×
পটুয়াখালী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

কুয়াকাটা কুয়াকাটা ও সংলগ্ন স্থান সমুহ আঃ রাজ্জাক বিশ্বাসের সাপের খামার লাউকাঠী ওয়াপদা কলনী দিঘি মির্জাগঞ্জের মাজার ১নং চাকামইয়া ইউনিয়ন ও কলাপাড়া সংযোগ ব্রীজ। শ্রীরামপুর প্রাচীন জমিদার বাড়ি শ্রীরামপুর প্রাচীন আমরের মসজিদ এশিয়ার প্রথম ‘পানি জাদুঘর’ কুয়াকাটা ইকোপার্ক পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দশমিনা বীজ বর্ধন খামার পায়রা বন্দর বাউফলে বলাই-কানাই দিঘী সোনারচর বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান
☰ পটুয়াখালী জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
সোনারচর বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য

বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার দক্ষিণেএকটি ছোট সমুদ্র সৈকত। মোহনা ঘিরে আছে সবুজ বেষ্টনী। জোয়ারের সময় সবুজ বেষ্টনী ৭/৮ ফুট পানির নীচে চলে যায়। দর্শণীয় এ সৈকতে নিরাপদে গোসল করা যায়। সোনারচর বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলায় অবস্থিত একটি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য। ২০১১ সালের ২৪ ডিসেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৬.৪৮ হেক্টর জমি নিয়ে এই বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যটি গঠিত। বন বিভাগের আওতাধিন সোনার চর হচ্ছে বন্য-প্রাণীর অভয়ারণ্য। সুন্দরেরবনের পর চর কুকরিমুকরি ও সোনার চরকেই ধরা হয় দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। সোনা চরের মূল সৌন্দর্য এখানকার ঝাউবন। এছাড়া এই বনে রয়েছে প্রচুর কেওড়া ও ছৈলাসহ গোলপাতা, বাবলা, করমচা, নলখাগড়া ও জাম গাছ। শীত মৌসুমে এখানে প্রচুর পরিযায়ী পাখি আসে, সে অর্থে সোনার চর প্রচুর দেশি-বিদেশি পাখির বিচরন ক্ষেত্র। হরিণ থেকে শুরু করে গেছো বাঘ, বন বিড়াল, বন মুরগি ও বানরসহ অনেক প্রাণী রয়েছে এই বনে। শোনা কথা সকাল ও বিকালে হরিণ চলে আসে সোনার চর সমুদ্র সৈকতে। প্রতিবছর ছয় মাসের জন্য সোনার চর মৎসজীবিদের আবাসস্থল হয়ে ওঠে। তবে দূর্গম এলাকা ও থাকার ব্যবস্থা না গড়ে ওঠায় সেভাবে এখানে পর্যটক খুব বেশি আসে না। সোনার চরকে বলা হয় ম্যানগ্রোভ বন। এই চর বঙ্গপোসাগরে স্থায়ী হয়ে গেছে। নির্দিষ্ট কোনো আবাস এখানে গড়ে না উঠলেও প্রতি বছর ছয় মাসের জন্য মৎসচাষী বা জলদাসরা এখানে অস্থায়ী আবাস গড়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। আমি মনে করি সোনার চর যেভাবে আছে সেভাবে থাকুক। অযথা প্রকৃতি বিনষ্ট করে এখানে আবাস গড়ার কাজ শুরু করলে চমৎকার এই চর ধ্বংস ডেকে আনা ছাড়া আমরা আর কিছুই করতে পারবো না। তবে যেহেতু এখানে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে বিশেষ করে শীত মৌসুমে অনেকেই এখানে আসে সেহেতু নিরাপত্তাসহ এই চরে পর্যটক সুবিধা থাকলে পর্যটকরা সবুজ এই চরটির একদিকের বন ও অন্য দিকের নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য ও সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখে বলতে পারবে অদ্ভুতদর্শন- এক সঙ্গে সুন্দরবন এবং কুয়াকাটা বা সেন্টমার্টিন! সারা বছরই সোনার চর যাওয়া যেতে পারলেও শীত মৌসুম সোনার চর যাওয়ার উপযুক্ত সময়। শীত ও বসন্তকালে গেলে পাখি ও বন্যপ্রাণীর দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সোনার চরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সারাবছরই দেখা যেতে পারে। চারিদিকে বঙ্গোপসাগরের অথই পানি। দুরে একের পর এক দ্বীপ ও ম্যানগ্রোভ বন দেখা যাচ্ছে। পানির সাথে এ যেন সবুজের মিতালী।

দেশীয় পাখির পাশাপাশি অসংখ্য অতিথি পাখি ও হাসগুলো একটু পরপর উড়ছে আবার পানিতে পড়ে জলকেলি করছে। তাই দেখে সাদা বকের দল কি অার পিছিয়ে থাকতে পারে! তারাও উড়ছে আর মাছ ধরছে। শীতের এ সময়টাতে এখানে কত রকমের অতিথি পাখি, হাস ও বক রয়েছে তার যেন কোন হিসেব নেই। স্থানটির নাম সোনারচর। পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের মাঝে এর অবস্থান। চরকুকরী হতে সকালে ছোট বোটে রওনা করে অতিথি পাখি, বিভিন্ন দ্বীপের ম্যানগ্রোভ বন, মেঘনা নদীর মোহনা, জেলেদের মাছ ধরা ও বঙ্গোপসাগরের উথাল পাথাল ঢেউ এর খেলা দেখতে দেখতে কখন যে আমরা পৌছে গেলাম সোনারচরে তা টেরই পেলাম না। একসঙ্গে এতো কিছু দেখে মনটা আনন্দে ভরে গেল। সোনারচরে সুন্দর একটি সি বিচ অাছে যার অনেকটাই সবুজ শ্যাওলার গালিচা দিয়ে মোড়া। অপূর্ব ঝাউবনের পাশাপাশি বিভিন্ন গাছপালা সমৃদ্ধ সি বিচটি মন কেড়ে নেবে নি:সন্দেহে। পাশাপাশি এখান হতে সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। জন কোলাহল মুক্ত এ দ্বীপটিতে পর্যটক খুব কম বিধায় এবং কাছাকাছি কোন লোকালয় নেই বলে যারা নির্জনতা পছন্দ করেন তাদের ভালো লাগবে তা বলাই যায়। তাই ইচ্ছে করলে ঘুরে অাসতে পারেন সোনারচর হতে।ইচ্ছে করলে সোনারচর ও চরকুকরীর পাশাপাশি চরমোন্তাজ, শিপচর, তাড়ুয়াদ্বীপ সহ অন্যান্য চরগুলো ঘুরে আসতে পারেন। ভালো লাগবে।

কি কি দেখবেনঃ

>> প্রচুর দেশি পাখির পাশাপাশি অসংখ্য অতিথি পাখির মেলা।

>> মেঘনা নদীর মোহনা ও অপূর্ব সূর্যাস্ত।

>> বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে চলার অসাধারন অনুভূতি।

>> বিভিন্ন দ্বীপ ও ম্যানগ্রোভ বন।

>> মাঝিদের মাছ ধরার দৃশ্য।

>> সোনারচরের সবুজ সি বিচ, ঝাউবন ও অসংখ্য গাছপালা সমৃদ্ধ বন।

পরামর্শঃ

সোনারচর এখনো অনেক নির্জন বলে বড় দল করে যাওয়া ভালো। এতে নিরাপত্তার পাশাপাশি খরচও সাশ্রয় হবে।

# অবশ্যই দুরবীন ও লাইফ জ্যাকেট সাথে নিবেন।

# ভোলার লঞ্চগুলো সাধারণত ঢাকা হতে বিকেল ৫.৩০/৬ টার মধ্যে ছেড়ে যায়। বেতুয়া ঘাট হতে বিকেল ৪.৩০/৫ টার মধ্যে ঢাকার উদ্দেশ্যে

ছেড়ে যায়। তাই সময় হিসেব করে যাবেন।

# মোটর সাইকেলসহ সকল ক্ষেএে ভাড়ার ব্যাপারে অবশ্যই দরদাম করে নিবেন।

# চরকুকরীতে কোন বিদ্যুৎ নেই। রাতে সোলার এর মাধ্যমে বাতি জ্বলে। তাই সাথে পাওয়ার ব্যাংক রাখবেন এবং ক্যামেরার ব্যাটারি ফুল চার্জ

দিয়ে নিয়ে যাবেন।

# সোনারচরে কোন দোকানপাট নেই। তাই সাথে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি নিবেন। ইচ্ছে করলে গোসল করতে পারেন।। রোদ থেকে বাচার জন্য অবশ্যই ক্যাপ ও গামছা নিবেন। সোনারচরে লোকজন নেই বলে অামরা কোন পলিথিন, চিপসের প্যাকেট বা খালি বোতল পাইনি। তাই এ স্থানটি এখনও অনেক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রয়েছে। যারা এখানে যাবেন বা অন্য কোথাও ঘুরতে যাবেন দয়া করে কোথাও কোনো ময়লা অাবর্জনা ফেলে আসবেন না। বরং সাথে করে নিয়ে অাসবেন এবং নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন বা পুড়িয়ে ফেলবেন।

অবস্থান ও যাতায়াত

সোনারচর বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলায় অবস্থিত একটি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য। সোনার চর পটুয়াখালি জেলার বিচ্ছিন্ন এক চরের নাম। পটুয়াখালির গলাচিপা থেকে সোনার চর যেতে পারবেন। আবার চর কুকরি-মুকরি বা চর কচ্ছপিয়া ফেরিঘাট থেকে সরাসরি সোনার চর যেতে পারবেন। গলাচিপা থেকে সোনার চরের দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। চর কুকরি-মুকরি বা চর কচ্ছপিয়া থেকে দূরত্ব প্রায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মতো। সুতরাং সোনার চর যেতে হলে চর কচ্ছপিয়া বা চর কুকরি-মুকরি থেকেই সহজ যাত্রা। ঢাকার সদরঘাট থেকে সরাসরি গলাচিপা বা চর ফ্যাশন চলে যান। আমি গিয়েছিলাম ভোলা জেলার চর ফ্যাশনের চর কচ্ছপিয়া ঘাট থেকে ট্রলারে চেপে চর কুকরি-মুকরি। সেখানে একরাত থেকে চরের সৌন্দর্য উপভোগ করে পরের দিন ট্রলারে সোনার চর চলে যাই। ট্রলার

ভাড়া আসা যাওয়া মিলে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকার মতো লাগতে পারে। সোনার চর দলবেঁধে যাওয়াই ভালো। লঞ্চে ঢাকা থেকে চর ফ্যাশন (বেতুয়া ঘাট বা ঘোসের হাঁট) ডেকের ভাড়া ২শ টাকা। কেবিন ১ হাজার টাকা। চর ফ্যাশন থেকে চর কচ্ছপিয়া ফেরিঘাট যেতে হবে মোটর সাইকেল অথবা বোরাকে (ইজিবাইক) চেপে। সময় বাঁচানোর জন্য মোটর সাইকেলে চেপেই চর কচ্ছপিয়া যাওয়া ভালো। সময় লাগবে ৪৫ মিনিট, ভাড়া জনপ্রতি ১শ টাকা। এবার স্পিডবোট কিংবা ট্রলার রিজার্ভ নিয়ে নিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫শ টাকায়। অথবা লাইনের ট্রলারে চেপে চলে যান চর কুকরি-মুকরি।

কোথায় থাকবেনঃ

সোনার চরে থাকার জন্য বন বিভাগের বাংলো ছাড়া ভরসা করা যায় খোলা প্রান্তর বা সমুদ্র সৈকতের কাছে তাবু পেতে। খাবার দাবারের ব্যবস্থা চর কুকরি-মুকরি থেকেই সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। স্থানটি নির্জন বলে সকালে গিয়ে সন্ধার মধ্যেই সাধারণত সবাই ফিরে আসে। তবে বেশি লোকজন হলে বনবিভাগের অফিস হতে অনুমতি নিয়ে ক্যাম্পিং করে থাকা যায়। খাবার দাবারের ব্যবস্থা চর কুকরি-মুকরি থেকেই সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে! অবশ্য নিরাপত্তার জন্য এখানে রাতে না থাকাই ভালো। কাছাকাছি চরমোন্তাজে থাকা যায়। সবচেয়ে ভালো হয় চরকুকরীতে থাকলে। এখানে রাত কাটানোর জন্য সঙ্গে তাবু নেবেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদ ভবনে অনুমতি সাপেক্ষে থাকা যায়। এছাড়া রাত কাটানো যাবে বনবিভাগের অফিসার’স কোয়ার্টার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি কিংবা খোলা মাঠে তাবু পেতে। খাওয়া-দাওয়ার কোনো চিন্তা নেই। বাজারের হোটেলে অর্ডার দিলেই তাজা মাছের সঙ্গে দেশি মুরগি সহজেই পেয়ে যাবেন, দাম ও হাতের নাগালে।

চরকুকরীতে নতুন একটি সরকারি রিসোর্ট হয়েছে। সকল সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ অত্যাধুনিক এই রিসোর্টটিতে ডাবল রুম ভাড়া ২০০০ টাকা । এছাড়া চরকুকরী বাজারে টিনের কয়েকটি বোর্ডিং রয়েছে। ভাড়াও কম। বাজেট ট্রাভেলার হলে সেখানে থাকতে পারেন। কুকরী বাজারে অনেক খাবার হোটেল পাবেন এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারবেন।


Total Site Views: 949581 | Online: 11