×
শেরপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

গজনী অবকাশ কেন্দ্র মধুটিলা রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনা সৌন্দর্যের লীলা ভূমি নেওয়াবাড়ি টিলা পানিহাটা-তারানি পাহাড় কলা বাগান সুতানাল দীঘি কান্দাপাড়া অর্কিড গার্ডেন পর্যটন প্রকল্প ক্যাথলিক খ্রীষ্টানদের তীর্থস্থান বারোমারি ‘সাধু লিউর খ্রীষ্ট ধর্মপল্লি’ সন্ধ্যাকুড়া জিএস রাবার বাগান অপূর্ব স্থাপত্য নিদর্শন ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ নয়আনী জমিদার বাড়ি ও রঙ মহল
☰ শেরপুর জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
গজনী অবকাশ কেন্দ্র

পরিচিতি

পাহাড় কিংবা সবুজ টানে না, এমন মানুষ কমই পাওয়া যাবে। পাহাড়ের সঙ্গ পেতে মানুষ ছুটে যায় দূরদূরান্তে, দেশে-বিদেশে। দেশের পাহাড়ঘেরা জেলাগুলো ছাড়াও পাহাড়ের দেখা মিলবে দেশের উত্তর-মধ্যাঞ্চলের শেরপুর জেলার ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায়। গারো পাহাড় নামে এর পরিচয়। সৌন্দর্যে ভরা এই পাহাড় হাতছানি দেয় পর্যটকদের। গারো পাহাড়ের তেমনি একটি পর্যটনকেন্দ্র শেরপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী অবকাশ কেন্দ্র। এলাকাটি ভারতের মেঘালয় ঘেঁষা। ১৯৯৫ সালে শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুর সদর থেকে ২৮ এবং ঝিনাইগাতি উপজেলা থেকে আট কিলোমিটার উত্তরে কাংশা ইউনিয়নে গজনী পাহাড়ের প্রায় ৯০ একর পাহাড়ি টিলায় ‘গজনী অবকাশ কেন্দ্র’ নামে একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। সমতল ভূমি থেকে অবকাশ ভবনে ওঠা-নামা করার জন্য পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় আঁকাবাঁকা ‘পদ্ম সিঁড়ি’। পদ্ম সিঁড়ির পাশেই গজারি বনে কাব্যপ্রেমীদের জন্য কবিতাঙ্গনের গাছে গাছে ঝোলানো আছে প্রকৃতিনির্ভর রচিত কবিতা। এখানে রয়েছে হ্রদের পানির ওপর সুদৃশ্য দ্বিতল ‘জিহান অবসরকেন্দ্র’। গারো পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য আছে আকাশচুম্বী ‘সাইট ভিউ টাওয়ার’। কৃত্রিম হ্রদে নৌবিহারের জন্য আনা হয়েছে হয়েছে ‘প্যাডেল বোট’। দেশি ‘ময়ূরপঙ্খি নাও’ও আছে। আরও উপভোগ করবেন দোদুল্যমান ব্রিজ ও সুড়ঙ্গপথ। শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মিত হয়েছে চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, বন্য হাতি, ডাইনোসর, মৎস্যকন্যা, জিরাফ, বাঘ, হরিণ, পাখিসহ নানা ভাস্কর্য রয়েছে। এ ছাড়া পাহাড় থেকে নেমে আসা পানিতে কৃত্রিম জলপ্রপাতও তৈরি হয়েছে এখানে। এখানে রয়েছে একটি মিনি চিড়িয়াখানা। গজনী অবকাশ কেন্দ্রে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। এই ওয়াচ টাওয়ারে গিয়ে ভারতের মেঘালয় সীমন্ত দেখা যাবে। তা ছাড়া সবুজ গাছ পালা ও উঁচু-নিচু টিলাও দেখাও যাবে। আর ভাগ্য ভালো থাকলে ভারতের সীমান্তে বন্য হাতিরও পদচারণ দেখা মিলতে পারে। এই ওয়াচ টাওয়ারের প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। গজনীতে যাওয়ার পথে সড়কের দুই পাশে মিলবে ছোট ছোট টিলায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। তা ছাড়াও পাখির মধুর ডাক তো শোনাই যাবে।


অবস্থান ও যাতায়াত

ঝিনাইগাতী, শেরপুর | শেরপুর থেকে আনুমানিক দূরত্ব = ৩০ কি:মি: বাসভাড়া= ৫০ টাকা। সিএনজি ভাড়া = ২৫০ টাকা। এখানে আসার জন্য সড়ক পথে যাতায়ত খুব সহজ। গজনী অবকাশ পর্যন্ত রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মসৃণ পিচঢালা পথ। রাজধানী ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যাতায়াতই সবচেয়ে উত্তম। উত্তরবঙ্গ থেকে টাঙ্গাইল-জামালপুর হয়েও আসতে পারেন সড়ক পথে। শেরপুর শহর থেকে গজনীর দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে সরাসরি মাইক্রোবাস অথবা প্রাইভেট কারে গজনী অবকাশ যেতে পারেন। ঢাকা থেকে নিজস্ব বাহনে মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টায় ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশে আসা যায়। এ ছাড়া ঢাকার মহাখালি থেকে ড্রিমল্যান্ড বাসে শেরপুর আসা যায়। ভাড়া ২৫০টাকা। মহাখালী থেকে দুপুর ২টায় ছাড়ে এসিবাস। ভাড়া ৩৫০টাকা। এছাড়া ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় ষ্টেডিয়াম ৪ নং গেইট থেকে সরাসরি বিকাল ৩-৪টায় শিল্প ও বণিক সমিতির গাড়ী ঝিনাইগাতীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ভাড়া ৩০০টাকা । যারা ড্রিমল্যান্ডে আসবেন, তারা শেরপুর নেমে নিউমার্কেট থেকে মাইক্রোবাস ৫০০ টাকায় সোজা গজনী যেতে পারবেন। শেরপুর থেকে লোকাল বাস,টেম্পু, সিএনজি অথবা রিক্সায় গজনী অবকাশ কেন্দ্রে যাওয়া যায়।


Total Site Views: 996168 | Online: 6