×
মৌলভীবাজার জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, বড়লেখা মাধবকৃন্ড ইকোপার্ক বাইক্কাবিল হাকালুকিহাওর বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল মাধবপুর চা বাগান ও লেক মনিপুরী পল্লী মনু ব্যারেজ বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট শ্রীমঙ্গল চা বাগান, চা গবেষণা কেন্দ্র ও ৭–রঙ্গা চা হাম হাম ঝর্ণা মৌলভীবাজারে মণিপুরী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব “রাসলীলা ও মেলা ক্যামেলিয়া লেক
☰ মৌলভীবাজার জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
মৌলভীবাজারে মণিপুরী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব “রাসলীলা ও মেলা

পরিচিতি

বৃহত্তর সিলেটের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্যতম বিশ্বনন্দিত সাংস্কৃতিক ধারক মণিপুরী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব “রাসলীলা। প্রতি বছর কার্তিকের পূর্ণিমা তিথিতে মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা কমলগঞ্জ আর আদমপুরে পালিত হয় এ উৎসব।

কমলগঞ্জের মাধবপুরের জোড়ামণ্ডপে রাসলীলা উৎসবের আয়োজন করেন মহারাসলীলা সেবা সংঘের বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা। আর আদমপুরের তেতইগাঁও সানাঠাকুর মণ্ডপে রাসলীলা উৎসবের আয়োজক মৈ-তৈ সম্প্রদায়ের রাস উৎসব উদযাপন কমিটি। রাতভর রাধাকৃষ্ণের প্রণয়োপখ্যানের সে রাসলীলা উপভোগ করতে সারাদেশ থেকে ছুটে আসেন হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, কবি-সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষজন।

মাধবপুরের মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বেলা এগারোটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরুষদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে গোপরাস। সন্ধ্যার পরে চলবে মণিপুরী কীর্তন। রাত এগারোটা থেকে ভোর পর্যন্ত চলবে উৎসবের মূল আকর্ষণ মণিপুরী নারীদের অংশগ্রহণে রাসনৃত্য।

মহা রাসলীলা উপলক্ষ্যে দুই জায়গাতেই বসে গ্রামীণ মেলা। এ উপলক্ষে এখানকার মণ্ডপগুলো কাগজের কারুকাজে চোখ ধাঁধানো নকশায় সাজানো হয়। এরই মাঝে মণিপুরী তরুণী শিশু নৃত্যশিল্পীরা রংবেরংয়ের পোশাকে সুনিপুন নৃত্যাভিনয় রাতভর মুগ্ধ করে রাখেন ভক্ত আর দর্শনার্থীদের। মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজন ছাড়াও জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ মিলিত হন এ আনন্দ উৎসবে।রাসলীলার ইতিহাস প্রায় দেড়শ বছরের পুরানো। জানা যায় ১৭৬৯ সালে মনিপুরের মহারাজা ভাগ্যচন্দ্র স্বপ্নাদেশে রাসলীলার এই নৃত্য-গীতের প্রর্বতন করেছিলেন। মহারাজ ভাগ্যচন্দ্র বেষ্ণব ধর্মের আচরণীয় শ্রীমদ্ভগবতের রাস পঞ্চাধ্যায় পঠন সেবায় ব্রতী হন বটে কিন্ত ভগবৎকৃত রাসলীলা, গোপী, সখী ও মঞ্জুরীসহ বিরাজমান দৃশ্য চাক্ষুষ দর্শনে অপারগ হয়ে নিজে শ্রীগোবিন্দ জিউর চরণে প্রাণপাত শয়নে গেলেন। তন্দ্রাবস্থায় তিনি দেখতে পান, শ্রীকৃষ্ণ শীরাধা ও গোপীসহ দিব্য রাসলীলা করছেন। এরপরে মহারাজা ভাগ্যচন্দ্র কয়েকজন কুমারী মেয়ে দিয়ে স্বপ্নের মতো রাসলীলা করালেন। এতে নিজ কন্যা কুমারী বিশ্বাবতীকে শ্রীরাধা এবং মন্দিরের শ্রীগোবিন্দকে শ্রীকৃষ্ণের ভূমিকায় অবতীর্ণ করে রাসলীলা করেন।

১৯১৯ সালের নভেম্বরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রীহট্ট ভ্রমণে এসে শহরের উপকণ্ঠে মণিপুরী রাসনৃত্য দেখে অভিভূত হন। রবীন্দ্রনাথ ত্রিপুরা রাজ্যের সহায়তায় ত্রিপুরা থেকে একজন মণিপুরী নৃত্য শিক্ষক নিয়ে গিয়ে শান্তি নিকেতনে মণিপুরী নৃত্য শিক্ষাদান শুরু করেছিলেন।

রাসলীলা: রস থেকে ‘রাস শব্দের উৎপত্তি। ‘রাস হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের সর্বোত্তম মধুর রস। অতএব ‘রাসলীলাবলতে শ্রীকৃষ্ণ তার হলাদিনী শক্তি শ্রী রাঁধা ও অন্যান্য গোপীগনের সহিত যে লীলাখেলা করেছেন তাকেই বুঝায়। মণিপুরী সমাজে প্রচলিত রাসনৃত্যকে ৬ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

এগুলো হলো- ১. শারদীয় মহারাস ২. বসন্ত রাস ৩. নিত্য রাস ৪. কুঞ্জ রাস ৫. গোপী রাস ৬. উদখুল রাস। এর মধ্যে শারদীয় মহারাস হচ্ছে বিশেষ বৈশিষ্ট্যম-িত। শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা সংঘটিত লীলাসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলেই একে মহারাস লীলা বলা হয়ে থাকে। প্রতিবছর শারদীয় পূর্ণিমা তিথিতে মাধবপুরের জোড়ামন্ডপে এই মহারাস লীলানুকরণের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

রাসলীলার ১০টি অঙ্গ: প্রথম- বংশীধ্বনি, দ্বিতীয়- সংজল্পন, তৃতীয়- রমনখেলা, চতুর্থ- অন্তর্ধান, পঞ্চম- আবির্ভূত আসনে বসন, ষষ্ঠ- প্রশ্ন কুটোত্তর, সপ্তম- নৃত্যর¬াস, অষ্টম- কুঞ্জেরহ, নবম- বাড়িখেলা ও দশম- বনর্বিহরনম। রাধা গোবিন্দের লীলার ৪ প্রকার বিরহ এবং ৪ প্রকার মিলন হয়: বিরহ হলো: ১.পূর্বরাগ, ২. প্রেমবৈরিত্য, ৩. মান ও ৪. মাথুর। মিলন হলো: - ১. সংক্ষিপ্ত, ২. সম্পন্ন, ৩. সম্পূর্ন ও ৪.সমৃদ্ধিমান।(সংগৃহিত)

অবস্থান ও ও যাতায়াত

ঢাকা থেকে সরাসরি কমলগঞ্জ যাওয়া যায় ট্রেনে। সিলেটগামী পারাবত ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস কমলগঞ্জ (ভানুগাছ) স্টেশনে থামে। এছাড়া অন্যান্য ট্রেনে শ্রীমঙ্গল এসেও সেখান থেকে সহজেই কমলগঞ্জ আসা যায়।ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস। দুপুর ২টায় প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস। বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০টায় মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া ১২০ থেকে ৭৭৫ টাকা।

এছাড়া ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সিলেট এক্সপ্রেস ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাস যায় শ্রীমঙ্গল। ভাড়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জ যাওয়া যায় বাস কিংবা অটো রিকশায়। একইভাবে যাওয়া যাবে আদমপুরেও।


Total Site Views: 1089269 | Online: 9