঢাকা থেকে রাবনাবাদ চ্যানেলের দূরত্ব প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার। ফলে তুলনামূলক কম সময়ে রাজধানীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কারণে পায়রা সমুদ্র বন্দরের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন ব্যয় কম হবে। এই বন্দরের আরেকটি সুবিধা এখানে জোয়ার-ভাটা ২৪ ঘণ্টা বিদ্যমান এবং পানির গভীরতাও বেশি। ফলে সরাসরি মাদার ভ্যাসেল থেকে জেটিতে পণ্য খালাস সম্ভব। এ ছাড়া ট্রানজিট সুবিধার আওতায় ভারত, নেপাল ও ভুটান এই বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। আবার বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মায়ানমারের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর বিসিআইএমের প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠারও সুযোগ রয়েছে এই বন্দরের। ফলে শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে মাইলফলক হিসেবে গণ্য হতে পারে পায়রা সমুদ্র বন্দর উদ্বোধন। এখন দরকার এই বন্দরকে কেন্দ্র করে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং গৃহীত বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনার সঠিক, সময়োচিত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন


অবস্থান ও যাতায়াত

এটি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ চ্যানেলসংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীর পাড়ের টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়ায় অবস্থিত। কলাপাড়া সদর থেকে, হোন্ডা, টেম্পু, অটো রিক্সা, রিক্সা, টমটম, ভ্যান ইত্যাদি, জনপ্রতি ভাড়া আনুমানিক ২০-২৫ টাকা।


Total Site Views: 784370 | Online: 6