×
সুনামগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান

টাঙ্গুয়ার হাওর হাসন রাজার স্মৃতি বিজড়িত জমিদার বাড়ী ডলুরা শহীদদের সমাধি সৌধ লাউড়ের গড় পাগলা মসজিদ, দক্ষিন সুনামগঞ্জ পাইলগাও জমিদার বাড়ি রাধা রমন দত্ত এর সমাধি আছিম শাহ'র মাজার মরহুম - বাউল সর্ম্রাট শাহ আব্দুল করিম এর বাড়ি জাদুকাটা নদী ও শিমুল বাগান ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি/ নীলাদ্রি লেক
☰ সুনামগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি/ নীলাদ্রি লেক

পরিচিতি

নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের পাথর কোয়ারি পর্যটকদের কাছে এখন নীলাদ্রি লেক নামে পরিচিত। নীলাদ্রি লেকের অবস্থান ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ট্যাকেরঘাটে। প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভিড় জমান এ লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কিছু সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করা কঠিন। ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর (লাইমস্টোন) প্রকল্পের নীলাদ্রি লেকের সৌন্দর্য অনেকটা সে ধরণের। একদিকে টাঙ্গুয়ার হাওর আর অন্যদিকে মেঘালয়ের অপরূপ সৌন্দর্য এ লেককে করেছে অপরূপা। নীল আর সবুজের কম্বিনেশনে এ লেক অনন্যা।

তবে লেকের সৌন্দর্যে দিশাহারা হয়ে এর গভীরে চলে গেলে ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। কারণ এখানে উত্তোলিত পাথরের গর্তে এখন গভীর লেক। গড় গভীরতা ১০৫ ফিটেরও অধিক। সাবধান! স্বচ্ছ ও নীল পানি দেখেই লাফ দেবেন না। আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে নিন। এ পর্যন্ত এই লেকের পানির সৌন্দর্যে অনেকেই পানিতে নেমে পড়েন, প্রতিবছরই এই লেকে সাঁতার কাটতে গিয়ে কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে।

শুধু পর্যটকরাই এ লেকটিকে নীলাদ্রি নামে চেনেন, স্থানীয়রা পাথর কোয়ারিই বলে। নীলান্দ্রীর উৎপত্তিটা জেনে নিলে দেখাটা পরিপূর্ণতা পাবে, দেশের একমাত্র চুনাপাথর (লাইমস্টোন) খনিজ প্রকল্পটি ১৯৬৬ সালে ট্যাকেরঘাট স্থাপিত হয়। এ প্রকল্পের চুনাপাথরে আসাম-বাংলা সিমেন্ট কোম্পানিতে (বর্তমান ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি) সিমেন্ট উৎপাদিত হতো। এ প্রকল্পের মোট আয়তন ১৬২.৯৪ একর ও মোট ৫-টি কোয়ারী। জরিপের সময় ট্যাকেরঘাটের ৫টি কোয়ারীতে প্রায় ১৩ কোটি মেট্রিক টন চুনাপাথরের মজুদ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২ শতাংশ উত্তোলিত হয়েছে। ৩টি কোয়ারীর গভীরতা ৩৫ মিটারের বেশি হয়ে যাওয়ায় উত্তোলন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ৮০ সালের পর মাত্র ২টি চালু ছিল। ৮০ সালের পর এ প্রতিষ্ঠান ক্রমেই লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ১৯৯৬ সালে খনিজ প্রকল্পটির উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে ভারত হতে চুনাপাথর আমদানীর মাধ্যমে এটিকে আমদানি কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়। ২০০৭ সাল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠান তাতেও লাভের মুখ দেখেনি। বন্ধ হওয়ার পর (২০০৭ সাল) খনিজ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্র-সামগ্রী এখনও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।


অবস্থান ও যাতায়াত

সুনামগঞ্জ থেকে সাহেব বাড়ি ঘাট, নৌকায় করে মনিপুরি ঘাট সেখান থেকে তাহেরপুর অথবা সরাসরি তাহিরপুর, বাজার ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প বা নীলাদ্রি লেক।


Total Site Views: 846014 | Online: 8