×
পিরোজপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

ডিসি পার্ক, পিরোজপুর হুলারহাট নদী বন্দর কবি আহসান হাবিব এর বাড়ী আজিম ফরাজীর মাজার সারেংকাঠী পিকনিক স্পট আটঘর আমড়া বাগান কুড়িয়ানা পেয়ারা বাজার কুড়িয়ানা অনুকুল ঠাকুরের আশ্রম রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি কাঠের স্থাপত্য শতবর্ষী মমিন মসজিদ পারেড় হাট জমিদার বাড়ী বলেশ্বর ঘাট শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ভাসমান সবজি চাষ স্বরুপকাঠীর পেয়ারা বাগান ভান্ডারিয়া শিশু পার্ক
☰ পিরোজপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
কাঠের স্থাপত্য শতবর্ষী মমিন মসজিদ

পরিচিতি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার শতবর্ষী মমিন মসজিদ l বিচিত্র কারুকাজখচিত সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে তৈরি এই মসজিদ স্থানীয়ভাবে ‘কাঠ মসজিদ’ নামে পরিচিত। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের মৌলভী মমিন উদ্দিন আকন ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মসজিদটি নির্মাণ করেন। সম্পূর্ণ নিজস্ব শৈল্পিক ভাবনা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি মসজিদটি তৈরি করেন, যা শিল্পকর্মের অপূর্ব নিদর্শন হিসেবে রয়ে গেছে আজও। মমিন উদ্দিন আকনের নাতি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ তাঁর মমিন মসজিদ:স্মৃতি বিস্মৃতির কথা বইয়ে লিখেছেন, ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা মহসিন উদ্দিন দুদু মিয়ার ছেলে পীর বাদশা মিয়ার অনুসারী ছিলেন প্রয়াত মৌলভী মমিন উদ্দিন আকন। অনেক দিন ধরে নিজ বাড়িতে পাকা কাঠ দিয়ে মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন তিনি। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে কাঠের নানা নকশা দেখে নিজেই সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে মসজিদ তৈরির একটি পরিকল্পনা করেন। ১৯১৩ সালে কাঠ মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কাঠশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা থেকে তিনি হরকুমার নাথকে মাসিক ৪০ টাকা বেতনে মসজিদ তৈরির প্রধান মিস্ত্রি নিয়োগ করেন। ২২ জন মিস্ত্রি দীর্ঘ সাত বছর নিরলস কাজ শেষে ১৯২০ সালে শেষ করেন নির্মাণকাজ। মমিন উদ্দিন আকন সব সময় মিস্ত্রিদের কাছে থেকে তাঁদের কাজ পরিচালনা করতেন এবং কারুকাজগুলো সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করে দেখতেন। ২০০৮ সালে সংস্কারের পর মমিন মসজিদ l প্রথম আলোমোহাম্মদ শহিদুল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, ‘শত বছর পূর্বে মমিন মসজিদ তৈরিতে মমিন উদ্দিন আকন যে শিল্পরুচির পরিচয় দিয়েছেন, তা একটি বিরল দৃষ্টান্ত। এ ধরনের মসজিদ অনেক আগে ভারতের কাশ্মীরে একটি ছিল। মমিন মসজিদ সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি একমাত্র নিদর্শন। সরকারের সহায়তা ও প্রচার পেলে মমিন মসজিদ পর্যটকদের কাছে হতে পারে দর্শনীয় স্থান।’ মমিন মসজিদ তৈরিতে ব্যবহার করা হয় লোহাকাঠ ও সেগুনকাঠ। কাঠগুলো মিয়ানমার, ত্রিপুরা ও আসাম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। মসজিদের কাঠামো তৈরিতে লোহার পেরেক ব্যবহার না করে কাঠের শলা ব্যবহার করা হয়। ২৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থের মসজিদটিতে চৌচলা টিন শেড দিয়ে পাটাতন তৈরি করা হয়েছে। ভেতরে আলো-বাতাস প্রবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পাটাতনের মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে দ্বিতীয় আর একটি দোচালা টিনের ছাউনি। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দুটি করে এবং পূর্ব ও পশ্চিমে চারটি করে জানালা। পূর্ব দিকে একটি মাত্র প্রবেশদ্বারে কারুকার্যখচিত দুটি খাম্বাবিশিষ্ট দরজা রয়েছে, যাতে মসজিদ নির্মাণের সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম ফুটে উঠেছে। প্রবেশদ্বারের ওপরের বাঁ দিকে আরবি হরফে ইসলামের চার খলিফার নাম ও মাঝখানে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর পবিত্র নাম অলংকৃত করা হয়েছে। প্রবেশদ্বারের মাঝখানের অংশে লেখা ‘লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’। কাঠশিল্পে জ্যামিতির ব্যবহার এবং কাঠের ওপর আরবি ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে মমিন মসজিদের নির্মাণশৈলী সবাইকে দারুণভাবে আকর্ষণ করে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০০৩ সালের ১৭ এপ্রিল সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পুরাকীর্তি আইন অনুযায়ী মমিন মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়। ২০০৮ সালে খুলনা জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে মমিন মসজিদ প্রথমবারের মতো সংস্কার করা হয়। ইউনেসকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ৩০টি শিল্পসম্পৃদ্ধ মসজিদের তালিকায় রয়েছে মঠবাড়িয়ার মমিন মসজিদ। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি মমিন মসজিদের শতবর্ষ উপলক্ষে মসজিদ প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা করে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, ২০০৮ সালে সংস্কারের সময় লোহার ব্যবহারসহ নকশার কিছু পরিবর্তন করা হয়। এতে মসজিদটি তার নিজস্ব রূপ হারায়। বর্তমানে মসজিদটিতে উঁই পোকায় আক্রমণ করেছে। বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।[সংগ্রহ: সৌজন্যে প্রথম আলো]


অবস্থান ও যাতায়াত

পিরোজপুর শহর থেকে যেকোনো ধরনের পরিবহনে আপনি সহজেই মঠবাড়িয়া উপজেলার মমিন মসজিদে যেতে পারবেন।


Total Site Views: 784330 | Online: 8