×
গাইবান্ধা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

বালাসী ঘাট বিরাট রাজার ঢিবি গাইবান্ধা পৌর পার্ক রংপুর সুগার মিলস্ লিমিটেড বর্ধনকুঠি মীরের বাগানের ঐতিহাসিক শাহসুলতান গাজীর মসজিদ প্রাচীন মাস্তা মসজিদ কাদিরবক্স মন্ডল মসজিদ ভরতখালী কাষ্ঠ মন্দির (কালি মন্দির)
☰ গাইবান্ধা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
ভরতখালী কাষ্ঠ মন্দির (কালি মন্দির)

পরিচিতি

দু'শ বছরের ইতিহাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালীর কাষ্ঠ কালী মন্দির। গাইবান্ধা তথা সারা দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান। প্রতি বছর বৈশাখ মাস জুড়ে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এখানে বিশেষ পুজো ও মেলা বসে। যেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিবেশি দেশ ভারত ও নেপাল থেকে হাজার হাজার ভক্ত আসেন। ওই সময় দেড় হাজারেরও বেশি পাঠা বলি ও তিন হাজার জোড়ারও বেশি কবুতর উত্সর্গ করা হয়। এছাড়া বছর জুড়েই ভক্তরা আসেন এখানে পুজো দিতে। লিখিত কোন ইতিহাস না থাকায় লোকমুখে প্রচলিত কাহিনী থেকে জানা যায়, কমপক্ষে দু'শ বছরের পুরনো এই কালী মন্দির। কিংবদন্তী আছে ঘাঘট নদীতে ভেসে আসা একটি কাঠের গুঁড়ি ভরতখালীতে এসে আটকে যায়। সাধারণ কাঠ মনে করে এক ব্যক্তি তাতে কুড়োল দিয়ে আঘাত করলে রক্ত বেরিয়ে আসে। ওই দিন দিবাগত রাতে তত্কালীন জমিদার রমনীকান্ত রায় কালী দেবীর স্বপ্নাদেশ পান যে 'আমি তোর ঘাটে এসেছি, তুই সমাদর করে পূজা দে'। জমিদার কারিগর দিয়ে সেই কাঠের খণ্ডটিকে কালী মূর্তিতে রূপান্তর করে পূজা অর্চনা শুরু করেন। প্রথমে একটি খড়ের ঘরে পূজা শুরু হলেও পরে জমিদার পাকা মন্দির তৈরি করে দেন। জাগ্রত কালী হিসাবে এখানে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন মনোবাসনা নিয়ে দেবীর চরণে পাঠা বলি দেন। বিয়ে, সন্তান কামনা, রোগমুক্তিসহ নানা বিষয়ে দেবীর কাছে প্রার্থনা করে পাঠা বলি, কবুতর উত্সর্গ ও নানা উপাচারে ভক্তরা পূজা দেয়। ভক্তদের মতে প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ায় সেই ধারাবাহিকতায় এখনও মানুষ ভিড় করে পূজা দেয়। মন্দির কমিটির সচিব উত্পল সাহা জানান, দেবকন্যা যমুনা ভরতখালীর কালী মন্দিরের দেবীকে দর্শন করতে আসবেন বলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে গল্প প্রচলিত ছিল। সে অনুযায়ী ১৯৯২ সালে যমুনা নদী তীর ভাঙতে ভাঙতে মন্দিরের কাছে চলে আসে তখন অনেকে মন্দির নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশংকায় ভীত হয়ে পড়ে। কিন্তু যমুনা নদী মন্দিরের কাছে এসে দেবী দর্শন করে ফিরে যায়।মন্দিরের পুরোহিত দুলাল চক্রবর্তী বলেন, বৈশাখ মাসের পুজো ও মেলার উপার্জন দিয়েই মূলত মন্দির চলে।[আরিফুর রহমান লিটু]


অবস্থান ও যাতায়াত

গাইবান্ধার সাঘাটাতে


Total Site Views: 848246 | Online: 3