×
মৌলভীবাজার জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, বড়লেখা মাধবকৃন্ড ইকোপার্ক বাইক্কাবিল হাকালুকিহাওর বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল মাধবপুর চা বাগান ও লেক মনিপুরী পল্লী মনু ব্যারেজ বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট শ্রীমঙ্গল চা বাগান, চা গবেষণা কেন্দ্র ও ৭–রঙ্গা চা হাম হাম ঝর্ণা মৌলভীবাজারে মণিপুরী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব “রাসলীলা ও মেলা ক্যামেলিয়া লেক
☰ মৌলভীবাজার জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
হাম হাম ঝর্ণা

পরিচিতি

হাম হাম জলপ্রপাতের অবস্থান বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের অন্তর্গত মৌলভীবাজার জ়েলার কমলগঞ্জ উপজেলায়। এই ঝর্ণাটি প্রথম আবিস্কার হয় ২০১০ সালে। এক দিনের মধ্যে এই হামহাম ঝর্না ঘুরে আসা যায়। প্রকৃতির অপরূপ রোমাঞ্চকর নয়নাভিরাম হামহাম জলপ্রপাত একনজর দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠছে দিনে দিনে। এই ঝর্নাকে অনেকেই জোকের রাজ্য হিসেবে বলে থাকে। হামহাম ঝর্ণায় পৌছতে হলে আপনাকে পাড়ি দিতে হবে দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলের পিচ্ছিল ঝিরিপথ, পাহাড়ি উচুনিচু রাস্তা এবং জোকের আস্তানা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরুপ স্থান এই হাম-হাম ঝর্না। এই ঝর্ণা একেবারে পাহাড় ঘেঁষা, পাহারেরউপর থেকেই বি এস এফ এর ক্যাম্প দেখা যায়। হাম হাম যাবার পথে চা বাগান এবং এর সংলগ্ন রাজকান্দি বনাঞ্চলের সারি সারি কলাগাছ, জারুল, চিকরাশি ও কদম গাছ। এর ফাঁকে ফাঁকে উড়তে থাকে রং-বেরঙের প্রজাপতি, পাখি। ডুমুর গাছের শাখা আর বেত বাগানে দেখা মিলবে অসংখ্য চশমাপরা হনুমানের, এদের চোখের চারপাশে এমনভাবে লোমশ চামড়া রয়েছে, দেখে মনে হবে যে গোল গোল চশমা পড়ে আছে তারা। এছাড়াও রয়েছে ডলু, মুলি, মির্তিঙ্গা, কালি ইত্যাদি বিচিত্র নামের বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ। পুরো যাত্রাটাই হবে একটা এডভেঞ্চার বিশেষ! হামহাম ঝর্নার সামনের পানির অংশে মুলত ধিরে ধিরে পানির গভিরতা বৃদ্ধি পায় এবং একটা সময় এ ঢাল গভিরে চলে গিয়েছে ফলে অল্প কিছুদুর সামনেই বেশ গভির। এছাড়াও পানির মধ্যে ঢালে বালু বা নুড়ি পাথর থাকায় গভিরের দিকে চলেযেতে নিলে ধরার মত বা দাড়ানোর মত কোন শক্ত অবলম্বন সেখানে নেই। এছাড়াও হামহামে ঝর্নার সামনের দিকে গাছেড় গুড়িতে অল্প পানি থাকলেও গাছের গুড়ি তে দাঁড়ানো গেলেও অল্প সামনেই পানি বেশ গভির। তাই গাছের গুড়িতে সাতার না জানলে সাবধান হতে হবে। এছাড়াও হামহামের বা দিকে দুই একটা ডুবন্ত পাথর রয়েছে যেগুলর ওখানে পানি কম থাকায় ইজিলি বসা যায় তবে পাথার থেকে পরে গেলেই আপনি গভিরে চলে যাবেন। তাই সাতার না জানলে সেই ডুবন্ত পাথরটিতে না বসাই ভাল।

অবস্থান ও যাতায়াত

মৌলভীবাজার জ়েলার কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কি.মি. পূর্ব-দক্ষিণে সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন ইসলামপুরের রাজকান্দি বন রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল কুরমা বনবিটের কাছেই। হামহাম যেতে হলে কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা বনবিটের সাথে চাম্পারায় চা-বাগান হয়ে যেতে হয়। চাম্পারায় চা-বাগান থেকে কলাবনপাড়ার দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার, সেখান থেকে পায়ে হেটে যেতে হবে ঝর্ণায়। ঢাকা বা চট্ট্রগ্রাম থেকে ট্রেনে যেতে চাইলে নামতে হবে শ্রীমঙ্গল স্টেশনে। কমলাপুর থেকে রাত ৯.৫০ এবং দিনে কিছু ট্রেন আছে; চট্টগ্রাম থেকে রাত ৯ টায় এবং সকাল ৮ টায় ট্রেন ছাড়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে। ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল পৌছায় রাত ৩ টায়, চট্টগ্রাম থেকে ভোর ৫ টায় এবং বিকেল ৪ টায়। দিনে ও রাতে বাস তো আছেই, ৪ থেকে ৫ ঘন্টায় শ্রীমঙ্গল পোঁছায়।মৌলভীবাজার, কমলগঞ্জ অথবা শ্রীমঙ্গল শহর থেকে বাস অথবা রিজার্ভ গাড়ি/ সি এন জি তে যেতে পারেন হাম-হাম ঝর্নায়। ট্রেন স্টেশন ও বাস স্টান্ডেই জিপগাড়ি বা সি এন জি ভাড়া পাওয়া যায়, জীপে বা সি এন জি তে কলাবন পাড়া পর্যন্ত এসে, পায়ে হেটে হাম-হাম ঝর্ণায় পৌঁছানো যায়। অবশ্যই যাওয়া ও আসার জন্য ভাড়া করবেন। সিএনজি নিয়ে গেলে ভাড়া ১২০০-১৮০০ টাকার মধ্যে হবে। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে কলাবনপাড়া যেতে দেড় থেকে দুই ঘন্টা সময় লাগবে। কলাবনপাড়া থেকে হামহামে যেতে-আসতে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা সময় লাগে। রাস্তা খারাপ হলে একটু বেশী লাগতে পারে। কলাবনপাড়া থেকে ২/৩ শ টাকায় একজন গাইড নিয়ে নিলে, গাইড সঠিক পথে দ্রুত নিয়ে আস্তে পারবে। শ্রীমঙ্গল থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান হয়েও যাওয়া যায়; শ্রীমঙ্গল শহরে থেকে লাউয়াছড়া যাওয়ার জন্য সিএনজি ও জীপ রয়েছে। লাউয়াছড়া ঘুরে, বনের গাঁ ঘেঁষে আঁকা বাঁকা পাহাড়ি পথ, টিলা কাঠের গুড়ি দিয়ে বানানো সাঁকো দিয়ে ঘণ্টা খানেক হাঁটলেই আপনি পৌঁছে যাবেন কলাবনপাড়া। সেখান থেকে পায়ে হেটে যেতে হবে ঝর্ণায়। এছাড়াও কমলগঞ্জ পৌরসভার মোড় থেকে কলাবান পর্যন্ত দূর ২৪ কিলোমিটার। এই ২৪ কিলোমিটারের মধ্যে কুরমা বনবিট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার পাকা রাস্তা এবং বাকিটা পথ কাঁচা। কলাবন পাড়া থেকে হাঁটার রাস্তা। কলাবনপাড়া থেকে হামহামে যেতে-আসতে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা সময় লাগে। রাস্তা খারাপ হলে একটু বেশী লাগতে পারে। তাই শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সকাল সাড়ে ছয়টার মধ্যে রওয়ানা হওয়াই ভাল। পরে অন্য কিছু স্থানেও ঘুরে আসতে পারবেন।


Total Site Views: 1232315 | Online: 4