পেজ ভিজিট: ২৬,৪৬,৭৭৬ | অনলাইন: ৪
English
বিভাগ অনুসারে দেখুন

দুই থেকে চার দিনে নেত্রকোনা জেলা ভ্রমণ


জেলার ভিডিও দেখুন
Card image cap

জিরো পয়েন্ট, নেত্রকোনা


ঢাকা থেকে বাস অথবা রেল যোগে নেত্রকোনায় যাওয়া যায়। ভ্রমণ সুবিধার্থে আমরা  ঢাকা থেকে বাসে করে প্রথমে কেন্দুয়া উপজেলায় যাই। কেন্দুয়া থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরত্বে রোয়াইলবাড়ি দুর্গ অবস্থিত। রোয়াইলবাড়ি দূর্গের নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে প্রত্নতত্ত্ববিদগণদের মধ্যে কেউ কেউ এটিকে সাত শত বছর পূর্বের সুলতানী আমলের স্থাপনা বলে মনে করেন। এই দূর্গে রয়েছে একটি দিঘী সমতুল্য পুকুর, দুটি ঢিবি, কবরস্থানসহ বেশকিছু প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ। এটি ছিল দেয়ালঘেরা আবাসভূমি। মুসলিম যুগের শুরুতে রোয়াইল বাড়ি দূর্গটি সৈন্যবাহিনী এবং পদাতিক বাহিনীর আউটপোস্ট বা স্টেশন ছিল বলে ধারণা করা হয়।


রোয়াইলবাড়ি দূর্গ থেকে আমরা চলে যাচ্ছি নেত্রকোনা শহরে। যাওয়ার পথে প্রায় পুরো রাস্তায় আমাদের সঙ্গী হয় শিমুল ফুলের গাছ। ফেব্রুয়ারির মাস জুড়ে শিমুল গাছে ফুল ফোটে। আর তাই আমরা এই ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পাই। চলে এলাম নেত্রকোনা শহরে। ছোট্ট এই শহরে যানবাহন বলতে রিক্সার আধিপত্যই বেশি দেখা যায়। শহরে গয়ানাথের মিষ্টি এবং দধির দোকানের ভালই নাম-ডাক। চাইলে আপনারাও এখানে এসে কাঁচামরিচের মিষ্টির স্বাদ নিতে পারেন। আছে আরো বাহারি সব মিষ্টি। 


নেত্রকোনা শহরের অদূরে রাজুর বাজার সংলগ্ন শেখ হাসিনা ইউনিভার্সিটি এটি। অস্থায়ী ক্যাম্পাস হলেও  বর্তমানে ৪ টি সাবজেক্ট নিয়ে এই ইউনিভার্সিটির পাঠদান চলছে। অস্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে অল্প দুরত্তে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হচ্ছে। আনুমানিক ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে শেখ হাসিনা ইউনিভার্সিটির পূর্ণ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে।


শেখ হাসিনা ইউনিভার্সিটি থেকে আমরা রওনা হলাম বিরিশিরির বিজয়পুরে চিনামাটির পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে পথে দেখা হবে এই কংশ নদীর সাথে। এই নদীতে এখনো ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় নৌকার তৈরি ফেরিই নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। নদী পারাপারের এই মুহূর্তটি খুবই উপভোগ্য। কংশ নদী পার হয়ে আমরা আবার চললাম চিনামাটির পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। এবার আমাদের সামনে চলে এসেছে আরেকটি নদী যার নাম সোমেশ্বরী। এই নদীকে এলাকার মানুষ বালুর খনিও বলে থাকে। এই নদীর পানি একেবারে স্বচ্ছ। বাঁশের তৈরি ব্রিজ দিয়ে নদী পার হতে গুনতে হয় জনপ্রতি পাঁচ টাকা। সোমেশ্বরি নদী পার হয়ে চলে আসলাম বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়ে। কেউ কেউ এই মাটিকে সাদা মাটিও বলে থাকে।  এখানে ছোট ছোট অনেক গুলো চিনামাটির পাহাড় রয়েছে এবং এই পাহাড় গুলোর তলদেশে রয়েছে  নীল পানির লেক। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসে। বাংলাদেশের মধ্যে প্রাকৃতিক  সম্পদ হিসেবে সাদা মাটির অন্যতম বৃহৎ খনিজ অঞ্চল এটি।


চিনামাটির পাহাড় থেকে অল্প দুরত্তে চলে আসলাম হাজং মাতা রাশিমনি স্মৃতি সৌধে। রাশিমনি হাজং ছিলেন টংক ও কৃষক আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী। ১৯৪৬ সালে ৩১শে জানুয়ারী কুমদিনী হাজংকে বাচাতে গিয়ে মুখোমুখি সংগ্রামে ব্রিটিশ বাহিনীর গুলিতে বহেরাতলী গ্রামে তার সহযোদ্ধা সুরেন্দ্র হাজংসহ অনেকে শহীদ হন। রাশিমনির দায়ের আঘাতে দুজন ব্রিটিশ পুলিশ নিহত হয়। প্রতিবছর ৩১শে জানুয়ারী রাশিমনি দিবস ও টংক শহীদ দিবস পালন করা হয়।


রাশিমনি স্মৃতি সৌধ থেকে এবার চলে আসলাম বিজয়পুর কমলা বাগানে। এখানে অনেক পর্যটকের ভিড় হয়। কমলা বাগান নাম হলেও এখানে কোনো কমলা গাছ নেই। এই বাগানে অনেক গুলো দোকান আছে। এগুলোতে ভারত এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের পন্য কিনতে পাওয়া যায়। এখানকার টিলায় একটি ওয়াচ টাওয়ার আছে। কথিত আছে এই টাওয়ার থেকে কেউ একজন আত্মহত্যা করে। সেই থেকে এই টাওয়ারে ওঠা নিশিদ্ধ হয়। টিলার অপর পাশে ছোট একটি জীবিত পানির কুয়া আছে। এখান থেকে অনবরত পানি উঠে আসার কারনে এটিকে জীবিত পানির কুয়া বলে। এখানে আরো আছে ঔষধি গাছের বাগান। কমলা বাগানের আসে পাশের স্থানীয় লোকজন প্রায় সবাই গারো এবং হাজং। 


কমলা বাগান থেকে চলে আসলাম বিজিবি ক্যাম্পের সাথেই জিরো পয়েন্টে। মূলত সোমেশ্বরী নদীর তীরে ভারত-বাংলাদেশ সিমান্তে জিরো পয়েন্ট অবস্থিত। জনপ্রতি ১০০ টাকা দিয়ে নৌকা ভ্রমন করতে পারবেন এখানে। 


জিরো পয়েন্ট থেকে চলে আসলাম রাণীখং মিশন। সোমেশ্বরী নদীর কোল ঘেঁষেই পুরো মিশনটি একটি উচু পাহাড়ে অবস্থিত। এটি খ্রীষ্টিয় ক্যাথলিক ধর্মপল্লী এবং ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয়। করণের কারণে মিশনটি এখন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। এখন থেকে দেখবেন কিভাবে ছোট বড় সারি সারি টিলা-পাহাড় মিশে গেছে দিগন্ত জুড়ে। পা বাড়ালেই ভারতের মেঘালয় রাজ্য। 


রাণীখং মিশন থেকে চলে আসলাম বিরিশিরি কালচারাল একাডেমীতে। করোনার প্রাদুরভাবের জন্য একাডেমী বন্ধ আছে। তাই বাইরে থেকেই দেখতে হল বিরিশিরি কালচারাল একাডেমী। এখান থেকে সোমেশ্বরী নদীর ব্রিজ পার হয়ে চলে আসলাম টংক শহীদ স্মৃতি সৌধে। বৃটিশ ও জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের দাবীতে বৃহত্তর উত্তর ময়মনসিংহের কৃষকগণের সংগ্রাম, কৃষক বিদ্রোহ ও টংক আন্দোলন নামে পরিচিত। এখানে প্রতি বছর ৩১শে ডিসেম্বর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মহান নেতা প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি কমরেড মনি সিং এর মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়। 


এবার চলে আসলাম আমাদের আজকের শেষ গন্তব্য কমলা রানী দিঘী। যদিও এখন এই দিঘিটি নেই বললেই চলে। কালের বিবর্তনে এখন শুধু এই কুয়া স্বরূপ অংশটি অবশিষ্ট আছে। এক সময় দিঘিটি অনেক বড় ছিল। আসে পাশের কয়েকটি গ্রাম জুড়ে  ছিল এই দিঘিটি। কথিত আছে দীঘির এই অংশের পানি কখনও শুকায় না। এই দিঘিকে কেন্দ্র করে অনেক পুঁথি ও কাহিনি রচিত হয়েছে। বিস্তারিত আমাদের ওয়েবসাইট   মাই ট্যুর বিডি তে পেয়ে যাবেন। 


এখানেই শেষ হল আমাদের নেত্রকোনা জেলা ভ্রমন। সন্ধ্যা হয়ে এল, এবার ঢাকায় ফিরার পালা। এখান থেকে বিরিশিরি হয়ে আথবা নেত্রকোনা শহরে এসে ঢাকা গামী বাস পেয়ে যাবেন। 


বিজ্ঞাপন - অনলি টুটুল

Like My Facebook

সর্বশেষ

মিরিঞ্জা ভ্যালি

বান্দরবান ,চট্রগ্রাম

21 Nov 2024

সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা

সিলেট ,সিলেট

11 Jan 2024

চেয়ারম্যান ঘাট

নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম

10 Jan 2024

নলচিড়া ঘাট, হাতিয়া

নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম

09 Jan 2024

ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক

নোয়াখালী ,চট্রগ্রাম

07 Jan 2024

যোগীর ভবন

বগুড়া ,রাজশাহী

06 Jan 2024 | ভিডিও দেখুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী ,রাজশাহী

05 Dec 2023

মা ভবানী মন্দির

বগুড়া ,রাজশাহী

04 Dec 2023 | ভিডিও দেখুন

ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক

বগুড়া ,রাজশাহী

22 Aug 2023 | ভিডিও দেখুন

বাঘা মসজিদ

রাজশাহী ,রাজশাহী

03 Jul 2023

Creating Document, Do not close this window...