×
সিলেট জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

হজরত শাহপারান (রঃ) মাজার জাফলং, পাহাড়, জল পাথরের মিতালী রাতারগুল মিঠাপানির জলাবন "বিছনাকান্দি" পাহাড়ের পাদদেশে অপরূপ পাথরের বিছানা পাহাড়ি মায়া ঝরনাঃ পাংথুমাই খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান (রেইনফরেস্ট) লক্ষণছড়া ও পিয়াইন নদী লালাখাল, জৈন্তিয়াপুর পাথরের তীর্থ ভোলাগঞ্জ হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার মালনি ছড়া চা বাগান লোভাছড়া ঝর্ণা ও চা বাগান সোনাতলা পুরাতন জামে মসজিদ জাকারিয়া সিটি এডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা শ্রী চৈতন্যদেবের বাড়ি লাক্কাতুরা চা বাগান লাল শাপলার রাজ্য-ডিবির হাওর
☰ সিলেট জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান (রেইনফরেস্ট)

পরিচিতি

বাংলাদেশের সিলেট জেলায় অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। ২০০৬ সালের ১৩ এপ্রিল এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ৬৭৮.৮০ হেক্টর (১৬৭৭ একর) জমি নিয়ে এই জাতীয় উদ্যানটি গঠিত। খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানে প্রায় ২১৭ প্রজাতির গাছ এবং ৮৩ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। পূর্বে ছড়াগাঙ্গ ও হাবিবনগর, পশ্চিমে বরজান ও কালাগুল, উত্তরে গুলনি, দক্ষিনে খাদিমনগর এই ছয়টি চা বাগানের মাঝখানে ১৬৭৩ একর পাহাড় ও প্রাকৃতিক বনের সমন্বয়ে গড়ে উঠা এই রেইনফরেস্টটি জাতীয় উদ্যান বলে সরকারী স্বীকৃতি পেয়েছে এবং ইউএসএইড এর সহায়তায় এর ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে। এই উদ্যানে পাখির মধ্যে রয়েছে দোয়েল, ময়না, শ্যামা, কাক, কোকিল, টিয়া, কাঠ ঠোকরা, মাছরাঙ্গা, চিল, ঘুঘু, বক, টুনটুনি, চড়ুই, বুলবুলি, বনমোরগ, মথুরা, শালিক। স্তন্যপায়ীর মধ্যে রয়েছে বানর, হনুমান, শিয়াল, বনবিড়াল, বেজি, কাঠবিড়াল, ইঁদুর, খরগোশ, মেছো বাঘ। সাপের মধ্যে আছে অজগর, দারাইশ, উলুপুড়া, চন্দ বুড়াসহ নানা বিষধর সাপ। এই বনে হাঁটার জন্য ৪৫ মিনিট ও দুইঘন্টার দুটো ট্রেইল আছে। বনবিভাগের বিট অফিসের সামনে ট্রেইল দুটোর মানচিত্র দেয়া আছে, এ ছাড়া স্থানীয় কাউকে গাইড হিসাবে ও সাথে নেয়া


অবস্থান ও যাতায়াত

সিলেট শহর থেকে জাফলং রোড ধরে ১০ কিমি এর মতো এগুলেই শাহপরান মাজার গেট পেরুনোর পর পরই খাদিম চৌমুহনা। খাদিম চৌমুহনা থেকে হাতের ডানদিকে চলে গেছে রাস্তা। রাস্তা ধরে সামনে গেলে খাদিমনগর চাবাগানের শুরু। বাগানের রাস্তা ধরে আরেকটু সামনে গেলে একটা কালভার্ট। কালভার্ট পেরিয়ে বামের রাস্তা না ধরে পথ ধরে এগিয়ে যেতে থাকলে আরো চা বাগান, চা বাগানের পর প্রাকৃতিক বনের হাতছানি। মুল সড়ক থেকে উত্তরের দিকে পাকা, কাঁচা ও ইট বিছানো পাঁচ কিমি পথ পেরুনোর পর খাদিমনগর রেইনফরেস্টের শুরু।রেইনফরেস্টের সামনে দিয়ে উত্তর দিকে যে রাস্তা চলে গেছে, সে দিক দিয়ে এগিয়ে গেলে এয়ারপোর্ট-হরিপুর সড়কে উঠা যায়, সেখান থেকে আবার রাতারগুল সোয়াম্পফরেস্টে ও সহজেই যাওয়া সম্ভব। কোন পর্যটক যদি একদিনের জন্য সিলেট ঘুরতে চান সে ক্ষেত্রে এই পথটি ব্যবহার করে চাবাগান, রেইনফরেস্ট, সোয়ামফরেস্ট দেখে যেতে পারেন। এই পথের অধিকাংশ কাঁচা ও ইট বিছানো হলে ও গাড়ী নিয়ে যাওয়া যায় তবে বৃষ্টি থাকলে সে ক্ষেত্রে সিএনজি নিয়ে যাওয়া ভালো। খাদিম চৌমুহনাতে ভাড়ার সিএনজি পাওয়া যায়। সিলেটে পৌঁছে আপনি খাদিম নগর উদ্যানে যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাস বা সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া নিতে পারেন। সিলেট নগরী থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পূর্বে খাদিম চৌমুহনী যাওয়ার পর ডানদিকের ছোট পাকা রাস্তা ধরে আপনাকে সামনে এগুতে হবে। পিচ, ইট বিছানো ও কাঁচা রাস্তা মিলিয়ে আপনাকে আরো ৩ কিলোমিটার ভেতরে যেতে হবে উদ্যানে পৌঁছতে হলে। মাইক্রোবাসে যাতায়াত খরচ পড়বে ১০০০ টাকার মতো, আর অটোরিকশার ভাড়া হবে ৫০০ টাকার মতো।[টুটুল, রহিম শুভ্র]


Total Site Views: 1081633 | Online: 16