×
নেত্রকোণা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

জয়পুর, দূর্গাপুর বিরিশিরি কালচারাল একাডেমী রাণীমাতা রাশমণি স্মৃতি সৌধ কমলা রাণী দিঘী সাত শহীদের মাজার হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রাঃ)-এঁর মাজার শরীফ রানীখং মিশন টংক শহীদ স্মৃতি সৌধ রোয়াইলবাড়ি দূর্গ, ডেঙ্গু মিয়া ও নিয়ামত বিবির মাজার বুরুজ ঢিবি, বার দুয়ারী ঢিবি
☰ নেত্রকোণা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
রোয়াইলবাড়ি দূর্গ, ডেঙ্গু মিয়া ও নিয়ামত বিবির মাজার

পরিচিতি

রোয়াইলবাড়ি দূর্গ:: নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ায় অবস্থিত একটি প্রাচীন দূর্গ ও বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। প্রাচীন রোয়াইলবাড়ি দূর্গের স্থাপনা হিসেবে বর্তমানে ছাদবিহীন কিছু ইমারত অবশিষ্ঠ রয়েছে। এটি বেতাই নদীর তীরে কেন্দুয়া উপজেলা সদর থেকে ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে রোয়াইলবাড়ি নাম স্থানে অবস্থিত। রোয়াইলবাড়ি দূর্গের নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না তবে প্রত্নতত্ত্ববিদগণদের মধ্যে কেউ কেউ এটিকে সুলতানী আমলের স্থাপনা বলে মনে করেন। আবার কেউ কেউ এটিকে জনৈক কোন মুঘল জেনারেলের তৈরি স্থাপনা বলে মনে করেন। ৮০-এর দশকে আবিষ্কৃত এ স্থাপনাটি ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষিত পরাকীর্তি হিসেবে নথিভূক্ত করে। দূর্গটি সংরক্ষিত ঘোষণার পর ১৯৯১-৯৩ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এখানে খননকাজ পরিচালনা করে ও দূর্গের ধ্বংসাবশেষ ছাড়াও দুটি ঢিবি আবিষ্কার করে। অনেকেই মনে করেন, সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ্-এর পুত্র নছরত শাহ্, এ অঞ্চলে বসবাসের সময় দূর্গটি তৈরি/সম্প্রসারণ করেন। পরবর্তিতে ঈশা খাঁ ও তার পরবর্তি শাসকের আমলেও দূর্গে ব্যাপক সম্প্রসারণের কাজ করা হয়। ৪৬ একর জমির উপর অবস্থিত পুরো দূর্গটি পূর্ব-পশ্চিম দিকে লম্বা ও প্রাচীর দ্বারা বিভক্ত। দূগের প্রাচীর নির্মাণে ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও, দূর্গে রয়েছে একটি পুকুর, দুটি ঢিবি, একটি কবরস্থানসহ বেশকিছু প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ। খননকাজ পরিচালনাকালে এখানে প্রাচীন ইটের ভংগ্নাংশ, মৎপ্রাত্র, মূর্তি ও মূল্যবান কিছু পরাকীর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে। 


ডেঙ্গু মিয়ার সমাধি:: ডেঙ্গু মিয়ার সমাধি সম্পর্কে তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। সমাধিটি রোয়াইলবাড়ি দূর্গের সীমানা প্রাচীরের ভেতর দক্ষিণাংশে নিয়ামত বিবির মাজারের পাশেই অবস্থিত। ১৯৯১-৯৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক দূর্গের ভেতর খনন কার্য পরিচালনার সময় এটি আবিষ্কৃত হয়। ডেঙ্গু মিয়ার সমাধি ও এর সংলগ্ন দূর্গটি ১৯৮০-এর দশকে আবিষ্কৃত হয়। ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে সংরক্ষিত পরাকীর্তি হিসেবে নিবন্ধিত করে। ইটের তৈরি কবরটি লম্বায় ১২ হাত (েএক গজে দুইহাত হয়েয় থাকে) যা সাধারণ কবরের চাইতে বেশ বড় আকৃতির। অস্বাভাবিক লম্বা এমন কবর সচরাচর দেখা যায় না বলেই এটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। কবরটি ইট ও চুন সুড়কির সাহায্যে বাঁধানো ও উন্মুক্ত স্থানে রয়েছে। 


নিয়ামত বিবির মাজার:: জনশ্রুতি অনুসারে নিয়ামত বিবি ছিলেন বিক্রমপুরের জমিদার কেদার রায়ের বোন। তার আসল নাম সুভাদ্রা।[১] তাকে শাসক ঈশাঁ খাঁ অপহরণ করেন ও পরবর্তীতে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি নিয়ামত বিবি নামে পরিচিতি পান। নিয়ামত বিবির মাজার রোয়াইলবাড়ি দূর্গের সীমানা প্রাচীরের ভেতর দক্ষিণাংশে অবস্থিত। ১৯৯১-৯৩ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক দূর্গের ভেতর খনন কার্য পরিচালনার সময় এটি আবিষ্কৃত হয়। নিয়ামত বিবির মাজার ও এর সংলগ্ন দূর্গটি ৮০-এর দশকে আবিষ্কৃত হয়। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে সংরক্ষিত পরাকীর্তি হিসেবে নথিভূক্ত করে। নিয়ামত বিবির কবরটি বর্তমানে একটি টিনের চালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। দুপাশে তিনটি করে মোট ছয়টি পাথরের তৈরি খুঁটির উপর টিনের চালাটি স্থাপিত। এর নিচেই রয়েছে নিয়ামত বিবির কবর। মূল কবরটি সাধারণভাবে ইট ও পাথর ব্যবহার করে বাঁধাই করে রাখা হয়েছে।


অবস্থান ও যাতায়াত

ঢাকার মহাখালী অথবা ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদী সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে করে প্রথমে নেত্রকোনা যেতে হয়। পরে নেত্রকোনা থেকে বাস, অটোরিকশায় যেতে হয় কেন্দুয়া উপজেলা সদরে। এর পর কেন্দুয়া থেকে আবার অটোরিকশা বা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে সোজা যাওয়া যায় রোয়াইলবাড়িতে।


Total Site Views: 960333 | Online: 4