×
শেরপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

গজনী অবকাশ কেন্দ্র মধুটিলা রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনা সৌন্দর্যের লীলা ভূমি নেওয়াবাড়ি টিলা পানিহাটা-তারানি পাহাড় কলা বাগান সুতানাল দীঘি কান্দাপাড়া অর্কিড গার্ডেন পর্যটন প্রকল্প ক্যাথলিক খ্রীষ্টানদের তীর্থস্থান বারোমারি ‘সাধু লিউর খ্রীষ্ট ধর্মপল্লি’ সন্ধ্যাকুড়া জিএস রাবার বাগান অপূর্ব স্থাপত্য নিদর্শন ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ নয়আনী জমিদার বাড়ি ও রঙ মহল
☰ শেরপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
ক্যাথলিক খ্রীষ্টানদের তীর্থস্থান বারোমারি ‘সাধু লিউর খ্রীষ্ট ধর্মপল্লি’

পরিচিতি

১৯৪২ সালে পর্তুগালের খ্রীষ্টান মিশনের আদলে ৩৯ একর জমির উপর গড়ে উঠে ‘সাধু লিউর খ্রীষ্ট ধর্ম পল্লি’ বা খ্রীষ্টান মিশন। ১৯৯৭ সালে পর্তুগালের ফাতেমা নগরের আদলে ও অনুকরণে এ তীর্থস্থল স্থাপন করা হয়। ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশের নিয়ন্ত্রনে ১৫ টি ধর্মপল্লি’র মধ্যে শেরপুর জেলায় রয়েছে ২ টি ধর্মপল্লি¬। এরমধ্যে জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার ভারুয়ামারী গ্রামে ‘মরিয়মনগর সাধু জজ খ্রীষ্টান ধর্মপল্লি এবং নালিতাবাড়ি উপজেলার এই বারোমারিতে ‘সাধু লিউর খ্রীষ্টান ধর্মপল্লি’ রয়েছে। অন্যান্য ধর্ম পল্লিগুলো জামালপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলায় অবস্থিত। শেরপুর জেলার এ দুটি ধর্মপল্লি’র মধ্যে মরিয়মনগরে ৮ হাজার এবং বারোমারীতে প্রায় সারে ৪ হাজারসহ সর্বমোট প্রায় ১২ হাজারেরও বেশী রোমান ক্যাথলিক খ্রীষ্টান আদিবাসি রয়েছে বলে সূত্র জানায়। তবে সাধু লিউর ধর্ম পল্লিটি প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ এবং আয়তনে বেশ বড় হওয়ায় এটিকে ১৯৯৭ সালে তীর্থস্থান ঘোষনা করা হয়। এ ধর্মপল্লী এলাকায় মুসলমাদের পাশাপাশি রয়েছে গারো, কোচ, হাজং, বানাই, ডালু, বংশীসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত আদিবাসী। ২০০০ সালের জুবলি বর্ষ পালনের প্রস্তুতি সরূপ ১৯৯৭ সালের মাঝামাঝি সময়কালে ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশীয় পালকীয় পরিকল্পনা সাধারণ সভায় প্রয়াত বিশপ ফ্রান্সিস এ গমেজ এর নেতৃত্বে বারমারী ধর্ম পল্লিতে ফাতেমা রাণীর তীর্থস্থান হিসেবে ঘোষনা করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ১৯৯৮ খ্রীষ্টাব্দে (সালে) জুবলি বর্ষের প্রস্তুতি সরূপ ২৯ অক্টোবর থেকে প্রতিবছর এখানে খ্রীষ্টান ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীরা তাদের বার্ষিক ‘তীর্থ উৎসব’ পালন করে আসছে। মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত গারোদের সমাজ ব্যবস্থা অদ্যাবধি বর্হিবিশ্বের কাছে এক পরম বিশ্বয়। তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যগীত, সহজ-সরল আচরণ, অকৃত্রিম আতিথেয়তা এসব কিছু মিলিয়ে বারোমারী ফাতেমা রানীর তীর্থস্থানটি এখন জাতীয় মহাতীর্থস্থান হিসেবে রূপ পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। বারোমারি খ্রিস্টান ধর্মপল্লীতে তীর্থস্থল স্থাপনের পর থেকেই প্রতি বছর প্রতি বছর অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুই দিন ব্যাপী এ বার্ষিক তীর্থৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই এ তীর্থৎসবে প্রতিবছর লোকসমাগম বা ভক্তদের ভির ক্রমেই বাড়ছে। এ ছাড়া তীর্থোৎসব উপলক্ষে মিশনের পাশের মাঠে আদিবাসীদের তৈরি ও হস্তশিল্পের বিভিন্ন পোশাক এবং আসবাবপত্রের দু-দিনব্যাপী জমজমাট মেলা বসে। মেলায় আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও তাদের হস্তশিল্পের তৈরি বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন খেলনার পসড়া বসে। মেলা চলে দুইদিন।


অবস্থান ও যাতায়াত

শেরপুর শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেষা নালিতাবাড়ীর নৈসর্গিক পরিবেশ পাহাড়ি উপত্যকায় বারোমারী মিশন চত্বরে ফাতেমা রানির তীর্থস্থল। নালিতাবাড়ি নাঁকুগাও স্থল বন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট থেকে ঝিনাইগাতি রাংটিয়া সীমান্ত সড়কের পাশেই বারোমারি বিজিবি ক্যাম্পের অদুরে এ খ্রীষ্ট ধর্ম পল্লি স্থাপন করা হয়। ঢাকা মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে শেরপুর জেলা সদরে বেশ কিছু ভালো বাস সার্ভিস রয়েছে। এদের মধ্যে নন এসি- সাদিকা (Its the Speed Master of Dhaka - Sherpur Road ফোনঃ01712-119181), বধুয়া, শাহীমনি, সোনার বাংলা, SA পরিবহন (ফোনঃ 01724191118 ) ও স্পেশাল ড্রীমল্যান্ড সার্ভিস উল্লেখযোগ্য। সবগুলো গাড়ি হিনো। সীট গুলোও বেশ ভালো। জনপ্রতি ভাড়া হচ্ছে ২৫০ - ৩০০ টাকা। এসি সার্ভিস - (ফোনঃ 01734190665, 01735621796) এসি ডিলাক্স ও এসি সুপার ছাড়ে দুপুর ২টায়, জনপ্রতি ভাড়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। এছাড়া গুলিস্তান বাইতুল মোকাররম মার্কেট এর সামনে / ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় ষ্টেডিয়াম ৪ নং গেইট থেকে সরাসরী বিকাল ৩-৪টায় থেকেও বেশ কিছু ভাল বাস ছেড়ে যায় শেরপুর এর উদ্দেশ্যে। এদের মাঝে নন এসি- শেরপুর চেম্বার অব কমার্স, শেরপুর শিল্প ও বনিক সমিতি, শেরপুর কালেক্টরেট কর্মচারী সমিতি সহ বিভিন্ন সংগঠনের বাস সার্ভিস আছে। জনপ্রতি ভাড়া হচ্ছে ২৫০ - ৩০০ টাকা। কিছু কিছু বাস শহরের নবীনগর এ অবস্থিত আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত যায়, আবার কিছু বাস শহরের ভেতরে নিউমার্কেট পর্যন্ত যায়। এক্ষেত্রে বাস টার্মিনাল এ নামলে রিকশা নিয়ে শহরের ভিতরে যেতে হবে ভাড়া ১৫-২০ টাকা। ব্যাটারী চালিত ইজি বাইক দিয়েও যেতে পারেন ভাড়া ৫-১০ টাকা জনপ্রতি। রেন্ট-এ কার-এর জন্যে হযরত ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। ফোন: ০১৭১৪৯৯০৩৪৭ অথবা সুমন ভাই: ০১৭৩৪১৮৩০৩৫।


Total Site Views: 842052 | Online: 13