×
বগুড়া জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

বাবা আদমের মাজার ও আদমদিঘীর প্রখ্যাত দিঘী সাউদিয়া সিটি পার্ক মহাস্থানগড় ঐতিহাসিক যোগীর ভবনের মন্দির পাঁচপীর মাজার, কাহালু সারিয়াকান্দির পানি বন্দর বাবুর পুকুরের গণকবর,শাজাহানপুর জয়পীরের মাজার,দুপচাচিয়া সান্তাহার সাইলো দেওতা খানকা হ্ মাজার শরিফ,নন্দীগ্রাম গোকুল মেধ- বেহুলা লক্ষ্মীন্দরের বাসর ঘর পোড়াদহের মাছের মেলা
☰ বগুড়া জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
পোড়াদহের মাছের মেলা

পরিচিতি

পোড়াদহ মেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি প্রাচীন লোকজ মেলা। বগুড়া জেলা শহর হতে ১১ কিলোমিটার পূর্বদিকে ইছামতি নদীর তীরে পোড়াদহ নামক স্থানে প্রতি বছর যে মেলা বসে তাই “পোড়াদহ মেলানামে পরিচিত। বাংলাদেশে যে কয়টি গ্রাম্য মেলা পুরাতন জৌলুষ নিয়ে সগর্বে টিকে আছে তার মধ্যে বগুড়ার পোড়াদহ মেলা অন্যতম।প্রায় চার শত বছর পূর্বে শুরু হওয়া মেলাটি আজও তার পুরাতন ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

পোড়াদহ মেলা, যাকে বলা হয় ঐতিহাসিক পোড়াদহ মেলা শুরুর সঠিক সাল জানা যায় না। তবে বলা হয় বর্তমান সময় থেকে প্রায় চারশত বছর পূর্বে কোন এক সময়ে মেলা সংগঠনের স্থানে একটি বিশাল বটবৃক্ষ ছিল।একদিন হঠাৎ করে সেখানে এক সন্ন্যাসীর আবির্ভাব হয়। তারপর সেখানে দলে দলে সন্ন্যাসীরা এসে একটি আশ্রম তৈরি করে। এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়েরর কাছে সেটি একটি পূণ্য স্থানে পরিনত হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সেখানে প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ দিনের কাছের (শেষ দিনের পূর্বের অথবা শেষ দিনের পরের বুধবার) সন্ন্যাসী পূজার আয়োজন করে। দুরদুরান্ত থেকে ভক্তরা প্রতি বছর সেই দিনটিতে এসে সমাগত হতে থাকে। দিন গড়ানোর সাথে সাথে প্রতিবছর লোকসমাগম বাড়তে থাকে। আস্তে আস্তে পূজার দিনটিতে একটি গ্রাম্য মেলার গোড়াপত্তন হয়। এক সময় সন্ন্যাসীরা স্থানটি ত্যাগ করে চলে গেলেও হিন্দু সম্প্রদায় সন্ন্যাসী পুজাটি বন্ধ করে দেয়নি। ধীরে ধীরে মেলাটির পরিচিতি বাড়তে থাকে। দুর দুরান্ত থেকে মেলা দেখতে লোকজন আসে। পুজা পার্বণ মুলত হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব হলেও এই মেলা ধর্মের গন্ডি পেরিয়ে সব ধর্মের মানুষকে উৎসবে একত্র করে। এখন সন্ন্যাসী পুজাটি চালু থাকলেও সকল ধর্মের হাজার হাজার মানুষ মেলাতে এসে উপস্থিত হয়।

সন্ন্যাসী পুজা উপলক্ষে মেলাটি শুরু হয়েছিল তাই এর নাম প্রথম অবস্থায় ছিল সন্ন্যাসী মেলা। মেলাটি পোড়াদহ নামক স্থানে সংগঠিত হয়।লোক মুখে স্থানের নাম অনুসারে পোড়াদহর মেলা হিসাবে চলতে চলতে এক সময় এর নাম পোড়াদহ মেলা হিসাবে প্রচলিত হয়ে যায়। মেলা উপলক্ষে আশেপাশের গ্রামের যেসব মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে তারা জামাই নিয়ে বাপের বাড়িতে হাজির হয় বলে অনেকে একে জামাই মেলা হিসাবে সম্মোধন করেন। আবার মেলায় বড় বড় হরেক প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় বলে কিছু লোক একে মাছের মেলা বলে ডেকে থাকেন।

বিভিন্ন জন বিভিন্ন নামে সম্মোধন করলেও এটি মূলত 'পোড়াদহ মেলা' নামেই সবার কাছে পরিচিত।মেলা মূলত একদিন বুধবার। সেদিন দুর দুরান্তের মানুষ মেলায় আসে। তবে একদিনের মেলা হলেও স্থানীয়ভাবে সপ্তাহব্যাপী উৎসব লেগে থাকে। মেলা উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতে আত্বীয় স্বজনরা এসে জড়ো হয়। চারিদিকে উৎসব মুখোর অবস্থা বিরাজ করে। মূল মেলার পরদিন বৃহস্পতিবার একই স্থানে এবং আশেপাশের গ্রামে গ্রামে চলে ছোট আকারের বউ মেলা। মূল মেলাটি সরকারী তত্বাবধানে আয়োজন করা হলেও বউ মেলা স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্দোগে আয়োজন করা হয়।

গ্রামের যেসব মহিলা কাজের চাপে অথবা রক্ষনশীল মনমানসিকতার কারনে মূল মেলায় যেতে পারেনা তাদের জন্যই বিশেষ করে এই আয়োজন করা হয়। বউ মেলার একটি বিশেষত্ব হলো এখানে শুধুমাত্র মেয়েরা প্রবেশ করতে এবং কেনাকাটা করতে পারে। [উইকিপিডিয়া]

 

অবস্থান ও ও যাতায়াত

পোড়াদহ বটতলা, গোলাবাড়ী, মহিষাবান, গাবতলি, বগুড়া।ঢাকা থেকে বগুড়া পর্যন্ত ২০২ কিমি এবং বগুড়া থেকে ১২.৭ কিমি চেলোপাড়ার ফতেহ আলী ব্রিজ হয়ে চন্দনবাইসা রোড ধরে গোলাবাড়ি বাজারের পর পরেই মেলাস্থল পোড়াদহ পর্যন্ত ।

বগুড়া হতে সরাসরি বাসে অথবা অটোরিক্সায় পোড়াদহ আসা যায়। মেলা চলার সময় বগুড়া হতে বাসে বা অটোরিক্সায় প্রথমে গোলাবাড়ি পর্যন্ত এসে পুনরায় অন্য অটোরিক্সা বা রিক্সাযোগে পোড়াদহ মেলা স্থলে আসা যাবে। ঢাকা থেকে ভাল মানের বাসে সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় বগুড়ায় আসা যায়।


Total Site Views: 846055 | Online: 11