পেজ ভিজিট: ২৬,৪১,৯০৫ | অনলাইন: ৮
English
বিভাগ অনুসারে দেখুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ট্যুর প্ল্যান


জেলার ভিডিও দেখুন
Card image cap

কোল্লাপাথর শহীদ সমাধিস্থল

Card image cap

আবি রিভার পার্ক

Card image cap

জয়কুমার জমিদার বাড়ী

Card image cap

কালভৈরব মন্দির


ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ট্যুর প্ল্যান

আমরা আজ যাচ্ছি তিতাস নদী বিধৌত জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।শিক্ষা ও সংস্কৃতির পীঠস্থান রূপে পরিচিত এই জেলাটি রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১০৭ কিমি. দূরে অবস্থিত।রাজধানী থেকে বাসে/ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেতে আপনার সময় লাগতে পারে দুই থেকে তিন ঘন্টা। 


ঈসা খাঁ বাংলায় প্রথম এবং অস্থায়ী রাজধানী স্থাপন করেন এই জেলার সরাইলে।বর্তমানে চট্রগ্রাম প্রশাসনিক বিভাগের অধীন এই জেলাটি ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নামকরণ নিয়ে একাধিক মত প্রচলিত আছে। কথিত আছে,সেন বংশের রাজত্বকালে এই অঞ্চলে অভিজাত ব্রাহ্মণকুলের বড়ই অভাব দেখা দিলে  রাজা লক্ষণ সেন আদিসুর কন্যকুঞ্জ থেকে কয়েকটি ব্রাহ্মণ পরিবারকে এ অঞ্চলে নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে কিছু ব্রাহ্মণ পরিবার শহরের মৌলভী পাড়ায় বাড়ি তৈরি করে। সেই ব্রাহ্মণদের বাড়ির অবস্থানের কারণে এ জেলার নামকরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। অন্য একটি মতানুসারে, দিল্লী থেকে আগত ইসলাম ধর্ম প্রচারক শাহ সুফী হযরত কাজী মাহমুদ শাহ এ শহর থেকে উল্লেখিত ব্রাহ্মণ পরিবার সমূহকে বেরিয়ে যাবার নির্দেশ প্রদান করেন, যা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করা হয়। স্থানীয়রা ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে 'বাউনবাইরা' বলে থাকেন। এছাড়া বহুল প্রচলিত বিকৃত নাম 'বি-বাড়িয়া' জেলার সুনাম নষ্ট করে বলে ২০১১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন হতে সকল ক্ষেত্রে বি-বাড়িয়ার পরিবর্তে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ লেখার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।


সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিনের জন্মভূমি এ জেলায় দেশের বৃহত্তম গ্যাস মজুদ অবস্থিত।  বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত এ জেলার রয়েছে অনেক অজানা ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। চলুন তাহলে বেড়িয়ে পড়ি!


প্ল্যানঃ উলচাপাড়া ভূইয়া বাড়ি মসজিদ- ভাদুঘর শাহী মসজিদ - শহীদ স্মৃতিসৌধ (ফারুকী পার্ক) - হযরত সৈয়দ কাজী মাহমুদ শাহ এর দরগাহ - শ্রী শ্রী কালভৈরব মন্দির - হরিপুর জমিদার বাড়ি ও মন্দির - হাতিরপুল - আরিফাইল মসজিদ - আরফান নেসা মসজিদ - ধরন্তি ঘাট 



চলুন তাহলে শুরু করা যাক।ঢাকার কমলাপুর থেকে বাস বা ট্রেনে সকাল সকাল চলে আসুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া।আমরা বাসে করে এসেছি তাই বাসের প্ল্যান ই বলছি।উল্লেখ্য বাসস্ট্যান্ড ও রেলওয়ে স্টেশন অল্প দুরত্বেই অবস্থিত।বাস আপনাকে কাউতলী বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিবে।আপনি প্ল্যানের সুবিধার্থে কাউতলী বাস স্ট্যান্ড এর ৮০০ মিটার আগেই নেমে পড়বেন হুজুরবাড়ি বাস স্টপে।সেখানে সকালের নাস্তা সেরে সিএনজি রিজার্ভ করে চলে যান মূল সড়কের পশ্চিমে ৩ কিমি দূরে অবস্থিত সদর উপজেলার উলচাপাড়া গ্রামে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উলচাপাড়া জামে মসজিদে। মসজিদটিতে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে অনুমান করা যায় ১৭২৭-২৮ খ্রিস্টাব্দে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটির প্রতিষ্ঠাতা পশ্চিম দেশীয় বনিক শাহ সৈয়দ মো: মুরাদ, যাকে মসজিদের পাশেই সমাহিত করা হয়েছে।৩ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির আয়তন ১১৪৪ বর্গফুট এবং এর দেয়াল ৪ ফুট পুরু। একই সিএনজিতে করে সেখান থেকে ৫ কিমি ভ্রমণ করে হুজুরবাড়ি বাসস্টপ হয়ে চলে যান মুঘল সম্রাট মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব আলমগীর এর রাজত্বকালে ১০৮৪ হিজরি আনুমানিক ১৬৬৩ খ্রিষ্টাব্দে সে সময়কার সরাইল পরগণার জমিদার নুর এলাহী ইবনে মজলিশ শাহবাজের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ঐতিহাসিক ভাদুঘর শাহী মসজিদ-এ।এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির আয়তন ১০৫৬ বর্গফুট এবং দেয়ালের পুরুত্ব ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি।রয়েছে ৭৫ ফুট উচ্চতার একটি সুবিশাল মিনার। মসজিদের অভ্যন্তরীণ কারুকার্যের মধ্যে কলসের মধ্য হতে বের হয়ে আসা একটি করে হাত প্রসারিত অবস্থায় ছিল। যা অন্য কোন মসজিদে দেখা যায়নি। মসজিদে কালো পাথরে ফারসি ভাষায় লিপি রয়েছে। যা থেকে এর ইতিহাস জানা যায়।অসাধারণ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মসজিদ দুইটি দেখা শেষে একই সিএনজি নিয়ে হুজুরবাড়ি বাসস্টপ হয়ে কুমিল্লা-সিলেট হাইওয়ে ধরে আড়াই কিমি সামনে গেলেই পাবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ফারুকী পার্ক।এই পার্কে নির্মিত অবকাশ নামে পরিচিত 'শহীদ স্মৃতিসৌধ'-টি নির্মাণের পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে পাকিস্তান বাহিনীর একটি উভচর ট্যাংক নষ্ট হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণের মুখে ট্যাংকটিকে ফেলে রেখেই পেছনে হাঁটতে বাধ্য হয় তারা।দেশ স্বাধীন হবার পরে মুক্তিযোদ্ধারা ট্যাংকটিকে সরিয়ে শহরের ফারুকী পার্কে এনে স্থাপন করেন। তখন এটিই হয়ে উঠে এখানকার মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক। রাস্তার পাশ দিয়ে যাবার সময় একে দেখলে মনে ভেসে উঠতো মুক্তিযুদ্ধের হাহাকার ও বর্বরতার কথা। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের আমলে ফারুকী পার্ক থেকে সরিয়ে কুমিল্লা সেনানিবাসে নিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত হয়। তখন মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ জনতা মিলে আন্দোলন করেছিলেন এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে। কুমিল্লা নেবার উদ্দেশ্য মহৎ থাকায় সমঝোতার মাধ্যমে এটি নেয়া হয় এবং উক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধের একটি মনোরম স্মৃতিসৌধ তৈরি করে দেয়া হয় ১৯৮৪ সালে।দেশের অন্যতম সুন্দর এই সৌধটির স্থাপত্যশৈলী আপনাকে একই সাথে মুগ্ধ করবে ও স্মরণ করিয়ে দিবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।ফারুকী পার্ক থেকে বের হয়ে একই সিএনজিতে করে ২ কিমি ভ্রমণ করে চলে যাবেন সদরের কাজী পাড়ায় অবস্থিত হযরত কাজী মাহমুদ শাহ’র মাজারে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাম করণের সঙ্গে হযরত কাজী মাহমুদ শাহর একটি ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। যা শুরুতেই বর্ণনা করেছি।তাঁর নামানুসারে কাজীপাড়া প্রসিদ্ধি অর্জন করে। জাঁক-জমকের সঙ্গে প্রতি বছর তাঁর ওরশ উদযাপন করা হয়।এবারের গন্তব্য ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী কালভৈরব মন্দির। একই সিএনজি নিয়ে কুমিল্লা-সিলেট হাইওয়ে ধরে ২ কিমি সামনে এগিয়ে গেলে মূল সড়কের পাশেই মন্দিরটি দেখতে পাবেন।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত অন্যতম ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। মূলত এটি শ্রীশ্রী কালভৈরবের মূর্তি।ধারণা করা হয় যে, ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে উঁচু মূর্তি বা বিগ্রহ হিসেবে শ্রীশ্রী কালভৈরবের অবস্থান। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র হিসেবে মূর্তিটির অবস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অদূরে মেড্ডা এলাকায়। মন্দিরটির প্রধান আকর্ষণই হচ্ছে কালভৈরব বা শিব মূর্তি। ১৯০৫ সালে নির্মিত সুবিশাল মূর্তিটির উচ্চতা ২৮ ফুট। মূর্তিটির ডান পাশে রয়েছে একটি কালী মূর্তি এবং বাম পাশে পার্বতী দেবী। কথিত আছে যে, কাশীশ্বর দেবাদিদেব মহাদেব একদিন নিজ শরীরের অংশ থেকে কালভৈরবের সৃষ্টি করেন এবং তার প্রতি কাশীধাম রক্ষার ভার প্রদান করে বলেন, "বৎস! যে দুষ্কৃতকারী এ স্থানে সমাগত হবে তুমি তার সমুচিত দণ্ড বিধান করবে।"

কথিত আছে,কালীশ্বর শ্রীশ্রী কালভৈরবের আবির্ভাবের পর স্বপ্নে আদেশ পেয়ে স্থানীয় দূর্গাচরণ আচার্য মাটি দিয়ে নির্মাণ করেন এই অতি বিরাটাকার কালভৈরবের বিগ্রহ। এছাড়াও, তিনি মূর্তির পাশে নির্মাণ করেন শিবের স্ত্রী পার্বতীর মূর্তি।বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী বৈদ্যুতিক ডিনামাইটের আঘাতে শিব ও পার্বতী মূর্তির অনেকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরে বিশ্ববরেণ্য দার্শনিক ড. মহানামব্রত ব্রহ্মচারী মহারাজের সুদীর্ঘ চার বছর কাজের পর আবারো ২৪ ফুট উঁচুবিশিষ্ট উপমহাদেশের বিশালতম এই কালীশ্বর শ্রীশ্রী কালভৈরবের বিগ্রহ ও মন্দির পুণরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।শ্রীশ্রী কালভৈরব মূর্তিটির পাশে ছিল১০৫ বছরের প্রাচীন ১১ কেজি ওজনের কষ্টি পাথর নির্মিত শ্রীশ্রী কৈলাশ্বেশ্বর শিবলিঙ্গ যা আলাদা ভবনে রাখা আছে।প্রতি বছর বাংলা সালের ফাল্গুনী শুক্লা সপ্তমী তিথিতে চার দিনব্যাপী পূজা, হোমযজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠা উৎসব অনুষ্ঠান পালন করা হয়। পূজা অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পূজারীরা ভিড় জমান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ণে ও ব্যবস্থাপনায় মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে।এবার সিএনজিকে ভাড়া পরিশোধ করে মেড্ডা থেকে মাধবপুরের বাস ধরবেন।মেড্ডা থেকে মাধবপুর বাসস্ট্যান্ড যেতে সময় লাগে ঘন্টাখানেক আর ভাড়া জনপ্রতি ৪৫ টাকা।বাজারে নেমে রিকশা নিয়ে ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় চলে যাবেন নাসিরনগর উপজেলায় অবস্থিত হরিপুর জমিদার বাড়িতে।

হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত ঘেটুপুত্র কমলার শুটিং হওয়ার পরই মূলত বাড়িটি আলোচনায় আসে। স্থানীয়ভাবে বড়বাড়ি নামে পরিচিত এই  রাজবাড়িটি তিতাস নদীর পাড়েই অবস্থিত। প্রায় ৪৮০ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত তিনতলা জমিদার বাড়িটিতে প্রায় ৬০টি কক্ষ, রং মহল, দরবার হল, ধানের গোলা, গোয়ালঘর, রান্নার ঘর, নাচ ঘর, মল পুকুর, খেলার মাঠ, মন্দির ও সীমানা প্রাচীর রয়েছে। বিশাল আয়তনের বাড়িটির পুরো ভবনের কোথাও কোনো রডের গাঁথুনি নেই। লাল ইট সুরকির গাঁথুনি দিয়ে তৈরি ভবনের দু’পাশে দুটি সুউচ্চ গম্বুজ রয়েছে। বাড়ির পশ্চিম দিকে তিতাস নদীর পাড়ে পাকা ঘাটলার উত্তর দিকে কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী ও দক্ষিণ দিকে গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরীর সমাধি মঠ রয়েছে।প্রায় ১৭৫ বছর পূর্বে জমিদার গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরী ও কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী বাড়িটি নিমার্ণ করেন।  জমিদাররা বাড়িটি ফেলে যাওয়ার সময় পুরোহিতদের রেখে যায়। এখনও জরাজীর্ণ জমিদার বাড়িতে পুরোহিতদের বংশধরেরা বসবাস করছে।ঘেটুপুত্র কমলা ছাড়াও এ রাজবাড়িতে অতীতে শাকুর মজিদের নাইওরী ও নারায়ণ চন্দ্র ঘোষের মধুমালতীর শুটিং হয়েছিলো।বাড়ির সামনে হাওর(নদী)-এ গোসলও সেরে নিতে পারেন।সেখানে বিশাল বাধানো ঘাট।হরিপুর জমিদার বাড়ি থেকে বের হয়ে আবার চলে যাবেন মাধবপুর বাজার।সেখান থেকে সরাইলের বাস ধরে নেমে পড়বেন বাড়ীউরা তে অবস্থিত হাতিরপুল এ।

বারিউড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ১০০গজ পূর্বদিকে রাস্তার বামপাশে হাতিরপুলটি অবস্থিত। দেওয়ান শাহবাজ আলী সরাইলের দেওয়ানী লাভের পর বর্তমান শাহবাজপুরে বাড়ী ও কাঁচারি নির্মাণ করেন। শাহবাজপুরে যাতায়াতের জন্য সরাইল থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করেন । রাস্তাটি ১৬৫০খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয় । উক্ত রাস্তাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় কুট্টাপাড়ার মোড় হতে শাহবাজপুর পর্যন্ত এখনো টিকে আছে । পরিত্যক্ত এ রাস্তাটিকে স্থানীয়রা জাঙ্গাল বলে ডাকে । উক্ত জাঙ্গালটির উপরে পুলটি অবস্থিত। কথিত আছে দেওয়ানরা হাতির পিঠে করে চলাচল করতো এবং পুলটির গোড়ায় হাতি নিয়ে বিশ্রাম নেয়া হতো বলে এটিকে হাতির পুল নামে অভিহিত করা হয় ।তবে বর্তমানে অনেককে এই পুলের উপরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।দ্রুতই বাস ধরে চলে যান ২ কিমি দুরত্বে অবস্থিত কুট্টাপাড়া বাস স্ট্যান্ডে।সেখান থেকে অটোরিক্সা ভাড়া করে ১০ মিনিটে চলে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবচেয়ে আলোচিত ও সুন্দর মসজিদ আরিফাইল মসজিদে।মুঘল আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘আরিফাইল মসজিদ’ ১৬৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের আরিফাইল গ্রামে অপরূপ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয়।  মসজিদটির আয়তনে ৭০ ফুট বাই ২০ ফুট। দেয়ালের পুরুত্ব ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। প্রাচীন স্থাপত্যকলা ও অপূর্ব নির্মাণশৈলীর মসজিদটি দেখতে অনেকটা তাজমহলের মতো মনে হয়।মসজিদের পাশে রয়েছে সুবিশাল দীঘি যা স্থানীয়ভাবে ‘সাগরদীঘি’ নামে পরিচিত।এ ছাড়া মসজিদের দেয়াল অতি পুরু হওয়ার কারণে ভেতরের যেকোনো শব্দ দেয়ালে বাধা পেয়ে একটা অদ্ভুত প্রতিধ্বনির সৃষ্টি হয়। আরিফাইল মসজিদ থেকে ১ কিমি দূরেই অবস্থিত আরেক প্রাচীন মসজিদ আরফান নেসা মসজিদ।সময় থাকলে দেখে আসতে পারেন।সারাদিন ঘুরাঘুরি করে শরীর ক্লান্ত হয়ে গেলে চলে যান আরিফাইল মসজিদ থেকে ৬ কিমি দূরে অবস্থিত ধুরুন্তি হাওরের ঘাটে।হাওরের উপর দিয়ে চলে গেছে সরাইল-নাসিরনগর সড়ক। সাধারণত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত যখন হাওর অথৈ জলে ভরে থাকে তখন এই সড়কের দুইপাশে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় করে প্রকৃতিকে উপভোগ করেন। হাওরের বুকে অপূর্ব সূর্যাস্থের দৃশ্য দেখে অনেকে আবার ধরন্তিকে মিনি কক্সবাজার নামে অভিহিত করেন। আগত দর্শনার্থীদের হাওরে জলে ঘুরে বেড়ানোর সুবিধার জন্য এখানে ভাড়ায় চালিত ছোট ডিঙ্গি নৌকা ও স্পিডবোটের ব্যবস্থা থাকে।এখানে কিছু সময় কাটিয়ে ফিরে যান শহরে।রাতে থাকার জন্য মোটামুটি ভালো মানের বেশ কিছু হোটেল পেয়ে যাবেন শহরের কাজীপাড়ার টি এ রোডে। যেহেতু পরের দিন ভোরেই বেরিয়ে যেতে হবে তাই দ্রুতই ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে বিশ্রাম করুন।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্যুর ভিডিও

বিজ্ঞাপন - অনলি টুটুল

Like My Facebook

সর্বশেষ

মিরিঞ্জা ভ্যালি

বান্দরবান ,চট্রগ্রাম

21 Nov 2024

সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা

সিলেট ,সিলেট

11 Jan 2024

চেয়ারম্যান ঘাট

নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম

10 Jan 2024

নলচিড়া ঘাট, হাতিয়া

নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম

09 Jan 2024

ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক

নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম

07 Jan 2024

যোগীর ভবন

বগুড়া ,রাজশাহী

06 Jan 2024 | ভিডিও দেখুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী ,রাজশাহী

05 Dec 2023

মা ভবানী মন্দির

বগুড়া ,রাজশাহী

04 Dec 2023 | ভিডিও দেখুন

ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক

বগুড়া ,রাজশাহী

22 Aug 2023 | ভিডিও দেখুন

বাঘা মসজিদ

রাজশাহী ,রাজশাহী

03 Jul 2023

Creating Document, Do not close this window...