×
বরিশাল জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ বরিশাল নদী বন্দর কলসকাঠী জমিদার বাড়ি পাদ্রিশিবপুর গীর্জা লাখুটিয়া জমিদার বাড়ী কসবা মসজিদ গৌরনদী, বরিশাল হযরত মল্লিক দূত কুমার শাহ রাঃ এর মাজার সরকার মঠ/ মাহিলারা মঠ উলানীয়া জমিদার বাড়ী চরামদ্দী মুঙ্গাখাঁন জামে মসজিদ অক্সফোর্ড মিশন গির্জা ৩০ গোডাউন (রিভার ভিউ পার্ক ও বধ্যভূমি ) গুটিয়া মসজিদ দুর্গাসাগর কীর্তনখোলা নদী আবদুর রব সেরনিয়াবাদ সেতু কমলাপুর মসজিদ পুরাতন কালেক্টরেট ভবন হচ্ছে বিভাগীয় জাদুঘর নসরত গাজীর মসজিদ শাপলা গ্রাম, সাতলা
☰ বরিশাল জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
শাপলা গ্রাম, সাতলা

পরিচিতি:

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার একটি গ্রাম আছে যার নাম সাতলা; যেটিকে শাপলার রাজধানী বললেও ভুল বলা হবে না। গোটা গ্রাম জুড়ে শাপলার চাষ হয় এখানে। সাতলা গ্রামের আকর্ষণ ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে লাল শাপলার। কেউ কেউ এটিকে আবার লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য হিসেবেও অভিহিত করে থাকেন। তবে সাতলা নামের সঙ্গে শাপলার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই স্থানীয়দের। বিলে ঠিক কত আগে থেকে এভাবে শাপলা জন্মাতে শুরু করেছে, তার কোনো সঠিক তথ্যও দিতে পারেননি স্থানীয়রা। এই বিলে শুধু শাপলাই ফোটে না, শীতের মৌসুমে যখন পানি কমে যায়, তখন সব শাপলা মরে যায়, কৃষকরা এখানে ধান চাষ করেন। সাধারণত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে এই বিলে লাল শাপলা ফুল ফোটে।

সাতলা বর্তমানে একটি পর্যটকমুখী এলাকা হলেও এটি একটি বিলের নাম। একসময়ে বর্ষাকালে এটা সম্পূর্ণ ডুবে যেত। স্বাধীনতার পরে তৎকালীন মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত প্রথম সাতলায় বাঁধ দেওয়ার কাজ শুরু করেন। তারপর বিল থেকে বিশাল এলাকা উত্থিত হয়ে বর্তমানে মনোরম এলাকায় পরিণত হয়েছে সাতলা গ্রাম।

এই বিলে প্রাকৃতিকভাবে শাপলা ফোটে। ছোট নদী, হাওর ও বিলবেষ্টিত ছোট গ্রাম সাতলা। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। সবুজের মধ্যেই চোখে পড়ে লাল শাপলার আভা। কিছুটা সামনে গেলেই নিজ অস্তিত্বের জানান দেয় ফুটন্ত লাল শাপলা আর আস্তে আস্তে পরিষ্কার হতে থাকে সবুজের মাঝে লাল শাপলার অবস্থান। গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বাস চলাচলের রাস্তাটি গ্রামটিকে এনে দিয়েছে গতিময়তা। আর বিলের মাঝে ফুটন্ত লাল শাপলা গ্রামটিকে করেছে পরিপাটি। গ্রামের সাদাসিধে লোকজনের অতিথিপরায়ণতা আপনাকে মানসিকভাবে করে তুলবে প্রাণবন্ত।

এ ইউনিয়নের উত্তর সাতলা গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগদা ও খাজুরিয়া গ্রামের কয়েকশ হেক্টর জমি নিয়ে এ বিলের মূল অবস্থান। সবচেয়ে বেশি শাপলার উপস্থিতি দেখা যায় সাতলার নয়াকান্দি ও মুড়িবাড়ীতে। সাতলা শুধু লাল শাপলার উৎস নয়, বলা চলে এটি লাল শাপলার গ্রাম। প্রশ্ন থাকতে পারে, শুধুই কি লাল শাপলা এখানে জন্মে? উত্তরটা না। কারণ, লাল শাপলার পাশাপাশি সাদা ও বেগুনি রঙের শাপলার দেখা মিলবে। তবে লাল শাপলাই বেশি। সাদা ও বেগুনি রঙের শাপলা মূলত লাল শাপলার তুলনায় অপ্রতুল।

লাল শাপলার বিলে ঘোরার জন্য অবশ্যই নৌকার প্রয়োজন হবে। এ জন্য সাতলার নয়াকান্দির মতি মিয়ার শরণাপন্ন হতে পারেন। সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ঘোরার জন্য আপনাকে নৌকার ব্যবস্থা করে দেবে। নৌকা ও লোকজনের পরিমাণভেদে নৌকায় ভ্রমণের জন্য এ খরচের পরিমাণ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা হতে পারে। আর ঘুরতে বেরোনোর সময় অবশ্যই সঙ্গে ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না। কারণ, এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশকে দ্বিতীয়বার স্মরণ করতে চাইলে ক্যামেরায় তোলা ছবির বিকল্প নেই। ঘুরতে ঘুরতে শাপলার পাতার ওপর দেখা মিলতে পারে ছোট-বড় সাপের। ভয়ের কারণ নেই, এগুলো আপনার কোনো ক্ষতি করবে না। তবে সাবধানে দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়।

শাপলার আসল সৌন্দর্য উপভোগের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। শাপলার প্রকৃত সৌন্দর্য ও ফুটন্ত অবস্থায় পেতে অবশ্যই এই সময়টাতে আপনাকে ঘুরতে হবে, কারণ সূর্যের উপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে শাপলা তার আপন সৌন্দর্যকে গুটিয়ে নেয়। তাই ফুটন্ত শাপলা পেতে হলে বিলের আশপাশে রাতযাপন করে অবশ্যই খুব ভোরে শাপলার বিলে যেতে হবে।

থাকার জন্য খুব ভালো ব্যবস্থা নেই সাতলায়। তবে আরামদায়ক রাতযাপনের জন্য স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে তাদের আশ্রয়ে থাকা যেতে পারে। এতে খুব সকালে শাপলার বিলে ভ্রমণ আপনার জন্য সহজতর হবে। পার্শ্ববর্তী হারতা বাজারে রাতে থাকার জন্য স্বল্পখরচের দুটি হোটেল আছে, তবে সেটা শহুরে লোকজনের জন্য খুব একটা আরামদায়ক হবে না। আরামদায়ক রাতযাপনের জন্য অবশ্যই উজিরপুর বা বরিশালের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি সাতলার স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে থাকার ব্যবস্থা করে নিতে পারেন। এমনকি খাওয়া-দাওয়াও সারতে হবে এখানে। অবশ্যই আপনি তাদের অতিথিপরায়ণতায় মুগ্ধ হবেন।

যাতায়াত ও অবস্থান:

বরিশাল সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়ন। ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চযোগে পয়সারহাট বা বৈঠাকাটাগামী যুবরাজ বা তরীকা-২ লঞ্চে হারতা নেমে খুব সহজে সাতলায় আসতে পারেন। ডেকের ভাড়া ২৫০-৩০০ এবং সিঙ্গেল কেবিন ১০০০-১২০০। এ ছাড়া ঢাকা-বরিশাল লঞ্চে বরিশাল শহরে এসে সাতলা যেতে পারেন। নথুল্লাবাদ বাসস্টেশন থেকে ৩০ মিনিট পরপর সরাসরি সাতলার উদ্দেশে বাস ছাড়ে, যেখানে জনপ্রতি ভাড়া ৯০ টাকা। এ ছাড়া বরিশাল থেকে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার কিংবা মাহিন্দ্রা ভাড়া করেও যাওয়া যায়, এতে ৫০০ থেকে চার হাজার টাকার মতো বাহনভেদে যাওয়া-আসায় খরচ পড়বে। কেউ চাইলে ঢাকা-হুলারহাট-ভাণ্ডারিয়ার এমভি মহারাজ, ফারহান-১০, অগ্রদূত প্লাস, রাজদূত-৭ ইত্যাদি লঞ্চে (ডেকের ভাড়া ২৫০-৩০০ এবং সিঙ্গেল কেবিন ১০০০-১২০০) স্বরূপকাঠি নেমে স্থানীয় ট্রলারযোগে মিয়ারহাট থেকে বৈঠাকাটা-চৌমোহনা হয়ে সাতলা যেতে পারেন। ট্রলারে যাওয়ার জন্য যাতায়াত বাবদ ১৫০০-২৫০০ টাকা লাগবে। কেউ স্থলযোগে বাসে আসতে চাইলে হানিফ, সাকুরা, সোনারতরী বা বিআরটিসি বাসে সরাসরি বরিশাল এসে সাতলার বাসে যেতে পারেন। আর স্বরূপকাঠি পর্যন্ত বাসে আসার জন্য হানিফ, সোনারতরী বা সুগন্ধা পরিবহনে আসতে পারেন।


Total Site Views: 642057 | Online: 9