×
পাবনা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের সৎসঙ্গ(আশ্রম-মন্দির) পাকশীস্থ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ক্ষেতুপাড়া জমিদার বাড়ী চাটমোহর শাহী মসজিদ হান্ডিয়াল জগন্নাথ মন্দির তাড়াশ জমিদার ভবন নগরবাড়ি-মোহনগঞ্জ ডলফিন অভয়ারণ্য নাজিরগঞ্জ ডলফিন  অভয়ারণ্য শিলন্দা নাগডেমড়া ডলফিন অভয়ারণ্য
☰ পাবনা জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
শিলন্দা নাগডেমড়া ডলফিন অভয়ারণ্য

পরিচিতিঃ

পৃথিবীতে ডলফিন আছে মোট ৪০ রকমের (প্রজাতি-উপপ্রজাতি মিলিয়ে)। এর মধ্যে মিঠাপানির নদীতে বাস করে মাত্র পাঁচটি প্রজাতি। গঙ্গা,

সিন্ধু, আমাজন, ইয়াংজি ও মেকং নদীতে এরা বাস করে। ইয়াংজি নদীর ডলফিনের সুস্পষ্ট খোঁজ অনেক দিন নেই। বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন,

সিন্ধু নদীর শুশুক গাঙ্গেয় শুশুকেরই উপপ্রজাতি। আর মেকং নদীর ইরাবতী ডলফিনকে ঠিক নদীর ডলফিন বলা যায় না। এরা আসলে উপকূলীয়

ডলফিন, নদীতে ঢুকে পড়ে। বাংলাদেশের নদীতে এ ডলফিন প্রচুর পাওয়া যায়।


পৃথিবীর সব নদীতেই বর্ষার দিনে পানি ঘোলা থাকে। নদীর পানিতে ডলফিনরা প্রায় জন্মান্ধ, এদের চলাফেরা, শিকার ধরার জন্য বাদুড়ের মতো

ইকো লোকেশনের দরকার হয়। আমাজন নদীর ডলফিনরা অবশ্য কিছুটা দেখতে পায়।


বাংলাদেশের সুন্দরবনে চারটি প্রজাতির ডলফিনজাতীয় প্রাণী দেখা যায়। এদের মধ্যে ইন্দোপ্যাসিফিক হামব্যাক ডলফিন শীতের মৌসুমে

সুন্দরবনের নদী ও খাঁড়িতে এসে পড়ে। ইরাবতী ডলফিন সারা বছরই জঙ্গলের নদী, খাঁড়িতে বসবাস করে। আর শুশুক বা গাঙ্গেয় ডলফিন মূলত

মিঠাপানির প্রাণী, কিন্তু বেশ লবণ সহ্য করতে পারে বলে সুন্দরবনের পূর্বাংশে এদের বেশি দেখা যায়। আর একটি ক্ষুদ্র ডলফিন—রিভার

পরপয়েজ, শুধু বড় নদীগুলোতে থাকে; এরা সংখ্যায়ও খুব কম।


৫০ বছর আগে দেশের প্রায় সব বড় নদী ও তাদের শাখাসমূহে গাঙ্গেয় শুশুক দেখা যেত। বর্ষাকালে এরা ছোট খালে, এমনকি গভীর বিল-ঝিলে

ঢুকে পড়ত। ডব্লিউসিএস বাংলাদেশের ডলফিন গবেষক রুবাইয়াত মনসুর জানালেন, যেখানে দুটি নদীর সঙ্গমে পানিপ্রবাহ তীব্র গতিতে পাক

দিয়ে ঘোরাফেরা করে, গাঙ্গেয় শুশুক সেসব এলাকায় স্থায়ী হয়। পক্ষান্তরে ইরাবতী ডলফিন এক দিনেই অনেকখানি এলাকা চষে বেড়ায়। পরের

দিন একই এলাকায় ঘুরে আসে।


যুক্তরাজ্যভিত্তিক বন্য প্রাণীবিষয়ক সংস্থা ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (ডব্লিউসিএস) ২০০৬ সালে বাংলাদেশের ডলফিনের

ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ জরিপ করে। a২০০৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুন্দরবনের নদীগুলোতে ইরাবতি ডলফিন ছিল ৪৫১টি এবং শুশুক ছিল

২২৫টি। পরবর্তীতে সংস্থাটি আলাদাভাবে ইরাবতী ডলফিনের ওপর আরও একটি জরিপ চালায় যা একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করা

হয়। সেই প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে বাংলাদেশে ইরাবতী ডলফিনের সংখ্যা বিশ্বে সর্বোচ্চ অর্থাৎ ৫ হাজার ৮০০টি। তবে এর আগে ধারণা

করা হতো ভারতের দক্ষিণ উপকূলে সবচেয়ে বেশি ইরাবতী ডলফিনের আশ্রয়স্থল।

ডলফিন রক্ষার জন্য ২০১৭ সালে 'এক্সপ্যান্ডিং দ্য প্রটেকটেড এরিয়া সিস্টেম টু ইনকরপোরেট ইম্পর্ট্যান্ট অ্যাকুয়াটিক ইকোসিস্টেমস

বা গুরুত্বপূর্ণ জলজ প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনার জন্য রক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ' শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৭ এর ১৮ জুলাই

প্রকল্পের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। ইউএনডিপির সহযোগিতায় এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটির অর্থায়নে প্রকল্পটি

বাস্তবায়ন করছে বন বিভাগ। আড়াই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। এই জরিপটি শেষ হলেই জানা যাবে

দেশের শুশুক ও ডলফিনের প্রকৃত সংখ্যা।


১ ডিসেম্বর ২০১৩ পাবনা জেলার বেড়া ও সাথিয়া উপজেলার পদ্মা নদীর অংশে শিলন্দা-নাগডেমরা ২৪ দশমিক ১৭ হেক্টর অংশ ডলফিন

অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এসব এলাকায় শুশুক/ ডলফিন ধরা, মারা বা প্রজনন ক্ষেত্র বিনষ্ট করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।


অবস্থান ও যাতায়াতঃ

পাবনা জেলার বেড়া ও সাথিয়া উপজেলার পদ্মা নদীর অংশ শিলন্দা-নাগডেমরা এলাকায় ডলফিন অভয়ারণ্য অবস্থিত। বেড়া ও সাথিয়া

উপজেলায় এসে সি এন জি যোগে পদ্মা নদীর অংশে শিলন্দা-নাগডেমরাযা যাওয়া যায়।


Total Site Views: 846018 | Online: 9