×
ভোলা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল যাদুঘর চর মনপুরা চর কুকরি মুকরি দেউলি মনপুরা ফিশারিজ লিমিটেডি ঢাল চর মনপুরা ল্যান্ডিং স্টেশন জ্যাকব টাওয়ার- চরফ্যাশনে উপমহাদেশের সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ার ভোলার বাংলাবাজারে স্বাধীনতা জাদুঘর
☰ ভোলা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
জ্যাকব টাওয়ার- চরফ্যাশনে উপমহাদেশের সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ার

পরিচিতি

দ্বীপজেলা খ্যাত ভোলার চরফ্যাশনে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ‘জ্যাকব টাওয়ার’, যা এরই মধ্যে ‘বাংলার আইফেল টাওয়ার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২১ তলা ভবনের সমান উচ্চতার এ টাওয়ার দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে ভ্রমণপিপাসুদের প্রত্যাশা। আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত জ্যাকব টাওয়ারে পর্যটক আকর্ষণের সব ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। টাওয়ারের শীর্ষে দাঁড়িয়ে বাইনোকুলারে চোখ রাখতেই দেখা মিলবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল চর কুকরি-মুকরির নয়নাভিরাম সবুজের সারি। মনে হবে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় ঘন বনজঙ্গল। ডানে-বামে চোখ ফেরাতে ভেসে উঠে তারুয়া সৈকত, স্বপ্নদ্বীপ মনপুরার চর পিয়াল, হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ আর বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল জলরাশি। চোখ বন্ধ করে কান পাতলেই শোনা যাবে ঢেউয়ের গর্জন। এভাবে চোখের সামনে উঠে আসবে চারপাশের প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। প্রায় ২২৫ ফুট উঁচুতে অবস্থান করে মনে হবে মেঘের ভেলায় ভাসছি, হাত বাড়ালেই পেঁজা তুলোর মতো মেঘ যেন ছোঁয়া যায়। জেলা শহর ভোলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে সাগরকোল ঘেঁষে উপজেলা শহর চরফ্যাশনে নির্মিত এ টাওয়ার পুরো দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে বলে আশা করছেন সবাই। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। টানা ৫ বছরের বিশাল কর্মযজ্ঞের ফসল এটি। বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের একান্ত চেষ্টা ও শ্রমে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ‘বাংলার আইফেল টাওয়ার’ পরিচিতি পাওয়া এই স্থাপনা। প্রথমদিকে এর নাম জ্যাকব টাওয়ার ছিল না। ১৮ মে ২০১৬ নির্মাণাধীন টাওয়ার পরিদর্শনে যান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। নির্মাণশৈলী আর নান্দনিক সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে তিনি এর নাম দেন ‘জ্যাকব টাওয়ার’। উপমন্ত্রী জ্যাকব ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তুলেছেন তার নির্বাচনী এলাকা চরফ্যাশন এবং মনপুরা উপজেলাকে। চরফ্যাশনের চর কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ অরণ্যের নৈসর্গিক সৌন্দর্য এরই মধ্যে অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে পর্যটকদের কাছে। প্রায় ১ একর জমিতে এ টাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে চরফ্যাশন পৌরসভা। ২২৫ ফুট উচ্চতার টাওয়ারটির ডিজাইন করেছেন স্থপতি কামরুজ্জামান লিটন। মাটির ৭৫ ফুট নিচ থেকে ঢালাই-পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর সম্পূর্ণ ইস্পাত নির্মিত এ টাওয়ার ৮ মাত্রার ভূমিকম্পন সহনীয়। ভূমির উপরিতল থেকে টাওয়ারের ওপর থাকা গম্ভুজ আকৃতির ওয়াচ পয়েন্ট পর্যন্ত চারদিকে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর রয়েছে ৫ মিলিমিটার ব্যাসের স্বচ্ছ গ্লাস। চূড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে ১৩ জনের ধারণক্ষমতার অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট। টাওয়ার চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতার বাইনোকুলার, যার সাহায্যে বঙ্গোপসাগরের একটি অংশসহ চারপাশের ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দেখা যাবে। এছাড়া বিশ্রামাগার এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসহ রয়েছে খাবারের সুব্যবস্থা। টাওয়ারে উঠতে জনপ্রতি ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় আরও ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের বৃহত্তম সুইমিংপুল, বিশ হাজার লোকের ধারণক্ষমতার ফ্যাশন স্কয়ার ও অত্যাধুনিক শিশুপার্ক।


অবস্থান ও যাতায়াত

ভোলা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে চরফ্যাশন উপজেলায়


Total Site Views: 846029 | Online: 13