×
বরিশাল জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ বরিশাল নদী বন্দর কলসকাঠী জমিদার বাড়ি পাদ্রিশিবপুর গীর্জা লাখুটিয়া জমিদার বাড়ী কসবা মসজিদ গৌরনদী, বরিশাল হযরত মল্লিক দূত কুমার শাহ রাঃ এর মাজার সরকার মঠ/ মাহিলারা মঠ উলানীয়া জমিদার বাড়ী চরামদ্দী মুঙ্গাখাঁন জামে মসজিদ অক্সফোর্ড মিশন গির্জা ৩০ গোডাউন (রিভার ভিউ পার্ক ও বধ্যভূমি ) গুটিয়া মসজিদ দুর্গাসাগর কীর্তনখোলা নদী আবদুর রব সেরনিয়াবাদ সেতু কমলাপুর মসজিদ পুরাতন কালেক্টরেট ভবন হচ্ছে বিভাগীয় জাদুঘর নসরত গাজীর মসজিদ শাপলা গ্রাম, সাতলা
☰ বরিশাল জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
পুরাতন কালেক্টরেট ভবন হচ্ছে বিভাগীয় জাদুঘর

পরিচিতি

ঔপনিবেশিক শাসনামলের স্থাপত্য ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক নিদর্শন ‘বরিশাল কালেক্টরেট ভবন। বরিশাল কালেক্টরেট ভবন দেশের সর্বপ্রথম সরকারি ভবন। এই ভবন তৈরির আগের কিছু ইতিহাস আছে। সুলতানি ও মোগল আমলের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়েছিল ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ‘বারৈকরণ’। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমও চলত এখান থেকে। ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে স্যামুয়েল মিডলটন সুন্দরবন কমিশনারের দায়িত্ব পাওয়ার পর যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধার্থে প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রথমে স্থানান্তর করা হয় বাকেরগঞ্জে। পরবর্তী সময় ১৮২১ সালে বরিশালে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কালেক্টরেট ভবনটি নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত এ নামেই ভবনটি চিনত সবাই। স্বাধীন বাংলাদেশে ভবনটি বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হিসেবে পরিচিতি পায়। ভবনটির দেয়াল সুরকি আর ইট দিয়ে করা। ছাদে ব্যবহার করা হয়েছে রেলের পাটি। ভবনটির দৈর্ঘ্য ৩০০ আর প্রস্থ ৯০ ফুট। বাইরে বারান্দা রয়েছে ৩০ ফুট। পুরো ভবনে মোট ১৮টি কক্ষ রয়েছে। আরেকটি ভবনের দৈর্ঘ্য ১০০ ও প্রস্থ ৯০ ফুট। সেখানে রয়েছে আরো পাঁচটি কক্ষ। ১৮২১ সালে ‘বরিশাল পুরাতন কালেক্টরেট ভবন’ নামে দ্বিতল এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়, ১৯৭৯ সালে পি.ডব্লিউ.ডি কর্তৃক বরিশাল পুরনো কালেক্টরেট ভবন ব্যবহার অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৪ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৫ সালে নতুন কালেক্টরেট (জেলা প্রশাসক) ভবনে তৃতীয় বারের মতো দপ্তর স্থানান্তর করা হয়। ২০০৩ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ভবনটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তির প্রজ্ঞাপন জারি করে। ২০০৪ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ভবনটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণার গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ২০০৫ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুকূলে পুরাতন কালেক্টরেট ভবনের দখল ভার হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর সংরক্ষিত এই ভবনে রয়েছে পুরনো আসবাব, পাথরের মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, কারুকার্যখচিত ইট, পুরনো মুদ্রাসহ দুই শতাধিক নিদর্শন। ২০০৫ সালে বরিশাল পুরাতন কালেক্টরেট ভবন সংস্কার ও বিভাগীয় জাদুঘরে রূপান্তরের কার্যক্রম গ্রহণ করে। জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য গ্রীস্মকালে সকাল ১০ টা থেকে ৬ টা এবং শীতকালে সকাল ৯ টা থেকে ৬টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকবে। পাশাপাশি ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য কোনো ফি নেই, মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ টাকা ও বড়দের জন্য প্রবেশ ফি ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ২৫ টাকা ও অন্যান্য দেশের জন্য ১০০ টাকা প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও এর বাইরে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের কর্তৃপক্ষের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমতি সাপেক্ষে জাদুঘর পরিদর্শন করার সুযোগ পাবেন। তিনি আরও জানান, খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর থেকে জনবল এনে বরিশাল জাদুঘরের উদ্বোধণ ও দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত করার কাজ সম্পন্ন করা হলেও জাদুঘরে মোট পদের বেশিরভাগই শূন্য রয়েছে।


অবস্থান ও যাতায়াত

ঢাকা থেকে সরাসরি বাস বরিশাল যেতে হবে। বরিশাল বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোরিক্সা বা রিকশায় যাওয়া যায়। তাছাড়া ঢাকা থেকে লঞ্চেও বরিশাল যাওয়া যায়। লঞ্চ ঘাটের পাশেই বরিশাল কালেক্টরেট ভবন জাদুঘর।


Total Site Views: 786348 | Online: 11