×
সিলেট জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

হজরত শাহপারান (রঃ) মাজার জাফলং, পাহাড়, জল পাথরের মিতালী রাতারগুল মিঠাপানির জলাবন "বিছনাকান্দি" পাহাড়ের পাদদেশে অপরূপ পাথরের বিছানা পাহাড়ি মায়া ঝরনাঃ পাংথুমাই খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান (রেইনফরেস্ট) লক্ষণছড়া ও পিয়াইন নদী লালাখাল, জৈন্তিয়াপুর পাথরের তীর্থ ভোলাগঞ্জ হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার মালনি ছড়া চা বাগান লোভাছড়া ঝর্ণা ও চা বাগান সোনাতলা পুরাতন জামে মসজিদ জাকারিয়া সিটি এডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা শ্রী চৈতন্যদেবের বাড়ি লাক্কাতুরা চা বাগান লাল শাপলার রাজ্য-ডিবির হাওর
☰ সিলেট জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
রাতারগুল মিঠাপানির জলাবন

পরিচিতি

বাংলাদেশের আমাজান খ্যাত রাতারগুল হলো বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। জলাভূমিতে শাপলাসহ নানা জাতের ছোট গাছপালা এমনিতেই জন্মে। কিন্তু এসব গাছের সঙ্গে পানিসহিষ্ণু বড় গাছপালা জন্মে একটা বনের রূপ নিলে, তবেই তাকে বলে সোয়াম্প ফরেস্ট বা জলের জঙ্গল। বাংলাদেশের বান্দরবনের গভীর অরণ্যে এর চেয়েও অনেক বড়ো কয়েকটি জলাবনের সন্ধান পাওয়া গেছে শোনা গেলেও সঠিক ও নিরাপদ ভ্রমণ তথ্য এখন পাওয়া যায়নি। জানা যায়, সারা বিশ্বে ২২টি স্বাদুপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট আছে। ভারতীয় উপমহাদেশ আছে এর দুইটি। তার একটি শ্রীলংকায় আর আরেকটি আমাদের বাংলাদেশের সিলেটের গোয়াইনঘাটে। এটি দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের মানুষের কাছে সিলেটের সুন্দরবন নামেই পরিচিত। হিজল, করচ, তমাল, অর্জুন, কদম, জালিবেত, বনজাম, মুর্তা, পিটালি আর জারুলের সমারোহ রাতারগুলে। সঙ্গে রয়েছে গভীর বনে থাকা বানর, নানা প্রজাতির সাপ, বিচ্ছু, মেছোবাঘ, বুনো শূকর, কাঠবিড়ালি, বেজি, ভোঁদড়, বনবিড়ালসহ জল ও স্থলের বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী, ঘুঘু, চড়ুই, পানকৌড়ি, চিল, বালিহাঁস, বকসহ নানা প্রজাতির পাখি ও উদ্ভিদ। স্বচ্ছ নীলচে পানির ওপর ভাসমান বন রাতারগুল। অপরূপ সৌন্দর্যময় বিশাল জলবন রাতারগুলের গাছপালা বছরের সাত মাস থাকে পানির নিচে। বর্ষা মৌসুমে এ বনের গাছপালা থাকে গড়পড়তা ১০ ফুট নীল স্বচ্ছ পানিতে ডুবন্ত। গাছপালার বাকি অংশ থাকে পানির ওপর। শুকনো মৌসুমে এ বনের পানি পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে সবুজ এ বনের গাছপালা মাথা তুলে দাঁড়ায়। শীত মৌসুমে বেড়ে যায় অতিথি পাখিদের আনাগোনা। এ সময় রাতারগুলের সৌন্দর্য হয়ে যায় পুরোপুরি অন্য রকম। ভারতের মেঘালয়ের জলধারা গোয়াইন নদীতে এসে পড়ে, আর সেখান কার এক সরু শাখা চেঙ্গী খাল হয়ে পানিটা প্লাবিত করে রাতারগুল জলাবনকে। বর্ষাকালে এই বনে অথৈ জল থাকে চার মাস। যখন কিছুটা শুকিয়ে যায়, তখন পানির আশ্রয় হয় বন বিভাগের খোঁড়া বিল গুলোতে। সেখানেই আশ্রয় নেয় জলজ প্রাণী। শীতকালে অবশ্য সেটা হয়ে যায় আর দশটা বনের মতোই, পাতা ঝরা শুস্ক ডাঙ্গাবন। বনবিভাগের তথ্যমতে, এই বনের আয়তন ৩৩২৫.৬১ একর। এর মধ্যে ৫০৪ একর বন ১৯৭৩ সালে বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। বিশাল এ বনে রয়েছে প্রায় ২৫ প্রজাতির উদ্ভিদ। মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও এখানে বাণিজ্যিকভাবে মুর্তা লাগিয়েছে বন বিভাগ। মুর্তা দিয়ে শীতল পাটি বানানো হয়।


অবস্থান ও যাতায়াত

সোয়াম্প ফরেস্টটি সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। কয়েকভাবে সোয়াম্প ফরেস্ট যাওয়া যায়। সাহেব বাজার হয়ে রাতারগুল: সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি নিয়ে মটরঘাট (সাহেব বাজার হয়ে) পৌছাতে হবে, ভাড়া নেবে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আর সময় লাগবে ঘন্টাখানেক। এরপর মটরঘাট থেকে সরাসরি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে বনে চলে যাওয়া যায়, এতে ঘন্টা প্রতি ২০০ টাকা ৩০০ টাকা নিবে। এই পথটিতেই সময় ও খরচ সবচেয়ে কম। শালুটিকর হয়ে রাতারগুল: আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি নিয়ে গোয়াইনঘাট পৌছানো, ভাড়া পড়বে ৫০০ টাকা। ওসমানী এয়ারপোর্ট থেকে শালুটিকর হয়ে যাওয়া এই রাস্তাটা বর্ষাকালে খুবই সুন্দর। এরপর একইভাবে গোয়াইনঘাট থেকে রাতারগুল বিট অফিসে আসবার জন্য ট্রলার ভাড়া করতে হবে, ভাড়া ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা এর মধ্যে আর সময় লাগে ২ ঘন্টা। বিট অফিসে নেমে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে বনে ঢুকতে হবে, এতে ঘন্টা প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নিবে। আরেকটি পথ হল জাফলং হয়ে: সিলেট থেকে জাফলং তামাবিল রোডে সারীঘাট হয়ে সরাসরি গোয়াইনঘাট পৌছানো। এরপর গোয়াইনঘাট থেকে রাতারগুল বিট অফিসে আসবার জন্য ট্রলার ভাড়া করতে হবে, ভাড়া ৯০০ থেকে ১৫০০ টাকা এর মধ্যে, আর সময় লাগে ২ ঘন্টা। বিট অফিসে নেমে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে বনে ঢুকতে হবে, এতে ঘন্টা প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নিবে।


Total Site Views: 641995 | Online: 5