পেজ ভিজিট: ২৬,৫৫,৬১৯ | অনলাইন: ৪
English
বিভাগ অনুসারে দেখুন

দুই থেকে পাঁচ দিনে ময়মনসিংহ এবং নেত্রকোনা জেলা ভ্রমণ


জেলার ভিডিও দেখুন
Card image cap

জিরো পয়েন্ট, নেত্রকোনা


ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর রাজধানী ঢাকা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।  বর্তমানে সাধারণত তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টায় ঢাকা থেকে পৌঁছানো যায় ময়মনসিংহ। 

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে রাজস্ব আদায়, প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে স্থানীয় বিদ্রোহ দমনের জন্য এই জেলা গঠন করা হয়। ১৭৮৭ সালের ১ মে তারিখে এই জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহ শহর ১৮১১ সালে হয় । শহরের জন্য জায়গা দেন মুক্তাগাছার জমিদার রঘুনন্দন আচার্য। 

এই জেলা ঘুরে দেখার জন্য খুব ভোরে বাস অথবা ট্রেনে চড়ে চলে জেতে হবে ময়মনসিংহ শহরে। ভ্রমন সুবিধারতে আমরা বাস এ গিয়ে ত্রিশাল নেমে যাই। ত্রিশাল বাস স্ট্যান্ড থেকে অল্প দুরত্তে নামাপারা বটতলায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় গেইটের পাশেই রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজরিত 'বটতলা'। কবি নজরুল ছোট বেলায় এই বটগাছের নিচে বসে বাঁশি বাজাতেন। 

আরেকটু সামনেই ব্যাপারী বাড়িতে স্থাপিত হয়েছে "নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র"।  স্মৃতিকেন্দ্রের নীচ তলায় রয়েছে সম্মেলন কেন্দ্র। দোতলায় রয়েছে কবির হাতে লেখা কবিতা, গান ও চিঠির সহস্রাধিক সংগ্রহ। নজরুল স্মৃতিকেন্দ্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হওয়ার কারণে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী এখানে আসেন । 

এবার আমরা চলে যাচ্ছি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রায় ১২০০ একর জায়গা নিয়ে ব্রম্মপুত্র নদের কূল ঘেঁষে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬১ সালে কার্যক্রম শুরু করে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন, হর্টিকালচার ফিল্ড, ফুলের বাগান, আম বাগান, লিচুর বাগান, সবুজ মাঠ, লেক, ফিস মিউজিয়াম, কৃষি মিউজিয়াম, বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত, মাছ চাষের পুকুর, গবাদী পশুর খামার, নান্দনিক সড়ক এবং বিভিন্ন দর্শনীয় ভাস্কর্য। 

বিশ্ববিদ্যালয়টির পাশে ব্রম্মপুত্র নদের অপরুপ দৃশ্য যে করো মণকে সতেজ করে দিবে। এবার আমরা চলে যাব শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা। এখানে বিখ্যাত চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্মসমূহ সংরক্ষিত আছে। ১৯৭৫ সালে স্থাপিত এই সংগ্রহশালাটি শহরের উত্তর প্রান্তে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত। 

এখান থেকে ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আলেক্সান্ডার ক্যাসেল। এই ভবনটি নির্মাণে লোহার ব্যবহারের কারণে এটি লোকমুখে "লোহার কুঠি" নামেও পরিচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী, লর্ড কার্জন, চিত্তরঞ্জন দাশ, নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ, কামাল পাশা, মৌলভী ওয়াজেদ আলী খান পন্নী, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু সহ অনেক বিখ্যাত বাক্তিবর্গ এখানে এসেছিলেন। 

প্রায় ৪৫০ মিটার দুরত্বে শহরের প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত মহারাজা শশীকান্ত আচার্যের নান্দনিক রাজবাড়ী শশী লজ। জনপ্রতি ১০ টাকা টিকিট কেটে প্রাচীন এই বাড়িটি ঘুরে দেখতে পারেন। জমিদার আমলের অনেক আসবাবপত্র এখানে প্রদর্শনীর জন্য রাখা আছে। 

এখান থেকে পাঁচ মিনিটের দুরত্তে দেখে নিবেন কাঠ, লোহা, টিন দিয়ে নির্মিত জমিদার আমলের আরেকটি দিতল ভবন। এই জমিদার বাড়িটি ১৮২৮ সালে মহারাজা শশীকান্ত সেনের শাসনামলে জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর চীন থেকে মিস্ত্রি এনে প্রতিষ্ঠা করেন।

ময়মনসিংহ শহরে রাতে থেকে পরদিন ভোরে চলে যেতে পারেন নেত্রকোনা জেলায়। 


এবার চলে আসুন  নেত্রকোনা শহরে। ছোট্ট এই শহরে যানবাহন বলতে রিক্সার আধিপত্যই বেশি দেখা যায়। শহরে গয়ানাথের মিষ্টি এবং দধির দোকানের ভালই নাম-ডাক। চাইলে আপনারাও এখানে এসে কাঁচামরিচের মিষ্টির স্বাদ নিতে পারেন। আছে আরো বাহারি সব মিষ্টি। 


নেত্রকোনা শহরের অদূরে রাজুর বাজার সংলগ্ন শেখ হাসিনা ইউনিভার্সিটি এটি। অস্থায়ী ক্যাম্পাস হলেও  বর্তমানে ৪ টি সাবজেক্ট নিয়ে এই ইউনিভার্সিটির পাঠদান চলছে। অস্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে অল্প দুরত্তে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হচ্ছে। আনুমানিক ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে শেখ হাসিনা ইউনিভার্সিটির পূর্ণ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে।


শেখ হাসিনা ইউনিভার্সিটি থেকে আমরা রওনা হলাম বিরিশিরির বিজয়পুরে চিনামাটির পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে পথে দেখা হবে এই কংশ নদীর সাথে। এই নদীতে এখনো ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় নৌকার তৈরি ফেরিই নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। নদী পারাপারের এই মুহূর্তটি খুবই উপভোগ্য। কংশ নদী পার হয়ে আমরা আবার চললাম চিনামাটির পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। এবার আমাদের সামনে চলে এসেছে আরেকটি নদী যার নাম সোমেশ্বরী। এই নদীকে এলাকার মানুষ বালুর খনিও বলে থাকে। এই নদীর পানি একেবারে স্বচ্ছ। বাঁশের তৈরি ব্রিজ দিয়ে নদী পার হতে গুনতে হয় জনপ্রতি পাঁচ টাকা। সোমেশ্বরি নদী পার হয়ে চলে আসলাম বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়ে। কেউ কেউ এই মাটিকে সাদা মাটিও বলে থাকে।  এখানে ছোট ছোট অনেক গুলো চিনামাটির পাহাড় রয়েছে এবং এই পাহাড় গুলোর তলদেশে রয়েছে  নীল পানির লেক। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসে। বাংলাদেশের মধ্যে প্রাকৃতিক  সম্পদ হিসেবে সাদা মাটির অন্যতম বৃহৎ খনিজ অঞ্চল এটি।


চিনামাটির পাহাড় থেকে অল্প দুরত্তে চলে আসলাম হাজং মাতা রাশিমনি স্মৃতি সৌধে। রাশিমনি হাজং ছিলেন টংক ও কৃষক আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী। ১৯৪৬ সালে ৩১শে জানুয়ারী কুমদিনী হাজংকে বাচাতে গিয়ে মুখোমুখি সংগ্রামে ব্রিটিশ বাহিনীর গুলিতে বহেরাতলী গ্রামে তার সহযোদ্ধা সুরেন্দ্র হাজংসহ অনেকে শহীদ হন। রাশিমনির দায়ের আঘাতে দুজন ব্রিটিশ পুলিশ নিহত হয়। প্রতিবছর ৩১শে জানুয়ারী রাশিমনি দিবস ও টংক শহীদ দিবস পালন করা হয়।


রাশিমনি স্মৃতি সৌধ থেকে এবার চলে আসলাম বিজয়পুর কমলা বাগানে। এখানে অনেক পর্যটকের ভিড় হয়। কমলা বাগান নাম হলেও এখানে কোনো কমলা গাছ নেই। এই বাগানে অনেক গুলো দোকান আছে। এগুলোতে ভারত এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের পন্য কিনতে পাওয়া যায়। এখানকার টিলায় একটি ওয়াচ টাওয়ার আছে। কথিত আছে এই টাওয়ার থেকে কেউ একজন আত্মহত্যা করে। সেই থেকে এই টাওয়ারে ওঠা নিশিদ্ধ হয়। টিলার অপর পাশে ছোট একটি জীবিত পানির কুয়া আছে। এখান থেকে অনবরত পানি উঠে আসার কারনে এটিকে জীবিত পানির কুয়া বলে। এখানে আরো আছে ঔষধি গাছের বাগান। কমলা বাগানের আসে পাশের স্থানীয় লোকজন প্রায় সবাই গারো এবং হাজং। 


কমলা বাগান থেকে চলে আসলাম বিজিবি ক্যাম্পের সাথেই জিরো পয়েন্টে। মূলত সোমেশ্বরী নদীর তীরে ভারত-বাংলাদেশ সিমান্তে জিরো পয়েন্ট অবস্থিত। জনপ্রতি ১০০ টাকা দিয়ে নৌকা ভ্রমন করতে পারবেন এখানে। 


জিরো পয়েন্ট থেকে চলে আসলাম রাণীখং মিশন। সোমেশ্বরী নদীর কোল ঘেঁষেই পুরো মিশনটি একটি উচু পাহাড়ে অবস্থিত। এটি খ্রীষ্টিয় ক্যাথলিক ধর্মপল্লী এবং ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয়। করণের কারণে মিশনটি এখন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। এখন থেকে দেখবেন কিভাবে ছোট বড় সারি সারি টিলা-পাহাড় মিশে গেছে দিগন্ত জুড়ে। পা বাড়ালেই ভারতের মেঘালয় রাজ্য। 


রাণীখং মিশন থেকে চলে আসলাম বিরিশিরি কালচারাল একাডেমীতে। করোনার প্রাদুরভাবের জন্য একাডেমী বন্ধ আছে। তাই বাইরে থেকেই দেখতে হল বিরিশিরি কালচারাল একাডেমী। 

এখান থেকে সরাসরি ঢাকার বাসে উঠে ঢাকায় চলে আস্তে পারেন অথবা নেত্রকোনা শহরে এসেও ঢাকার বাসে উঠতে পারবেন। 

বিজ্ঞাপন - অনলি টুটুল

Like My Facebook

সর্বশেষ

মিরিঞ্জা ভ্যালি

বান্দরবান ,চট্রগ্রাম

21 Nov 2024

সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা

সিলেট ,সিলেট

11 Jan 2024

চেয়ারম্যান ঘাট

নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম

10 Jan 2024

নলচিড়া ঘাট, হাতিয়া

নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম

09 Jan 2024

ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক

নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম

07 Jan 2024

যোগীর ভবন

বগুড়া ,রাজশাহী

06 Jan 2024 | ভিডিও দেখুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী ,রাজশাহী

05 Dec 2023

মা ভবানী মন্দির

বগুড়া ,রাজশাহী

04 Dec 2023 | ভিডিও দেখুন

ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক

বগুড়া ,রাজশাহী

22 Aug 2023 | ভিডিও দেখুন

বাঘা মসজিদ

রাজশাহী ,রাজশাহী

03 Jul 2023

Creating Document, Do not close this window...